খুঁজুন
                               
, ,
           

আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায় করে নেব: বিরোধীদলীয় নেতা

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায় করে নেব: বিরোধীদলীয় নেতা

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক উপ-নির্বাচনগুলোতেও সহিংসতা, অনিয়ম ও সন্ত্রাসের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে শেরপুরে জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে সহিংসতায় আহত কর্মীকে দেখতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত শেরপুর ও বগুড়ার জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে জনগণ একটি সুষ্ঠু পরিবেশ প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু বাস্তবে সেখানে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে শেরপুর-৩ আসনে সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নেয়। এর আগে একই আসনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন, যারা এখনো চিকিৎসাধীন।

তিনি আরও বলেন, পুনঃনির্ধারিত নির্বাচনেও সহিংসতা থামেনি। এক বয়স্ক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতরভাবে আঘাত করা হয়েছে। যদিও প্রথমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়েছিল, পরে জানা যায় তিনি সংজ্ঞা ফিরে পেয়েছেন।

শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীতেও সহিংসতা ছিল, কিন্তু আমরা আশা করেছিলাম এখন তা কমবে। রাজনীতি হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু তা প্রকাশ হবে ভাষার মাধ্যমে, অস্ত্রের মাধ্যমে নয়।

তিনি সংসদের কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন। তার মতে, সংসদ জনগণের কল্যাণের জায়গা হওয়া উচিত, কিন্তু অতীতে সেখানে ব্যক্তিগত আক্রমণ বেশি হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত সংসদে সময় ও অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, অশালীন বক্তব্য বন্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা প্রশ্ন তোলেন, যারা সহিংসতার মাধ্যমে সংসদে যায়, তারা জনগণের কী সেবা করবে? একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান রক্ষা করা এগুলো নষ্ট করে ক্ষমতায় যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীরা মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যা প্রমাণ করে স্বাস্থ্যসেবায় জনগণ ন্যায্য অধিকার পাচ্ছে না। সংসদে এ বিষয়ে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দেন বিরোধীদলীয় নেতা।

এছাড়াও সংসদ থেকে ওয়াকআউটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো দলীয় ইস্যু নয়, বরং জনগণের জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রতিবাদ। পুলিশ সদস্যদের ন্যায্য বিচার না পাওয়ার বিষয়েও কথা বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সুযোগ দেওয়া হয়নি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার জনগণের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং জনগণের ওপর অন্যায় ও অবিচার করেছে। তবে এই অন্যায়ের প্রতিক্রিয়া সহিংসতার মাধ্যমে নয়, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই মোকাবিলা করা হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায় করে নিবো ইনশাআল্লাহ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

একদিনে হামের উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
একদিনে হামের উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি সেপ্টেম্বর মাসের সর্বোচ্চ।

এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭০ জন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১০৭৬ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০১ জন এবং হাম সন্দেহে ৯৭৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে মারা যাওয়াদের মধ্যে ছয়জন ঢাকা বিভাগের। এর মধ্যে পাঁচজনই ঢাকার দুই সিটির বাসিন্দা।

এছাড়া মৃতদের মধ্যে সিলেটের একজন, চট্টগ্রামের দুজন, খুলনার একজন এবং রংপুরের একজন রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জন মৃত্যুর বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বরের চারটি অপ্রকাশিত মৃত্যু আজকের রিপোর্টে যোগ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন আরও বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১১৩ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগী ১ হাজার ১৫৭ জন।

এ নিয়ে চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজার ৩০০। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ২০ হাজার ৮৫১ এবং সন্দেহজনক হাম রোগী ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জন।

এছাড়া চলতি বছরে মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ২০০ ছাড়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ২০০ ছাড়াল

ভয়ানক হয়ে ওঠা ডেঙ্গু জ্বরে ভুগে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন।

এই সময়ের মধ্যে রোগটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৬৮ জন।

এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে হয়ে গেল ২০১ জন। আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়ে গেল ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গু বিষয়ক বিশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এদিন আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ৮৭২ জন, যা চলতি বছরে সর্বোচ্চ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

অনির্দিষ্টকাল ধরে রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব কেবল বাংলাদেশের ওপর বহন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তার উদারতা কখনোই রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য শরণার্থী শিবিরগুলো আদর্শ নয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীও সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাও কমছে। ২০২৬ সালের জন্য সহায়তার আবেদন কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি।

তিনি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ ভূমিতে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রথমত, দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণ ও রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধ করে নিজ ভূমিতে তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

চতুর্থত, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইসিজে ও আইসিসিসহ আন্তর্জাতিক বিচারিক ও তদন্তব্যবস্থাকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

পঞ্চমত, মাদক, মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্রসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। বাংলাদেশ মানবিকতার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করেছে; এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ যেন নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির গল্প না হয়ে ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও আশার গল্প হয়—এ লক্ষ্যে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/এমএসআইপি