ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই: মোজতবা খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে ওয়াশিংটন এমন শিক্ষা পাবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।
শনিবার (১৯ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে খামেনি বলেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আবারও তার অঙ্গীকার ভঙ্গের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করেছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই। জুলুম, আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোজতবা খামেনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাত আরও উসকে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ইরান ও ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ এমন জবাব দেবে, যা যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন মনে রাখবে।
এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে। ইরানের দাবি, মার্কিন হামলায় সেতু, রেলপথ, সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতার অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। এছাড়া ভারত মহাসাগরের উত্তরে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজেও হামলার দাবি করেছে দেশটি।
কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের হামলায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত চরিত্র, অবিশ্বস্ততা এবং প্রতারণাপূর্ণ নীতিকে আরও স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে তিনি দেশের জনগণকে নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখার এবং চলমান পরিস্থিতিতে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে চুক্তির পর থেকেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সমঝোতাকে কার্যত অকার্যকর বলে দাবি করছে।
সূত্র: বিবিসি
কালের আলো/এসএ


আপনার মতামত লিখুন
Array