খুঁজুন
                               
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

খাল পুনঃখননে শুধু মাটি কাটা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার: বিআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
খাল পুনঃখননে শুধু মাটি কাটা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার: বিআইপি

দেশের খাল পুনঃখনন কার্যক্রমকে কেবল মাটি কাটার প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং পানিব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন, প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ প্লানার্স (বিআইপি)।

সংগঠনটি বলছে, খাল পুনঃখননকে বিচ্ছিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে দেখলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না; এর সঙ্গে জাতীয় জলাশয় পুনরুদ্ধার, অববাহিকাভিত্তিক পানিব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার (৯ মে) রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে অবস্থিত বিআইপি কনফারেন্স হলে ‘খাল পুনঃখনন কর্মসূচি: পানিব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন ও স্থানিক পরিকল্পনার প্রেক্ষিত’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পরিকল্পনাবিদ ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিআইপির সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান এবং যুগ্ম সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ কাজী সালমান হোসেন প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের নদী, খাল, বিল, লেক, জলাভূমি ও নিম্নভূমি শুধু পানি ধারণের স্থান নয়; বরং কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ, জীবিকা এবং জলবায়ু সহনশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পানি ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র প্রকৌশলগত বিষয় নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানিক পরিকল্পনা বিষয় হিসেবে বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন।

আরিফুল ইসলাম বলেন, সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচি একটি সময়োপযোগী ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ হলেও এটিকে শুধু মাটি কাটার প্রকল্প হিসেবে দেখলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জন সম্ভব হবে না। খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে জাতীয় জলাশয় পরিকল্পনা, অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সংরক্ষণ, নগর জলাবদ্ধতা নিরসন, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ, কৃষি ও মৎস্য উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের সঙ্গে সমন্বিত করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিআইপির অবস্থান তুলে ধরে আরিফুল ইসলাম বলেন, খাল পুনঃখনন কর্মসূচিকে বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একইসঙ্গে এ কর্মসূচিকে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (২০২৩-২০৫০), বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এবং স্থানিক পরিকল্পনা কাঠামোর সঙ্গে সমন্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করা সম্ভব হলে পুনঃখনন কার্যক্রমের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ফলাফল অর্জন করা যাবে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খাল পুনঃখনন কর্মসূচিকে জাতীয় জলাশয় পুনরুদ্ধার, জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই স্থানিক পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। একইসঙ্গে বিআইপি কারিগরি সহায়তা, নীতিগত পরামর্শ, ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা, দূর অনুধাবন প্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ, অংশীজন পরামর্শ এবং পর্যবেক্ষণ কাঠামো প্রণয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

বিআইপির সহ-সভাপতি শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ; একসময় গ্রামবাংলার পরিচয় ছিল নদী, খাল, বিল ও প্রাকৃতিক জলাশয়কেন্দ্রিক। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এসব জলাভূমি আজ সংকটাপন্ন অবস্থায় পৌঁছেছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ভূমির কার্যকর ও পরিকল্পিত ব্যবহারে ব্যর্থতাকে দায়ী করেন মেহেদী আহসান। তিনি বলেন, শহর ও গ্রামাঞ্চলে নির্বিচারে খাল-বিল ভরাট করে বসতবাড়ি, বাজার ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক জলাধারগুলো ধ্বংস হয়েছে।

মেহেদী আহসান বলেন, দেশের নদী ও খালগুলোতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো- আন্তঃদেশীয় নদী ব্যবস্থাপনার জটিলতা। উজানে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা দিচ্ছে না। ফলে একসময় শুষ্ক মৌসুমেও যেসব নদীতে পানির প্রবাহ দেখা যেত, বর্তমানে সেসব নদীতে বর্ষা মৌসুমের সীমিত সময় ছাড়া পানি প্রবাহ প্রায় অনুপস্থিত। পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও অধিকাংশ নদীর নাব্যতা হ্রাস পাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিআইপির সাধারণ সম্পাদক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, খাল পুনঃখনন কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত নগর ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের অন্তত আরও সাতটি মন্ত্রণালয়কে এ কাজে সম্পৃক্ত করা দরকার। খাল খননকে লাভজনক প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রমের বাইরে এনে পরিবেশ ও নগর সুরক্ষার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ করতে হবে। ঢাকার বিভিন্ন খাল ভরাট করে যারা আবাসিক ভবন নির্মাণ করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিআইপি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে ১১ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরে। প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পানিসম্পদ পরিকল্পনা প্রণয়ন, নদী অববাহিকাভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ, ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা, দূর অনুধাবন প্রযুক্তি, লেজারভিত্তিক উচ্চতা নির্ণয় প্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ের জরিপের মাধ্যমে নিয়মিত ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ চালু, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ও বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনার সঙ্গে পুনঃখনন কর্মসূচির সমন্বয়, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন, পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা, পরিবেশ ও সামাজিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, মাটির গুণমান পরীক্ষা, খালের পাড়ে বাস্তুতান্ত্রিক সুরক্ষা অঞ্চল নিশ্চিত করা, কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল ও নাগরিক প্রতিবেদন ব্যবস্থা চালু, পেশাদার পরিকল্পনাবিদদের সম্পৃক্ত করা এবং দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

শনিবার (৯ মে) ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুড (বিএসএসএফ) আয়োজিত ‘ইনশিউরিং সেফ ফুড ফর আ সাসটেইনেবল ফিউচার’ প্রতিপাদ্যভিত্তিক ৮ম জাতীয় বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড হেলথ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান ও অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। দেশে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতে গবেষণার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একসময় ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশে মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিপুল জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মানুষের পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা পূরণ এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে মাদক সমস্যা দেশের অন্যতম বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে এসে সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুডের (বিএসএসএফ) সভাপতি প্রফেসর ড. মো. খালেদ হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সভাপতি মোশিউর রহমান।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য পরিচালক (মৎস্য বিভাগ) ড. মো. মনিরুল ইসলাম। এসময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সিলেট-ঢাকা রেলপথে ট্রেনের ইঞ্জিন সংকট রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
সিলেট-ঢাকা রেলপথে ট্রেনের ইঞ্জিন সংকট রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

সিলেট-ঢাকা রেলপথে ট্রেনের ইঞ্জিন সংকট রয়েছে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তবে এই সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, রেলসহ সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। চলমান পরিকল্পনাগুলো সেই গুরুত্বের ভিত্তিতেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (৯ মে) দুপুরে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিলেট আমাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও সিলেটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি এই অঞ্চলে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম অনুমোদন দিয়েছেন। রেল উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও সিলেটকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট রুটে ব্রডগেজ ও ডুয়েলগেজ রেললাইন সম্প্রসারণের বিষয়টি বর্তমানে সমীক্ষা পর্যায়ে রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেট রুটে রেল যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আসবে, আশাবাদি তিনি।

তিনি বলেন, সিলেট রুটে মিটারগেজ রেলসেবায় লোকোমোটিভ সংকট ও একক লাইনের কারণে প্রায়ই শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। অবশ্য সীমিত সম্পদের মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। কোথাও ইঞ্জিন বিকল হলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে পুরো শিডিউল বিপর্যস্ত হয়ে যায়। কারণ অনেক জায়গায় এখনো সিঙ্গেল লাইন। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আমরা কাজ করছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিটারগেজ অঞ্চলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকোমোটিভ নেই। অনেক ক্ষেত্রে ৩০ সিরিজের ইঞ্জিনের পরিবর্তে ২৯ সিরিজের পুরোনো লোকোমোটিভ দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। কোথাও ৩০ থেকে ৩৫টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন হলেও সচল আছে মাত্র ১৪ থেকে ১৫টি। বাকিগুলো মেরামত করে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা সমস্যা নিয়ে বসে থাকতে চাই না, দ্রুত সমাধান করতে চাই। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যাতে দায়িত্বে কোনো ঘাটতি না থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হয়েছে।

রেল কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকায় বসে কেবল নির্দেশনা দিলে হবে না, সরাসরি সেবা পরিস্থিতি দেখতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিলেট অঞ্চলে অতিরিক্ত কোচ ও লোকোমোটিভ সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন লোকোমোটিভ পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে আরও সেবা বাড়ানো সম্ভব হবে।

রেলের বেদখলকৃত জমি উদ্ধারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দখল উচ্ছেদে সরকারও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রেলকে লাভবান করতে যাত্রীসেবার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের দিকেও সরকার নজর দিচ্ছে। তবে রেলের সেবা নিশ্চিতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এরপরও সর্বোচ্চ সেবা দিতে হবে। কোনো ধরণের দায়িত্বে অবহেলা মেনে নেওয়া যাবে না।

এরআগে সকালে রেলযোগে সিলেট পৌঁছে প্রতিমন্ত্রী হযরত শাহজালাল (রহ.) এবং শাহপরান( রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন।

পরে দিনব্যাপী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বিআরটিসি, বিআরটিএ, রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়সহ নানা কর্মসূচি শেষে রাতে রেলযোগে ঢাকা ঢাকায় ফিরবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২ মে দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের রেল-সড়ক, কৃষি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানান।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শিক্ষকদের পাঠদানের মান মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে: ববি হাজ্জাজ

কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
শিক্ষকদের পাঠদানের মান মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে: ববি হাজ্জাজ

শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান এবং শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

শনিবার (৯ মে) কক্সবাজারে লিডারশীপ ট্রেনিং সেন্টারে স্কুল ফিডিং ও প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান এবং শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধু জবাবদিহিতা নয়, শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতায়ন ও সহায়তাও নিশ্চিত করা হবে।

নিজের ১৭ বছরের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষায় আসা অনেক শিক্ষার্থীর মৌলিক জ্ঞান দুর্বল থাকে, যার মূল কারণ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের দুর্বল ভিত্তি। তাই প্রাথমিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করা গেলে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক শৃঙ্খলা ও সামগ্রিক উন্নয়নের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষিত সমাজ গড়ে তুলতে পারলে মব কালচারসহ নানা সামাজিক সমস্যা কমে আসবে। দেশের সব সমস্যার মূলে গেলে শিক্ষা ব্যবস্থাকেই পাওয়া যায়। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিক পথে নিয়ে আসার দায়িত্ব আমাদের সবার।

প্রতিমন্ত্রী স্কুলের অবকাঠামো, মাঠ ও প্লেগ্রাউন্ডের অবস্থা, ফাউন্ডেশনাল লার্নিং ও নিউমারেসি কার্যক্রম, মিড ডে মিল বাস্তবায়ন, গার্ড ও ক্লিনার সংকট, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শিক্ষকদের মতামত জানতে চান।

তিনি আরও বলেন, কমিউনিকেশনের মাধ্যমেই আমরা আমাদের সিস্টেমগুলো ইমপ্রুভ করতে পারব। প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে মাঠপর্যায়ের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সরাসরি মতামত ও অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হলে বাস্তব সমস্যাগুলো নির্ভয়ে ও খোলামেলাভাবে তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি জনবান্ধব সরকার হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থার ‘স্ট্রাকচারাল মেরামত’ করতে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনতে মিড ডে মিল, ইউনিফর্ম, জুতা ও পাঠ্যবই প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে আনাই যথেষ্ট নয়, শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কনফারেন্সে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম, বিদ্যালয়ের পরিবেশ, উপস্থিতি, পাঠদানের মান এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ