খুঁজুন
                               
, ,
           

জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় রেকর্ডের ছড়াছড়ি, সাঁতারকে অনন্য উচ্চতায় নিতে চান নৌবাহিনী প্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ মে, ২০২৫, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় রেকর্ডের ছড়াছড়ি, সাঁতারকে অনন্য উচ্চতায় নিতে চান নৌবাহিনী প্রধান

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো:

চারদিনব্যাপী ৩৭তম জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার ও ডাইভিং প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার প্রথম দিনেই একটি নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছিলেন মাইশা আক্তার মিম। ২০১২ সালে আনসারের নাজমা খাতুনের গড়া রেকর্ড ভেঙে এবার বিকেএসপি’র মাইশা বালিকা ১৫ থেকে ১৭ বছর বিভাগে ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে ভেঙেছেন দীর্ঘদিনের সেই রেকর্ড। এজন্য সাকুল্যে সময় নিয়েছেন ১ মিনিট ৭ দশমিক ৫৪ সেকেন্ড। এতে করে নতুন জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতারের ইতিহাসে লেখা হয়েছে তাঁর নাম। নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন ২০০ মিটার ইন্ডিভিজয়াল মিডলেতে বিকেএসপির জুই আক্তারও। জুই সময় নিয়েছেন ২ মিনিট ৪৮ দশমিক ১ সেকেন্ড। আগের রেকর্ড ছিল বিকেএসপির এ্যানি আক্তারের। এ্যানি সময় নিয়েছিলেন ২ মিনিট ৫১ সেকেন্ড।

মাইশা বা জুঁই এর মতো এবার সাঁতারে ৪টি ও ডাইভিংয়ে ২টিসহ মোট ৬টি ইভেন্টে নতুন জাতীয় রেকর্ড হয়েছে। আঙুল না থাকা কিশোরগঞ্জের নিকলীর যুবক নাদিম মাতিয়েছেন পুল। শিলাইদহ সুইমিং ক্লাবের হয়ে এবারের সাঁতার প্রতিযোগিতায় সবকটি ইভেন্টেই তিনি পদক জিতেছেন। ৪টির মধ্যে ৩টি রুপা ও ১টি ব্রোঞ্জ। সুইমিংপুলে রীতিমতো ঝড় তুলে ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে রেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছেন মনির খান তন্ময়। প্রাপ্তির উচ্ছ্বাস নিয়ে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই সাঁতারু শুরুতে বললেন ‘সাঁতার অনেক কষ্টের’। পরক্ষণেই বললেন, কষ্টের পথ পাড়ি দিতে চান বড় স্বপ্ন নিয়ে। এই তরুণের চোখে ২০২৬ সালের দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে (এসএ গেমস) আলো ছড়ানোর আঁকিবুকি। তবে সব ছাপিয়ে এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে বিকেএসপি। তাঁরা জিতেছে ৭০টি স্বর্ণ, ৬২টি রৌপ্য ও ৩২টি ব্রোঞ্জ পদক।

শনিবার (২৪ মে) মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে প্রতিযোগিতার সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন নৌবাহিনী প্রধান ও বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সভাপতি এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশে সাঁতারকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদী উচ্চারণ ছিল তাঁর কণ্ঠে। তিনি বলেছেন, ‘এই প্রতিযোগিতায় এবার ৮০০ এর অধিক ছেলে-মেয়ে অংশগ্রহণ করেছে। আমার বিশ্বাস আমাদের সাঁতারের প্রতি আন্তরিকতা রয়েছে। তোমাদের সবার যে সাঁতারের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে, আমরা সবাই মিলে সাঁতারকে বাংলাদেশে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবো। শুধুমাত্র দেশের ভেতরেই নয় আন্তর্জাতিকভাবেও সাঁতারে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।’

সমাপনী অনুষ্ঠানে সুইমিং ফেডাশেনের সহ-সভাপতি ও মিয়া ভাই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিয়া ভাই ও সুইমিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শাহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেই ফেডারেশনকে ঘিরে নিজের স্বপ্ন, পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। নিজেদের টিম স্পিরিটকে কাজিয়ে লাগিয়ে সুইমিং ফেডারেশনকে ঢেলে সাজিয়ে দেশের জন্য তিনি নিশ্চিত করতে চান অনন্য সম্মান। এই ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে তিনি সেরা সাঁতারু খুঁজে বের করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ট্যালেন্ট হান্টে বিশেষভাবে নারী সাঁতারুদের খুঁজে আনার প্রয়াস নিয়েছেন। সেরা সাঁতারু কর্মসূচিতে ভবষ্যিতের জন্য ভালো নারী সাঁতারু তুলে আনতে সুচিন্তিত এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। নিয়মিত আয়োজন হচ্ছে জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার ও ডাইভিং প্রতিযোগিতা। যেখানে থেকে বেরিয়ে আসছে কৃতি সব সাঁতারু। ফেডারেশনের এই সভাপতির যুগান্তকারী সব পদক্ষেপেই সাঁতারুদের চোখে এখন নতুন স্বপ্নের বুনন। বিশ^মঞ্চেও নিজেদের প্রমাণ করার চেষ্টা।

সুইমিং ফেডারেশন সূত্র জানায়, ৩৭তম জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার ও ডাইভিং প্রতিযোগিতায় কুষ্টিয়ার শিলাইদাহ সুইমিং ক্লাব ৬টি স্বর্ণ, ৫টি রৌপ্য ও ৮টি ব্রোঞ্জ পেয়ে দ্বিতীয় এবং কুষ্টিয়ার আমলা সুইমিং ক্লাব ৬টি স্বর্ণ, ২টি রৌপ্য ও ৪টি ব্রোঞ্জ পেয়ে তৃতীয় হয়েছে। পুরুষ বিভাগে বিকেএসপির মো. মনির খান তন্ময় (১৮-২০ যুব) ৯টি স্বর্ণ ও ১টি ব্রোঞ্জ পদক পেয়ে সেরা সাঁতারু নির্বাচিত হয়েছে। তন্ময় একটি ইভেন্টে নতুন জাতীয় রেকর্ডও গড়েছে। আর মহিলা বিভাগে বিকেএসপির মোছা. জুই আক্তার (১৮-২০ যুবতী) ৫টি স্বর্ণ পদক পেয়ে সেরা সাঁতারু হয়েছে। জুই ২টি ইভেন্টে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছে। মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে শনিবার (২৪ মে) প্রতিযোগিতার শেষ দিনে সাঁতারে ২০টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১টি ইভেন্টে নতুন জাতীয় রেকর্ড হয়েছে। ২০০ মিটার ইন্ডিভিজয়াল মিডলেতে বিকেএসপির জুই আক্তার নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়ার গৌরব অর্জন করেন। এবার সাঁতারুদের আর্থিক পুরস্কারও প্রদান করা হয়। নতুন জাতীয় রেকর্ড করা সাঁতারুকে পাঁচ হাজার টাকা, স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত সাঁতারুদের দুই হাজার টাকা, রৌপ্য পদক প্রাপ্ত সাঁতারুদের এক হাজার টাকা এবং ব্রোঞ্জ পদক প্রাপ্ত সাঁতারুদের পাঁচশ টাকা দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জাতিসংঘকে কার্যকর ও আস্থাশীল রাখতে গভীর ও অর্থবহ সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হলে সংস্থাটিতে গভীর সংস্কার করতে হবে। সংস্কার যেন কেবল নামমাত্র না হয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৪৫ সাল নয়। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে আছি। বিশ্ব এগিয়ে গেছে, তাই জাতিসংঘকেও এগিয়ে যেতে হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রতিনিধি ও কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সংস্থাকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সংস্কারগুলো অবশ্যই অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর আকুতি তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সামনে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রাখবেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দেশ তাকে ভোট দিয়েছে কি না, সেটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সব দেশের জন্য একজন সভাপতি হিসেবে কাজ করতে চান।

এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে এই পদমর্যাদা ও দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি