খুঁজুন
                               
, ,
           

নারী-শিশু মামলা নিয়ে বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
নারী-শিশু মামলা নিয়ে বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের মামলা নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির গঠন করা বিশেষায়িত বেঞ্চ কার্যক্রম শুরু করেছেন।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চে রোববার (১৪ জুন) এ কার্যক্রম শুরু হয় বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

কোর্ট থেকে বেরিয়ে তিনি জানান, এ সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স তথা মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলো শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছেন। সেটির আজ ছিল প্রথম কার্যদিবস।

কার্যদিবসের শুরুতে আজকে এই কোর্টে ২০টি মামলা আছে। তার মধ্যে ২০ নম্বর হলো মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলা। আদালতে বলেছি রাষ্ট্রের অবস্থান হচ্ছে প্রত্যেক মামলায় শুনানির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস প্রস্তুত। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে কোনো মামলায় মুলতবি গ্রহণ করা হবে না।

আছিয়ার মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনবেন কিনা এ বিষয়ে আদালত বলেন, প্রথম যে মামলাগুলো আছে সেগুলো ২০১৯ সালের মামলা। সে মামলার আসামিগুলো দীর্ঘদিন মৃত্যুদণ্ড নিয়ে অবস্থান করছেন। আমি বলেছি অবশ্যই। তারপরও যদি কোনো সুযোগ থাকে আছিয়ার মামলাটা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করা যায় না।

এই বেঞ্চে রোববারের তালিকায় নারী শিশুবিষয়ক ২০টি মামলা কার্যতালিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাগুরার আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলা এবং ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলা।

এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনজীবীদের আবেদনে ১০ জুন আলাদা বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি। এই বেঞ্চে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতনবিষয়ক মামলাগুলোর শুনানি হবে। এই বেঞ্চ গঠনের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রামিসা হত্যা মামলার শুনানিতে বিশেষ টিম গঠন করেছেন। যার নেতৃত্বে রয়েছেন স্বয়ং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার মতে, বিরতিহীনভাবে তারা এ মামলার শুনানি করবেন। যাতে মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

লোহিত সাগরের জলপথ বন্ধের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
লোহিত সাগরের জলপথ বন্ধের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারির পর এবার জ্বালানি পণ্য পরিবহনের অপর গুরুত্বপূর্ণ রুট লোহিত সাগরের জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পানা নিয়েছে ইরান। ইয়েমেনে নিজেদের মদতপুষ্ট হুথি গোষ্ঠীকে এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশও ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে তেহরান থেকে।

ইতোমধ্যে কূটনৈতিক সূত্রে তেহরানের এই পরিকল্পনার তথ্য সৌদির কাছে পৌঁছেছে এবং রিয়াদ এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

ইরানের দু’টি উচ্চপর্যায়ের সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে— সেক্ষেত্রে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হবে।

সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে যে কয়েক দিন আগে হুথি গোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ইরানি, মধ্যপ্রাচ্যীয়, এশীয় বা পশ্চিমা কোনো সংবাদমাধ্যমে আসেনি এ তথ্য।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুথি গোষ্ঠীর মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তেহরান থেকে নির্দেশ আসার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ শেষ করে এনেছে হুথি গোষ্ঠী। ইতোমধ্যে লোহিত সাগারের প্রবেশ পথ হিসেবে পরিচিত বাব এল-মান্দেব প্রণালির চারপাশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা শেষ করার পর আগামী সপ্তাহেই দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা শুরু করা হবে।

মার্কিন বাহিনী এই নীতিতে হামলা করলে পাল্টা ব্যবস্থা কী হতে পারে— তা জানা গেল রয়র্টার্সের এ প্রতিবেদনে।

যদি সত্যি হুথি গোষ্ঠী বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তাহলে তা হবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের জন্য বড় দুর্যোগ। কারণ হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগর— এই দু’টি পথ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পণ্য এশিয়া এবং পশ্চিমা বিশ্বে পৌঁছানোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দু’টি প্রধান পথ হলো হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগর। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের ২৫ শতাংশ হরমুজ দিয়ে এবং ৭ শতাংশ লোহিত সাগর দিয়ে পরিবাহিত হয়।

দু’দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান।

যদি সত্যিই হুথি গোষ্ঠ বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিপদে পড়বে সৌদি আরব। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই তেল উত্তোলনকারী দেশ বৈশ্বিক বাজারে যে পরিমাণ জ্বালানি রপ্তানি করে, তার ৭০ শতাংশ চালান যায় লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে।

আর হুথি বিদ্রোহীরা বাব এল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের পাশাপাশি লোহিত সাগর এলাকার সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে যে হামলা করবে— এমন আশঙ্কা ব্যাপকভাবে আছে।

কারণ কয়েক দিন আগে হুথি গোষ্ঠীর নেতা ও মুখপাত্রদের বহনকারী একটি উড়োজাহাজকে ধ্বংস করতে ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা হয়েছিল। এই হামলার জন্য সৌদিকে দায়ী করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল হুথি গোষ্ঠী।

সৌদি আরবকে এক নম্বর বা শীর্ষ পর্যায়ের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে হুথি। ২০১৫ সালে এই গোষ্ঠী সানা দখল করার পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে আনতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি সেনাবাহিনী। সে অভিযান এখনও চলছে।

বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে এই সরকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিও পেয়েছে। সৌদি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি না থাকলে পুরো ইয়েমেন হুথিরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।

সূত্র : রয়টার্স

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াতের অসুবিধা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওএর ফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি ছাড়াও বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার অবশিষ্ট সব বিষয় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন জেলার বাইরে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মেধা ও যোগ্যতায় সেরা রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের কাঁধেই নৌবাহিনীর গুরুদায়িত্ব

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
মেধা ও যোগ্যতায় সেরা রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের কাঁধেই নৌবাহিনীর গুরুদায়িত্ব

রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নেতৃত্বের ভার। নতুন নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে তাকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। তিনি বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে পরবর্তী নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদিন রাতে এক বার্তায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানায়। আইএসপিআর জানিয়েছে, আগামী ২৩ জুলাই তিনি ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করবেন এবং নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

বিশাল কর্মময় জীবনে দেশপ্রেম, নিষ্ঠা ও আদর্শবাদিতা ও কর্তব্যপরায়ণতায় অটল-অনড় থেকে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন নতুন নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। তিনি সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি মাস্কাটে বাংলাদেশ দূতাবাসে তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের পহেলা জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে (বিএন) যোগদান করেন। রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভিতে নৌ-কর্মকর্তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করার পর এক্সিকিউটিভ শাখায় কৃতিত্বের সঙ্গে কমিশন লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তাঁর ব্যাচে (৮৭এ) জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।

  • বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরতে পরতে অজস্র আলোকরেখা
  • আগামী ২৩ জুলাই তিনি ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করবেন এবং নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন
  • বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তাঁর ব্যাচে (৮৭এ) জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রায় ৫ মাস বয়সী সরকারের সময়ে এই প্রথম দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কোন বাহিনী প্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব শেষ করে আগামী ২৩ জুলাই স্বাভাবিকভাবেই অবসরে যাচ্ছেন। নতুন নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে অনেকের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত দক্ষতা, মেধা ও যোগ্যতায় সেরা রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের কাঁধেই নৌবাহিনীর গুরুদায়িত্ব তুলে দিয়েছে সরকার। আগামী তিন বছর তিনি নেতৃত্ব দিবেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে।

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরতে পরতে অজস্র আলোকরেখা
নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে নতুন আলোকিত এক অধ্যায়ের যাত্রা শুরু হচ্ছে রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এর। দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল কর্মজীবনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও নেতৃত্বের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ছিলেন চট্টগ্রাম ও ঢাকা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার। নৌবাহিনীতে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত সাবমেরিন কমান্ডারেরও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিএনএস শাহ আমানত, বিএনএস সৈকত, বিএনএস নির্ভয়, বিএনএস এস আর আমিন ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট বিএনএস ওমর ফারুক (এফ-১৬) এর মতো বিভিন্ন নৌ-জাহাজ এবং বিএনএস তিতুমীর নৌ-ঘাঁটির কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন। খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি (বিএনএ) এর কমান্ড্যান্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন তিনি নৌ-সদর দপ্তরে ডিরেক্টর অফ নেভাল অপারেশনস (ডিএনও), সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে (এএফডি) স্টাফ অফিসার ও ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সে ডিরেক্টিং স্টাফ হিসেবেও।

বিরল সম্মানের অধিকারী হিসেবে একই সঙ্গে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) থেকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন পুরস্কার’ এবং মিরপুরের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি)-এর আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিউসি) থেকে ‘সেরা ব্যক্তিগত গবেষণা পত্র পুরস্কার’ অর্জন করেছেন। এছাড়া, তিনি আইএনএস ভেন্ডুরুথি থেকে ‘অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার (এএসডব্লিউ)-এ বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন। সেখানেও তিনি ‘সেরা শিক্ষার্থী পুরস্কার’ পেয়েছেন।

শিক্ষাজীবনেও খোন্দকার আজীম কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি এসএসসি ও এইচএসসি—উভয় পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে সমসাময়িক সামুদ্রিক শাসনব্যবস্থা (মেরিটাইম গভর্নেন্স) বিষয়ক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ও ‘ডিফেন্স স্টাডিজ’-এ স্নাতকোত্তর (এমডিএস); ভারতের মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’-এ এমএসসি; এবং চীনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি থেকে ‘স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’-এ আরও একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রতিটি ডিগ্রিতেই তিনি প্রথম শ্রেণি লাভ করেন। শিক্ষাজীবনে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে লাভ করেন ‘চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’।

আন্তর্জাতিক অঙ্গণে নতুন নৌবাহিনী প্রধান আজিম লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউনিফিল)-এর ‘মেরিটাইম টাস্ক ফোর্স’-এ এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের মিশন (মনুক)-এ সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বহু আন্তর্জাতিক কোর্স, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন ও বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে অসাধারণ সেবার জন্য শান্তিকালীন সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘নৌবাহিনী পদক’ (এনবিপি); কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘নৌদক্ষতা পদক’ (এনপিপি); সর্বোচ্চ নৈতিক আচরণের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার’; এবং স্কাউট আন্দোলনে অসামান্য অবদানের জন্য ‘জাতীয় স্কাউট পুরস্কার’ (সিলভার হিলসা মেডেল) অর্জন করেছেন। তিনি তিনবার নৌ-বাহিনী প্রধানের প্রশংসা পত্র লাভ করেছেন। তিনি বহু প্রবন্ধ রচনা ও প্রকাশ করেছেন। বাংলা, ইংরেজি ও মালয় ভাষায় পারদর্শী হওয়ার পাশাপাশি ফরাসি ভাষাতেও তাঁর প্রাথমিক জ্ঞান রয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনে রিয়ার অ্যাডমিরাল আজিম মিসেস নুরতাজ আজিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাঁর স্ত্রী মিসেস নুরতাজ আজিম ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সমিতির ঢাকা ও চট্টগ্রাম-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান। এই আলোকিত দম্পতির দুই কন্যার মধ্যে নুযাবাহ যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স (এলএসই)-এ স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত। অপর কন্যা মেহতাজ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ওয়ালা ওয়ালা-তে অবস্থিত হুইটম্যান কলেজে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে