‘দ্য আইডাহো মার্ডারস’: চার শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ডের পেছনের সেই অজানা ‘কেন’
২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর মস্কোর একটি ভাড়া বাড়িতে ঘটে যায় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। ইউনিভার্সিটি অব আইডাহোর চার শিক্ষার্থী—ইথান চ্যাপিন, কেলি গনকালভেস, জ্যানা কার্নোডল ও ম্যাডিসন মোগেন—নৃশংসভাবে নিহত হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে থেমে যায় চার তরুণ-তরুণীর জীবন, আর এই ঘটনা নাড়িয়ে দেয় পুরো যুক্তরাষ্ট্রকে।
হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—খুনি কে এবং হত্যার উদ্দেশ্য কী? কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না, ছিল না স্পষ্ট কোনো সূত্র। তবে ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি ছুরির খাপ থেকে উদ্ধার হওয়া ডিএনএ নমুনা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ডিএনএ বিশ্লেষণ, একটি সাদা গাড়ির গতিবিধির ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের অবস্থান বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্তকারীরা পৌঁছান ব্রায়ান কোহবার্গারের কাছে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আদালতে চারটি হত্যার দায় স্বীকার করেন কোহবার্গার। তাঁকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে মামলার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কেন এই হত্যাকাণ্ড?—এর উত্তর এখনো অজানা। কারণ, কোহবার্গার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত না করে দোষ স্বীকার করায় তাঁর উদ্দেশ্য বা মানসিক অবস্থার বিস্তারিত বিশ্লেষণের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে নেটফ্লিক্সের তিন পর্বের তথ্যচিত্র ‘দ্য আইডাহো মার্ডারস: কলেজ নাইটমেয়ার’। ২৯ জুলাই মুক্তি পাওয়া এই তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে তদন্তের বিভিন্ন দিক, ভুক্তভোগীদের পরিবারের শোক এবং অপরাধীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন।
ব্রায়ান কোহবার্গার ছিলেন অপরাধবিদ্যার শিক্ষার্থী। তিনি ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ক্রিমিনোলজি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। তথ্যচিত্রে তাঁর সাবেক সহপাঠীরা জানান, সিরিয়াল কিলার ও অপরাধ নিয়ে আলোচনায় তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি অপরাধীদের মানসিকতা নিয়ে অনলাইন প্রশ্নাবলিও করেছিলেন।
তবে তদন্তকারীরা ও বিশেষজ্ঞরা যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন, সেগুলোর অনেকটাই অনুমাননির্ভর। আদালতে হত্যার উদ্দেশ্য হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট কারণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তথ্যচিত্রে কোহবার্গারের আচরণ নিয়ে কিছু অভিযোগও উঠে এসেছে। কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী তাঁর আচরণে অস্বস্তি বোধ করার কথা জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগও হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হিসেবে আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
বিচার শেষ হলেও নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলোর কষ্ট শেষ হয়নি। কেউ কেউ মনে করেন, মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল। আবার কেউ মনে করেন, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার চেয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি পরিবারকে মানসিকভাবে সামলে উঠতে সহায়তা করেছে।
পরবর্তীতে কারাগার থেকে কোহবার্গার নিজের নির্দোষ দাবি করেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের উদ্যোগ নেন। তবে আদালতের সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে।
‘দ্য আইডাহো মার্ডারস: কলেজ নাইটমেয়ার’ শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের গল্প নয়; এটি একটি অপরাধের তদন্ত, বিচারব্যবস্থা, শোকাহত পরিবার এবং মানুষের অজানা মনস্তত্ত্বের গল্প। কারণ খুনি শনাক্ত হলেও সবচেয়ে বড় প্রশ্নটির উত্তর এখনো অধরা—কেন?
কালের আলো/এসএ


আপনার মতামত লিখুন
Array