ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ছে উত্তেজনা আরও
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা আরও বেড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শনিবার রাতে চালানো হামলায় ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সংশ্লিষ্ট সক্ষমতার ওপরও আঘাত হানা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং আরও একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, দেশটির কৌশলগত হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপেও মার্কিন হামলা হয়েছে। একই সঙ্গে আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ তাসনিম বার্তা সংস্থা দাবি করেছে, ইরান কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরি এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে ‘বৃহৎ পরিসরের আত্মঘাতী ড্রোন হামলা’ চালিয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, টানা অষ্টম রাতের এই হামলার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জবাব দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত জুনে একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। এরপর ওয়াশিংটন আবারও ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে এবং তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, তাদের আত্মত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
এদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
এদিকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) অভিযোগ করেছে, ইরানের হামলায় কুয়েতের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি পানি পরিশোধন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বলেন, এতে প্রমাণ হয়েছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।
সূত্র: বিবিসি
কালের আলো/এসএ


আপনার মতামত লিখুন
Array