দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মুকলেসুরের পাশে দাঁড়াচ্ছেন খায়রুল বাসার
দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও জীবনযুদ্ধ থামিয়ে দেননি মুকলেসুর রহমান। নিজের শ্রমে উপার্জন করে বৃদ্ধ মায়ের মুখে খাবার তুলে দিতে প্রতিদিন সংগ্রাম করে চলেছেন তিনি। গাছের ছাল ছাড়িয়ে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই কোনোভাবে চলছে তাঁদের সংসার।
সম্প্রতি একটি সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে আসে মুকলেসুরের এই কঠিন সংগ্রামের গল্প। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। তাঁর জীবনসংগ্রাম অনেকের হৃদয় স্পর্শ করে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসারও।
মুকলেসুরকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে খায়রুল বাসার লেখেন, “মুকলেসুর রহমান আমার ভাই। আমি প্রতি মাসে অল্প করে হলেও আমার পরিবারের দায়িত্ব নিতে চাই। কেউ আমাকে এই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।”
অভিনেতার এই মানবিক ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার ঢল নেমেছে। অনেকেই তাঁর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন মানসিকতাকে অনুসরণীয় বলে মন্তব্য করেছেন।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে মুকলেসুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন খায়রুল বাসার। দেশে ফিরেই তিনি মুকলেসুর ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সরাসরি দেখা করবেন এবং তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে খায়রুল বাসারের ভূমিকা নতুন নয়। বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত উদ্যোগে নানা মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের কবর খননকারী মনু মিয়ার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ঘোড়াটি হত্যার ঘটনায়ও তিনি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। মনু মিয়ার জন্য নতুন একটি ঘোড়া কিনে দেওয়ার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছিলেন এই অভিনেতা।
মুকলেসুর রহমানের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগও সমাজে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। অনেকের প্রত্যাশা, খায়রুল বাসারের এ উদ্যোগ অন্যদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।
কালের আলো/এসএ


আপনার মতামত লিখুন
Array