খুঁজুন
                               
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ফ্যালকন হলে ক্রীড়াঙ্গনের দুই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য উদযাপন, হকি ও কাবাডি খেলোয়াড়রা পেলেন অর্ধ কোটি টাকা আর্থিক পুরস্কার

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
ফ্যালকন হলে ক্রীড়াঙ্গনের দুই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য উদযাপন, হকি ও কাবাডি খেলোয়াড়রা পেলেন অর্ধ কোটি টাকা আর্থিক পুরস্কার

প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশগ্রহণ, প্রথম ড্র, প্রথম জয়- এমন অনেক কীর্তি গড়ার পর কণা-সারিকারা গড়েন নতুন এক ইতিহাস। ড্র করলেই এশিয়ান গেমসের মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যেত সেখানে জয় দিয়েই ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় গ্রুপ পর্বের শেষটা রাঙিয়েছেন তাঁরা। এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে সম্প্রতি হংকং চায়নাকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি প্রথমবার এশিয়ান গেমসেও নাম লিখিয়েছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর আগে চীনের সানিয়াতে এশিয়ান বিচ গেমসে ১৪ বছর পর পদক জিতেছে বাংলাদেশ কাবাডির মেয়েরা।

লাল সবুজের মেয়েদের এই দুই সাফল্যে আনন্দিত দেশ। শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর তেজগাঁও এর বিমান বাহিনী ফ্যালকন হলে ক্রীড়াঙ্গনের দুই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য উদযাপনে এবার বিশেষ আয়োজন করা হয় এদিন। সংবর্ধনার মাধ্যমে ঐতিহাসিক দুটি দলকেই এদিন পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, হকি ফেডারেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং তাঁর সহধর্মিনী বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি (বিএএফডব্লিউডব্লিউএ) ও আদার্স’ উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ক্লাব (ওডব্লিউসিসি) এর সভাপতি বিএএফ লেডিস ক্লাব ও চিলড্রেনস ক্লাব- এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক সালেহা খান উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে নারী হকি দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়, কোচ ও ফিজিও পেয়েছেন এক লাখ টাকা করে পুরস্কার। নারী হকির পৃষ্ঠপোষক ব্র্যাংক ব্যাংকও এদিন খেলোয়াড়দের আরও ১ লাখ টাকা করে দিয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক খেলোয়াড়দের হাতে এই অর্থ হস্তান্তর করেন। নারী হকি দলের পাশাপাশি এদিন আর্থিক প্রণোদনা পেয়েছে নারী কাবাডি দলও। সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান বীচ গেমসে বাংলাদেশ নারী দল ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে। এই সাফল্য অর্জনের জন্য খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে ১ লাখ টাকা করে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এদিন সফল নারী হকি ও কাবাডি দলের খেলোয়াড়দের হাতে ৫০ লাখ টাকার অর্থ পুরস্কার তুলে দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে হকি ফেডারেশনের সভাপতি ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন হকির নানাবিধ সীমাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত টার্ফ ও ব্যয়বহুল সরঞ্জামের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দেশের ক্রীড়াঙ্গন পুনর্গঠনের উদ্যোগ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।’ বিমান বাহিনী প্রধান বিভাগীয় পর্যায়ে ফাইভ-এ-সাইড হকি টার্ফ স্থাপন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা হকি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বিনামূল্যে খেলার সরঞ্জাম দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা বজায় রেখে সেরাটা খেলার পরামর্শ দেন।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিমান বাহিনী প্রধানের আহ্বান এর প্রতি সাধুবাদ জানান। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘সরকার বিকেএসপি নিয়ে বড় পরিসরে কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নতুন হকি খেলোয়াড় তুলে আনার লক্ষ্যে সরকার ছোট ছোট ‘মিনি টার্ফ’ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।’

বাংলাদেশ নারী হকি দলের কণা-সারিকাদের এবার লক্ষ্য জাপানের মাটিতে জুনিয়র এশিয়া কাপে ভালো কিছু করা। ২৯ মে থেকে ৬ জুন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে বাংলাদেশ ছেলে ও মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৮ দল। দুই দলই জাপানের বিমানে চড়বে ২৭ মে। ইতোমধ্যেই বিকেএসপিতে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি ক্যাম্প। শনিবার (২৩ মে) বিমানবাহিনীর ফ্যালকন হলে দুই জুনিয়র দলের জার্সি উন্মোচন-ফটোসেশনও হয়েছে এদিন।

অনুষ্ঠানে নিজের খেলোয়াড়ী জীবনের স্মৃতিচারণ করে দেশের হকি ও কাবাডি খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে একটি অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘নিজের খেলার সরঞ্জাম নিজে বহন ও যত্ন করলে সেটার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ে ও সেটি গুরুত্ববহ হয়।’ উদাহরণ টেনে তিনি জানান, এখনো কোথাও খেলতে গেলে তিনি নিজেই নিজের বুট ও ব্যাগ বহন করেন এবং খেলোয়াড়ী জীবনে প্র্যাকটিস বা খেলার পর নিজেই বুট পরিষ্কার করতেন।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একের পর এক গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য বয়ে আনছেন নারী ক্রীড়াবিদরা। এবার সেই সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরও একটি উজ্জ্বল পালক। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় এশিয়ান গেমস বাছাইয়ের গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। জাতীয় হকি নারী দল অর্জন করে রৌপ্যপদক। এর মাধ্যমেই আসন্ন এশিয়ান গেমসের মূল পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছেন অর্পিতারা; যা পুরো ক্রীড়াঙ্গনে সৃষ্টি করে ব্যাপক আলোড়ন। ২০১৯ সাল থেকে নারী হকি দল যাত্রা শুরু করে। বয়স ভিত্তিক পর্যায়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণ করে ব্রোঞ্জ ও সিলভার পদক অর্জন করে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। তবে, এশিয়ান গেমস কোয়ালিফাইং টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম জাতীয় নারী হকি দল হিসেবে আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে এবং রৌপ্য পদক অর্জন করেছে।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এশিয়ান বিচ গেমস শুরুর প্রথম তিন বছর বাংলাদেশ কাবাডিতে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল। ১৪ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও জাতীয় কাবাডি দলের নারী সাফল্যে সেই মুকুট ফেরত পেলো বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে পুরুষ টুর্নামেন্টে মোট ৯টি দেশ বাংলাদেশসহ ইন্ডিয়া, কোরিয়া, জাপান, চাইনিজ তাইপে, কাজাখাস্তান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও চীন এবং নারী টুর্নামেন্টে মোট ৮টি দেশ বাংলাদেশসহ ইন্ডিয়া, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, চীন, জাপান ও চাইনিজ তাইপে অংশগ্রহন করবে। গত বছর এই টুর্নামেন্টে পুরুষ দল সেমিফাইনাল খেলে এবং নারী হকি দল ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জাপানের মাটিতে জুনিয়র এশিয়া কাপে মেয়েদের জন্য এবারের যাত্রাটা ঠিক আগের মতো মসৃণ নয়। গত বছর তারা প্রথমবার অংশ নিয়েই বাজিমাত করেছিল, জিতেছিল ব্রোঞ্জ। কিন্তু এবার গ্রুপ পর্বে তাদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন জাপান আর রানার্সআপ চীন। সঙ্গে আছে শক্তিশালী চায়নিজ তাইপেও। মাঠের লড়াই কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে, তা কোচ জাহিদ হোসেনের কথায়ও স্পষ্ট, ‘গতবার কিন্তু আমাদের প্রতিপক্ষ সহজ ছিল। সে জন্য আমরা প্রথম অংশ নিয়ে একটা পদক জিততে পেরেছি। এবার সেটা কঠিন হবে।’ তবে কঠিন মানেই মেনে নেওয়া নয়, কোচের কণ্ঠে সেই প্রত্যয়, ‘আমরা আশা ছাড়ছি না। ভালো খেলতে পারলে অবশ্যই ইতিবাচক কিছু পাওয়া যাবে। মেয়েরা খুব আত্মবিশ্বাসী। তারা এই বাধাটা জয় করতে চায়।’

বাংলাদেশ জাতীয় নারী হকি দলের অধিনায়ক অর্পিতা পাল বলেন, ‘হকি ফেডারেশন ও বিকেএসপি আমাদের জন্য অনেক কাজ করেছে এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। সরকারও নানাভাবে সাহায্য করেছে। আমরা অলিম্পিক খেলতে চাই।’ এশিয়ান বীচ গেমসে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করা শ্রাবণী মল্লিক বলেন, ‘দেশের পতাকাকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরতে চাই আমরা। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশী।’

কালের আলো/এমএএএমকে

সরকার সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে : ডা.জাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২:০৩ পূর্বাহ্ণ
সরকার সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে : ডা.জাহিদ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া এডুকেশন স্কিল, কেয়ারগিভার ও ভাষাশিক্ষা প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর ইস্কাটনে পুলিশ কনভেনশন হলে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রক্তের নিরাপদ সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া, ডেঙ্গু, দুর্ঘটনা ও জরুরি অস্ত্রোপচারে রক্তের প্রয়োজন মেটাতে এই রেফ্রিজারেটর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, রক্ত একটি জীবনদায়ী উপাদান। এর সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হবে, তত বেশি মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ‌‘এজন্য জুনের পর অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম প্রথমে ঢাকাতে শুরু করতে চাই। এরপর সারাদেশে এই কার্যক্রম শুরু হবে।’

তিনি সরকারের পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণায় জনগণকে সচেতন করতে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেসরকারি সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে। রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউয়ের এই মানবিক উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আরও এগিয়ে নেবে। আমরা কাজ করতে চাই, দেশ গড়তে চাই এবং পৃথিবীর মানচিত্রে আমাদের দেশকে সম্মানের সাথে তুলে ধরতে চাই।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, সমাজে যত অন্যায় আছে তা দূর করতে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত (ইনভলভ) করতে চাই। তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সমাজ থেকে মাদকাসক্তি দূর করতে, জুয়াখেলা নিয়ন্ত্রণে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে এবং রামিসার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে আর না ঘটে—সেসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হুসাইন ফকির ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসাইন। এছাড়া পিডিজি ড. ইশতিয়াক এ. জামান, রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউয়ের প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান ও ক্লাব ডিরেক্টর রোটারিয়ান মো. সালাহ উদ্দিন এবং রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউয়ের সভাপতি রোটারিয়ান ডাক্তার লুবনা শারমিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

৩০ বছর পর ধলা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

মোঃ শামসুল আলম খান, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
৩০ বছর পর ধলা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধলায় অবস্থিত সরকারি ভবঘুরে ও পুনর্বাসন আশ্রয়কেন্দ্র দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ও সেবামূলক সংকটসহ নানা অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন। দীর্ঘ তিন দশক পর কোনো মন্ত্রী সরেজমিনে পরিদর্শন করায় প্রশংসায় ভাসছেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (৫ জুন) সমাজকল্যাণমন্ত্রী আশ্রয়কেন্দ্রটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং সেখানে অবস্থানরত শিশু-কিশোর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে তিনি কেন্দ্রের বিভিন্ন সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও জরুরি চাহিদা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রিশালের ধলায় অবস্থিত এই সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানির লাইন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থার মতো মৌলিক সেবাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই পুরোনো ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আবাসন ও প্রশাসনিক ভবনের অবস্থাও জরাজীর্ণ হওয়ায় দৈনন্দিন কার্যক্রমে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা একাধিক নিবাসী জানান, দীর্ঘ সময় পর কোনো মন্ত্রীর আগমন করায় আমরা ব্যাপক খুশি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেক সমস্যার মধ্যে আছি।”

পরিদর্শন শেষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা আজকে এই অবহেলিত আশ্রয় কেন্দ্রটিতে পরিদর্শনে এসেছি। আশ্রয় কেন্দ্রটির বিদ্যমান সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রাজু আহমেদ, ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভূইয়া, আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মকর্তাসহ প্রমুখ।

কালের আলো/এম/এএইচ

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরএমপি কমিশনারের মতবিনিময়

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরএমপি কমিশনারের মতবিনিময়

রাজশাহী মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে মতবিনিময় সভা করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।

শনিবার বেলা ১২টায় আরএমপি সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।

সভায় মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধ প্রতিরোধ এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা বর্তমান পুলিশিং কার্যক্রমে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত করারও আহ্বান জানান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আরএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর), উপ-পুলিশ কমিশনার (ফোর্স), বিশেষ পুলিশ সুপার (সিটিএসবি), আরএমপি’র মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড সিটিটিসি), অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) এবং রাজশাহীর অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা।

সভা শেষে ভবিষ্যতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি