খুঁজুন
                               
, ,
           

কর্মী সম্মেলন রূপ নিলো জনসমুদ্রে, কোনো বাধার মুখে থামতে চান না আমীরে জামায়াত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
কর্মী সম্মেলন রূপ নিলো জনসমুদ্রে, কোনো বাধার মুখে থামতে চান না আমীরে জামায়াত

মো.শামসুল আলম খান/আল হেলাল তালুকদার, কালের আলো, ময়মনসিংহ থেকে

অন্ধকার তাড়িয়ে ছড়িয়েছেন আলোর দ্যুতি। দেশের আর জনগণের প্রশ্নে সাহস ও পরোয়াহীন মন-মনন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের। একই সঙ্গে স্থির এবং দুর্বার। সত্য-নিষ্ঠা, ধ্যান-জ্ঞান, মানবিক গুণ, ব্যক্তিত্ব আর দেশপ্রেমে মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় করে নিয়েছেন ঠাঁই। দীর্ঘদিন এমন এক নেতার শূন্যতা ছিল। তিনি ধীসম্পন্ন, চিন্তাশীল ও পূর্ণতার রাজনীতিক। গণমানুষের মনের কথক। সহজ-সরল আর প্রাঞ্জল ভাষায় মিহি জোৎস্নার মতোই আলোকময় তাঁর প্রতিটি শব্দ-বাক্য উচ্চারণ। ঠিক যেন মাটি ও মমতার যোগনিমন্ত্রণ। জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন বারবার। কিন্তু দমে যাননি। তিমির হননের এই আলোকবর্তিকা এমন এক বাংলাদেশ চান যেখানে কোনো ধরনের জুলুম হবে না, শোষণ হবে না, নিপীড়ন হবে না। নতুন করে আর জন্ম হবে না ফ্যাসিবাদের। তাঁর নেতৃত্বেই পরিবর্তনের স্বপ্ন বুনছেন দেশের সাধারণ মানুষ।

দেশের গণমানুষের কল্যাণ-মঙ্গলের মসৃণ পথ রচনায় উদয়াস্ত পরিশ্রম করছেন আমীরে জামায়াত। ইসলামের বিজয় নিশান উড়াতে চষে বেড়াচ্ছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত। তাঁর প্রত্যাশার পথ কণ্টকাকীর্ণ। কিন্তু হাল ছাড়তে চান না সহজেই। ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ার শপথে হয়েছেন বলীয়ান। বাংলাদেশকে কাক্সিক্ষত গন্তব্যের সোনালি তোরণে পৌঁছে দিতে অদম্য ডা. শফিকুর রহমান আশ^স্ত করেছেন ময়মনসিংহবাসীকে। তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহর মানবিক বিধান কায়েমে আমরা সকলে এক। আমাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আমাদের আল্লাহ এক, নবী এক। আমাদের জীবন বিধান এক। তার ভিত্তিতেই ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ব ইনশাআল্লাহ। এতে কোনো বাধা-বিপত্তি মানব না। কোনো বাধার মুখে থেমে যাব না।’

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে মহানগর ও জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল কর্মী সম্মেলন কার্যত রূপ নেয় লাখো মানুষের জনসমুদ্রে। দৃপ্তপদভারে এগিয়ে আসা জনস্রোতে দুর্দমনীয় স্পৃহা ও মানসিকতায় জাগরণের নয়া অধ্যায় রচনা করে নতুন এক অঙ্গীকারে সবাইকে একীভূত করলেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিষবাষ্পের অবসান আর ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে উচ্চকণ্ঠ জামায়াতে ইসলামীর পঞ্চম নির্বাচিত এই আমীর নতুন পরিবর্তনের আকাক্সক্ষার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশাকে প্রস্ফুটিত করেছেন। তারুণ্যের হাত ধরেই বিজয় এসেছে যুগে যুগে। বাংলাদেশেও স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তিমূলকে উপড়ে ফেলেছে তারুণ্য।

স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতের প্রথম প্রজন্মের এই প্রতিনিধি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তারুণ্যকে। বিনয়াবনত কণ্ঠেই তিনি বললেন, ‘তোমাদের কাছে আমাদের বিনয়ী অনুরোধ, বিশ্বের সকল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তরুণদের বাহুর উপর ভর করে। এমনকি জুলাই আন্দোলনও হয়েছে তাদের নেতৃত্বেই। তোমরা যে আশা-আকাক্সক্ষা ও স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করেছে, সে লড়াই থেকে তোমরা বিশ্রাম নিও না, যতক্ষণ না তোমাদের দাবি পূরণ হয়। তোমরা কুরআনের বিধানকে বুকে ধারণ কর। আল্লাহর শক্তিতে বলিয়ান হয়ে অসত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। তোমরা হবে আগামীর নেতা আর আমরা হব তোমাদের সহকর্মী। জাতির খেদমত করার জন্য তোমাদের সুযোগ করে দিতে চাই। এগিয়ে আসো সত্য ও ন্যায়ের দিকে, ইনসাফের দিকে। এগিয়ে আসো দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। আল্লাহ আমাদের সেই তাওফীক দান করুন, আমীন।’

  • কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী এবং বিতর্কিত সুপারিশমালা বাতিলের অনুরোধ
  • আমরা একটি বৈষম্যমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ চাই
  • কোনো ব্যক্তি বা দলকে ক্ষমতায় বসানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়
  • ঘুষ-দুর্নীতি করবে না এমন মানুষ ঘরে ঘরে তৈরি করতে হবে
  • আগামীর নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে করার দাবি
  • সত্য ও ন্যায়ের পথে সংগঠিত থাকার বার্তা

এই বিশাল কর্মী সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর ও মর্যাদাপূর্ণ ময়মনসিংহ-৪-সদর আসনের দলীয় প্রার্থী কামরুল আহসান এমরুল। সঞ্চালনায় ছিলেন সেক্রেটারি শহীদুল্লাহ কায়সার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামীউল হক ফারুকী। সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর নায়েবে আমীর আসাদুজ্জামান সোহেল, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন, কিশোরগঞ্জ জেলা আমীর অধ্যাপক রমজান আলী, নেত্রকোনা জেলা আমীর অধ্যাপক সাদেক আহমাদ হারিছ, জামালপুর জেলা আমীর অ্যাডভোকেট আবদুল আওয়াল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আল হেলাল তালুকদার, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা বদরুল আলম, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নেতা উত্তম ভট্টাচার্য, মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল ইসলাম, জুলাই আন্দোলনের শহীদ সাগরের বাবা আসাদুজ্জামান আসাদ, মাহিনের বাবা জামিল হোসেন সোহেলসহ স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের নেতারা।

আমরা একটি বৈষম্যমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ চাই
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নিজের বক্তব্যের শুরুতে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগরবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। জানতে চান তাঁরা কেমন আছেন? এরপরই তিনি বলতে শুরু করেন, ‘আজকে বাংলাদেশ একটি অঙ্গীকারে আবদ্ধ। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেই বাংলাদেশে কোনো ধরনের জুলুম হবে না, শোষণ হবে না, নিপীড়ন হবে না। নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম নিবে না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে মানুষে মানুষে কোনো বৈষম্য থাকবে না, যেখানে আমরা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবো না, যেখানে দুর্নীতির দুর্গন্ধও থাকবে না। ঘুষের যাঁতাকলে পিষ্ঠ হয়ে কোনো নাগরিক নীরবে কাঁদবে না। বিচারের বাণী আর নিভৃতে কাঁদবে না। কোন কোন বিচারপ্রার্থীকে আমরা দেখেছি শেষ পর্যন্ত বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা করে। সেই চিত্র আর আমরা বাংলাদেশে দেখবো না। এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে দল-ধর্মের অধিকারের ব্যাপারে কোনো ব্যবধান থাকবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা একটি বৈষম্যমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ চাই।

বাংলাদেশকে আল্লাহর বিধান এবং সুন্নাহর ভিত্তিতে দেখতে চান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. প্রতিষ্ঠিত মদিনার নগর রাষ্ট্রটি ছিল লিখিত সংবিধানের ভিত্তিতে দুনিয়ার প্রথম আধুনিক রাষ্ট্র। এর আগে দুনিয়ার কোনো রাষ্ট্রের লিখিত সংবিধান ছিল না। মদিনা কেন্দ্রিক নগররাষ্ট্র থেকেই দুনিয়ার প্রথম লিখিত সংবিধানের জন্ম। এখান থেকেই হিউম্যান চার্টার্ড তৈরি হয়েছে এবং এটাকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দুনিয়ার কোনো মতবাদের নেই। মদিনার এই সনদের মাধ্যমেই সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল।’

ডা.শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতির সাথে বেঈমানী করলে সে যেই ধর্মের লোকই হোক তাকে শাস্তি পেতেই হবে। বিশ্বাসঘাতকদের দুনিয়ার কোনো রাষ্ট্রই ক্ষমা করে না। কারণ এটা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। মূল সার্বভৌমত্বের মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। তিনি পবিত্র কুরআনে বলেছেন, ‘হে নবী, আপনি দুনিয়ার মানুষকে জানিয়ে দিন, তিনিই (আল্লাহ) হচ্ছেন দুনিয়ার সকল বাদশাহর মালিক। আসমান-জমিনের একক কর্তৃত্ব একমাত্র তারই।’

কোনো ব্যক্তি বা দলকে ক্ষমতায় বসানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে তাঁরা ধরে নিয়েছিলেন এবং তাদের অহংকারে আমাদের মনে হয়েছিল তারা কিয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। তারা দেশের মজলুম মানুষকে নিয়ে উপহাস করতেন। তারা দেশপ্রেমিক লোকদের ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে উল্লাস প্রকাশ করেছেন, মিষ্টি বিতরণ করেছেন। তবে তারা আল্লাহর সঠিক বিচার পেয়েছেন।’

তিনি বলেন, আমরা কোনো অন্যায়ের সাথে আপস করব না। আমাদের একমাত্র ভরসা আল্লাহর ওপর। সুতরাং আমরা ভয় করব একমাত্র আল্লাহকে। আমি বলতে চাই, কেউ যেন আমাদের দিকে চোখ তুলে না তাকায়। যুগে যুগে নবী-রাসূল আলাইহিস সাল্লামগণ এবং তাদের অনুসারীগণ অসত্যের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই সংগ্রাম করে জীবন দিয়েছেন, তবু কারো কাছে মাথা নত করেননি। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন। ঐক্যের শক্তিতেই বিজয় আসবে ইনশাআল্লাহ। কোনো ব্যক্তি বা দলকে ক্ষমতায় বসানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।’

দেশের জনগণের মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে আমীরে জামায়াত বলেন, ‘সোনার দেশ গড়তে হলে সোনার মানুষ চাই। এজন্য আল্লাহকে ভয় করতে হবে। আল্লাহর ভয়ে যে হৃদয় সিক্ত, সে কারো জীবন, সম্পদ, ইজ্জত ও সম্মানের ওপর হাত দিতে পারে না। বরং সে অন্যের পাহারাদার হয়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘সমাজের প্রভাবশালীদের জন্য বিচার এক ধরনের, আর সাধারণ মানুষের জন্য আরেক ধরনের; সেটি চলতে দেওয়া যাবে না, সেটি বর্তমানে অচল। প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী অপরাধী হলে তারাও পার পাবেন না। ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হয় এরা ক্ষমতায় গেলে দেশ পঙ্গু হয়ে যাবে। কারণ দেশের দুর্নীতিবাজদের হাত কাটলে তো গোট দেশটাই একটা হাত কাটা দেশে পরিণত হবে।

আমরা বলি, প্রথমে তাদের সতর্ক করা হবে, তাদের সম্মান-মর্যাদার ব্যবস্থা করা হবে। তাদের বৈধ আয় রোজগারের ব্যবস্থা করে সুন্দরভাবে বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তারপরও যদি চুরি-ডাকাতি করে, তখন তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। পেটের দায়ে যারা চুরি করবে তাদের হাত কাটা হবে না। ইসলাম তাদের আয়ের ব্যবস্থা করে দিবে। যারা বাড়ি-গাড়ি, ব্যাংক-বীমা করার জন্য চুরি করবে তাদের প্রকাশ্যে হাত কাটার ব্যবস্থা করা হবে; যাতে গোটা দেশ এটা থেকে শিক্ষা নেয়। এরকম দুয়েকটি উদাহরণ নিশ্চিত করতে পারলে আশা করি চুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এভাবে যিনার ব্যাপারেও উদাহরণ তৈরি করতে পারলে যৌন হয়রানিও বহুলাংশে বন্ধ হয়ে যাবে। মা বোনেরা নিরাপত্তা পাবেন। আল্লাহর বিধান কায়েম হলে দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীরা নির্মূল হবে। যারা সৎ ও পরিচ্ছন্নভাবে জীবন নির্বাহ করবে তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে। তারা নিরাপত্তা পাবেন, মুক্ত পরিবেশ পাবেন। তাদের থাকবে না কোনো ভয়-ভীতি।’

ঘুষ-দুর্নীতি করবে না এমন মানুষ ঘরে ঘরে তৈরি করতে হবে
মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে সমাজকে চাঁদাবাজ মুক্ত হতে হবে, দখলদার ও সন্ত্রাস মুক্ত হতে হবে বলে মনে করেন জামায়াতের আমীর। তিনি বলেন, ‘আল্লাহকে ভয় করে চলে এমন একদল লোক তৈরি করতে হবে; যারা মিথ্যা কথা বলবে না, যারা মানুষকে ধোঁকা দিবে না। প্রতারণা করবে না, কারো ইজ্জতে হাত দিবে না। ঘুষ-দুর্নীতি করবে না এমন মানুষ ঘরে ঘরে তৈরি করতে হবে। তবেই মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।’

প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী এবং বিতর্কিত সুপারিশমালা বাতিলের অনুরোধ
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী এবং বিতর্কিত সুপারিশমালা বাতিলের অনুরোধ জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা এই সরকারের প্রতি আধা-আধি সন্তুষ্ট। এটা কোনো দলীয় সরকার নয়। তারা একমতের মানুষ নন। তাদের সকল কর্মকাণ্ড একমুখী হয় না। ফলে দেশবাসীকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। কিছু দিন আগে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন সরকারের নিকট সুপারিশমালা জমা দিয়েছে। তাদের সুপারিশমালায় কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী বেশকিছু বিষয় রয়েছে। তারা সমাজকে যে জায়গায় নিয়ে যেতে চান, তা জাতির জন্য লজ্জাকর। তারা দেশকে এক সর্বনাশা পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে চায়, আমরা তা হতে দিবনা ইনশাআল্লাহ।

আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের একটি নির্দিষ্ট কৃষ্টি-কালচার, তাহজিব-তামাদ্দুন এবং আচার-প্রথা রয়েছে, যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। তার ব্যত্যয় ঘটতে দেওয়া হবে না। তাদের সমাজবিধ্বংসী সুপারিশমালা আমরা মানব না। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে বলতে চাই, আপনি দেশে ফিরে প্রথমেই কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী এবং বিতর্কিত সুপারিশমালা বাতিল করুন। এই জাতীয় কমিশনে ঈদানদার মহিলাদের অন্তর্ভূক্ত করতে হবে, যারা কুরআন-হাদিসের পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন।’

দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশবাসী পবিত্র রমজান মাসটি সুন্দরভাবে কাটাতে পেরেছেন। কিন্তু আবার মনে হচ্ছে, দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল হতে যাচ্ছে। সরকারের উচিত সে দিকে নজর দেওয়া। সমাজের শৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের পাকড়াও করুন। দ্রব্যমূল্যের সিন্ডিকেট ভেঙে দিন। গণহত্যা প্রসঙ্গে আমীরে জামায়াত বলেন, যারা গণহত্যা সংঘটিত করেছে তাদেরকে আইনের বাইরে রাখবেন না। তাদের বিচার নিশ্চিত করুন। তাদের বিচার দৃশ্যমান করুন। বিগত সাড়ে ১৫ বছরের জঞ্জাল দূর করতে পর্যাপ্ত সংস্কার করুন। কালো টাকা ও পেশিশক্তি থেকে বের হয়ে এসে সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য সমানুপাতিক নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।’

আগামীর নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে করার দাবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে করার দাবি জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, ‘শুনতে পাচ্ছি আগামীর সংসদ উচ্চ ও নিম্ন দুই কক্ষ বিশিষ্ট করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। মূল কর্তৃত্ব থাকবে নিম্ন কক্ষের হাতে; যেটা গঠিত হবে বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতিতে। আর উচ্চ কক্ষের নির্বাচন হবে পিআর পদ্ধতিতে। দেশবাসীর প্রশ্ন উচ্চ কক্ষ যদি পিআর সিস্টেমে হয় তবে নিম্ন কক্ষ নয় কেন? আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হল আগামীর নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে হতে হবে। দুনিয়ার ৬২টি দেশ পিআর সিস্টেমে নির্বাচন করে। সম্প্রতি ইউরোপ সফর করে এলাম। ইউরোপের ২৬টি দেশের মধ্যে ১৬টি দেশ পিআর সিস্টেমে নির্বাচন করে। তারা যদি এই সুফল যুগ যুগ ধরে পেয়ে থাকে এই সুফল থেকে জাতিকে বঞ্চিত করার আমরা কে? এই অধিকার জাতিকে জাতির হাতে তুলে দিতে হবে। এটি যারা মানবে না তারা হলো বিচার মানি তালগাছটা আমার। আমরা বলবো, বিচার মানুন, রায়ে তালগাছ যার তাঁর হাতে চলে যাবে। এই বিচারটি হতে হবে ন্যায় বিচার।’

দেখতে চান ইসির এসিড টেস্ট
বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তাঁরা জাতিকে উদাহরণ সৃষ্টিকারী নির্বাচন উপহার দেওয়ার কথা বলছেন। আমার তাদের এসিড টেস্ট দেখতে চাই। আমরা তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, স্থানীয় সরকার না থাকার কারণে জাতি নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তাই আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিন। স্থানীয় নির্বাচনের এসিড টেস্ট এর মাধ্যমে আপনাদের সক্ষমতা এবং সদিচ্ছা দেখতে চাই। আপনাদের কাজে সন্তুষ্ট হলে জনগণ আপনাদের সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে যাবে। আর যদি তার ব্যত্যয় ঘটে তবে জনগণ আপনাদের হলুদ নয় লাল কার্ড দেখাবে। কোনো দল বা গোষ্ঠীকে বিশেষ কোনো সুবিধা দেওয়া হলে তা আমরা কিছুতেই মানব না। আমরা ১৮ কোটি মানুষকে সুবিধা দেওয়ার পক্ষে। ঘরে ঘরে ন্যায় ও সত্যের আওয়াজ পৌঁছে দিন।’

সত্য ও ন্যায়ের পথে সংগঠিত থাকার বার্তা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ময়মনসিংহের কর্মী সম্মেলন থেকে দেশবাসীকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। জাতির উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘নিজেদেরকে ঐক্যবদ্ধ রাখুন। ন্যায় ও সত্যের পথে সংগঠিত থাকুন। হয়তো অপরাধীদের দমন করার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করতে আমাদেরও রাস্তায় নামতে হতে পারে। তার জন্য আপনারা তৈরি হোন এবং সতর্ক থাকুন। অতীতে যা চলেছে এখনো যদি তাই চলে তবে এত রক্ত এত জীবন গেল কেন? এত শহীদ এত আহত এত পঙ্গু তাদের কাছে আমরা কী জবাব দিব? জাতির কাছে কীভাবে মুখ দেখাব! তাই শহীদ ও আহতদের প্রতি সম্মান রেখে বাংলাদেশকে জঞ্জালমুক্ত, কলুষমুক্ত, ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত, দুঃশাসনমুক্ত করার জন্য আমরা আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত আছি। অতীতের দুরাচার, স্বৈরাচার, দুর্নীতিবাজ লুটেরাদের থেকে শিক্ষা নিন।’

তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘দেশের ২৮ লক্ষ কোটি টাকা কারা চুরি করেছে? ফ্যাসিবাদ পালিয়ে গেছে। এখন আর কোনো ভয় নেই। তাই নির্ভয়ে বলুন এই টাকা আওয়মী লীগ ও তাদের দোসররা চুরি করেছে। তারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে। আমরা সরকারকে বলছি পাচারকৃত সকল টাকা ফেরত আনা হোক। দুর্বৃত্তরা টাকা পয়সা চুরি করে বিদেশে পালিয়ে গেছে। তাই আমি ইউরোপ সফরে গিয়ে তাদেরকে বলেছি আমাদের টাকা ফেরত পেতে সহযোগিতা করুন এবং দুর্বৃত্তদের আমাদের হাতে তুলে দিন।’

কালের আলো/এমএসএএকে/এমএএএমকে

২০২৬ থেকে ৮০-এর দশকে—নস্টালজিয়ার নতুন ঠিকানা এআই

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
২০২৬ থেকে ৮০-এর দশকে—নস্টালজিয়ার নতুন ঠিকানা এআই

একটা ছবি। ফিকে রং। দানা দানা গ্রেইন। লম্বা চুল, চওড়া কাঁধের ব্লেজার, বড় কানের দুল—দেখলে মনে হবে, ছবিটি হয়তো তোলা হয়েছিল চার দশক আগে। কিন্তু ছবির মানুষটি? তিনি ২০২৬ সালেরই একজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন এমন ছবিই ছড়িয়ে পড়ছে। ‘আমি যদি আশির দশকে থাকতাম, কেমন দেখাতাম?’—এই কৌতূহল থেকেই নিজেদের বর্তমান ছবিকে এআইয়ের সাহায্যে আশির দশকের চরিত্রে রূপ দিচ্ছেন নেটিজেনরা।

চুল বদলে যাচ্ছে, বদলে যাচ্ছে পোশাক। যোগ হচ্ছে পুরোনো গাড়ি, ঘরের সাজ, সিনেমার পোস্টারের মতো ব্যাকগ্রাউন্ড। এমনকি ছবির রং ও সেই সময়ের ক্যামেরার দানাদার আবহও তৈরি করে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে আলোচনায় আসা এই ট্রেন্ড কয়েক দিনের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তারকারাও যোগ দিয়েছেন এই রেট্রো যাত্রায়।

কিন্তু ২০২৬-এর মানুষ হঠাৎ কেন ফিরে তাকাচ্ছে ১৯৮০-এর দিকে?

যে দশকে ‘বেশি’ই ছিল ফ্যাশন

আশির দশক ছিল বাড়াবাড়ির দশক। আজকের ফ্যাশনে যেখানে ‘লেস ইজ মোর’—সেখানে আশির দশকের মন্ত্র যেন ছিল, ‘মোর ইজ মোর।’ চওড়া কাঁধ, বড় চুল, উজ্জ্বল রং, বড় কানের দুল, মোটা বেল্ট আর চোখে পড়ার মতো পোশাক—সবকিছুতেই ছিল আলাদা করে নজর কাড়ার চেষ্টা।

পোশাক তখন শুধু শরীর ঢাকার উপকরণ ছিল না; পোশাকই হয়ে উঠেছিল নিজের পরিচয় জানান দেওয়ার ভাষা। বাংলাদেশেও আশির দশক ছিল ফ্যাশনের পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। নারীদের পোশাকে শুরু হয় নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। জনপ্রিয় হয়ে ওঠে পোলকা ডট, হল্টার-নেক ব্লাউজ, বড় হুপ কানের দুলসহ নানা স্টাইল।

শাড়িতে আশির দশকের লুকে ছবি – অভিনেত্রী বুবলীর
ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের প্রভাব ছিল বেশ শক্তিশালী। শাড়ির নকশা ও বুননেও আসে পরিবর্তন। জনপ্রিয় হয় ডিজাইনার শাড়ি, নকশিকাঁথার এমব্রয়ডারি ও টাই-ডাই। কামিজ, ব্লাউজ কিংবা টপ—যাই হোক, কাঁধ ও হাতার নকশায় থাকত বাড়তি আয়োজন।

অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম লিখেছেন, আশির দশকের লুক।
ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

পুরুষদের ফ্যাশনেও আসে পরিবর্তন। শার্ট, ট্রাউজার ও ডেনিমের পশ্চিমা প্রভাব বাড়তে থাকে। তবে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, লুঙ্গি কিংবা স্যান্ডো গেঞ্জিও নিজেদের জায়গা ধরে রাখে। আর ঢাকার নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও এলিফ্যান্ট রোড হয়ে ওঠে ফ্যাশনের পরিচিত গন্তব্য। অর্থাৎ আশির দশকে বাংলাদেশে ফ্যাশন শুধু পোশাকের বিষয় ছিল না—ধীরে ধীরে এটি হয়ে উঠছিল একটি শিল্প ও ব্যবসা।

গায়িকা জেফার রহমান লিখেছেন, ইন্টারনেটের আশির দশকের এই পার্টিতে এইমাত্র যোগ দিলাম!
ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

তখনকার ইনফ্লুয়েন্সার ছিলেন নায়ক-নায়িকারা

আজকের মতো তখন ইনস্টাগ্রাম ছিল না। টিকটক ছিল না। ছিল না ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সারের দুনিয়া। তখন একজন মানুষের পোশাকের ধরন বদলে দিতে পারত একটি সিনেমা অথবা একটি গান অথবা টেলিভিশনে দেখা কোনো তারকার চুলের স্টাইল।

১৯৮১ সালে এমটিভি চালুর পর গান আর ফ্যাশনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। কিন্তু নতুন কোনো ফ্যাশন ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগত। সিনেমা ও টেলিভিশন থেকে সেটি যেত ম্যাগাজিনে, তারপর বাজারে।

অমিতাভ বচ্চন, শ্রীদেবী, রেখা, পারভিন ববি—বলিউডের তারকারা ছিলেন তরুণদের স্টাইল আইকন। বাংলাদেশেও রুনা লায়লা, কবরী, ববিতা ও জাফর ইকবালের মতো তারকারা তৈরি করেছিলেন নিজস্ব ফ্যাশন প্রভাব।তরুণীদের মধ্যে ববিতার ফোলা চুলের স্টাইল ছিল বেশ আলোচিত।

আর মিঠুন চক্রবর্তীর ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ যেন ফ্যাশনে নিয়ে আসে অন্যরকম ঝড়। ঝলমলে পোশাক, টাইট প্যান্ট, জ্যাকেট, বেল্ট—ডিস্কো লুক হয়ে ওঠে তরুণদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র। শ্রীদেবী ও রেখার সিনেমার গান থেকেও অনুপ্রেরণা নিতেন তরুণীরা। শাড়ির সঙ্গে স্টাইলিশ ব্লাউজ, বড় দুল, চুড়ি আর নানা ধরনের হেয়ারস্টাইল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

পারভিন ববির পশ্চিমা পোশাক, জাম্পস্যুট, বড় সানগ্লাস ও টাইট ট্রাউজার শহুরে ফ্যাশনেও প্রভাব ফেলে। দেশীয় সিনেমায় জাফর ইকবাল হয়ে ওঠেন তরুণদের অন্যতম স্টাইল আইকন। আর ১৯৮৯ সালে ‘বেদের মেয়ে জোস্‌না’ মুক্তির পর অঞ্জু ঘোষের সাজেও তৈরি হয় ব্যাপক আগ্রহ। রুপার গয়না, বড় টিপ ও গ্রামীণ ঘরানার পোশাক ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানা প্রান্তে।

চার দশক পর আবার কেন?

পুরোনো ফ্যাশন নতুন করে ফিরে আসা নতুন কিছু নয়। ফ্যাশনের জগতে রেট্রো বারবার ফিরে আসে। কখনো সত্তর, কখনো নব্বই, কখনো আবার আশির দশক। তবে এবারের গল্পটা একটু অন্যরকম। কারণ এবার শুধু পোশাক ফিরছে না—ফিরছে একটি পুরো সময়ের অনুভূতি।

এ যুগের মডেল ফয়সাল খান নীলের ৮০’র দশকের সেই ওভারসাইজ ব্লেজার
ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

 

নজর কাড়া একটি ছবি প্রকাশ করে ক্যাপশনে পূর্ণিমা লিখেছেন, নতুন ট্রেন্ড
ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

ওভারসাইজড ব্লেজার, শোল্ডার প্যাড, হাই-ওয়েস্টেড জিনস, লেদার জ্যাকেট, বড় অ্যাকসেসরিজ—আশির দশকের অনেক কিছুই এখনকার ফ্যাশনে নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে। আর এই নস্টালজিয়ার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে জেন-জি।

অভিনেত্রী তানজিকা আমিন ছবিটি প্রকাশ করে লিখেছেন, গা ভাসাইলাম
ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

 

অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব লিখেছেন, ট্রেন্ডের সাথে তাল মিলিয়ে! আশির দশকের একজন অভিনেতা হলে যেমনটা হতো।
ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

মজার বিষয় হলো—এই প্রজন্মের অনেকেই আশির দশক দেখেইনি। তবু সেই সময়ের প্রতি তাদের টান। নিজে যে সময়ে কখনো বেঁচে থাকেনি, সেই সময়ের প্রতি নস্টালজিয়াকে বলা হয় ‘অ্যানিমোইয়া’। অর্থাৎ নিজের নয়, তবু নিজের মতো মনে হওয়া কোনো অতীতের প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ।

অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা লিখেছেন, কালজয়ী গান আর পুরোনো দিনের স্টাইলের সেই সোনালী যুগে ফিরে যাওয়া!
ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

নিখুঁত ছবির যুগে পুরোনো ছবির অপূর্ণতা

এখানেই হয়তো লুকিয়ে আছে পুরো ট্রেন্ডের সবচেয়ে বড় রহস্য। আজকের ছবি অনেক বেশি নিখুঁত। আলো ঠিক করা যায়। রং বদলে দেওয়া যায়। মুখের খুঁত সরিয়ে দেওয়া যায়। কয়েক সেকেন্ডেই তৈরি করা যায় ঝকঝকে, নিখুঁত একটি ছবি। কিন্তু আশির দশকের ছবি ছিল অন্যরকম। ফিকে রং। ফিল্ম গ্রেইন। আলোর স্বাভাবিক ওঠানামা। আর ছিল অসম্পূর্ণতা।

জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব লিখেছেন, আশির দশকের কোনো এক বিকেল থেকে…।
ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

আজকের অতিরিক্ত পালিশ করা ডিজিটাল দুনিয়ায় সেই অসম্পূর্ণতাই যেন নতুন সৌন্দর্য হয়ে উঠেছে। যে জিনিসগুলো একসময় পুরোনো প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ছিল, এখন সেগুলোই হয়ে উঠছে নান্দনিকতা।

এখন অতীতে যেতে লাগে শুধু একটি ছবি

একসময় আশির দশকের লুক তৈরি করতে প্রয়োজন হতো ভিনটেজ পোশাক, পুরোনো ক্যামেরা, মেকআপ আর্টিস্ট, হেয়ার স্টাইলিস্ট—আর অনেক প্রস্তুতি। এখন? একটি ছবি আর একটি এআই প্রম্পটই যথেষ্ট। মুহূর্তেই বদলে যাচ্ছে চুল, পোশাক, ব্যাকগ্রাউন্ড, গাড়ি কিংবা ছবির রং। চাইলে ছবিতে যোগ হচ্ছে পুরোনো ফিল্ম ক্যামেরার গ্রেইনও। ফলে এই ট্রেন্ড শুধু ফ্যাশনের নয়—এটি নিজের পরিচয়কে অন্য এক সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার এক ধরনের ডিজিটাল খেলা।

সাফা কবির লিখেছেন, আশির দশকের এই উন্মাদনা এখন পুরো ইন্টারনেট জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আর চরকি তে দারুণ এক চমৎকার ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছে!
আশির দশকের এই লুকে ডা. ইরিনকে কেমন লাগছে?
ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

হয়তো মানুষ প্রযুক্তি নয়, একটু অতীতই খুঁজছে

প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, মানুষের জীবন তত বেশি দ্রুত, তত বেশি ডিজিটাল। সবকিছু হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই অতিরিক্ত গতির মাঝেই হয়তো তৈরি হচ্ছে থেমে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। আর সেই থেমে যাওয়ার জায়গাটাই যেন খুঁজে নিচ্ছে আশির দশকে।

যে দশক আজকের প্রজন্মের কাছে বাস্তব স্মৃতি নয়, বরং সিনেমা, গান, পুরোনো ছবি আর গল্পের তৈরি এক কল্পিত পৃথিবী। তাই হয়তো ২০২৬ সালের একজন তরুণ এআইয়ের সাহায্যে নিজের ছবিকে আশির দশকে নিয়ে গিয়ে দেখতে চাইছেন— ‘আমি যদি সেই সময়ে জন্মাতাম, তাহলে আমাকে কেমন দেখাত?’ একটি ছবি। একটি প্রম্পট। আর কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে চার দশক পেরিয়ে যাওয়া।

এ যেন প্রযুক্তির সাহায্যে শুধু অতীতকে পুনর্নির্মাণ নয়—
নিজের কল্পনায় হারিয়ে যাওয়া একটি সময়কে একবার ছুঁয়ে দেখা। সময়ের ঘড়ি সামনে এগিয়ে যায়। ফ্যাশন বদলায়। প্রযুক্তি বদলায়। কিন্তু কিছু দশক কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। তারা ফিরে আসে—কখনো পোশাকে, কখনো গানে, কখনো সিনেমায়, আর এবার—এআইয়ের বানানো একটি ছবিতে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া, দ্য ডেইলি স্টার, পিওর এলিগ্যান্স ও কসমোপলিটান ইন্ডিয়া

কালের আলো/জেএন

উন্নয়ন প্রকল্পে লাগাম, গ্যাস-রেলে বড় পরিকল্পনা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
উন্নয়ন প্রকল্পে লাগাম, গ্যাস-রেলে বড় পরিকল্পনা

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা ঠেকানো, ভবিষ্যৎ গ্যাস সংকট মোকাবিলা, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ আধুনিকায়ন এবং চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে একযোগে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের পৃথক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উন্নয়ন প্রকল্পে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, দ্রুত রেল যোগাযোগ এবং চট্টগ্রামের নগর অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়েছে।

প্রকল্পে সময়-ব্যয় বৃদ্ধিতে কঠোর সরকার
কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি মাত্র কারণে হয় না। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ সমস্যা তৈরি করে। তিনি বলেন, বিষয়গুলো সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল ফিজিবিলিটি স্টাডি, ব্যয়ের সঠিক প্রাক্কলন না হওয়া, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে দুর্বলতা, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, যথাসময়ে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব।

  • মেয়াদ-ব্যয় বৃদ্ধিতে কঠোর নজরদারি
  • ১৫০ কূপ খনন
  • ঢাকা-চট্টগ্রামে ইলেকট্রিক ট্রেন
  • বর্ষার আগেই পরিষ্কার হবে ১,৬০০ কিমি ড্রেন

১৩ দফায় নজরদারি ও জবাবদিহিতা
প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা ও অপচয় রোধে সরকার ১৩ দফা পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা; অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুত করা; প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনের নির্দেশিকা সময়োপযোগী করা; বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিংয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন; নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধি; ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় জোরদার; নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হলে বিলম্ব ও ব্যয়ের কারণ নিরূপণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা; ৩০ শতাংশের কম অগ্রগতির প্রকল্প পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন বা চলমান রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত; বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ; সরকারি ক্রয়ে ই-জিপির ব্যবহার সম্প্রসারণ; প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব; পিপিপি মডেলের প্রকল্প গ্রহণে গুরুত্ব ও  সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫’ হালনাগাদের উদ্যোগ।

১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা
শিল্পখাতে সাময়িক সংকটের সময় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন, ২ডি ও ৩ডি সাইসমিক সার্ভে এবং সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থলভাগে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে Onshore Model PSC 2026 প্রণয়নের কার্যক্রমও চলছে। বর্তমানে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গড়ে দৈনিক ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর টার্মিনাল থেকে ডিসেম্বর ২০৩০ নাগাদ গ্যাস সরবরাহের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে এনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাস প্রাপ্তি সাপেক্ষে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন
দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণ এবং ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিতকর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় কমে আসবে।

তিন স্তরের রেল পরিকল্পনা
ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইনের কাজ চলছে। অন্যদিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম অংশের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইনের কাজ শেষ হয়েছে। লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন। টঙ্গী-আখাউড়া অংশের ডিপিপি প্রণয়নও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বর্ষার আগেই পরিষ্কার হবে ১,৬০০ কিমি ড্রেন
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানাতে গিয়ে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে নগরের ২৫টি খাল থেকে আবর্জনা ও মাটি উত্তোলনসহ ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সার্ভিস ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই এ কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি নগরীর আরও ৩২টি খাল থেকে আবর্জনা ও মাটি অপসারণের কার্যক্রমও চলছে।

স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে বাস্তবায়নাধীন জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের ৩৬টি খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন চলছে। এর বাইরে আরও ২১টি খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পৃথক ডিপিপি প্রণয়ন করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও চলছে একাধিক প্রকল্প। এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৪৮ কিলোমিটার সড়ক, দুটি কালভার্ট ও ছয়টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। নাগরিকদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে দুটি খেলার মাঠের উন্নয়নকাজ শেষ হয়েছে এবং আরও ছয়টি মাঠ উন্নয়নের কাজ চলছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: রাষ্ট্রীয় ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: রাষ্ট্রীয় ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

রাষ্ট্রপতির পদবির আগে ‘মহামান্য’ এবং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একই দিন থেকেই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় কাজ ও দাপ্তরিক নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা এ ধরনের অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ আর ব্যবহার করা যাবে না। সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর অধীনস্থ দপ্তরগুলোকে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে নতুন বার্তা
দাপ্তরিক নথিতে কোনো পদবির আগে সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে ভাষাগত বা আনুষ্ঠানিকতার প্রশ্ন মনে হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দেরই একটি সাংবিধানিক, প্রশাসনিক ও প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে। সে বিবেচনায় ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে কেবল একটি ভাষাগত পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রীদের মতো সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পদকে ব্যক্তির পরিবর্তে পদ হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত একটি নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ভাষা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অর্থাৎ, ব্যক্তি নয়—পদই হবে রাষ্ট্রীয় নথিপত্রে মূল পরিচয়।

রাষ্ট্রীয় পদ ও ব্যক্তিগত মর্যাদার মধ্যে পার্থক্য
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা অবশ্যই মর্যাদার অধিকারী। তবে সেই মর্যাদা ব্যক্তিকে ঘিরে অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতা তৈরির মাধ্যমে প্রকাশ করা জরুরি নয়। একজন রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী যে পদে অধিষ্ঠিত, তার সাংবিধানিক মর্যাদা পদটির মধ্যেই নিহিত।

ফলে পদবির সঙ্গে অতিরিক্ত সম্মানসূচক শব্দ যুক্ত না করেও একজন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীর সাংবিধানিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব। বরং এ ধরনের ভাষাগত সরলীকরণ দাপ্তরিক যোগাযোগকে আরও নিরপেক্ষ, সংক্ষিপ্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক করে তুলতে পারে।

প্রশাসনিক ভাষায় সরলতা ও সমতা
সরকারি নথিপত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত নির্ভুলতা, সংক্ষিপ্ততা ও নিরপেক্ষতা। সেখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিশেষণ বা অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে দায়িত্ব ও পদকে গুরুত্ব দেওয়া হলে প্রশাসনিক ভাষা আরও প্রাতিষ্ঠানিক হয়ে ওঠে। ‘মহামান্য’ বা ‘মাননীয়’ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাই রাষ্ট্রীয় নথিতে একটি অভিন্ন ভাষাশৈলী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এতে একই সঙ্গে প্রশাসনিক যোগাযোগে আনুষ্ঠানিকতার ভার কমবে এবং রাষ্ট্রীয় পদকে ব্যক্তির ঊর্ধ্বে একটি প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় হিসেবে তুলে ধরা সহজ হবে।

তবে এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত তাৎপর্য নির্ভর করবে এর বাস্তব প্রয়োগের ওপর। শুধু পরিপত্র জারি করলেই রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসে না; মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ দপ্তরগুলো নিয়মটি কতটা ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করছে, সেটিই হবে মূল বিষয়। সরকারি চিঠি, প্রজ্ঞাপন, স্মারক, প্রতিবেদন, আমন্ত্রণপত্রসহ সব ধরনের দাপ্তরিক নথিতে একই নীতি অনুসরণ করা গেলে এটি প্রশাসনিক ভাষায় একটি সুস্পষ্ট পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় পদগুলোর ক্ষেত্রে সম্মান প্রকাশের প্রচলিত রীতিগুলো কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেটিও নজর দেওয়ার বিষয়। রাষ্ট্রপতির আগে ‘মহামান্য’ এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের আগে ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আপাতদৃষ্টিতে ছোট একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হলেও এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় ভাষা, প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা এবং ব্যক্তি ও পদের পার্থক্যকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ