খুঁজুন
                               
, ,
           

গুজবে বিচলিত নয় সেনাবাহিনী, একতাবদ্ধ হয়েই কাজ করে যাচ্ছে জনগণের জানমাল রক্ষায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
গুজবে বিচলিত নয় সেনাবাহিনী, একতাবদ্ধ হয়েই কাজ করে যাচ্ছে জনগণের জানমাল রক্ষায়

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

দেশের জনগণের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত দুই মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে সম্পৃক্ত দুই হাজার ৪৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আর ৫ আগস্টের পর থেকে এই পর্যন্ত মোট সাত হাজার ৮২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া সেনাবাহিনী দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাসহ বিদেশি কূটনীতিক, ব্যক্তি ও দূতাবাসগুলোর সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের কাজে নিয়োজিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাসদর মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম।

বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা বলেন, কোনো রকম গুজবে সেনাবাহিনী বিচলিত নয়। বরং সেনাবাহিনী আরও একতাবদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির পাশে কাজ করে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সেনাসদর মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর বিগত দুই মাসের কার্যক্রম তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে ওঠে আসে খাগড়াছড়ির গিরিফুল এলাকা থেকে অপহরণের শিকার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পাঁচ শিক্ষার্থীর বিষয়টিও। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, অপহরণের শিকার শিক্ষার্থীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। অপহৃত পাঁচ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি রাজধানীতে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অবরোধ মুক্ত করতে পেট্রোলিং ও কর্ম তৎপরতার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর যথাসাধ্য চেষ্টার কথাও জানান। গত ৮ মাসে ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতায় কাজ করতে গিয়ে কোন রকম বাধা পাচ্ছেন না বলেও জানান উর্ধ্বতন এই সেনা কর্মকর্তা।

আনন্দঘনভাবে নববর্ষ উদযাপনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেনাবাহিনী
সেনাসদর মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ঢাকাসহ সারাদেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যার ফলে দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সাধারণ মানুষ আনন্দঘনভাবে নববর্ষ উদযাপন করতে সক্ষম হয়। দেশের চরাঞ্চলসহ ৬২টি জেলায় সেনাসদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন সংস্থা, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে।’

  • ৫ আগস্টের পর থেকে এই পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৮২২ জনকে গ্রেপ্তার
  • আনন্দঘনভাবে নববর্ষ উদযাপনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেনাবাহিনী
  • ঈদের আগে ও পরে মিলে দুই সপ্তাহের বিশেষ কার্যক্রম
  • অবরোধ মুক্ত করতে পেট্রোলিং ও যথাসাধ্য চেষ্টা
  • অপহৃত পাঁচ শিক্ষার্থীর অবস্থান শনাক্ত, পরিচালিত হচ্ছে বিশেষ অভিযান

তিনি আরও বলেন, ‘গত দুই মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত মোট দুই হাজার ৭৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে।’

ঈদের আগে ও পরে মিলে দুই সপ্তাহের বিশেষ কার্যক্রম
এই সেনা কর্মকর্তা আরও জানান, ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ঈদের আগে ও পরে মিলে দুই সপ্তাহের বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে জাতীয় মহাসড়কগুলোতে নির্বিঘ্নে যান চলাচল নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ দেশের সব জেলার বাস স্ট্যান্ড, রেল স্টেশন এবং লঞ্চ টার্মিনাল ও মহাসড়কে দিন-রাত টহল পরিচালনা, স্পর্শকাতর স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। যা মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গত বছরের তুলনায় অনেকাংশে হ্রাস পায়। যা জনসাধারণকে নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছানোসহ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘনভাবে ঈদ উদযাপনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সেনাবাহিনীর অগ্রণী ভূমিকা
মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে ভূমিকম্পের কথা উল্লেখ করে কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভূমিকম্পের আঘাতে এ দুই দেশে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মিয়ানমারে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশী দেশের বিপদসংকুল সময়ে বাংলাদেশ সরকার জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সরকারের এ উদ্যোগে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। সেনাবাহিনীর কর্নেল শামিমের নেতৃত্বে ইঞ্জিনিয়ার কোরের ২১ জনের একটি উদ্ধারকারী দল এবং ১০ জনের একটি মেডিক্যাল দল সেখানে পাঠানো হয়।’ এসব কাজের পাশাপাশি সেনাবাহিনী দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাসহ বিদেশি কূটনীতিক, ব্যক্তি ও দূতাবাসগুলোর সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এ ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কক্সবাজার জেলায় এফডিএমএন ক্যাম্প এলাকার নিরাপত্তা বিধান করার দায়িত্বও সুষ্ঠুভাবে পালন করে যাচ্ছে বলে জানান কর্নেল শফিকুল ইসলাম।

রাজধানীতে সড়ক অবরোধে দুর্ভোগ মোকাবিলায় যেসব পদক্ষেপ সেনাবাহিনীর
সম্প্রতি বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করা হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হন ওই সড়কে চলাচলকারীরা। এ বিষয়ে সেনাবাহিনী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে- সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। বিপরীতে সেনাসদর মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অবরোধে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায় এবং আর্থিকভাবে সব খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেনাবাহিনী চেষ্টা করে যত কম সময়ের মধ্যে অবরোধ মুক্ত করা যায়। রাজধানীতে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অবরোধ মুক্ত করতে পেট্রোলিং ও কর্ম তৎপরতার মাধ্যমে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মিরা বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে জেলে ও মাছ ধরার ট্রলার ধরে নিয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, নাফ নদীতে জেলেদের যে অসুবিধা হচ্ছে- এ বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও বিজিবি দায়িত্বপ্রাপ্ত। তাদের কাজ চলমান আছে। অনেক জেলে বাংলাদেশে চলে আসছেন, বাকিদের বিষয়েও প্রক্রিয়া চলমান। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অথবা নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

সড়ক অবরোধের কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে সেনাবাহিনী কীভাবে কাজ করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ থাকলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবচাক প্রভাবসহ সব খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শুধু ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কে মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দুই ঘণ্টা অবরোধ ছিল। এ অবরোধে দুর্ভোগ বেড়ে যায় এবং আর্থিকভাবে সব খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেনাবাহিনী চেষ্টা করে যত কম সময়ের মধ্যে অবরোধ মুক্ত করা যায়। গতকাল মঙ্গলবারও ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কে দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর চেষ্টায় অবরোধ মুক্ত করা হয়েছে।

রাজধানীতে অবরোধের বিষয়ে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীতে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনীর পেট্রোলিং ও কর্ম তৎপরতার মাধ্যমে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি অবরোধ মুক্ত করার জন্য।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মার্চ ফর গাজা কর্মসূচিতে ও আগে কয়েক জায়গায় দেখা গেছে নিষিদ্ধ সংগঠনের পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করতে। এক্ষেত্রে সেনাবাহিনী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে- জানতে চাইলে কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মার্চ ফর গাজার বিক্ষোভে সেনাবাহিনী কালো পতাকাধারীদের রহিত করেছে। কালো পতাকাধারী হলেই যে সে জঙ্গি সংগঠনের এটির কোনো প্রমাণ আমরা এখনো পায়নি। তবে এ বিষয়ে সেনাবাহিনী সোচ্চার রয়েছে। গোয়েন্দা বাহিনীও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

গত ৮ মাস ধরে সশস্ত্র বাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতায় কাজ করছে। কাজ করতে গিয়ে রাজনৈতিক দলের কোনো চাপ পাচ্ছে কি না? রাজনৈতিক দলগুলো সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করছে কি না অথবা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ থেকে কোনো থ্রেটের সম্মুখীন হচ্ছে কি না- জানতে চাইলে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কাজ করতে গিয়ে কোনো বাধা পাচ্ছি না। আমরা যে কোনো অপরাধীকে গ্রেফতারের পর অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করি। সেখানে পরবর্তী আইনি বিচারকাজ সেনাবাহিনীর দায়িত্বের বাইরে। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতায় সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে, যেখানে যতটুকু ব্যবহার করার দরকার ততটুকুই ব্যবহার করা হচ্ছে।

অপহৃত পাঁচ শিক্ষার্থীর অবস্থান শনাক্ত, পরিচালিত হচ্ছে বিশেষ অভিযান
খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পাঁচ শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনার তথ্য জানতে চাইলে কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অপহৃত পাঁচ শিক্ষার্থীর অবস্থান কিছুটা শনাক্ত করা গেছে। এ বিষয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা অবস্থা ভালো, নিরাপত্তা জরালো করা হয়েছে।

কাজ করতে গিয়ে রাজনৈতিকভাবে কোনো চাপ অনুভব করছে কি না সেনাবাহিনী? এ বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, সেনাবাহিনী সরকারের নির্দেশে এই মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিয়োজিত। সরকারের নির্দেশিত যে কোনো দায়িত্ব পালন করে আসছি এবং পালন করে যাবো। সেনাবাহিনী সততা, ন্যায়-নীতির সঙ্গে, প্রত্যয় ও সহনশীলতার সঙ্গে দেশ ও জাতির স্বার্থে কাজ করছে, ভবিষ্যতেও করবে।

সম্প্রতি সেনাপ্রধান রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া সফর করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে সম্প্রতি সেনাপ্রধানের রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া সফর একটি নিয়মিত কার্যক্রম। এই সফরে সেনাপ্রধান বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি পরিদর্শন করেন। এর ফলে সামরিক সহযোগিতা আরও প্রসার হবে। সংবাদ সম্মেলনে সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নিষিদ্ধ হচ্ছে মদ-জুয়া ও বেটিংয়ের বিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নিষিদ্ধ হচ্ছে মদ-জুয়া ও বেটিংয়ের বিল

শরিয়াহসম্মত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট সেবা চালুর লক্ষ্যে ‘ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শীর্ষক নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মদ, জুয়া, নাইটক্লাবসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ খাতে লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগ (আইবিআরপিডি) থেকে জারি করা সার্কুলারে নীতিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে সার্কুলারটি পাঠানো হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ইসলামি ব্যাংকিং সেবা দেওয়া যেকোনো তফসিলি ব্যাংক টাকায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা বা ডুয়াল কারেন্সি কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অনুমোদিত ডিলার হতে হবে।

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নগদ উত্তোলন বা বিলম্বে পরিশোধযোগ্য দায় ‘কার্দে হাসান’ বা সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে বিবেচিত হবে। গ্রাহককে কেবল মূল অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ব্যাংক কার্ড ইস্যু, নেটওয়ার্ক সুবিধা, হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ও লেনদেন প্রক্রিয়াকরণের মতো নির্দিষ্ট সেবার বিপরীতে ‘উজরাহ’ বা সেবা ফি নিতে পারবে।

তবে এসব ফি বকেয়া স্থিতি, ক্রেডিট সীমা কিংবা বিলম্বের সময়ের সঙ্গে বাড়ানো যাবে না। প্রচলিত সুদের হারের সঙ্গেও কোনো ফি যুক্ত করা যাবে না।

নীতিমালায় ব্যাংকগুলোকে ফি ও চার্জ তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঋণের সঙ্গে সম্পর্কহীন কিছু ফিতে মুনাফার উপাদান থাকতে পারবে। অন্যদিকে ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত ফি কেবল প্রকৃত প্রত্যক্ষ ব্যয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। বকেয়া স্থিতি, বিলম্বের সময় বা ক্রেডিট সীমার ভিত্তিতে বাড়ে—এমন ফি নেওয়া যাবে না।

গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে চুক্তির সময় নির্ধারিত একটি অর্থ দান হিসেবে দেওয়ার অঙ্গীকার করতে পারবেন। এ অর্থ ব্যাংকের আয় হিসেবে দেখানো যাবে না; পুরো অর্থই দাতব্য খাতে দিতে হবে।

এ ছাড়া মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) ব্যবহারের মাধ্যমে অনুমোদন পর্যায়েই নিষিদ্ধ খাতের লেনদেন বন্ধ করতে হবে। নীতিমালায় মদ ও মদজাতীয় পণ্য, জুয়া ও ক্যাসিনো, বেটিং, নাইটক্লাব ও বার, তামাকজাত পণ্য, শুকরের মাংস ও অ-হালাল মাংস, অশ্লীল কনটেন্ট, ক্রিপ্টো ট্রেডিং, জ্যোতিষ ও ভাগ্য গণনার মতো খাতকে নিষিদ্ধ তালিকায় রাখা হয়েছে।

এই তালিকা অন্তত বছরে একবার পর্যালোচনা করতে হবে। কোনো ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির (এসএসসি) আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন

তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে নতুন আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে নতুন আলোচনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে সফরের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশ নতুন করে সফরের সময়সূচি নির্ধারণে আলোচনা করছে। আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ অথবা নভেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে আলোচনা আরও গতি পেতে পারে।

তবে সফরটি শেষ পর্যন্ত হবে কি না, তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। সেটি হলো ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের জন্মদিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানানো এবং মোদির দ্রুত জবাব দেওয়ার ঘটনাকে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক যোগাযোগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে সম্ভাব্য সফরের তারিখ দ্রুত চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

এদিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকায় সাম্প্রতিক সফর নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর তার ঢাকায় আসার খবর প্রকাশ পেলেও ভারত বা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করা হয়নি।

নতুন বাংলাদেশি হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়ামের নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণকেও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তবে তারেক রহমানের ভারত সফরের তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে নভেম্বরের সম্ভাব্য সফরটি শেষ পর্যন্ত কোন তারিখে এবং কী কর্মসূচিতে হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর প্রাণহানি, পাশাপাশি চিতায় দাহ

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর প্রাণহানি, পাশাপাশি চিতায় দাহ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রীরও মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, স্বামীর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে তিনি রেললাইনে গিয়ে প্রাণ হারান। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে। মৃত দম্পতি হলেন—মালিগাঁও গ্রামের হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) ও তার স্ত্রী নিত্যবালা বর্মণ। হরেন্দ্রনাথ স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন। তার স্ত্রী নিত্যবালাও স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত ধর্মীয় কাজে যুক্ত থাকতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ। স্বামীর মৃত্যুর পর নিত্যবালা গভীরভাবে শোকাহত হয়ে পড়েন। তিনি দীর্ঘ সময় স্বামীর মরদেহের পাশে বসে ছিলেন।

ভোরের দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান নিত্যবালা। সকালে তাকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা মালিগাঁও এলাকায় রেললাইনের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরিবারের ধারণা, রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে পারিবারিক শ্মশানে হরেন্দ্রনাথ ও নিত্যবালার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পাশাপাশি দুটি চিতায় সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

হরেন্দ্রনাথের ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তার মৃত্যুর পর মা সারা রাত বাবার শিয়রে বসে কেঁদেছেন। সকালে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে রেললাইনে তার মরদেহ পাওয়া যায়।’

প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে ওই দম্পতির মধ্যে গভীর ভালোবাসা ছিল। স্বামীর মৃত্যুর শোক নিত্যবালা সহ্য করতে পারেননি বলে ধারণা করছেন তারা।

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানানোর আগেই মরদেহের সৎকার সম্পন্ন করেছেন। রেললাইনে মৃত্যুর ঘটনা হওয়ায় রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি