খুঁজুন
                               
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

অন্তর্বর্তী সরকারের ভুলে টিকা কেনায় দীর্ঘসূত্রতা

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
অন্তর্বর্তী সরকারের ভুলে টিকা কেনায় দীর্ঘসূত্রতা

আগে টিকা কেনা হতো ইউনিসেফ থেকে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ৫০ শতাংশ টিকা ইউনিসেফ এবং ৫০ শতাংশ কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এ কারণে টিকা কেনায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সব ধরনের টিকার সংকট দেখা দেয়। সেই সংকট এখনো বিদ্যমান। তবে বর্তমান সরকার তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, যে টিকাগুলো সরকারের কাছে থাকার কথা সেগুলো গত ১৬ মার্চ থেকে শেষ হওয়া শুরু করেছে। এপ্রিলে পেন্টাভ্যাক্স এমএম; ডিপথেরিয়া, পারটুসিস (হুপিংকাশি) এবং টিটেনাসসহ সবই মোটামুটি শেষ হওয়ার পথে। এই সংকটের সমাধানে সরকার নতুন করে টিকা কেনার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সরকার সরাসরি ইউনিসেফ থেকে টিকা কিনতে তাদের কাছে টাকাও পাঠিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই টিকার সমাধান হবে। তবে ওপি চালু করতে না পারলে সংকট থেকে যাবে।

টিকা শেষ হওয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল। অদ্ভুত ঘটনা হচ্ছে, আগে সরকার সরাসরি ইউনিসেফ থেকে টিকা কিনত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, ৫০ শতাংশ কিনবে ইউনিসেফের থেকে আর বাকি ৫০ শতাংশ সিএমএসডিতে ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে। ওপেন টেন্ডার করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। ফলে বিষয়টি ঝুলে ছিল। বর্তমান সরকার এখন সরাসরি প্রকিউরমেন্টে নিয়ে আসায় ইউনিসেফ থেকেই কেনা হচ্ছে। বাকি ৫০ শতাংশের টাকার জন্য একটা সমন্বয়ের বিষয় ছিল। কোভিডের কিছু টাকা বেচেছিল।

সেই টাকার সঙ্গে সমন্বয় করতে সময় লাগছিল। সেটাও এখন মোটামুটি সমাধান হয়েছে। সুতরাং এখন নতুন ভ্যাকসিন পেতে আর সমস্যা নেই। তবে টিকার যে সংকট সেটা ডিপোতে, ডিস্ট্রিবিউশন এরিয়া, বিভিন্ন উপজেলা-জেলায় এখনো টিকা আছে। সেগুলো দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫-২০ দিন চলবে। ২০ তারিখ থেকে আমরা রেগুলার ভ্যাক্সিনেশন শুরু করছি। আর সমস্যা হবে না।’

জানা গেছে, স্বাস্থ্য খাতে অপারেশন প্ল্যানে (ওপি) স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং জনসংখ্যার কার্যক্রমগুলো চলছিল। তা নবায়ন না করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব (স্বাস্থ্য-৩) ফাতিমা-তুজ-জোহরা ঠাকুর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ওপি পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত তিন পদবিও বিলুপ্ত করা হয়।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, ওপিতে ৫ বছর মেয়াদি খাতভিত্তিক ব্যাপক কর্মসূচি পরিচালিত হতো। প্রায় ৩৪-৩৫টি ওপি দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সব কাজ হতো। স্বাস্থ্যের সব কাজ যেমন কিউরেটিভ সার্ভিসেস, হাসপাতাল, হাসপাতালের ওষুধপত্র, নানা সার্জিক্যাল জিনিস, যন্ত্রপাতি কেনা এবং হাসপাতালের যত কর্মকাণ্ড আছে সবই ওপির মাধ্যমে হতো। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের কাজগুলো, যেমন টিকা দান, কুকুর এবং মানুষকে জলাতঙ্কের টিকাদান। এভাবে বিভিন্ন রোগ নির্মূল, বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপকভাবে কাজ করত এই ওপি। কিন্তু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে ওপি বন্ধ করে দেয়। আর এতে স্বাস্থ্য সেবার বিভিন্ন বিষয় স্থবির হয়ে পড়ে।

কালের আলো/এম/এএইচ

দেশের প্রথম ‘ক্যাশলেস কারাগার’ চালু মুন্সিগঞ্জে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
দেশের প্রথম ‘ক্যাশলেস কারাগার’ চালু মুন্সিগঞ্জে

রোববার (২১ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় কারা অধিদপ্তর।

কারা অধিদপ্তর জানায়, ক্যাশলেস কারা ব্যবস্থাপনায় আরএফআইডি (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন) প্রযুক্তির মাধ্যমে কারাগারে বন্দিদের অবস্থান শনাক্ত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে RFID ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্দি ওয়ার্ডে বন্দিদের গণনা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এ ব্যবস্থায় বন্দিদের আত্মীয়-স্বজন কর্তৃক প্রদান করা অর্থ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বন্দির হিসাবে জমা হবে। পরে আরএফআইডি প্রযুক্তির মাধ্যমে কারা ক্যান্টিন থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটায় ওই অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন বন্দিরা।

কারা অধিদপ্তর আরও জানায়, নতুন এ ব্যবস্থার ফলে কারাগারে কোনো ধরনের নগদ অর্থের লেনদেন হচ্ছে না। এতে বন্দিদের অবস্থান সহজে নিশ্চিত করার পাশাপাশি লেনদেন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কারা ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বন্দিদের তথ্য ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ এবং সেবার মান উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর। মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে চালু হওয়া এ কার্যক্রম দেশের কারা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মুক্তির দ্বিতীয় দিনে কত আয় করল ‘ককটেল ২’

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
মুক্তির দ্বিতীয় দিনে কত আয় করল ‘ককটেল ২’

বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে শাহিদ কাপুর, কৃতি শ্যানন ও রাশমিকা মান্দানা অভিনীত রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার সিনেমা ‘ককটেল ২’। হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তির প্রথম দিনেই বক্স অফিসে সাড়া ফেলেছে। ‘টয় স্টোরি ৫’ এবং সামান্থা রুথ প্রভুর ‘মা ইনটি বাঙ্গারাম’-এর মতো বড় বাজেটের সিনেমার সঙ্গে একই দিনে মুক্তি পায় সিনেমাটি। তবে সিনেমা দুইটিকে পাশ কাটিয়ে বক্স অফিসে রমরমা ব্যবসা করেছে ‘ককটেল ২’।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দিনে ভারতে ১৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করে। দ্বিতীয় দিনে সিনেমাটি ব্যবসা করেছে ১৬ কোটি ২৫ লাখ রুপি। দুই দিনে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ৭৫ লাখ রুপি (গ্রস হিসেবে ৩৫ কোটি ৭০ লাখ রুপি)।

শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়েও সিনেমাটির আয় বাড়ছে। প্রথম দিনে বিশ্বব্যাপী ২০ কোটি ২০ লাখ রুপি আয়ের করেছিল। দ্বিতীয় দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে আয় করেছে ১৫ কোটি ২৫ লাখ রুপি। মুক্তির দুই দিনে বিশ্বব্যাপী ‘ককটেল ২’-এর মোট বক্স অফিস কালেকশন দাঁড়িয়েছে ৫০ কোটি ৯৫ লাখ রুপি।

লভ রঞ্জন ও তরুণ জৈনের লেখা সিনেমাটি দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও বক্স অফিসের আয়ে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সাইফ আলী খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও ডায়ানা পেন্টির ব্লকবাস্টার ‘ককটেল’ সিনেমার ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে তৈরি হয়েছে সিনেমাটি।

তবে আগের গল্পের সিক্যুয়েল নয় বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তুলনা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এটি কোনো সিক্যুয়েল নয়; এটি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। এর গল্প ও চরিত্রগুলো সম্পূর্ণ আলাদা। ’

কী আছে ‘ককটেল ২’-এর গল্পে?
সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে দুই ছোটবেলার বন্ধু ক্রুনাল ও দিয়াকে কেন্দ্র করে। ছুটিতে বেড়াতে গিয়ে ইতালির সিসিলিতে ১০ বছর পর দিয়ার দেখা হয় তার পুরোনো বান্ধবী অ্যালির সাথে। সেখানে নিজের স্বামীকে পরীক্ষা করার জন্য দিয়া একটি পরিকল্পনা করে। বান্ধবীর পরিকল্পনায় অ্যালিও যোগ দেয়। কিন্তু মজার ছলে করা পরিকল্পনা এক সময় তাঁদের সবার জীবনে বিশাল বিপর্যয় ডেকে আনে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

গুম-খুনের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা

গুম-খুনের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
গুম-খুনের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘঠিত গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আজ পঞ্চম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

রোববার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। মামলায় একমাত্র আসামি হিসেবে রয়েছেন জিয়াউল আহসান।

এর আগে গত ৯ জুন পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের দিন নির্ধারিত থাকলেও নতুন আইনজীবী নিয়োগের আবেদন জানিয়ে সময় চান আসামিপক্ষ। পরে ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে আজকের দিন ধার্য করেন।

মামলার সর্বশেষ অগ্রগতিতে গত ২৩ এপ্রিল চতুর্থ সাক্ষী হাবিবুর রহমান মল্লিকের জেরা সম্পন্ন হয়। এর আগের দিন ২২ এপ্রিল তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছিল।

চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু করার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই গাজীপুরের পুবাইলে তিনজনকে হত্যার পাশাপাশি ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনাসহ বিভিন্ন স্থানে শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

আজকের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ