খুঁজুন
                               
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

এবার পদক পাচ্ছেন যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
এবার পদক পাচ্ছেন যারা

Oplus_131072

পুলিশ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে রোববার (১০ মে)। চার দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত সাহসী, বীরত্বপূর্ণ ও পেশাদারিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১০৭ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) দেওয়া হবে।

রোববার ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে তাদের পদক দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সপ্তাহ শুরুর আগেই আগামী ২ মে পদকের জন্য মনোনীতদের রাজারবাগ পুলিশ লাইনস প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) এ সংক্রান্ত চিঠিতে ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) মো. কামরুল আহসান সই করেছেন। চিঠিতে পদকপ্রাপ্ত ১০৭ জন সদস্যের নাম, পদবি ও ঠিকানাও সংযুক্ত রয়েছে।

এর আগে, ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ ৪০০ জনকে বিপিএম ও পিপিএম পদক দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১৭ জন এবং তার আগের বছর ২৩০ জন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত বছর সাত দিনের পরিবর্তে তিন দিনে সীমিত আকারে পুলিশ সপ্তাহ আয়োজন করা হয়।

কালের আলো/এসএকে

শিক্ষকদের পাঠদানের মান মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
শিক্ষকদের পাঠদানের মান মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে: ববি হাজ্জাজ

শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান এবং শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

শনিবার (৯ মে) কক্সবাজারে লিডারশীপ ট্রেনিং সেন্টারে স্কুল ফিডিং ও প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান এবং শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধু জবাবদিহিতা নয়, শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতায়ন ও সহায়তাও নিশ্চিত করা হবে।

নিজের ১৭ বছরের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষায় আসা অনেক শিক্ষার্থীর মৌলিক জ্ঞান দুর্বল থাকে, যার মূল কারণ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের দুর্বল ভিত্তি। তাই প্রাথমিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করা গেলে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক শৃঙ্খলা ও সামগ্রিক উন্নয়নের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষিত সমাজ গড়ে তুলতে পারলে মব কালচারসহ নানা সামাজিক সমস্যা কমে আসবে। দেশের সব সমস্যার মূলে গেলে শিক্ষা ব্যবস্থাকেই পাওয়া যায়। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিক পথে নিয়ে আসার দায়িত্ব আমাদের সবার।

প্রতিমন্ত্রী স্কুলের অবকাঠামো, মাঠ ও প্লেগ্রাউন্ডের অবস্থা, ফাউন্ডেশনাল লার্নিং ও নিউমারেসি কার্যক্রম, মিড ডে মিল বাস্তবায়ন, গার্ড ও ক্লিনার সংকট, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শিক্ষকদের মতামত জানতে চান।

তিনি আরও বলেন, কমিউনিকেশনের মাধ্যমেই আমরা আমাদের সিস্টেমগুলো ইমপ্রুভ করতে পারব। প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে মাঠপর্যায়ের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সরাসরি মতামত ও অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হলে বাস্তব সমস্যাগুলো নির্ভয়ে ও খোলামেলাভাবে তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি জনবান্ধব সরকার হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থার ‘স্ট্রাকচারাল মেরামত’ করতে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনতে মিড ডে মিল, ইউনিফর্ম, জুতা ও পাঠ্যবই প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে আনাই যথেষ্ট নয়, শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কনফারেন্সে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম, বিদ্যালয়ের পরিবেশ, উপস্থিতি, পাঠদানের মান এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর প্রাণহানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর প্রাণহানি

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ছয় শিশু মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর তিন শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ নিয়ে গত ৫৫ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫২। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৯১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর ৬১ শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

শনিবার (৯ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বুলেটিনে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ১৩৫ জন ঢাকা বিভাগে মারা গেছে; আর ৭৮ জন রাজশাহী বিভাগের।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় ৯৪৬ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে; নিশ্চিত হামের সংখ্যা ৪৮৯ জন।

১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ছয় হাজার ৯৭৯ শিশু। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬৫৬ শিশু।

এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৩১ শিশু এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ২৯ হাজার ৭৪৬ জন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

খাল পুনঃখননে শুধু মাটি কাটা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার: বিআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
খাল পুনঃখননে শুধু মাটি কাটা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার: বিআইপি

দেশের খাল পুনঃখনন কার্যক্রমকে কেবল মাটি কাটার প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং পানিব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন, প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ প্লানার্স (বিআইপি)।

সংগঠনটি বলছে, খাল পুনঃখননকে বিচ্ছিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে দেখলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না; এর সঙ্গে জাতীয় জলাশয় পুনরুদ্ধার, অববাহিকাভিত্তিক পানিব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার (৯ মে) রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে অবস্থিত বিআইপি কনফারেন্স হলে ‘খাল পুনঃখনন কর্মসূচি: পানিব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন ও স্থানিক পরিকল্পনার প্রেক্ষিত’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পরিকল্পনাবিদ ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিআইপির সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান এবং যুগ্ম সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ কাজী সালমান হোসেন প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের নদী, খাল, বিল, লেক, জলাভূমি ও নিম্নভূমি শুধু পানি ধারণের স্থান নয়; বরং কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ, জীবিকা এবং জলবায়ু সহনশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পানি ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র প্রকৌশলগত বিষয় নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানিক পরিকল্পনা বিষয় হিসেবে বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন।

আরিফুল ইসলাম বলেন, সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচি একটি সময়োপযোগী ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ হলেও এটিকে শুধু মাটি কাটার প্রকল্প হিসেবে দেখলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জন সম্ভব হবে না। খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে জাতীয় জলাশয় পরিকল্পনা, অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সংরক্ষণ, নগর জলাবদ্ধতা নিরসন, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ, কৃষি ও মৎস্য উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের সঙ্গে সমন্বিত করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিআইপির অবস্থান তুলে ধরে আরিফুল ইসলাম বলেন, খাল পুনঃখনন কর্মসূচিকে বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একইসঙ্গে এ কর্মসূচিকে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (২০২৩-২০৫০), বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এবং স্থানিক পরিকল্পনা কাঠামোর সঙ্গে সমন্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করা সম্ভব হলে পুনঃখনন কার্যক্রমের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ফলাফল অর্জন করা যাবে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খাল পুনঃখনন কর্মসূচিকে জাতীয় জলাশয় পুনরুদ্ধার, জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই স্থানিক পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। একইসঙ্গে বিআইপি কারিগরি সহায়তা, নীতিগত পরামর্শ, ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা, দূর অনুধাবন প্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ, অংশীজন পরামর্শ এবং পর্যবেক্ষণ কাঠামো প্রণয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

বিআইপির সহ-সভাপতি শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ; একসময় গ্রামবাংলার পরিচয় ছিল নদী, খাল, বিল ও প্রাকৃতিক জলাশয়কেন্দ্রিক। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এসব জলাভূমি আজ সংকটাপন্ন অবস্থায় পৌঁছেছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ভূমির কার্যকর ও পরিকল্পিত ব্যবহারে ব্যর্থতাকে দায়ী করেন মেহেদী আহসান। তিনি বলেন, শহর ও গ্রামাঞ্চলে নির্বিচারে খাল-বিল ভরাট করে বসতবাড়ি, বাজার ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক জলাধারগুলো ধ্বংস হয়েছে।

মেহেদী আহসান বলেন, দেশের নদী ও খালগুলোতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো- আন্তঃদেশীয় নদী ব্যবস্থাপনার জটিলতা। উজানে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা দিচ্ছে না। ফলে একসময় শুষ্ক মৌসুমেও যেসব নদীতে পানির প্রবাহ দেখা যেত, বর্তমানে সেসব নদীতে বর্ষা মৌসুমের সীমিত সময় ছাড়া পানি প্রবাহ প্রায় অনুপস্থিত। পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও অধিকাংশ নদীর নাব্যতা হ্রাস পাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিআইপির সাধারণ সম্পাদক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, খাল পুনঃখনন কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত নগর ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের অন্তত আরও সাতটি মন্ত্রণালয়কে এ কাজে সম্পৃক্ত করা দরকার। খাল খননকে লাভজনক প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রমের বাইরে এনে পরিবেশ ও নগর সুরক্ষার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ করতে হবে। ঢাকার বিভিন্ন খাল ভরাট করে যারা আবাসিক ভবন নির্মাণ করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিআইপি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে ১১ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরে। প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পানিসম্পদ পরিকল্পনা প্রণয়ন, নদী অববাহিকাভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ, ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা, দূর অনুধাবন প্রযুক্তি, লেজারভিত্তিক উচ্চতা নির্ণয় প্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ের জরিপের মাধ্যমে নিয়মিত ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ চালু, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ও বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনার সঙ্গে পুনঃখনন কর্মসূচির সমন্বয়, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন, পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা, পরিবেশ ও সামাজিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, মাটির গুণমান পরীক্ষা, খালের পাড়ে বাস্তুতান্ত্রিক সুরক্ষা অঞ্চল নিশ্চিত করা, কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল ও নাগরিক প্রতিবেদন ব্যবস্থা চালু, পেশাদার পরিকল্পনাবিদদের সম্পৃক্ত করা এবং দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ