বিএনপির ঢাকা মহানগরের দুই কমিটির নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস
বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের বর্তমান আহ্বায়ক আমিনুল হক সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তিনি আগের মতো সংগঠনের কাজে সময় দিতে পারছেন না। তাই আহ্বায়ক পদে পরিবর্তন আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে নতুন সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা মামুন হাসান। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন ও সাবেক কমিশনার আনারুজ্জামান আনোয়ার।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু বর্তমানে ফেনীর একটি আসনের সংসদ সদস্য, যার ফলে তিনিও আগের মতো সময় দিতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে নতুন সভাপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাবিবুন নবী খান সোহেল। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম ও ফরহাদ হোসেন।
অনেকেই মনে করেন, বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই দু’কমিটিতে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা। যেখানে দক্ষ, পরিচ্ছন্ন ও জনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দিতে হবে। একদিকে প্রতিপক্ষের আগাম প্রস্তুতি, অন্যদিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে না পারলে নির্বাচনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে দলটিকে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, গত ১৭ বছরে যারা মামলা-হামলা, জেল-জুলুম সহ্য করে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অনেককে এখন বিভিন্ন অজুহাতে মূলধারা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ‘ত্যাগী নেতাদের নানা ট্যাগ দিয়ে দূরে রাখা হচ্ছে’—এমন অভিযোগ এখন তৃণমূল নেতাকর্মীদের। ফলে একদিকে যেমন কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়তা কমে যাচ্ছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যারা কঠিন সময়ে মাঠে ছিল, এখন তাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বরং নতুন করে আসা বা বিতর্কিতদের কমিটিতে জায়গা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংগঠন আরও দুর্বল হবে এবং সিটি নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array