খুঁজুন
                               
, ,
           

এনবিআরের সার্ভার হ্যাক করে কোটি  টাকার পণ্য খালাস, 

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
এনবিআরের সার্ভার হ্যাক করে কোটি  টাকার পণ্য খালাস, 

হ্যাকারকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট

চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনলাইন সিস্টেম হ্যাক করে জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বিদেশি মদ ও সিগারেটের চালান খালাসের চেষ্টার অভিযোগে এক হ্যাকারকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গ্রেফতাররকৃত যুবকের নাম শেখ সেজান (২৬)।

গত ১৫ জুলাই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে নেপাল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ এই তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, মিথ্যা ঘোষণায় এবং শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ ও ৫০ লাখ শলাকা বিদেশি সিগারেট খালাসের চেষ্টার ঘটনায় বন্দর থানায় দুটি মামলা করা হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তে সেজানের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ।

পাচারকারী চক্রটি চীন থেকে ‘ডিউটি ফ্রি বন্ডেড ফেব্রিক’ ঘোষণার মাধ্যমে এসব মদ ও সিগারেট আমদানি করেছিল, যার মাধ্যমে সরকারের প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির পরিকল্পনা ছিল।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এনবিআরের শুল্কায়ন প্রক্রিয়া ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম’ (ASYCUDA World System) এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অনলাইন পোর্টালে অবৈধভাবে প্রবেশ করে সেজান ওই সিন্ডিকেটকে কারিগরি সহায়তা দিতেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেজান স্বীকার করেছেন যে, তিনি তার তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান ব্যবহার করে শুল্ক কর্মকর্তাদের ইউজার আইডি ব্যবহার করে সিস্টেমে প্রবেশ করতেন এবং পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে অবৈধ পণ্য খালাস নিশ্চিত করতেন।

এর আগে গ্রেফতার হওয়া আশরাফ হোসেন রাজু নামের অন্য এক আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও সেজানের নাম উঠে এসেছে।

ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ মে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে এক কাস্টমস কর্মকর্তার আইডি দিয়ে অননুমোদিতভাবে সিস্টেমে লগ-ইন করা হয়। পরবর্তীতে একই আইডি ব্যবহার করে সিগারেট চোরাচালান সংক্রান্ত এলসি রেজিস্ট্রেশন ও অ্যাক্টিভেশনের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

এর আগে নড়াইলের লোহাগড়ায় সেজানের বাড়িতে অভিযান চালালেও তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে সেখান থেকে একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়, যা দিয়ে তিনি অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে প্রবেশ করতেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহমেদ জানান, সেজান একজন পেশাদার সাইবার অপরাধী। এর আগে সরকারি ওয়েবসাইট ক্লোন করে ভুয়া এনআইডি কার্ড, জন্মনিবন্ধন সনদ, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ এবং কোভিড-১৯ টিকাদান সনদ তৈরির অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

তিনি ও তার সহযোগীরা সরকারি বিভিন্ন সেবার জাল পোর্টাল তৈরি করে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত সাতটি সাইবার অপরাধ ও জালিয়াতির মামলা রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এই চোরাচালান সিন্ডিকেটের আরও সাত সদস্যকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান খালেদ হোসেন মামুন ও পরিচালক বাকির হোসেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী খোরশেদ আলম রিপন ও মিজান, এবং সহযোগী আশরাফ হোসেন রাজু, খায়েজ আহমেদ আরিফ ও বড় রাজু। তাদের সবাইকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ২৫০টি কনটেইনার নিখোঁজ হওয়ার সাম্প্রতিক খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফয়সাল আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। বিষয়টি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে। সার্ভার হ্যাকিং এবং চোরাচালান নেটওয়ার্কের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

‘লুটপাটের নতুন লাইসেন্স’ জ্বালানি খাতের বেসরকারিকরণ: জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
‘লুটপাটের নতুন লাইসেন্স’ জ্বালানি খাতের বেসরকারিকরণ: জামায়াত

পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগকে ‘লুটপাটের নতুন লাইসেন্স’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ভেঙে প্রতিযোগিতা তৈরির নামে শেষ পর্যন্ত কয়েকটি প্রভাবশালী বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে জ্বালানি তেলের বাজার তুলে দেওয়া হতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট)  বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সরকারের নতুন জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়নের পদক্ষেপ’ নিয়ে দলটির বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, জ্বালানি খাত সংস্কারের পরিবর্তে এর নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর খরচ শেষ পর্যন্ত বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ খসড়া নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন বিপিসি চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার চার দিনের মধ্যে এ খসড়া তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি সংস্কার নয়, এটি হস্তান্তর। এটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি দুর্নীতি ও লুটপাটের লাইসেন্স।’

বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দিলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং দাম কমবে—সরকারের এমন যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াত। গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি তেলের ব্যবসায় গভীর সমুদ্রবন্দর, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং, বড় ট্যাংক টার্মিনাল, পাইপলাইন এবং বিপুল ব্যাংকিং সক্ষমতা প্রয়োজন। ফলে বাস্তবে হাতেগোনা কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষেই এ বাজারে প্রবেশ করা সম্ভব। এতে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ভেঙে বেসরকারি একচেটিয়া তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিপিসিকে অদক্ষ ও লোকসানি দেখিয়ে বেসরকারিকরণের যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াত। গোলাম পরওয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এর আগে ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি যথাক্রমে ১ হাজার ৯৮৩ কোটি ও ৭ হাজার ৮৭ কোটি টাকা লোকসান করেছিল।

জামায়াতের দাবি, বর্তমান জ্বালানি সংকট বিপিসির ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার কারণে নয়; বরং এটি বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক সংকটের ফল। গোলাম পরওয়ার বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশের ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে দাম না বাড়ানোর কারণে বিপিসি প্রতিদিন প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে বলে জ্বালানিমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকটকে কাজে লাগিয়ে সরকার তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এতে বড় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ কমে গিয়ে দরদাতা সংকট, বেশি দামে জ্বালানি তেল কেনা এবং সিন্ডিকেটের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দ্রুততা আর স্বচ্ছতা পরস্পরবিরোধী নয়। কিন্তু এখানে দ্রুততার নামে স্বচ্ছতাই বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেলের বাজার কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে চলে গেলে প্রতি লিটারে সামান্য বাড়তি মুনাফাও বছরে হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আয়ে পরিণত হতে পারে।

জ্বালানি তেলকে সাধারণ পণ্য নয়, বরং কৃষি, বিদ্যুৎ, পরিবহন, বিমান চলাচল ও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। বাংলাদেশে একটি মাত্র শোধনাগার—ইস্টার্ন রিফাইনারি—এবং সীমিত মজুত সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুদ্ধ বা দুর্যোগের সময় বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্র কীভাবে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে নির্দেশ দেবে।

অলাভজনক ও দুর্গম এলাকায় জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্ব বেসরকারি কোম্পানিগুলো নেবে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

জ্বালানি খাতের শ্রমিক সংগঠনের আইনি সুরক্ষা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেন, শ্রম আইনের ১৮৭ ধারা জ্বালানি খাতের শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের ক্ষেত্রে রহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এটি শুধু বিরোধী দলের রাজনৈতিক বক্তব্য নয় দাবি করে গোলাম পরওয়ার সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি, ক্যাব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, জ্বালানি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হওয়ায় এটিকে মুনাফার খাত না করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে সীমিত মুনাফায় পরিচালনা করাই জনস্বার্থসম্মত।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম জ্বালানিকে মুনাফার পরিবর্তে সেবাখাত হিসেবে বিবেচনার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি খাত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেলে এলপিজি খাতের মতো সিন্ডিকেট তৈরি হতে পারে।

জামায়াতের দাবি, গত ২ আগস্ট বাঙ্কারিং নীতিমালায় পরিবর্তন এনে মেরিন ফুয়েল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে জামায়াত। একই সঙ্গে খসড়া নীতিমালাসহ সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করে অন্তত ৬০ দিনের জনমত গ্রহণ এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অধীনে উন্মুক্ত শুনানির দাবি জানিয়েছে দলটি। বেসরকারিকরণের পরিবর্তে বিপিসির সংস্কারেরও দাবি করা হয়েছে।

দলটির দাবির মধ্যে আরও রয়েছে বিপিসির স্বাধীন নিরীক্ষা, পরিচালনা পর্ষদে পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়োগ, জ্বালানি তেল ক্রয়ে ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা এবং প্রতি ত্রৈমাসিকে আমদানি মূল্য ও পরিমাণ প্রকাশ করা। পাশাপাশি ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণ এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা খর্বের সব সুপারিশ প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছে জামায়াত।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত বাজার অর্থনীতি বা বেসরকারি বিনিয়োগের বিরোধী নয়। তাদের বিরোধিতা জবাবদিহিহীন হস্তান্তরের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতা মানে একচেটিয়া হাতবদল নয়। সংস্কার মানে প্রতিষ্ঠান মেরামত, প্রতিষ্ঠান বিক্রি নয়। জ্বালানি নিরাপত্তা মানে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ, গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে পাবনা-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বেসরকারি জ্বালানি তেল আমদানি নীতিমালায় বিশেষ সুবিধা নেই: মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
বেসরকারি জ্বালানি তেল আমদানি নীতিমালায় বিশেষ সুবিধা নেই: মন্ত্রণালয়

বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণন নিয়ে প্রস্তাবিত নীতিমালা ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুমাননির্ভর ও অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় বলছে, ‘জনস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে। এতে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।’

শনিবার (৮ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখাই প্রস্তাবিত নীতিমালার প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলে জরুরি বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সক্ষমতাকে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের পর এটি চূড়ান্ত করা হবে। জনস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই এ ধরনের নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ফলে প্রস্তাবিত নীতিমালার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।

সম্প্রতি প্রস্তাবিত নীতিমালাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুমাননির্ভর এবং অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে জ্বালানি বিভাগ। এ ধরনের তথ্য প্রচার অনভিপ্রেত উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে বিভাগটি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবার পাবে ৫ লাখ টাকা : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবার পাবে ৫ লাখ টাকা : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ও আহতদের সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্ব বরণকারীদের ৩ লাখ টাকা এবং চিকিৎসাধীন আহতদের ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে যান আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সরকারি অনুদান পেতে বিআরটিএর মাধ্যমে নির্ধারিত একটি ফরম হাসপাতালের পরিচালকের কাছে দেওয়া হয়েছে। আহত ও নিহতদের স্বজনদের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফরম জমা দিতে হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী তারা সরকারি অনুদানের টাকা পাবেন।

তিনি বলেন, সকালের দিকে মহাসড়ক ফাঁকা থাকার সুযোগে অনেক চালকের মধ্যে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো ও প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়। এটি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। ফ্লাইওভারে যেভাবে গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়, একইভাবে মহাসড়কেও হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের মাধ্যমে গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে।

ওসমানীনগর ও তাজপুর সড়কে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসব দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে বেপরোয়া গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে চালকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সিলেট-শেরপুর সড়কের অংশে ঘনঘন দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। বৃষ্টিসহ নানা কারণে প্রকল্পের কাজে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে থেকেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়নের বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন। এলাকার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরাও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করছেন। মাটি ভরাটের কাজ সময়সাপেক্ষ হলেও বিদ্যমান সড়ক দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কারের কাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে