খুঁজুন
                               
, ,
           

বিএনপির ঢাকা মহানগরের দুই কমিটির নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ
বিএনপির ঢাকা মহানগরের দুই কমিটির নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস

বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের বর্তমান আহ্বায়ক আমিনুল হক সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তিনি আগের মতো সংগঠনের কাজে সময় দিতে পারছেন না। তাই আহ্বায়ক পদে পরিবর্তন আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে নতুন সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা মামুন হাসান। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন ও সাবেক কমিশনার আনারুজ্জামান আনোয়ার।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু বর্তমানে ফেনীর একটি আসনের সংসদ সদস্য, যার ফলে তিনিও আগের মতো সময় দিতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে নতুন সভাপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাবিবুন নবী খান সোহেল। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম ও ফরহাদ হোসেন।

অনেকেই মনে করেন, বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই দু’কমিটিতে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা। যেখানে দক্ষ, পরিচ্ছন্ন ও জনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দিতে হবে। একদিকে প্রতিপক্ষের আগাম প্রস্তুতি, অন্যদিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে না পারলে নির্বাচনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে দলটিকে।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, গত ১৭ বছরে যারা মামলা-হামলা, জেল-জুলুম সহ্য করে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অনেককে এখন বিভিন্ন অজুহাতে মূলধারা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ‘ত্যাগী নেতাদের নানা ট্যাগ দিয়ে দূরে রাখা হচ্ছে’—এমন অভিযোগ এখন তৃণমূল নেতাকর্মীদের। ফলে একদিকে যেমন কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়তা কমে যাচ্ছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যারা কঠিন সময়ে মাঠে ছিল, এখন তাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বরং নতুন করে আসা বা বিতর্কিতদের কমিটিতে জায়গা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংগঠন আরও দুর্বল হবে এবং সিটি নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কালের আলো/এম/এএইচ

পল্লবীতে নিষিদ্ধ আ. লীগ-ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
পল্লবীতে নিষিদ্ধ আ. লীগ-ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১৭

রাজধানীর পল্লবী থানার মিরপুর-১২ এলাকায় মিছিলের অভিযোগে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় একটি ব্যানার, একটি মাইক্রোবাস ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুর-১২ মেট্রোরেলের পিলার নম্বর-১৪০ এর পূর্ব পাশে পাকা সড়ক থেকে এ গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে মিছিল করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

টহলরত পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে ১৭ জনকে আটক করা হয়। এ সময় অজ্ঞান আরও অনেকে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যানার জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ভাড়া করা একটি সাদা রঙের হাই-এস মাইক্রোবাস এবং গ্রেপ্তার দুজনের ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংবাদকর্মীদের স্বার্থে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
সংবাদকর্মীদের স্বার্থে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী

সংবাদকর্মী ও গণমাধ্যমের স্বার্থে সরকার গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহিরউদ্দীন স্বপন। তিনি বলেছেন, খুব শিগগির এ-সংক্রান্ত অ্যাকশন প্ল্যান ও গণমাধ্যম কমিশনের খসড়া অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

‎‎শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‎‎তথ্যমন্ত্রী বলেন, একবার যদি গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে পারি, তাহলে সৎ সাংবাদিকদের অনুপ্রাণিত করার জন্য সরকারের হাতে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার থাকবে।

একই সঙ্গে অসৎ সাংবাদিকদের জন্য এটি দুঃসংবাদে পরিণত হবে।

‎‎তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার করতে সরকার কাজ করছে।

এ লক্ষ্যেই গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‎‎বরিশাল টেলিভিশন ও মাল্টিমিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিটিএমএর সাধারণ সম্পাদক আকতার ফারুক শাহিন।

‎বরিশাল সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নিকুঞ্জ বালা পলাশ, সাধারণ সম্পাদক শাহীন হাফিজ, সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদের সভাপতি কাজী মিরাজ, দৈনিক শাহানামা পত্রিকার সম্পাদক কাজী আজাদ, সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ টিটু, মর্তুজা জুয়েল, শাহিন হাসান, শাহিন হাফিজ, শেখ শামীম, খন্দকার রাকিব প্রমুখ এসময় বক্তব্য দেন।

‎‎সভায় সাংবাদিক নেতারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যমের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন‍্য তথ্যমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

দেশ বিভাজনের কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
দেশ বিভাজনের কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

Oplus_131072

পাহাড়ি, সমতল কিংবা ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ-বিভাজন তৈরি করার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ বরিশাল জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ রাজনৈতিক বা স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চায় কিংবা ধর্মের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে গ্রাস করতে চায়, তাহলে বুঝতে হবে সে সৃষ্টিকর্তা, মানবতা এবং ধর্মের মূল মর্মবাণীর বিরোধিতা করছে।

রাজনীতি ও ধর্মের ভিন্নতা ব্যাখ্যা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনীতিতে দর্শন, চিন্তা ও আদর্শ কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়। ধর্মীয় দর্শন আবর্তিত হয় সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকে ঘিরে, আর রাজনীতির চিন্তাভাবনা আবর্তিত হয় জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে। রাজনীতির কোনো প্রতীক বা মার্কা দেবত্ব প্রদত্ত নয়; দল বা নেতা কোনো দেব-দেবী নন। তাদের বক্তব্য ও কর্মসূচি যতক্ষণ জনগণ নিজের কল্যাণ হিসেবে গ্রহণ করবে, ততক্ষণ তা থাকবে। অন্যথায় জনগণ তা বর্জন করবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্ম চর্চাকারীরা যখন ধর্মব্যবসায়ীদের চিনতে পারবেন, তখনই প্রকৃত ধর্মচর্চা সার্থক হবে। যে যার ধর্ম গভীরভাবে বিশ্বাস ও চর্চা করার মাধ্যমেই অন্য ধর্মকে সমানভাবে শ্রদ্ধা করার মানসিকতা তৈরি হয়। যখনই কোনো মহল ধর্মীয় অনুভূতিকে সূক্ষ্মভাবে সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করবে, তখনই ধর্মপ্রাণ মানুষকে সোচ্চার হয়ে সেই ধর্মব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে।

দেশের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিতে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যারা রাজনীতিতে সকল মানুষের সমান অধিকার নিয়ে কথা বলি, তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিনিধি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা ইতিহাসের শিক্ষা ভুলিনি। জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণ না করলে ইতিহাস আবার নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন— ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।

বরিশাল জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।

এর আগে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

কালের আলো/এসএকে