খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

৩৭৮১৪ পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ণ
৩৭৮১৪ পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এরইমধ্যে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে নারী ও শিশুরা হবে টেকসই উন্নয়নের সমঅংশীদার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। নারী ও শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- গরিব অসচ্ছল, সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের সাধনের লক্ষ্যে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রম; গর্ভবতী মায়ের গর্ভকালীন পুষ্টি এবং শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি; মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি; নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের লক্ষ্যে জয়িতা ফাউন্ডেশন পরিচালনা ইত্যাদি।

তিনি বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে বিভিন্ন আইন এবং বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল টোল ফ্রি হেল্প লাইন, ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেল, ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরী, ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, মহিলা, শিশু ও কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এ কর্মসূচিতে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসূচিতে প্রসবপূর্ব এবং প্রসব পরবর্তী সেবা অন্তর্ভুক্ত করা, টিকা ও প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মানসম্মত প্রশিক্ষণ, নগদ সহায়তার সঙ্গে জীবিকা সহায়তা যুক্ত করে, শহর ও গ্রামাঞ্চলের জন্য পৃথক গ্রাজুয়েশনভিত্তিক মডেল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। অধিকসংখ্যক নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও নারীদের জন্য বিপণন নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এরইমধ্যে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলা এবং ৩টি সিটি কর্পোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের নারী প্রধানকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, শিশুরা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। শিশুর বিকাশ ও কল্যাণে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ; জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা আয়োজন; শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ, দরিদ্র ও দুস্থ শিশুদের প্রাক্-প্রাথমিক ও শিশু বিকাশ কর্মসূচি; অটিজম বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম; পরিবেশ সংরক্ষণসহ শিশু স্বার্থ সংরক্ষণে নানাবিধ দায়িত্ব পালন করে আসছে। পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় ২টি আবাসিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বর্তমানে ১৫১ জন শিশুকে আবাসিক ব্যবস্থা, খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়াও এ কার্যক্রমের আওতায় ৯টি আউটরিচ স্কুল রয়েছে। কর্মজীবী মায়েদের ৬ মাস হতে ৬ বছর বয়সের শিশুদের দেখভালের জন্য মোট ৬৪টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এসব দিবাযত্ন কেন্দ্রে সুষম খাবার প্রদান, প্রাক-স্কুল শিক্ষা প্রদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা করা হয় এবং ইনডোর খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। নারীদের কর্মস্থলে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র (ডে-কেয়ার) স্থাপনের পাশাপাশি, গার্মেন্টসসহ সব শিল্প কারখানা, অফিস ও আদালতে কর্মরত মায়েদের জন্য ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ স্থাপনের বিষয়ে নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষত নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততার ঝুঁকি প্রশমন ও অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং জীবিকার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জেন্ডার রেসপন্সিভ ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় (খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা এবং সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলা) বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ৪৩ হাজার নারীকে জীবিকা সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, ১৩ হাজার ৩০৮টি পরিবারভিত্তিক বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হয়েছে এবং উপকারভোগীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৩ হাজার লিটার বিশিষ্ট আরো ২ হাজার পরিবারভিত্তিক বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সিস্টেম স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এ অর্থবছরে আরো ১০ খানাবিশিষ্ট ৬৫৮টি কমিউনিটিভিত্তিক রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপনের কাজও চলমান আছে।

সংসদ সদস্য আমির এজাজ খানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় জেলা খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা ভয়াবহ নদী ভাঙনের ঝুঁকি সম্পর্কে সরকার অবগত। দাকোপ উপজেলায় ৬০-এর দশকে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। বেড়িবাঁধটি নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে সময়ে সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলাবাসীর জীবন ও সম্পদ রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী ভাঙন রোধকল্পে সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

খুলনা জেলায় দাকোপ উপজেলায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নদী ভাঙন রোধে ‘ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এনহেন্সমেন্ট প্রজেক্ট’- এর আওতায় বটবুনিয়া, খলিশা, গাইনবাড়ি এবং ঝালবুনিয়া নামক স্থানে স্থায়ী নদী তীর ও বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ জুন, ২০২৭ এ শেষ হবে।

এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার ‘উপকূলীয় পোল্ডার নং ৩১ এর পুনর্বাসন’ প্রকল্পটির প্রকল্প দলিল বর্তমানে যাচাই বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দাকোপ উপজেলাবাসী ভয়াবহ নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। ভয়াবহ নদী ভাঙনের হাত থেকে দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলাবাসীর জীবন ও সম্পদ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে এরইমধ্যে জরুরি আপদকালীন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই দাকোপ এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো বাস্তবতার আলোকে সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষায় সরকার সচেষ্ট রয়েছে। এ লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভাঙনপ্রবণ স্থানগুলো নিয়মিত তদারকি করা এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুততার সঙ্গে সংস্কার কাজ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ২০০ টাকা

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ২০০ টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ডাটা এন্ট্রি/কন্ট্রোল অপারেটর (আইটি)’ পদে ২৬ জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদন শুরু হয়েছে ১৩ মে ২০২৬ তারিখ থেকে, চলবে ২১ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন ফি বাবদ ২০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

এক নজরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

পদের বিবরণ

আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আবেদন শুরু: ১৩ মে ২০২৬ তারিখ

আবেদনের শেষ তারিখ: ২১ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

চাকরির ধরন: স্থায়ী

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

কর্মস্থল: যে কোনো স্থান

বয়স: ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ ২১-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহনযোগ্য হবে না।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন বাংলাদেশ ব্যাংক। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদন ফি: মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অফেরতযোগ্য হিসেবে ২০০ টাকা জমা দিতে হবে অথবা এজেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদন ফি দেওয়া যাবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ঈদের ছুটিতে ঘুরতে পারেন মৌলভীবাজারের ৮ স্পট

ট্রাভেল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
ঈদের ছুটিতে ঘুরতে পারেন মৌলভীবাজারের ৮ স্পট

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন জেলা হচ্ছে মৌলভীবাজারের। এ জেলার সাতটি উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ছোট-বড় মিলে প্রায় শতাধিক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া রয়েছে অসংখ্য চা বাগান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তারা তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বসবাস করছেন। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে একটি জেলায় একসঙ্গে এতো গুলো পর্যটন কেন্দ্র দেখার জন্য ঘুরে আসতে পারেন মৌলভীবাজারে থেকে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। এটি শুধু বাংলাদেশ নয় আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি স্থান। পরিচিতর দিক থেকে সুন্দর বনের পরেই লাউয়াছড়ার অবস্থান। এ উদ্যানটি কেবল পর্যটন স্থানই নয়, এ পার্ক এখন জীবন্ত প্রাকৃতিক গবেষণাগার। যা প্রাণি ও পাখি বিজ্ঞানীদের একটি রাজ্য বলা যায়। বাংলাদেশের ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি অন্যতম। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার অবস্থিত ১.২৫০ হেক্টর আয়তনের বনটি জীববৈচিত্র্য ভরপুর। ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৯২৫ সালে তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকার এখানে বৃক্ষায়ন করলে তাই বেড়ে আজকের এই বনে পরিণত হয়। জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য পশ্চিম ভানুগাছ বনের ১,২৫০ হেক্টর এলাকাকে ১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও সংশোধন) আইন অনুযায়ী ১৯৯৬ সালের ৭ জুলাই জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এ উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভয়চর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী দেখা যায়। বিলুপ্ত প্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।

কমলগঞ্জে মাধবপুর লেক

জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর লেকটি চারিদিকে সুউচ্চ সবুজ চা বাগানের মাঝখানে অবস্থিত। লেকের ঝকঝকে পানি, প্রকৃতির ছায়া, নিরিবিলি পরিবেশ ও শাপলা ফুলে দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। সবুজ পাহাড়ের চুড়ায় ধীরে ধীরে যতই এগুতে থাকবেন ততই সবুজ পাতায় পর্যটকের মনকে চাঙ্গা করে তুলবে। চারদিকে সবুজ পাহাড়ের পাশাপাশি উঁচু উঁচু টিলা রয়েছে। মাধবপুর লেক যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা কোনো ছবি।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স

কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স। মোহাম্মদ হামিদুর রহমান সাতজন শ্রেষ্ঠ বীরদের অন্যতম একজন। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত তিনি বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান। তিনি বীরশ্রেষ্ঠদের মাঝে সর্বকনিষ্ঠ। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। ১৯৭০ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে সিপাহী পদে যোগ দেন। তার প্রথম ও শেষ ইউনিট ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত

জেলার বড়লেখা উপজেলার মাধবকুন্ড জলপ্রপাতটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত। প্রায় ২০০ ফুট উঁচু টিলা হতে পাহাড়ি ঝরনার পতিত জলরাশি পর্যটকের জন্য আকর্ষণীয়। এছাড়া এই জলপ্রপাতের নিকটেই খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।

বাইক্কা বিল

শ্রীমঙ্গল উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে হাইল হাওর এটি বাংলাদেশের বৃহত্তর একটি জলাভূমি। এই হাওরে অবস্থিত বাইক্কা বিল, পর্যটকেরা শতরঙ্গের অতিথি পাখি দেখতে ও কিচিরমিচির শব্দ শুনতে ছুটে আসেন বাইক্কা বিলে।

চা-কন্যা

শ্রীমঙ্গলের প্রবেশ পথে রয়েছে চা কন্যার ভাস্কর্য যা চা শিল্পের ঐতিহ্য বহন করছে।

বধ্যভূমি

শ্রীমঙ্গলে উপজেলায় অবস্থিত বধ্যভূমি। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় নির্মিত বধ্যভূমিকে ঘিরে তৈরি এ পার্কটি দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ স্থানীয়দের পদচারণায় সবসময় মুখরিত থাকে।

ডিনস্টন সিমেট্রি

শ্রীমঙ্গল ফিনলে টি কোম্পানির ডিনস্টন চা বাগান। এখানেই শত বছরের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে আছে ডিনস্টন সিমেট্রি। এই সিমেট্রিতে শুধু বিদেশিদের কবরের সংখ্যা রয়েছে ৪৬ টি। ডিনস্টন সিমেট্রি পর্যটকের আকর্ষণীয় স্থান।

এছাড়া এ জেলায় উল্লেখযোগ্য দর্শনীয়স্থান হলো হামহাম জলপ্রপাত, মনিপুরী পল্লী, হাকালুকি হাওড়, মনু ব্যারেজ, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট, বধ্যভূমি, উঁচু নিচু সবুজ চা বাগান, চা কণ্যা ভাষ্কর্য, নীলকন্ঠ টি কেবিন, ব্যক্তি মালিকানা সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, গগন টিলা, কমলা রাণীর দিঘি, পৃথিমপাশা নবাব বাড়ি, পাথারিয়া হিলস্ রিজার্ভ ফরেস্ট, আদমপুর বনবিট, খাসিয়া পুঞ্জি, হাকালুকিহাওর, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, হযরত শাহ মোস্তফা (র:) এর মাজার শরীফ, পদ্মছড়া লেক, ক্যামেলিয়া লেক, পাত্রখোলা লেক, বাম্বোতল লেক, শমশেরনগর গল্ফ মাঠসহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীবসবাস সহ প্রায় শতাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

জেলায় আগত পর্যটকদের থাকার জন্য রয়েছে একাধিক পাঁচ তারকা মানের হোটেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজ। এরমধ্যে কয়েকটি হলো গ্র‍্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, নভেম ইকো রিসোর্ট, দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, লেমন গার্ডেন রিসোর্ট, গ্র‍্যান্ড সেলিম রিসোর্ট অ্যান্ড ট্যুর, সুইস ভ্যালি রিসোর্ট, বালিশিরা ইকো রিসোর্ট, টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ, পত্রস্নান রিসোর্ট, শান্তি বাড়ী রিসোর্ট, নিসর্গ ইকো রিসোর্ট, টি হেভেন রিসোর্ট, শ্রীমঙ্গল টি রিসোর্ট অ্যান্ড মিউজিয়াম, ওয়াটালিলি, মুক্তানগর রিসোর্ট, রাঙ্গাউটি রিসোর্ট, অরণ্যনিবাস ইকো রিসোর্ট, গগন টিলাসহ ছোট-বড় আরও প্রায় শতাধিক রিসোর্ট রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, হামের প্রভাব ও ঈদের পর ছুটি কম থাকায় আগাম বুকিং কম হয়েছে রিসোর্ট গুলোতে। ছোট রিসোর্ট শতভাগ বুকিং হলেও বড় গুলো কম হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারেন এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে জেলায় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও কাজ করবে। গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র গুলোতে পুলিশ মোতায়ন করা হবে। এরই মধ্যে আমরা বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছি।’

যেভাবে যাবেন

দেশের যে কোনো স্থান থেকে বাস যোগে মৌলভীবাজার জেলায় আসা যায়। ট্রেন যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে জেলার শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ, শমশেরনগর ও কুলাউড়া রেল স্টেশনে নেমে লোকাল বাস বা সিএনজি অটোরিকশায় অতি সহজেই পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়া যায়।

কালের আলো/এম/এএইচ

ঈদযাত্রায় তিন দিনে সড়কে ঝরল ৪৮ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রায় তিন দিনে সড়কে ঝরল ৪৮ প্রাণ

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। ঈদযাত্রার মাত্র তিন দিনে টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকে মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সোমবার (২৫ মে) এক দিনেই প্রাণ গেছে ২৮ জনের।

শনিবার (২৩ মে) রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন পথে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। এদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, যশোর, ফরিদপুর ও গাজীপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটে কুষ্টিয়ার খোকসায়। কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কে বাস ও ড্রাম ট্রাকের সংঘর্ষে বাস খাদে পড়ে যায়। এতে চারজন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হন। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিনজন। যশোর সদর উপজেলার চাউলিয়া এলাকায় ইজিবাইক, ভ্যান ও কাভার্ডভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বাসচাপায় এক পথচারী ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ট্রাক-পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে একজন নিহত হন।

পরদিন রোববার (২৪ মে) দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়। ঈদযাত্রার ভিড় ও যানবাহনের চাপ অব্যাহত থাকায় মহাসড়কগুলোতে পৃথক দুর্ঘটনায় এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

ঈদযাত্রায় সোমবার (২৫ মে) সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এদিন দেশের অন্তত আটটি জেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। যাত্রীদের বড় একটি অংশ বাসের খরচ বাঁচাতে ট্রাকে করে বাড়ি যাচ্ছিলেন বলে জানা যায়।

এদিন বগুড়ায় পৃথক দুই দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হন। কিশোরগঞ্জে মোটরসাইকেলে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের ছয় বছরের সন্তানসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।

এদিকে সিরাজগঞ্জে সিএনজি ও ট্রাকের পৃথক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু ঘটে। মানিকগঞ্জে সিএনজি ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে একজন তরুণ নিহত হন। গোপালগঞ্জে বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে একজন মাইক্রোবাস চালকের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। এছাড়া নোয়াখালীতে মালবাহী নসিমন উল্টে একজন খামারির মৃত্যু হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন