অন্তর্বর্তী সরকারের ভুলে টিকা কেনায় দীর্ঘসূত্রতা
আগে টিকা কেনা হতো ইউনিসেফ থেকে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ৫০ শতাংশ টিকা ইউনিসেফ এবং ৫০ শতাংশ কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এ কারণে টিকা কেনায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সব ধরনের টিকার সংকট দেখা দেয়। সেই সংকট এখনো বিদ্যমান। তবে বর্তমান সরকার তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, যে টিকাগুলো সরকারের কাছে থাকার কথা সেগুলো গত ১৬ মার্চ থেকে শেষ হওয়া শুরু করেছে। এপ্রিলে পেন্টাভ্যাক্স এমএম; ডিপথেরিয়া, পারটুসিস (হুপিংকাশি) এবং টিটেনাসসহ সবই মোটামুটি শেষ হওয়ার পথে। এই সংকটের সমাধানে সরকার নতুন করে টিকা কেনার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সরকার সরাসরি ইউনিসেফ থেকে টিকা কিনতে তাদের কাছে টাকাও পাঠিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই টিকার সমাধান হবে। তবে ওপি চালু করতে না পারলে সংকট থেকে যাবে।
টিকা শেষ হওয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল। অদ্ভুত ঘটনা হচ্ছে, আগে সরকার সরাসরি ইউনিসেফ থেকে টিকা কিনত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, ৫০ শতাংশ কিনবে ইউনিসেফের থেকে আর বাকি ৫০ শতাংশ সিএমএসডিতে ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে। ওপেন টেন্ডার করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। ফলে বিষয়টি ঝুলে ছিল। বর্তমান সরকার এখন সরাসরি প্রকিউরমেন্টে নিয়ে আসায় ইউনিসেফ থেকেই কেনা হচ্ছে। বাকি ৫০ শতাংশের টাকার জন্য একটা সমন্বয়ের বিষয় ছিল। কোভিডের কিছু টাকা বেচেছিল।
সেই টাকার সঙ্গে সমন্বয় করতে সময় লাগছিল। সেটাও এখন মোটামুটি সমাধান হয়েছে। সুতরাং এখন নতুন ভ্যাকসিন পেতে আর সমস্যা নেই। তবে টিকার যে সংকট সেটা ডিপোতে, ডিস্ট্রিবিউশন এরিয়া, বিভিন্ন উপজেলা-জেলায় এখনো টিকা আছে। সেগুলো দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫-২০ দিন চলবে। ২০ তারিখ থেকে আমরা রেগুলার ভ্যাক্সিনেশন শুরু করছি। আর সমস্যা হবে না।’
জানা গেছে, স্বাস্থ্য খাতে অপারেশন প্ল্যানে (ওপি) স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং জনসংখ্যার কার্যক্রমগুলো চলছিল। তা নবায়ন না করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব (স্বাস্থ্য-৩) ফাতিমা-তুজ-জোহরা ঠাকুর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ওপি পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত তিন পদবিও বিলুপ্ত করা হয়।
জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, ওপিতে ৫ বছর মেয়াদি খাতভিত্তিক ব্যাপক কর্মসূচি পরিচালিত হতো। প্রায় ৩৪-৩৫টি ওপি দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সব কাজ হতো। স্বাস্থ্যের সব কাজ যেমন কিউরেটিভ সার্ভিসেস, হাসপাতাল, হাসপাতালের ওষুধপত্র, নানা সার্জিক্যাল জিনিস, যন্ত্রপাতি কেনা এবং হাসপাতালের যত কর্মকাণ্ড আছে সবই ওপির মাধ্যমে হতো। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের কাজগুলো, যেমন টিকা দান, কুকুর এবং মানুষকে জলাতঙ্কের টিকাদান। এভাবে বিভিন্ন রোগ নির্মূল, বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপকভাবে কাজ করত এই ওপি। কিন্তু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে ওপি বন্ধ করে দেয়। আর এতে স্বাস্থ্য সেবার বিভিন্ন বিষয় স্থবির হয়ে পড়ে।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array