খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

আবেগ-ভালোবাসার অনবদ্যতায় বীর চট্টলার স্মৃতিচারণে ভবিষ্যতের সমন্বিত রূপরেখা তারেক রহমানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
আবেগ-ভালোবাসার অনবদ্যতায় বীর চট্টলার স্মৃতিচারণে ভবিষ্যতের সমন্বিত রূপরেখা তারেক রহমানের

বিশেষ সংবাদদাতা/চট্টগ্রাম প্রতিবেদক, কালের আলো:

ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দান থেকে পলোগ্রাউন্ড। মাঝখানে কেটে গেছে ২০ বছর। ১৭ বছরই নির্বাসনে থাকতে হয়েছে যুক্তরাজ্যে। ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি নগরীর লালদীঘি ময়দানে এক জনসভায় চট্টগ্রামের সঙ্গে নিজের আবেগ-অনুভূতির অনবদ্যতায় নাড়িয়েছিলেন বীর চট্টলার বিবেকের পাটাতন। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ২০২৬ সালে পলোগ্রাউন্ডে। আর হবেই না কেন, এই বন্দর নগরী থেকেই বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আবার এখানেই চিরতরে হারিয়েছেন মাথার ওপর ছায়া বাবাকে। এই পুণ্যভূমি থেকেই বড় প্রাপ্তি ছিল মমতাময়ী মা দেশমাতা খালেদা জিয়ার ‘দেশনেত্রী’ উপাধি।

প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামে উপস্থিত হয়ে এই চট্টগ্রামকে নিয়ে নরম তুলার মতো ইতিহাস-আবেগে মোড়ানো ভালোবাসায় সমর্পণ করে বললেন, ‘এই সেই চট্টগ্রাম, এই সেই পুণ্যভূমি, যেখান থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হয়েছিলেন। এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমি ও আমার পরিবারের আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।’ এবার একটি পরিবর্তন সামনে রেখে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসভায় উপস্থিত হয়ে তারেক রহমান ভোট রাজনীতিতে জোয়ার তুলেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি।

২০ বছর পর রোববার (২৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠের সমাবেশস্থলে সরাসরি উপস্থিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে অন্তরতা, আবেগ ও দায়বদ্ধতার মধ্যে দিয়ে স্পর্শকাতর তীব্র অনুভূতিকে জাগ্রত করলেন। হৃদয়ে হৃদয় মেলাতে প্রথমেই মঞ্চে না উঠে কুশল বিনিময় করলেন প্রাণভোমরা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে। যখন মঞ্চে উঠলেন তখন ঘড়ির কাঁটায় তখন ১২টা ২০ মিনিট। মাইক হাতে শুরুতেই আঞ্চলিক ভাষায় জানতে চাইলেন ‘অনেরা ক্যান আছন (আপনারা কেমন আছেন)’। তাঁর এই উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চের ওপারে থাকা নেতা-কর্মীরা ‘ভালা আছি (ভালো আছি)’ বলে উত্তর দিলেন। বন্দর নগরীর পলোগ্রাউন্ড তখন কানায় কানায় পূর্ণ। লাখো নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে ঠাসা। সমাবেশে সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ঢল নামে নেতা-কর্মীদের। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায় পুরো এলাকা।

উত্তাল জনতার সামনে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। অঙ্গীকার করলেন চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার। তিনি কথা বললেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষি ও শিল্পায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন ও পরিবেশ রক্ষার মতো জাতীয় ইস্যু নিয়ে। একইসঙ্গে তরুণ সমাজকে সামনে রেখে ব্যাংক ঋণ সহজ করা, স্টুডেন্ট লোন চালু এবং উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরলেন।

বিএনপির চেয়ারম্যানের আগমনকে ঘিরে আগের রাত থেকেই পলোগ্রাউন্ড মাঠে আসতে শুরু করেন নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলা থেকে আসেন নেতা-কর্মীরা। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা। সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসেন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। শুধু নগর থেকে নয়, আশপাশের উপজেলা ও পার্বত্য জেলা থেকেও মিছিল নিয়ে আসেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তাঁদের হাতে নির্বাচনী প্রার্থীদের ব্যানারও দেখা যায়। কেউ কেউ ঢাকঢোল বাজিয়ে প্রবেশ করেন সমাবেশে। সমাবেশে যোগ দেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এর আগে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দলের প্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে পৌঁছান তারেক রহমান। সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে তিনি সরাসরি নগরের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে ‘দ্য প্লান ইউথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এতে চট্টগ্রামের ৫০টি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ৪৫০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। মতবিনিময় সভায় বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে বলে জানান দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে তরুণদের ভাবনা, প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রনীতি বিষয়ে মতামত শুনতে এই আয়োজন করা হয় বলে জানায় বিএনপি। এক তরুণের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ সব বড় শহরে জলাবদ্ধতা আছে। এটা কাটাতে একটা কাজ করতে হবে, তা হলো খাল খনন। বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। পানি তো কোথাও যেতে হবে। তাই দরকার খাল খনন। সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল আমরা খনন করবো।’

একাত্তরে অর্জিত হয়েছিল স্বাধীনতা, চব্বিশে দেশকে রক্ষা
রোববার (২৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠের জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে যেমন স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, তেমনি ২৪-এর আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ আবারও দেশকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে- যে পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত হবে।’ রাজনৈতিক সমালোচনা ও বাস্তব উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা চাইলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি, কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না বা মানুষের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসবে না। বিএনপি একমাত্র দল, যারা যতবার ক্ষমতায় গেছে, ততবারই মানুষের জন্য কাজ করেছে।

দ্রব্যমূল্য ও কৃষি উৎপাদনের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে। এজন্য বিএনপি কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চায়, যাতে তারা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সহজে পেতে পারে। জলাবদ্ধতা সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের একটি বড় সংকট হলো জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল ও নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাই বিএনপি পরিকল্পিতভাবে খাল কাটতে চায়।

শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এসব ইপিজেড বিএনপির আমলেই গড়ে উঠেছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনলে আরও নতুন ইপিজেড স্থাপন করা হবে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করা হবে।

বিএনপি দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে
নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, যেকোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, তখন দলের কেউ অন্যায় করলেও তাকে ছাড় দেওয়া হয়নি। আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। দুর্নীতি দমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমনে সক্ষম হয়েছিলেন। আগামী দিনেও দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

আগামী দিনে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন এবং ধানের শীষে ভোট দিন আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ভোটের দিন ভোরে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে, ফজরের নামাজ শেষে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবেন।’ তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণ দেওয়া প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে বহু ছোট ছোট উদ্যোক্তা রয়েছে। আমাদের দেশে ব্যাংক লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা রয়েছে। সহজেই ব্যাংক লোন পাওয়া যায় না। এজন্য আমরা যতটুকু সম্ভব সহজ করতে চাই। সেই পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। একইসঙ্গে যেসব শিক্ষার্থী বিদেশে পড়তে যায় তারা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। কেউ সময়মতো ভিসা বা টিকিট কাটতে পারে না। তাদেরকে স্টুডেন্ট লোন কীভাবে দেওয়া যায় সে বিষয়ে কাজ করবে বিএনপি।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের দেশে বিশেষ করে শহরাঞ্চলের বাতাস অনেক দূষিত। এই ছোট্ট দেশে প্রায় ২০ কোটি মানুষ বসবাস করে। কাজেই ২০ কোটি মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার জন্য বায়ু দূষণের সঙ্গে আমাদের ফাইট করতে হবে। আমরা ৫ বছরে ৫০ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছি। তিনি বলেন, এখন অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন Ñ এতো চারা কোথায় পাব? আমি তার উত্তরে বলবো, গাছ মূলত বর্ষা মৌসুমে লাগাতে হয়। আপনাদের এ সম্পর্কে ধারণা রয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় একটি করে হলেও নার্সারি রয়েছে। একটি নার্সারির চারা উৎপাদন ক্ষমতা ২০-২৫ হাজার মতো। আমরা যদি এই নার্সারির উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারি, তাহলে সহজে আমরা লক্ষ্যে পৌঁছে যাব।

চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকার
২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে সরকারে থাকার সময় চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিল বিএনপি। তবে পরবর্তী সময়ে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। আজ রোববার নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন। চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই অঞ্চলের মানুষের একটি বড় দাবি আছে। যেই দাবিটির ব্যাপারে বিগত বিএনপি সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া উদ্যোগ (বাণিজ্যিক রাজধানী করার) গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি।’

বিগত ১৫ বছরে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নিÑএমন মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই উদ্যোগ যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে শুধু চট্টগ্রামের মানুষ নয়, দেশে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য অনেক চাঙা হবে, যাতে করে মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মানুষ চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য করে খেতে পারবে।’ চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীÑএটি কেবল কাগজেই; বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ীরা এ কথা বলেছেন। এদিন তারেক রহমানও সে প্রসঙ্গে কথা বললেন। তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। চট্টগ্রামসহ দেশের মানুষ চায় একটি নিরাপদ পরিবেশ। যে পরিবেশে তাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন। আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে তাঁরা এই চট্টগ্রামে ইপিজেড-কেইপিজেডের মতো অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করার উদ্যোগ নেবেন। এতে লাখ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বিএনপির অন্যান্য নেতাদেরও একই দাবি
জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামকে অনেকে বলেন বাণিজ্যিক রাজধানী। বাণিজ্যিক রাজধানী খালি বক্তৃতা দিলে হবে না। আমাদের চট্টগ্রামকে এমনভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা নিয়ে যাব; যেন আগামী দিনে এটাকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে সরকারের ঘোষণা করার দরকার না হয়। বাণিজ্যিক রাজধানী হবে আমাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। চট্টগ্রাম আগামী দিনে বাণিজ্যিক রাজধানী হবে। কোনো ঘোষণার দরকার নাই।’ তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের যে সম্ভাবনা আছে, সেই সম্ভাবনা পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামকে একটি অর্থনৈতিক হাব (অঞ্চল) হিসেবে গড়ে তুলব। এই হাব, এই অর্থনৈতিক জোন শুধু বাংলাদেশের জন্য হবে না, এই হাব হবে পুরো অঞ্চলের জন্য। আমাদের পাশে যে দেশগুলো আছে, আমাদের পূর্বে-পশ্চিমে সকলের জন্য। চট্টগ্রামকে শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, এর চেয়েও বেশি আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব।’

চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়তে তারেক রহমানের সহযোগিতা কামনা করেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি জনসভায় বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়তে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, চট্টগ্রাম হয়ে উঠবে বিশ্ববাণিজ্যের হাব, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।’ মেয়র বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময় মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমি মেয়র হওয়ার পর গত এক বছরে চট্টগ্রাম নগরীর চার লাখ পরিবারকে ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হয়েছে। যেসব পরিবার দীর্ঘ ১৬ বছরে দলীয়করণ ও রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে, তাদের জন্য এই উদ্যোগ একটি ন্যায়ভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অংশ।’

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে কেন্দ্রের সামনে ফজর নামাজ আদায় করবেন
এদিন বিকেলে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘ভোটের দিন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে কেন্দ্রের সামনে ফজর নামাজ আদায় করবেন। এ দেশের জনগণের সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর আগামী দিনের বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে পারবো।’ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গত ১৫ বছর যেমন আমাদের ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এখন আবার একটি দল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আপনাদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। আপনাদের ভোটের অধিকার কেউ যেন কেড়ে নিতে না পারে।

তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করলে জনগণের লাভ হবে না। সুতরাং যেভাবে জনগণের লাভ হয়, আমরা সেই কাজগুলো করব। ধানের শীষকে নির্বাচিত করে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। ধানের শীষ সরকার গঠন করতে পারলেই আমরা খালেদা জিয়া, শহীদ জিয়ার কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ গড়তে পারবো। এতে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর এলাকার মানুষের ওপর বিএনপির একটু হক আছে। খালেদা জিয়া এ এলাকার সন্তান, এ এলাকার মেয়ে। স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিলে খালেদা জিয়ার সম্মান বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে সারা দেশে সত্যিকার অর্থে জনগণের কোনো প্রতিনিধি ছিল না। এ জন্য দেশের এই অবস্থা। কিছু সংখ্যক মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। তবে ৯৮ শতাংশ মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন হয়নি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আমরা এলাকার মানুষের জন্য কাজগুলো শুরু করতে পারব। এ দেশে আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা থাকতে হবে।’ তারেক রহমান আরও বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ সাক্ষী আছে, কীভাবে গত ১৫ বছর মানুষের কথা বলার অধিকার ও ভোটের অধিকারকে দাবিয়ে রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সেই স্বৈরাচার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আজ একটি পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছি, গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছি। ১২ তারিখে ধানের শীষকে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

পেনাল্টি না পাওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তাতে ফ্রান্সের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে অলিভার জিরুদের পাশে বসেন তিনি। ওখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল। তাতে এককভাবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

এছাড়া বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি করে সাবেক ফরাসি লিজেন্ড জাস্ট ফন্টেইন ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে গেলেন তারকা স্ট্রাইকার। বলাবাহুল্য, বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

আর তিনটি গোল করলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন তিনি। ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সবার উপরে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় এমবাপে যৌথভাবে তিন নম্বরে। ১৪ গোল করে গার্ড মুলারের পাশে তিনি।

ডি-বক্সের বাইরে থেকে মাইকেল অলিসের এক দারুণ অ্যাসিস্ট সেনেগালের রক্ষণব্যুহকে ভেঙে দেয়। আর ছয় গজ বক্সের প্রান্ত থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে এদুয়ার মেন্দির পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপে।

ফ্রান্সের জার্সিতে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল। তারপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জাদুকরী শটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে ২৪ বছর পর মাঠে নামল সেনেগাল। ২০০২ সালের সেই অঘটনের স্মৃতি অনুপ্রাণিত রেখেছিল তাদের। প্রথমার্ধে তারাই গোল করার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলো পেয়েছিল। দুর্ভাগ্য যে এগিয়ে যেতে পারল না। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর গোলশূন্য।

নিকোলাস জ্যাকসন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তার শট পোস্টে গিয়ে আঘাত করে। এছাড়া প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে ইসমাইলা সার-ও গোল করার একটি বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সকে বেশ ক্লান্ত দেখা গেছে। সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করেছে।

গত দুইবারের ফাইনালিস্ট কোনো ধরনের অঘটনে না পড়তে চাইলে দ্বিতীয়ার্ধে নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:০৫ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম-১২ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে দেওয়া অনুদান বণ্টনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত এ তহবিলের অর্থ একই এলাকার বাসিন্দা, সংসদ সদস্যের আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বিভিন্ন ব্যক্তির অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরির প্রস্তাব করা হয়। তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সুবিধাভোগীদের একটি বড় অংশ পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং তারা একে অপরের সঙ্গে পারিবারিক ও আত্মীয়তাসহ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত।

তালিকায় থাকা বুলু আকতার (স্বামী: আহমদুল হক), হাসনা খাতুন (পিতা: আজিজুর রহমান), হোসনেরা বেগম (পিতা: আহমদ মিয়া), মুছাৎ হোসনেরা বেগম (পিতা: মোহাম্মদ ইউনুছ মিয়া), রাজিয়া আকতার (স্বামী: আমিরুল হক), হানিফাতুল মোজাহেবা (স্বামী: হাফেজ আজগর হোসেন), আজিজুল হক (পিতা: আব্দুল হক) এবং মরিয়ম বেগম (পিতা: মোহাম্মদ মুছা) একই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে তাদের অনেককে সংসদ সদস্যের আত্মীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, তালিকায় এমপি এনামের চাকতাই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলম ট্রেডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন কর্মচারীর নামও রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন— জসিম উদ্দিন (পিতা: মোহাম্মদ ছৈয়দ), মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ (পিতা: নুরুল ইসলাম), মোহাম্মদ শাকেল (পিতা: মোহাম্মদ সেলিম), মো. ওমর ফারুক (পিতা: মো. নূরুল ইসলাম) এবং পিকলু চৌধুরী (পিতা: রতন চৌধুরী)।

এ ছাড়া, সংসদ সদস্যের বাড়ির কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর (পিতা: মোহাম্মদ আবুল কালাম) এবং বাড়ির টি-বয় তানজিমুল হক আহাদকে (পিতা: আহমদুল হক) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ বণ্টনে স্বজনপ্রীতি হয়েছে। একই গ্রাম ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অধিকাংশ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক ও পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মিয়া  বলেন, আমি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। তাছাড়া এটা আমাদের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হবে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি