খুঁজুন
                               
, ,
           

মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যামের বিরুদ্ধে ‌জিরো টলারেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যামের বিরুদ্ধে ‌জিরো টলারেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মানবপাচার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন স্ক্যামের বিরুদ্ধে সরকার ‌‌‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও স্ক্যাম চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।

এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্যোগ নয়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং সচেতন সমাজকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রতারণার ফাঁদে আটকা: জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করার লক্ষ্যে মানব পাচার বন্ধ করা’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচারের ধরন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও প্রযুক্তিনির্ভর। অপরাধী চক্রগুলো ভুয়া অনলাইন নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে তরুণ-তরুণী ও চাকরিপ্রার্থীদের আকৃষ্ট করছে।

উন্নত চাকরি ও ভালো ভবিষ্যতের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে গিয়ে তাদের সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রেখে নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের নতুন হুমকি মোকাবিলায় প্রচলিত আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তিভিত্তিক ও বহুমাত্রিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

জাতিসংঘের ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম কনভেনশন (UNTOC) এবং সংশ্লিষ্ট প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণীত এ আইনে অনলাইন স্ক্যাম, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা এবং জোরপূর্বক অপরাধে বাধ্য করার মতো আধুনিক অপরাধকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, ২০১৭’ যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। একইসঙ্গে প্রতিরোধ, সুরক্ষা, বিচার ও অংশীদারিত্ব এই চারটি মূল ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০) চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার, আইনি সহায়তা, শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণ ও কেস ট্র্যাকিং নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ডিজিটাল পাচার প্রতিরোধ তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি তরুণ সমাজ, নারী ও বিদেশগামী কর্মপ্রত্যাশীদের নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ও জাতিসংঘের অভিবাসন নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ড. লরা টম বোন্ষ্নে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, কূটনৈতিক কোর এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য তুলে ধরেন ইউএনওডিসি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম প্রধান শাহ মোহাম্মদ নাহিয়ান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

৩৭ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ: স্বস্তি কতটা, শক্তি কতটা?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
৩৭ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ: স্বস্তি কতটা, শক্তি কতটা?

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন পর একটি ইতিবাচক খবর—বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সর্বশেষ ২৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) BPM6 পদ্ধতিতে হিসাব করলে সেই রিজার্ভ ৩২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।

অঙ্কটি নিঃসন্দেহে স্বস্তির। কারণ রিজার্ভ কেবল একটি হিসাবের সংখ্যা নয়; এটি একটি দেশের বৈদেশিক লেনদেন সামলানোর সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। খাদ্য আমদানি, জ্বালানি কেনা, শিল্পের কাঁচামাল আনা, বিদেশি ঋণ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক দায় পরিশোধ—সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় বৈদেশিক মুদ্রা। তাই রিজার্ভ বাড়লে প্রথম স্বস্তিটা আসে ডলার নিয়ে। ডলারের সরবরাহ নিয়ে হঠাৎ বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমে। আমদানি বিল মেটানোর সক্ষমতা বাড়ে। ব্যাংকিং খাতেও বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফেরে।

কিন্তু এখানেই থেমে গেলে ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কারণ প্রশ্ন এখন শুধু ‘রিজার্ভ কত?’ নয়। প্রশ্ন হলো—‘রিজার্ভ কেন বাড়ছে, কতটা ব্যবহারযোগ্য এবং এই বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রা অর্থনীতির বাস্তব সংকট কতটা কমাতে পারবে?’

চার বছর পর ৩৭ বিলিয়নের ঘরে
বাংলাদেশের জন্য ৩৭ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের অঙ্কটি প্রতীকীও বটে। কয়েক বছর আগে এই পর্যায়ের রিজার্ভ ছিল স্বাভাবিক বাস্তবতা। এরপর বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, আমদানি ব্যয়, ডলার সংকট এবং রিজার্ভ ক্ষয়ের ধারায় পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে গ্রস রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়নে পৌঁছায়। জুলাই শেষে কিছুটা কমে ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন হলেও আগস্টে আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। অর্থাৎ এটি এক দিনের কোনো উল্লম্ফন নয়। কয়েক মাস ধরে রিজার্ভে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এখানেই বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব।

কারণ একসময় বাংলাদেশকে রিজার্ভ বাঁচাতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছিল। ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকগুলোতে এলসি খোলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ব্যবসায়ীদের আমদানি পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে হয়েছে। ডলারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে ফিরে আসা অবশ্যই বড় পরিবর্তন।

কিন্তু ৩৭ বিলিয়ন মানেই হাতে ৩৭ বিলিয়ন নয়
রিজার্ভ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুল বোঝাবুঝির জায়গাটি এখানেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস রিজার্ভের অঙ্ক এবং আইএমএফের BPM6 পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ এক নয়। ২৪ আগস্ট এই দুই অঙ্কের মধ্যে ব্যবধান ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। এর অর্থ এই নয় যে গ্রস রিজার্ভের ওই অংশ ‘নেই’। বরং আন্তর্জাতিক হিসাবপদ্ধতিতে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায়সহ কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যে পরিমাণকে তুলনামূলকভাবে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দেখা হয়, BPM6 সেই বাস্তবতাকে বেশি প্রতিফলিত করে।

তাই বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতা বিচার করতে শুধু বড় অঙ্কের গ্রস রিজার্ভ দেখলে হবে না। বরং দেখতে হবে—বাস্তবে কতটা বৈদেশিক মুদ্রা হাতে রেখে আমদানি, ঋণ পরিশোধ এবং সম্ভাব্য বৈদেশিক চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব। এখানেই ৩৭ বিলিয়নের উচ্ছ্বাসকে কিছুটা বাস্তবতার মাটিতে নামিয়ে আনা দরকার।

রিজার্ভ বাড়ছে কেন?
রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে দৃশ্যমান কারণগুলোর একটি হলো রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ৪৮ দিনে বাংলাদেশে ৪ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আগস্টের প্রথম ১৭ দিনেই এসেছে ১ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার—আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ রেমিট্যান্স সরাসরি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ায়। প্রবাসীরা বৈধ পথে বেশি অর্থ পাঠালে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের প্রবাহ বাড়ে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর ডলার সরবরাহের চাপ কমে এবং রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে শৃঙ্খলা ফেরার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে রিজার্ভ বৃদ্ধিকে কেবল ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা জমা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এর পেছনে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রবাহ এবং বাজারের পরিবর্তিত বাস্তবতাও রয়েছে।

তাহলে কি ডলার সংকট শেষ?
এখানেও উত্তর—পুরোপুরি নয়। রিজার্ভের উন্নতি ডলার সংকটের ঝুঁকি কমায়, কিন্তু অর্থনীতির বৈদেশিক মুদ্রার সব চাপ একসঙ্গে শেষ করে দেয় না। কারণ, বাংলাদেশের ডলারের প্রয়োজন অব্যাহত। খাদ্য, জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি—সবকিছুর জন্য আমদানি দরকার। আবার বিদেশি ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক দায়ও

পরিশোধ করতে হয়। অর্থাৎ রিজার্ভ বাড়ার পাশাপাশি যদি আমদানির চাহিদা দ্রুত বাড়ে, তাহলে রিজার্ভের ওপর চাপও বাড়তে পারে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। রিজার্ভ বাড়ছে—এটি ভালো খবর। কিন্তু সেই রিজার্ভ কত দ্রুত ব্যয় হচ্ছে, কেন ব্যয় হচ্ছে এবং ব্যয়ের বিপরীতে অর্থনীতিতে কতটা উৎপাদনশীল সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে—সেটিই দীর্ঘমেয়াদে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে রিজার্ভের ভূমিকা কোথায়?
এখন আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে—রিজার্ভ বাড়লে কি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দ্রুত কমবে? আংশিকভাবে হ্যাঁ, কিন্তু সরাসরি নয়।।বাংলাদেশ যদি পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা হাতে রাখতে পারে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি আমদানির বিল পরিশোধের সক্ষমতা বাড়ে। প্রয়োজনীয় এলসি খোলা সহজ হয়। জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আমদানিকারকদের ওপর ডলার সংকটের চাপ কমে। অর্থাৎ রিজার্ভ জ্বালানি সংকট সমাধানের আর্থিক সক্ষমতা তৈরি করতে পারে। কিন্তু রিজার্ভ নিজে গ্যাস উৎপাদন বাড়ায় না, বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা বাড়ায় না কিংবা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা দূর করে না।

এখানেই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের হাতে ডলার আছে—এটি একটি সক্ষমতা। কিন্তু সেই ডলার দিয়ে সময়মতো জ্বালানি আমদানি করা, বন্দর থেকে দ্রুত খালাস করা, বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো—এসব হলো নীতি ও ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন। তাই ৩৭ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভকে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের ‘সমাধান’ বলা যাবে না। বরং এটি সংকট মোকাবিলার জন্য একটি বড় আর্থিক বাফার তৈরি করে।

স্বস্তি আছে, তবে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই
রিজার্ভের বর্তমান অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। বিশেষ করে এমন একটি অর্থনীতির জন্য, যেখানে কিছুদিন আগেও ডলার সংকট ছিল, আমদানি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়েছিল এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ ছিল—সেখানে রিজার্ভের পুনরুদ্ধার আস্থার জায়গা তৈরি করে।।কিন্তু একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, রিজার্ভ কোনো দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়। রেমিট্যান্স বাড়ছে—এটি ভালো। রিজার্ভ বাড়ছে—এটিও ভালো। ডলারের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল হচ্ছে—এটিও স্বস্তির। কিন্তু এর সঙ্গে রপ্তানি, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যও শক্তিশালী হতে হবে। কারণ শুধু রিজার্ভ জমিয়ে একটি অর্থনীতি দীর্ঘদিন শক্তিশালী থাকে না। রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার পেছনে যে আয় ও উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক ভিত্তি থাকে, সেটিই শেষ পর্যন্ত টেকসই শক্তি তৈরি করে।

৩৭ বিলিয়ন এখন পরীক্ষা
তাই বাংলাদেশের জন্য ৩৭ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভকে সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায় একটি স্বস্তির মাইলফলক হিসেবে—চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে নয়। এই রিজার্ভ এখন সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কিছুটা বেশি নীতিগত জায়গা দিচ্ছে। জ্বালানি আমদানি, শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য ও প্রয়োজনীয় আমদানিতে ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করার সুযোগ বাড়ছে। কিন্তু আসল পরীক্ষা হবে সামনে। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ ধরে রাখা যায় কি না, রপ্তানি আয় বাড়ে কি না, আমদানি ব্যবস্থাপনা কতটা শৃঙ্খলিত থাকে এবং সবচেয়ে বড় কথা—এই বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রার সক্ষমতা অর্থনীতির উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে কতটা কাজে লাগানো যায়। কারণ রিজার্ভের অঙ্ক বড় হওয়া স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু সেই স্বস্তিকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করাই এখন বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ। ৩৭ বিলিয়ন ডলার তাই শেষ গন্তব্য নয়। এটি বরং একটি প্রশ্নের নতুন শুরু—বাংলাদেশ কি এবার রিজার্ভ শুধু বাড়াবে, নাকি সেই রিজার্ভের শক্তিতে অর্থনীতিকেও আরও শক্তিশালী করবে?

কালের আলো/এম/এএইচ

আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৩১ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৩১ আগস্ট

মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ের তারিখ পিছিয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রায় ঘোষণার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। আগামী ৩১ আগস্ট রায় ঘোষণা করা হবে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

এর আগে আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিন ধার্য করেছিলেন।

এর আগে গেল বুধবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিলের শুনানি শুরু হয়।

মামলার প্রধান আসামি শিশু আছিয়ার বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে ২০২৫ সালের ১৭ মে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।

একই রায়ে মামলার অপর তিন আসামি, আছিয়ার বোনের জামাই সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কোনো গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কোনো গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ (Stephen Rodriques) সৌজন্য সাক্ষাতের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় ইউএনডিপি বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করতে চায় বলে জানানো হয়।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, পুলিশের সামর্থ্য বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, আমরা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে চাই।

তিনি মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আপনি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন জেনে আমরা আনন্দিত। আপনি চাইলে আমরা এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে আগ্রহী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান।

বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জন্য ইউএনডিপির সহায়তার কথা উল্লেখ করে আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ক্যাম্প এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষা (যেমন- পাহাড় ধস প্রতিরোধ) এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইউএনডিপি কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্তমান অবকাঠামোর যথোপযুক্ত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন চাই, তবে বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে চাই না।

আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ইউএনডিপি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তি-সহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে।

মন্ত্রীও এ সময় পুলিশের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ইউএনডিপি’র সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধ প্রসঙ্গে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো কার্যকরভাবে রোধে আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিতে চাই, যাতে কোনো লঙ্ঘন ঘটলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা যায়।

মন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ইতোমধ্যে পাস হয়েছে। আপনারা এ আইনের সফল বাস্তবায়নে লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করতে পারেন।

প্রস্তাবিত মানবাধিকার কমিশন আইন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এটি পাস হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আইনটি প্রণয়নে ইউএনডিপি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন অংশীদার, পত্রিকার সম্পাদক ও আইনজীবী-সহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সামাজিক মনস্তত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতিকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আশা করা যায়, এটি একটি যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য আইন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সঠিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সবসময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি উদার ও ধর্মীয় সহনশীল দেশ এবং ইউএনডিপি এ ইতিবাচক ভাবমূর্তি বাস্তবায়নেও কাজ করতে আগ্রহী।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ