পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণে জোর বিমান বাহিনীর, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে সীডবল নিক্ষেপ কার্যক্রমও
বাংলা দিনপঞ্জির আষাঢ় মাস শুরুর সঙ্গে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণের উপযুক্ত ঋতু বর্ষা। পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি দেশের যে পরিমাণ বনভূমি প্রয়োজন বর্তমানে বাংলাদেশে আছে তার এক-তৃতীয়াংশ। পরিবেশ ও জীবজগতের সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য বৃক্ষরোপণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্মল, সুন্দর ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সরকারপ্রধানের এই মেগা কর্মসূচিকে সফল করার মাধ্যমে গৌরবদীপ্ত সহযাত্রী হতে চায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। দেশের বৃক্ষসম্পদ বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে কার্যকর সবুজায়নের পথে হঁটছে তাঁরা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকা সেনানিবাসস্থ বিমান বাহিনী সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে চলতি বছরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এই কর্মসূচির আওতায় বিমান বাহিনী বিভিন্ন ধরনের ফলজ, বনজ ও ঔষধি গুণাগুণ সম্পন্ন গাছের চারা রোপণ করবে।
চির সুন্দরের অভিবন্দনায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিটসমূহ এবং বিমান বাহিনী পরিচালিত সকল স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণে পালিত হবে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিমান সদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসাররা বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
জানা যায়, দেশে সবুজ বৃক্ষরাজিই যে অস্তিত্বের অনুষঙ্গ সেই বিষয়ে সচেতনতা গড়ার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও নিজেদের এগিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে নানামুখী প্রয়াস। পরিবেশবাদীরা বলছেন, বাংলাদেশ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও বৈশ্বিক উষ্ণায়ণের প্রভাব বাংলাদেশেও সমানভাবে প্রতীয়মান। ফলে বাংলাদেশে সবুজায়ন কর্মসূচির গুরুত্ব পরিবেশগত উদ্বেগের উর্ধ্বে এটি টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় বনায়নের লক্ষ্যে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারের সাহায্যে আকাশ থেকে সীডবল (বীজ সমৃদ্ধ মাটির বল) নিক্ষেপের মাধ্যমে বীজ ছিটানো কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ইতোপূর্বেও দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সীডবল নিক্ষেপ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
কালের আলো/এমএএএমকে


আপনার মতামত লিখুন
Array