খুঁজুন
                               
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

আর্থিক খাতে ভুয়া তথ্য দিয়ে লুটপাট হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
আর্থিক খাতে ভুয়া তথ্য দিয়ে লুটপাট হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

ভুয়া আর্থিক তথ্য, দুর্বল নজরদারি এবং জবাবদিহির অভাবে দেশের ব্যাংক ও পুঁজিবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ফাইন্যানশিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল আয়োজিত এক সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে পুঁজিবাজার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ দেশের আর্থিক খাতগুলোকে বিকেন্দ্রীভূত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি নানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। এ সময় অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে পুঁজিবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম, তথ্য গোপন এবং ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে অনেক কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এতে প্রকৃত ও ভালো কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়েছে এবং বাজারে বড় ধরনের মূলধন সংকট তৈরি হয়েছে।’

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ব্যাংকের মালিকানা নিয়ে দেশে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। কেউ কিছু শেয়ার কিনেই নিজেকে ব্যাংকের মালিক ভাবতে শুরু করে। অথচ ব্যাংকের মালিকানা শেয়ারধারীদের এবং ব্যাংকের অর্থ আমানতকারীদের। ব্যক্তি নিজেকে ব্যাংকের মালিক দাবি করতে পারেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানি লন্ডারিং, দুর্বল করপোরেট ব্যবস্থাপনা এবং ভুয়া আর্থিক তথ্য প্রদানের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন না থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও কমে যাচ্ছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার আর্থিক খাত সংস্কারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত আর্থিক প্রতিবেদন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হিসাববিদ, নিরীক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি হিসাববিদ ও নিরীক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। যদি সেই প্রতিবেদন সঠিক না হয়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কখনোই ফিরবে না।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘অতীতে দেশের আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থা ছিল খামখেয়ালিপূর্ণ এবং দুর্বল। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতারিত হয়েছেন। সম্পদের প্রকৃত মূল্য যাচাই না করেই বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের চাপে পড়েছে এবং একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।’

তিতুমীর আরও বলেন, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কার্যকর নজরদারি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে টেকসই বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। এজন্য আর্থিক খাতে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সামিটে আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৮৭ জনের শরীরে হাম বা এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এ সময়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫২৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯১ শিশু। অর্থাৎ এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬২০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৬ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২২১ জন। এ সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১২৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১২০ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৭৯ হাজার ১২। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ৯ হাজার ৬৮৬ জন। এ সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৪ হাজার ২৬৩ জন রোগী। তাঁদের মধ্যে ৬০ হাজার ৮৪ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী

Oplus_131072

চীন সরকারের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

রোববার (৭ জুন) দুপুরে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।

সফর উপলক্ষে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় সফর-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যমন্ত্রী চায়না মিডিয়া গ্রুপের আয়োজনে ৮-১১ জুন অনুষ্ঠিতব্য ‘পঞ্চম সিএমজি ফোরাম’-এ অংশগ্রহণ করবেন।

এছাড়া সফরকালে চীনের তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকে তথ্য ব্যবস্থাপনা, গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং তথ্য বিনিময় সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে তথ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এ সফরের মাধ্যমে তথ্য ও গণমাধ্যম খাতে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

কালের আলো/এসএকে

রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু

ভাতা বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক শিক্ষানবিশকাল বাতিল ও বিসিএসে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। সারাদেশে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়।

রোববার সকাল  সোয়া ১১টার দিকে রামেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘রামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ’-এর ব্যানারে কর্মবিরতি শুরু করেন ২২০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

আন্দোলনরত চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না পাওয়ায় তারা এবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মাসিক ভাতা বৃদ্ধি করে ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষানবিশকাল (ইন্টার্নশিপ) বাতিল করা এবং বিসিএস চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছরে উন্নীত করা। এছাড়া তাদের ঘোষিত ৬ দফা দাবির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নেরও দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

এদিকে কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় যেন কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি না হয়, সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীদের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসাসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকদের ওপর কাজের চাপ বেড়েছে।

উল্লেখ্য, ভাতা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল থেকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে একযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেয় ‘ইন্টার্ন চিকিৎসক ফোরাম’। এরপর থেকেই চূড়ান্ত আন্দোলনে নামেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি