চলচ্চিত্রকে টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন: জহির উদ্দিন স্বপন
চলচ্চিত্রকে টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মধুমিতা সিনেমা হলে চলচ্চিত্র উৎসব ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের চলচ্চিত্রশিল্প এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একসময় দেশে প্রায় ৮৪০ থেকে ৮৫০টি সিনেমা হল ছিল।
এখন দর্শক যায় এমন সিনেমা হলের সংখ্যা কমে প্রায় ১১৪টিতে নেমে এসেছে। মধুমিতা সিনেমা হলও এখন মূলত দুই ঈদে বেশি সক্রিয় থাকে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন তিনি।
চলচ্চিত্রের এই সংকটের পেছনে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, রেডিও, ট্রানজিস্টর, ক্যামেরা, ক্যাসেট প্লেয়ার ও সিডির মতো একসময়কার জনপ্রিয় উপকরণ এখন অনেকটাই ইতিহাসের অংশ। একটি মোবাইল ফোনেই এখন সিনেমা দেখা, গান শোনা, ছবি তোলা ও ভিডিও করা যায়। এই পরিবর্তন মানুষের বিনোদনের ধরন ও মনোজগতেও পরিবর্তন এনেছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দর্শকের এই পরিবর্তিত মনোজগত বুঝতে না পারলে শুধু ঈদ বা কোরবানির সময় সিনেমা হলে দর্শক আসবে। তাই নির্মাতাদের নতুন দর্শক এবং ডিজিটাল বাজারকে বুঝতে হবে।
তিনি বলেন, এখন বিনোদন কনটেন্টের বড় বাজার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসে চলচ্চিত্র ও অন্যান্য কনটেন্ট পৌঁছে দিতে পারলে দর্শক নিজের ডিজিটাল ডিভাইসে তা দেখতে পারবেন এবং ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে নির্মাতারাও অর্থ পাবেন। এতে চলচ্চিত্রের আয়ের সুযোগ প্রচলিত সিনেমা হলনির্ভর ব্যবস্থার তুলনায় অনেক বাড়তে পারে।
চলচ্চিত্রশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, উদ্যোক্তা, নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীদের দায়িত্ব শুধু তাঁদের নিজেদের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না। এই খাতের জন্য রাষ্ট্রকে নীতিগত সহায়তা দিতে হবে।
তিনি বলেন, চলচ্চিত্র এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবপ্রেম ও কল্যাণবোধ তৈরি করা সম্ভব। এ কারণে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ধরে রাখতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে।
অনুষ্ঠানে গুণী শিল্পীদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করেন জহির উদ্দিন স্বপন। নিজের কৈশোর ও তারুণ্যের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, যাঁদের সিনেমা দেখে ও গান শুনে একটি প্রজন্মের রুচি ও সংস্কৃতিবোধ তৈরি হয়েছে, তাঁদের সামনে উপস্থিত হতে পারা এবং সম্মান জানাতে পারা তাঁর জন্য বিরল সুযোগ।
তিনি বিশেষভাবে কিংবদন্তি শিল্পীদের মধ্যে সুজাতা, আজিম ও সুচন্দার নাম উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে যেসব গুণী শিল্পী এরই মধ্যে প্রয়াত হয়েছেন, তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, অভিনেতা আব্দুল আজিজ, অভিনেত্রী দিলারা জামান এবং সিনেমা হল মালিক সমিতির সভাপতি ও মধুমিতা হলের মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ।
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আপনার মতামত লিখুন
Array