খুঁজুন
                               
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ফ্যালকন হলে ক্রীড়াঙ্গনের দুই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য উদযাপন, হকি ও কাবাডি খেলোয়াড়রা পেলেন অর্ধ কোটি টাকা আর্থিক পুরস্কার

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
ফ্যালকন হলে ক্রীড়াঙ্গনের দুই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য উদযাপন, হকি ও কাবাডি খেলোয়াড়রা পেলেন অর্ধ কোটি টাকা আর্থিক পুরস্কার

প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশগ্রহণ, প্রথম ড্র, প্রথম জয়- এমন অনেক কীর্তি গড়ার পর কণা-সারিকারা গড়েন নতুন এক ইতিহাস। ড্র করলেই এশিয়ান গেমসের মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যেত সেখানে জয় দিয়েই ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় গ্রুপ পর্বের শেষটা রাঙিয়েছেন তাঁরা। এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে সম্প্রতি হংকং চায়নাকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি প্রথমবার এশিয়ান গেমসেও নাম লিখিয়েছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর আগে চীনের সানিয়াতে এশিয়ান বিচ গেমসে ১৪ বছর পর পদক জিতেছে বাংলাদেশ কাবাডির মেয়েরা।

লাল সবুজের মেয়েদের এই দুই সাফল্যে আনন্দিত দেশ। শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর তেজগাঁও এর বিমান বাহিনী ফ্যালকন হলে ক্রীড়াঙ্গনের দুই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য উদযাপনে এবার বিশেষ আয়োজন করা হয় এদিন। সংবর্ধনার মাধ্যমে ঐতিহাসিক দুটি দলকেই এদিন পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, হকি ফেডারেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং তাঁর সহধর্মিনী বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি (বিএএফডব্লিউডব্লিউএ) ও আদার্স’ উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ক্লাব (ওডব্লিউসিসি) এর সভাপতি বিএএফ লেডিস ক্লাব ও চিলড্রেনস ক্লাব- এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক সালেহা খান উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে নারী হকি দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়, কোচ ও ফিজিও পেয়েছেন এক লাখ টাকা করে পুরস্কার। নারী হকির পৃষ্ঠপোষক ব্র্যাংক ব্যাংকও এদিন খেলোয়াড়দের আরও ১ লাখ টাকা করে দিয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক খেলোয়াড়দের হাতে এই অর্থ হস্তান্তর করেন। নারী হকি দলের পাশাপাশি এদিন আর্থিক প্রণোদনা পেয়েছে নারী কাবাডি দলও। সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান বীচ গেমসে বাংলাদেশ নারী দল ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে। এই সাফল্য অর্জনের জন্য খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে ১ লাখ টাকা করে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এদিন সফল নারী হকি ও কাবাডি দলের খেলোয়াড়দের হাতে ৫০ লাখ টাকার অর্থ পুরস্কার তুলে দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে হকি ফেডারেশনের সভাপতি ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন হকির নানাবিধ সীমাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত টার্ফ ও ব্যয়বহুল সরঞ্জামের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দেশের ক্রীড়াঙ্গন পুনর্গঠনের উদ্যোগ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।’ বিমান বাহিনী প্রধান বিভাগীয় পর্যায়ে ফাইভ-এ-সাইড হকি টার্ফ স্থাপন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা হকি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বিনামূল্যে খেলার সরঞ্জাম দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা বজায় রেখে সেরাটা খেলার পরামর্শ দেন।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিমান বাহিনী প্রধানের আহ্বান এর প্রতি সাধুবাদ জানান। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘সরকার বিকেএসপি নিয়ে বড় পরিসরে কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নতুন হকি খেলোয়াড় তুলে আনার লক্ষ্যে সরকার ছোট ছোট ‘মিনি টার্ফ’ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।’

বাংলাদেশ নারী হকি দলের কণা-সারিকাদের এবার লক্ষ্য জাপানের মাটিতে জুনিয়র এশিয়া কাপে ভালো কিছু করা। ২৯ মে থেকে ৬ জুন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে বাংলাদেশ ছেলে ও মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৮ দল। দুই দলই জাপানের বিমানে চড়বে ২৭ মে। ইতোমধ্যেই বিকেএসপিতে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি ক্যাম্প। শনিবার (২৩ মে) বিমানবাহিনীর ফ্যালকন হলে দুই জুনিয়র দলের জার্সি উন্মোচন-ফটোসেশনও হয়েছে এদিন।

অনুষ্ঠানে নিজের খেলোয়াড়ী জীবনের স্মৃতিচারণ করে দেশের হকি ও কাবাডি খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে একটি অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘নিজের খেলার সরঞ্জাম নিজে বহন ও যত্ন করলে সেটার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ে ও সেটি গুরুত্ববহ হয়।’ উদাহরণ টেনে তিনি জানান, এখনো কোথাও খেলতে গেলে তিনি নিজেই নিজের বুট ও ব্যাগ বহন করেন এবং খেলোয়াড়ী জীবনে প্র্যাকটিস বা খেলার পর নিজেই বুট পরিষ্কার করতেন।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একের পর এক গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য বয়ে আনছেন নারী ক্রীড়াবিদরা। এবার সেই সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরও একটি উজ্জ্বল পালক। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় এশিয়ান গেমস বাছাইয়ের গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। জাতীয় হকি নারী দল অর্জন করে রৌপ্যপদক। এর মাধ্যমেই আসন্ন এশিয়ান গেমসের মূল পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছেন অর্পিতারা; যা পুরো ক্রীড়াঙ্গনে সৃষ্টি করে ব্যাপক আলোড়ন। ২০১৯ সাল থেকে নারী হকি দল যাত্রা শুরু করে। বয়স ভিত্তিক পর্যায়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণ করে ব্রোঞ্জ ও সিলভার পদক অর্জন করে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। তবে, এশিয়ান গেমস কোয়ালিফাইং টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম জাতীয় নারী হকি দল হিসেবে আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে এবং রৌপ্য পদক অর্জন করেছে।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এশিয়ান বিচ গেমস শুরুর প্রথম তিন বছর বাংলাদেশ কাবাডিতে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল। ১৪ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও জাতীয় কাবাডি দলের নারী সাফল্যে সেই মুকুট ফেরত পেলো বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে পুরুষ টুর্নামেন্টে মোট ৯টি দেশ বাংলাদেশসহ ইন্ডিয়া, কোরিয়া, জাপান, চাইনিজ তাইপে, কাজাখাস্তান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও চীন এবং নারী টুর্নামেন্টে মোট ৮টি দেশ বাংলাদেশসহ ইন্ডিয়া, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, চীন, জাপান ও চাইনিজ তাইপে অংশগ্রহন করবে। গত বছর এই টুর্নামেন্টে পুরুষ দল সেমিফাইনাল খেলে এবং নারী হকি দল ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জাপানের মাটিতে জুনিয়র এশিয়া কাপে মেয়েদের জন্য এবারের যাত্রাটা ঠিক আগের মতো মসৃণ নয়। গত বছর তারা প্রথমবার অংশ নিয়েই বাজিমাত করেছিল, জিতেছিল ব্রোঞ্জ। কিন্তু এবার গ্রুপ পর্বে তাদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন জাপান আর রানার্সআপ চীন। সঙ্গে আছে শক্তিশালী চায়নিজ তাইপেও। মাঠের লড়াই কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে, তা কোচ জাহিদ হোসেনের কথায়ও স্পষ্ট, ‘গতবার কিন্তু আমাদের প্রতিপক্ষ সহজ ছিল। সে জন্য আমরা প্রথম অংশ নিয়ে একটা পদক জিততে পেরেছি। এবার সেটা কঠিন হবে।’ তবে কঠিন মানেই মেনে নেওয়া নয়, কোচের কণ্ঠে সেই প্রত্যয়, ‘আমরা আশা ছাড়ছি না। ভালো খেলতে পারলে অবশ্যই ইতিবাচক কিছু পাওয়া যাবে। মেয়েরা খুব আত্মবিশ্বাসী। তারা এই বাধাটা জয় করতে চায়।’

বাংলাদেশ জাতীয় নারী হকি দলের অধিনায়ক অর্পিতা পাল বলেন, ‘হকি ফেডারেশন ও বিকেএসপি আমাদের জন্য অনেক কাজ করেছে এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। সরকারও নানাভাবে সাহায্য করেছে। আমরা অলিম্পিক খেলতে চাই।’ এশিয়ান বীচ গেমসে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করা শ্রাবণী মল্লিক বলেন, ‘দেশের পতাকাকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরতে চাই আমরা। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশী।’

কালের আলো/এমএএএমকে

রাজশাহীতে গেল ২০ বছরে মাদক ব্যবসা করেই এক হাজার ব্যক্তি কোটিপতি : ভূমিমন্ত্রী

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে গেল ২০ বছরে মাদক ব্যবসা করেই এক হাজার ব্যক্তি কোটিপতি : ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, গেল ২০ বছরে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক হাজার ব্যক্তি কোটিপতি বনে গেছে।  তারা মাদক ব্যবসা করেই কোটিপতি হয়েছে। অবিলম্বে এসব মাদক কারবারীকে ধরতে পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার দুপুরে রাজশাহীতে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন সুরক্ষা: চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকার’ বিষয়ে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরো বলেন, রাজশাহী উন্নয়ন ও অর্জনে সবসময়ই এগিয়ে ছিল। কিন্তু বিগত ২০ বছরে সব নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। অতীত ভূলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে পুনঃউদ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান।

পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়  আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে  সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদা, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ এবং আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।

সেমিনারে বক্তারা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শাপলা চত্বরের শহীদদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা চান মামুনুল হক

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ
শাপলা চত্বরের শহীদদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা চান মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন,জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের মতো ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের শহীদদেরও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও স্বীকৃতি দিতে হবে।।

শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত এক মহাসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে তাদের অনেক সমালোচনা রয়েছে। তবে সেসব সমালোচনা যৌক্তিকভাবে রাজপথ ও সংসদে তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, এবারের বাজেটে জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে, যা তারা স্বাগত জানান। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের মতো ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের শহীদদেরও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও স্বীকৃতি দিতে হবে।

মামুনুল হক বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে আপনি বিশেষ সম্মান পেয়েছেন। আপনাকে আহ্বান জানাই, বিভ্রান্ত পথে গিয়ে শেখ হাসিনার রাজনীতি করবেন না।

সমাবেশে তিনি দেশে মাদক, জুয়া ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি মবের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মামুনুল হক বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত এলে তা প্রতিহত করা হবে। স্বাধীনতা ও জুলাই চেতনার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মেধাবী প্রকৌশলীদের দেশে রাখতে উদ্ভাবনবান্ধব পরিবেশ জরুরি: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
মেধাবী প্রকৌশলীদের দেশে রাখতে উদ্ভাবনবান্ধব পরিবেশ জরুরি: আইনমন্ত্রী

দেশের মেধাবী প্রকৌশলীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে তাদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে জাতীয় উন্নয়ন ও শিল্পায়নের কাজে লাগাতে অনুকূল কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলেই দেশের মেধাবী প্রকৌশলীদের দেশে ধরে রাখা সম্ভব হবে।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর আইইবি ভবনে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) আয়োজিত ‘আইইবি জব ফেয়ার ও প্রজেক্ট কম্পিটিশন-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা মেধা, প্রজ্ঞা, শ্রম, দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তবে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের পর অনেক মেধাবী প্রকৌশলীর বিদেশে স্থায়ী হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির স্বার্থে এ মেধাবী জনশক্তিকে দেশে ধরে রাখা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকৌশলীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের ভেতর থেকেই নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, শিল্পোন্নয়ন এবং কৃষির আধুনিকায়নে তারা কার্যকর অবদান রাখতে পারেন।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে প্রকৌশলীরা তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। এজন্য গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ব্যয় সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে প্রকল্প ব্যয় যৌক্তিক ও সাশ্রয়ী রাখার ক্ষেত্রেও প্রকৌশলীদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে দেশের প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বিশেষ করে ভূমিকম্প সহনশীলতা, নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নিশ্চিত করে ভবন নির্মাণে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।তিনি বলেন, একটি সমৃদ্ধ ও স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে প্রকৌশলীরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দেশের মানবসম্পদকে বিশ্বমানের সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে এবং এ যাত্রায় প্রকৌশলীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

আইইবির সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইইবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ড. মো. সাব্বির মোস্তফা খান, জব ফেয়ার ও প্রজেক্ট কম্পিটিশন ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভুঁইয়া এবং সহ-আহ্বায়ক প্রকৌশলী সাবির আহমেদ ওসমানী।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, নবীন ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলী, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপনার সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ