খুঁজুন
                               
, ,
           

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত

দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে রামিসার বাবা নিজেও অত্যন্ত আশ্বস্ত এবং কৃতজ্ঞ। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে রামিসা দর্শন হত্যাকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। যেদিন প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনমন্ত্রী রামিজ স্যার বাসায় গেলেন। সেদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘিরে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেয়া হলো। এই স্লোগানটি কারা দিলেন। সাধারণ জনগণ । মোটেও না। বরং প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইন মন্ত্রী রামেশ্বর বাসায় যাওয়ায় সাধারণ মানুষ খুবই সন্তুষ্ট এবং প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারের মানবিক আচরণে পুরা দেশের মানুষ অত্যন্ত আশ্বস্ত বিষয়টি অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। যখন আইনমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী একযোগে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। আসামীকে নজিরবিহীন দ্রুততম সময় গ্রেফতার করা হয়েছে। তখন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোক বিশেষ করে নাটক সিনেমার কিছু লোক এবং পতিত প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর লোকজন বিষয়টিকে ঘিরে জল ঘোলা করার চেষ্টা করছে।

বিষয়টা যেন এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি জেগে উঠেছে। রামই শহর তারপর সম্ভবত বাংলাদেশে আমি প্রথম সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি। এ নিয়ে আমি একাধিক আর্টিকেল লিখেছি। আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আর্টিকেল শেয়ার করেছি। পরে যখন প্রধানমন্ত্রী রামেশ্বর বাসায় ছুটে গেলেন সেটা নিয়ে আমি আর্টিকেল লিখেছি। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে রামিশা ধর্ষণ ও হত্যার পর যারা চুপচাপ বসে ছিলেন কোন প্রতিক্রিয়া জানাননি। প্রধানমন্ত্রী রামিশার বাসায় যাওয়ার পর তারা হঠাৎ করে মানবতাবাদী হয়ে উঠলেন তারা সোচ্চার হয়ে উঠলেন তারা রাস্তায় নামলেন। কারণটা কি?

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এটা আমার মুখের কথা নয়। সরকারি পরিসংখ্যান দেখলেই সেটা বোঝা যায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে সেই তুলনা চোখে পড়ছে না। বরং সত্যনির্বাচিত সরকারি জানো ধর্ষণ এবং নারীর নির্যাতনে সহায়তা করছে এরকম একটা আবহাওয়া তৈরি চেষ্টা চলছে। হ্যাঁ এটা স্বীকার করতেই হবে যে যে কোন সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে যেকোনো ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সেটা ধর্ষণ হোক কিংবা অন্য কোন অপরাধ। কিন্তু আমাকে এটাও স্বীকার করতে হবে যে বাংলাদেশের বাস্তবতায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার যে ষড়যন্ত্র সেটার অস্তিত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মতো একটি পতিত শক্তি এই সরকারকে স্বস্তিতে পাঁচ বছর দেশ চালাতে দেবে এটা মনে করার কোন কারণ নেই। ফলে তারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করবে গুজব ছড়াবে। তারা যে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে পাচার করেছে। সেই পাচারকৃত অর্থের সামান্য একটি অংশ খরচ করলেও এই সরকারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সত্যিই অত্যন্ত কঠিন কাজ হবে। কারণ অর্থের একটা বিশাল শক্তি আছে। এবং এই শক্তি পৃথিবীর সব সমাজেই ক্রিয়াশীল হয়। এখানে স্পষ্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইউনিসেফ একটি বিবৃতি প্রদান করেছে।

যেখানে তারা গভীর উদ্বেগ ও খুব প্রকাশ করেছে। অথচ শেখ হাসিনার আমলে এর চেয়ে বেশি মাত্রায় শিশু ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনে ঘটনা ঘটলেও। ইউনিসেফ কিংবা জাতিসংঘ কিংবা অন্য কোন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে এতটা কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেখা যায়নি।

একদিকে অর্থনৈতিক সংকট একদিকে হামের মত একটি প্রায় নিয়ন্ত্রিত রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে সরকার তথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রাত দিন পরিশ্রম করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য যে জঞ্জাল পূর্ববর্তী সরকার সৃষ্টি করে গেছে তা এখন মোকাবেলা করতে হচ্ছে বিএনপি সরকারকে।

এরকম একটি প্রেক্ষাপটে সরকার যখন তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিতে চাইছে তখন সেই প্রতিক্রিয়াশীল পতিত শক্তি যেকোন মূল্যে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে।

এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো বিএনপি সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য ডক্টর ইউনুস এর নেতৃত্বাধীন সরকার একটি প্লট সাজিয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। যিনি শান্তিতে নোবেল জয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস সারা বিশ্ব যাকে এক নামে চেনেন। জাতিসংঘ ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা পৃথিবীর নামকরা সকল সংস্থা ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসকে যথেষ্ট সম্মানের চোখে দেখেন। তো সেই ব্যক্তিটি যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন তিনি মিউনিসিপ এর কথা কেন শুনলেন না। অর্থাৎ হামে টিকা ক্রয়ের ব্যাপারে ইউনিসেফ একবার দুইবার নয় অনেকবার চিঠি দিয়েছেন সতর্ক করেছেন। ডঃ মোঃ ইউনূস কিংবা তার সরকার সেটা কেন আমলে নেননি। এটা কি শুধুই অবহেলা নাকি পরিকল্পিত কোন ষড়যন্ত্র। অর্থাৎ বিএনপি সরকার যাতে কোনোভাবে সফল হতে না পারে সেই ব্যবস্থাই পাকাপোক্ত করে গেছে ডঃ মুহাম্মদ ইউনু সরকার। এবং ডক্টর মোহাম্মদ ইউনূস এর প্রত্যক্ষ মদদে গঠিত এনসিপি এবং তাদের নেতাকর্মীদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বক্তৃতা বিবৃতি তাদের সামগ্রিক কর্মকান্ড টিকে তাকালে এ বিষয়টি খুবই পরিষ্কার যে এটা অন্তর্বর্তী সরকারের সুপরিকল্পিত একটি ষড়যন্ত্র।

সবচেয়ে বড় কথা হল এনসিপির নেতারা যারা কদিন আগেও ডাল ভাত খাওয়ার জন্য হিমশিম খেতে হয়েছে ক্যাম্পাসে তারা এখন ৮২ জীবন যাপন করছেন। প্রায় সবাই কোটিপতি বনে গেছেন। কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাজনৈতিক দল পরিচালনা করছেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো বিএনপি আওয়ামী লীগ জন্মের পর অনেক বছর সময় লেগেছে একটি ভাল অফিস মেইনটেইন করতে। অর্থাৎ একটি অফিসের ভাড়া খরচ বহন করার তাদের মত বড় দলের পক্ষেও অত সহজ ছিল না। কিন্তু এমসিপি ছাত্রদের সমন্বয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক দলের যে কার্যালয় বাংলা মটরে। সেটার যে চাকচিক্য সেটার যে ভাড়ার পরিমাণ। লক্ষ লক্ষ টাকা ভাড়ার টাকা তারা কোথা থেকে পান। তাদের এই টাকার খনি আলাদিনের চেরাগ তারা কোথায় পেলেন। আগে জাতিকে এই বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে। শুধু মুখে সুন্দর সুন্দর কথা বললেই তো চলবে না। মানুষ এখন আর বোকা নয় মানুষ সবকিছু দেখে শুনে এবং বুঝে।

এনসিপি কার্যত বিপথগামী একটি দল। তারা সেই পরাজিত পতিত শক্তির সঙ্গে গোপনে আঘাত করে বিএনপি’র বিরুদ্ধে এক যুগে ষড়যন্ত্র করছে। এবং ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস পেছন থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সম্পাদক, আমার দিন।

সকালের মধ্যে যেসব অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সকালের মধ্যে যেসব অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

সকাল ৯টার মধ্যে দেশের ৮টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে আবহাওয়া অধিদফতরের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা আবহাওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে– খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলে অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর (পুন. ১ নম্বর) নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার (৫ দিন) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করেছে।

এটি বর্তমানে উত্তর ওড়িশা এবং তৎসংলগ্ন বিহার-গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

এর প্রভাবে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

উন্নয়নকাজে অনিয়মে ঠিকাদারকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৫১ পূর্বাহ্ণ
উন্নয়নকাজে অনিয়মে ঠিকাদারকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। তিনি বলেছেন, প্রকল্পে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্টেড (কালো তালিকাভুক্ত) করা হবে এবং প্রয়োজনে টেন্ডারও বাতিল করা হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত উন্নয়নমূলক কাজ ও বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ শেষ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সময়মতো কাজ শেষ না হলে কিংবা প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট টেন্ডার বাতিল করা হবে।

তিনি জানান, প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা শুধু জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রতিনিধিদলই নয়, একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও যাচাই করা হবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও নিশ্চিত হবে।

আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রবণতা পরিহার করে কম মুনাফায় সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প হস্তান্তরের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় ঠিকাদারি ও নির্মাণকাজে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি না ঘটে, সে বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিবন্ধিত ঠিকাদারদের সতর্ক করা হয়।

মতবিনিময় সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম, সদস্য মো. আব্দুল গোফফার, প্রকৌশলী আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদার, পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন, মো. মেহেদী হাসানসহ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং নিবন্ধিত ঠিকাদারদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পাবনায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

পাবনা(বেড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
পাবনায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্বাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার অভিযোগে পাবনার বেড়া উপজেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব প্রধান ও সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গত রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এ নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এতে বলা হয়েছে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা রিডিং, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চারটি মৌলিক নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি রিডিং নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ অবস্থায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার এফএলএন কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শোকজপ্রাপ্ত স্কুলগুলোর মধ্যে রয়েছে– রূপগঞ্জ, আকনাই, কোমরপুর, শ্যামপুর, চর নতিবপুর, পুরান মাসুমদিয়া, নতুন মীরপুর, রতনগঞ্জ, ঢালারচর, খাস ঢালারচর, রামনারায়ণপুর, মাসুমদিয়া কাজীপাড়া, মহিষাখোলা, দুর্গাপুর, সিন্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রমুখ।

তবে এ বিষয়ে শোকজপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কুল হওয়ায় যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকা, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের পর্যাপ্ত সহযোগিতার অভাব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন বলে জানান।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,  এই উপজেলার ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কতজন শিক্ষক এই নোটিশের আওতায় আছেন, তা অফিসের ডকুমেন্টস দেখে বলতে হবে।

তবে কোনো স্কুলে চারজন শিক্ষক, কোনো স্কুলে তিনজন আছেন। আবার অনেক স্কুলে এর চেয়ে বেশিও শিক্ষক আছেন। নোটিশের জবাব সঠিকভাবে না দেওয়া হলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি