খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত

দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে রামিসার বাবা নিজেও অত্যন্ত আশ্বস্ত এবং কৃতজ্ঞ। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে রামিসা দর্শন হত্যাকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। যেদিন প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনমন্ত্রী রামিজ স্যার বাসায় গেলেন। সেদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘিরে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেয়া হলো। এই স্লোগানটি কারা দিলেন। সাধারণ জনগণ । মোটেও না। বরং প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইন মন্ত্রী রামেশ্বর বাসায় যাওয়ায় সাধারণ মানুষ খুবই সন্তুষ্ট এবং প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারের মানবিক আচরণে পুরা দেশের মানুষ অত্যন্ত আশ্বস্ত বিষয়টি অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। যখন আইনমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী একযোগে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। আসামীকে নজিরবিহীন দ্রুততম সময় গ্রেফতার করা হয়েছে। তখন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোক বিশেষ করে নাটক সিনেমার কিছু লোক এবং পতিত প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর লোকজন বিষয়টিকে ঘিরে জল ঘোলা করার চেষ্টা করছে।

বিষয়টা যেন এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি জেগে উঠেছে। রামই শহর তারপর সম্ভবত বাংলাদেশে আমি প্রথম সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি। এ নিয়ে আমি একাধিক আর্টিকেল লিখেছি। আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আর্টিকেল শেয়ার করেছি। পরে যখন প্রধানমন্ত্রী রামেশ্বর বাসায় ছুটে গেলেন সেটা নিয়ে আমি আর্টিকেল লিখেছি। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে রামিশা ধর্ষণ ও হত্যার পর যারা চুপচাপ বসে ছিলেন কোন প্রতিক্রিয়া জানাননি। প্রধানমন্ত্রী রামিশার বাসায় যাওয়ার পর তারা হঠাৎ করে মানবতাবাদী হয়ে উঠলেন তারা সোচ্চার হয়ে উঠলেন তারা রাস্তায় নামলেন। কারণটা কি?

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এটা আমার মুখের কথা নয়। সরকারি পরিসংখ্যান দেখলেই সেটা বোঝা যায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে সেই তুলনা চোখে পড়ছে না। বরং সত্যনির্বাচিত সরকারি জানো ধর্ষণ এবং নারীর নির্যাতনে সহায়তা করছে এরকম একটা আবহাওয়া তৈরি চেষ্টা চলছে। হ্যাঁ এটা স্বীকার করতেই হবে যে যে কোন সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে যেকোনো ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সেটা ধর্ষণ হোক কিংবা অন্য কোন অপরাধ। কিন্তু আমাকে এটাও স্বীকার করতে হবে যে বাংলাদেশের বাস্তবতায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার যে ষড়যন্ত্র সেটার অস্তিত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মতো একটি পতিত শক্তি এই সরকারকে স্বস্তিতে পাঁচ বছর দেশ চালাতে দেবে এটা মনে করার কোন কারণ নেই। ফলে তারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করবে গুজব ছড়াবে। তারা যে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে পাচার করেছে। সেই পাচারকৃত অর্থের সামান্য একটি অংশ খরচ করলেও এই সরকারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সত্যিই অত্যন্ত কঠিন কাজ হবে। কারণ অর্থের একটা বিশাল শক্তি আছে। এবং এই শক্তি পৃথিবীর সব সমাজেই ক্রিয়াশীল হয়। এখানে স্পষ্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইউনিসেফ একটি বিবৃতি প্রদান করেছে।

যেখানে তারা গভীর উদ্বেগ ও খুব প্রকাশ করেছে। অথচ শেখ হাসিনার আমলে এর চেয়ে বেশি মাত্রায় শিশু ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনে ঘটনা ঘটলেও। ইউনিসেফ কিংবা জাতিসংঘ কিংবা অন্য কোন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে এতটা কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেখা যায়নি।

একদিকে অর্থনৈতিক সংকট একদিকে হামের মত একটি প্রায় নিয়ন্ত্রিত রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে সরকার তথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রাত দিন পরিশ্রম করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য যে জঞ্জাল পূর্ববর্তী সরকার সৃষ্টি করে গেছে তা এখন মোকাবেলা করতে হচ্ছে বিএনপি সরকারকে।

এরকম একটি প্রেক্ষাপটে সরকার যখন তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিতে চাইছে তখন সেই প্রতিক্রিয়াশীল পতিত শক্তি যেকোন মূল্যে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে।

এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো বিএনপি সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য ডক্টর ইউনুস এর নেতৃত্বাধীন সরকার একটি প্লট সাজিয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। যিনি শান্তিতে নোবেল জয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস সারা বিশ্ব যাকে এক নামে চেনেন। জাতিসংঘ ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা পৃথিবীর নামকরা সকল সংস্থা ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসকে যথেষ্ট সম্মানের চোখে দেখেন। তো সেই ব্যক্তিটি যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন তিনি মিউনিসিপ এর কথা কেন শুনলেন না। অর্থাৎ হামে টিকা ক্রয়ের ব্যাপারে ইউনিসেফ একবার দুইবার নয় অনেকবার চিঠি দিয়েছেন সতর্ক করেছেন। ডঃ মোঃ ইউনূস কিংবা তার সরকার সেটা কেন আমলে নেননি। এটা কি শুধুই অবহেলা নাকি পরিকল্পিত কোন ষড়যন্ত্র। অর্থাৎ বিএনপি সরকার যাতে কোনোভাবে সফল হতে না পারে সেই ব্যবস্থাই পাকাপোক্ত করে গেছে ডঃ মুহাম্মদ ইউনু সরকার। এবং ডক্টর মোহাম্মদ ইউনূস এর প্রত্যক্ষ মদদে গঠিত এনসিপি এবং তাদের নেতাকর্মীদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বক্তৃতা বিবৃতি তাদের সামগ্রিক কর্মকান্ড টিকে তাকালে এ বিষয়টি খুবই পরিষ্কার যে এটা অন্তর্বর্তী সরকারের সুপরিকল্পিত একটি ষড়যন্ত্র।

সবচেয়ে বড় কথা হল এনসিপির নেতারা যারা কদিন আগেও ডাল ভাত খাওয়ার জন্য হিমশিম খেতে হয়েছে ক্যাম্পাসে তারা এখন ৮২ জীবন যাপন করছেন। প্রায় সবাই কোটিপতি বনে গেছেন। কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাজনৈতিক দল পরিচালনা করছেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো বিএনপি আওয়ামী লীগ জন্মের পর অনেক বছর সময় লেগেছে একটি ভাল অফিস মেইনটেইন করতে। অর্থাৎ একটি অফিসের ভাড়া খরচ বহন করার তাদের মত বড় দলের পক্ষেও অত সহজ ছিল না। কিন্তু এমসিপি ছাত্রদের সমন্বয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক দলের যে কার্যালয় বাংলা মটরে। সেটার যে চাকচিক্য সেটার যে ভাড়ার পরিমাণ। লক্ষ লক্ষ টাকা ভাড়ার টাকা তারা কোথা থেকে পান। তাদের এই টাকার খনি আলাদিনের চেরাগ তারা কোথায় পেলেন। আগে জাতিকে এই বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে। শুধু মুখে সুন্দর সুন্দর কথা বললেই তো চলবে না। মানুষ এখন আর বোকা নয় মানুষ সবকিছু দেখে শুনে এবং বুঝে।

এনসিপি কার্যত বিপথগামী একটি দল। তারা সেই পরাজিত পতিত শক্তির সঙ্গে গোপনে আঘাত করে বিএনপি’র বিরুদ্ধে এক যুগে ষড়যন্ত্র করছে। এবং ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস পেছন থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সম্পাদক, আমার দিন।

চট্টগ্রামে ভাড়া বাসা থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে ভাড়া বাসা থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে নলুয়া ইউনিয়নের মরফলা বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোরশেদ আলম চন্দনাইশ উপজেলার চাগাচর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মো. পেটান আলীর ছেলে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে নলুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বাসার সিঁড়িঘরের লোহার রডের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মোরশেদ আলমকে ঝুলতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নলুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, মোরশেদ আলম পাশের ওয়ার্ডে ভাড়া বাসায় থাকতেন। বিকেলে খবর পাই, তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন।

সাতকানিয়া ঢেমশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ডালিম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত করা হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

জোড়া গোল করে মেসির রেকর্ড ভাঙলেন রোনালদো

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোল করে মেসির রেকর্ড ভাঙলেন রোনালদো

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজের উপস্থিতি জোরালোভাবে জানান দিচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। টুর্নামেন্টে ধীরগতির সূচনার পর অবশেষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আলোচনায় ফিরেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। গ্রুপ ‘কে’-তে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে দুই গোল করার নতুন রেকর্ড গড়েছেন।

এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল লিওনেল মেসির দখলে। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক ৩৮ বছর ৩৬৩ দিন বয়সে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করে কীর্তিটি গড়েছিলেন। তবে সেই রেকর্ড মাত্র একদিন স্থায়ী হয়। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে রোনালদো রেকর্ডটি নিজের করে নেন।

একই সঙ্গে  এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলও পেয়ে যান রোনালদো। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের আরেকটি বিশেষ পরিসংখ্যানে মেসির ওপর নিজের ব্যবধান আরও বাড়িয়েছেন—যে রেকর্ডে আর্জেন্টাইন তারকার পক্ষে আর পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপে মেসি-রোনালদোর আধিপত্য

দুই দশকেরও বেশি সময় আগে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া দুই কিংবদন্তি ফুটবলার এখনো বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের প্রধান আকর্ষণ। বয়স বাড়লেও তাদের পারফরম্যান্সে তার কোনো প্রভাব পড়েনি।

বর্তমানে দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন লিওনেল মেসি। অন্যদিকে শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও রোনালদো ধীরে ধীরে নিজের সেরা ছন্দে ফিরছেন। মেসি শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেললেও রোনালদোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স পর্তুগালের সমর্থকদের নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে।

এদিকে মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও শীর্ষে উঠে এসেছেন। তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ড ভেঙেছেন। যদিও এই দৌড়ে রোনালদো কিছুটা পিছিয়ে আছেন,

তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে তিনি এখনো গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। পাশাপাশি কিলিয়ান এমবাপ্পে ও হ্যারি কেইনের মতো তারকারাও এই প্রতিযোগিতায় রয়েছেন।

আরও ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় দুই কিংবদন্তি

ফুটবলপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে মেসি ও রোনালদোকে একের পর এক অসম্ভব মনে হওয়া রেকর্ড ভাঙতে দেখেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে টুর্নামেন্ট যত এগোবে এবং আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল যত দূর যাবে, ততই নতুন নতুন রেকর্ডের সাক্ষী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে থাকা মেসি ও রোনালদো আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নেমেছেন। অনেকের ধারণা, এটি তাদের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। তাই দেশকে সাফল্য এনে দেওয়ার পাশাপাশি একে অপরের রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্যেও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন এই দুই কিংবদন্তি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বিশ্বনেতাদের জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
বিশ্বনেতাদের জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিপন্ন লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, এখন সময় এসেছে জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিকে কাজে এবং অঙ্গীকারকে ফলাফলে পরিণত করার, যাতে বিশ্ব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎকে আলিঙ্গন করতে পারে। আমরা আশা করি, কপ-৩১ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে এবং বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্সে শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ শীর্ষক এক অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়; আমরা এটিকে সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আমরা এখানে উপস্থিত সকলে মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ, টেকসই এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।

তিনি বলেন, কোনো দেশ একা জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন অংশীদারত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকার। কপ-৩১ এবং কপ-৩২-এর দিকে তাকিয়ে আমরা তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিতে চাই। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও অনুমানযোগ্য সহায়তাসহ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য, সহজসাধ্য এবং চাহিদা-সাপেক্ষ হতে হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও ত্বরান্বিত হওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে আমাদের গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর বৃহত্তর সংহতকরণ এবং কার্যকরীকরণ প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, প্রশমনের পাশাপাশি অভিযোজনও অপরিহার্য। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন কোনো নীতিগত বিকল্প নয়; এটি একটি অপরিহার্য বিষয়। ইউএনসিটিএডি-এর মতে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা (এনসিকিউজি) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রশমন ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অপর্যাপ্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজ এখানে শুধু জলবায়ু সংকটে সম্মুখসারির একটি রাষ্ট্র হিসেবেই নয়, বরং বৈশ্বিক সমাধানে আগ্রহী একটি জাতি হিসেবেও সমবেত হয়েছি।

তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার একটি অগ্রণী জলবায়ু-সহনশীল জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ প্রবৃদ্ধি এখন আমাদের জাতি গঠন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এটি এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে ভাবি এবং যার জন্য আমি সচেষ্ট থাকি। এটি জীবন, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার বিষয়।

জলবায়ু সংক্রান্ত বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আমরা আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনা করেছি। পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, কৃষিকে সহায়তা করতে এবং জলবায়ুগত অভিঘাত মোকাবিলায় আমাদের প্রধান নদীর ওপর পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ব্যারেজ আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। স্কুল, সম্প্রদায় এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী একটি আন্দোলনের মাধ্যমে, যেমন এক শিক্ষার্থী, এক গাছ কর্মসূচির মাধ্যমে বনাঞ্চল সম্প্রসারণ, জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাপমাত্রা হ্রাস করা হবে।

বাংলাদেশ সরকার বন, জলাভূমি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ মান চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর, বায়ু, বর্জ্য থেকে শক্তি এবং অন্যান্য সমাধানের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বাংলাদেশের অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পাটজাত পণ্য এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ পরিবেশবান্ধব পরিবহন খাতকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সবুজ বিনিয়োগ এবং কার্বন ক্রেডিটের সুযোগ উন্মোচনে একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা হবে। সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার, জৈব সার উৎপাদন এবং চক্রাকার অর্থনীতি উদ্যোগের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবুজ উৎপাদনে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড-প্রত্যয়িত কারখানার মধ্যে ৬৯টিই বাংলাদেশের।

তিনি বলেন, বিশ্বনেতাদের অবশ্যই মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে লাখ লাখ মানুষের জন্য তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, যাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কপ-৩১-এর উচিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কাঠামো কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য ও চেতনাকে পুনঃনিশ্চিত করা। এ প্রসঙ্গে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপকে উৎসাহিত করতে, ঐকমত্য গড়ে তুলতে এবং সম্মিলিত পদক্ষেপকে অনুপ্রাণিত করার জন্য একটি মূল্যবান মঞ্চ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ