জোবায়েদ হত্যা মামলায় প্রেমিকা বর্ষাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগপত্র
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইনের হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে জোবায়েদের ছাত্রী ও কথিত প্রেমিকা বার্জিস শাবনাম বর্ষা, বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে। পুলিশের তদন্তে বলা হয়েছে, মাহির ছিলেন হত্যাকাণ্ডের মূল হামলাকারী, বর্ষা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত এবং আয়লান সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন সম্প্রতি ঢাকার আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে ৫০ জন সাক্ষীর বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফরেনসিক, ডিএনএ পরীক্ষা ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫ নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা বাসায় পড়াতে গিয়ে হামলার শিকার হন জোবায়েদ। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাসার নিচতলায় তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ভবনের তিনতলার সিঁড়িতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় পরদিন নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রায় নয় মাস তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, এটি হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন পরিকল্পনা, নজরদারি ও ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণের পর হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। তদন্তে জোবায়েদ, বর্ষা ও মাহিরের সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার সম্পর্কের কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু জানান, অভিযোগপত্রটি প্রসিকিউশন বিভাগের জিআরও শাখায় জমা হয়েছে। পর্যালোচনার পর এটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগপত্রে ডিএনএ প্রতিবেদনে মাহিরের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাঁর ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে।
কালের আলো/এসএ



আপনার মতামত লিখুন
Array