খুঁজুন
                               
, ,
           

লোডশেডিং সামলাতে বিকল্প খুঁজছে সরকার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
লোডশেডিং সামলাতে বিকল্প খুঁজছে সরকার

দেশের বিদ্যুৎ খাত যেন একসঙ্গে কয়েকটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা যেখানে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট, সেখানে চাহিদার তুলনায় কয়েক হাজার মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে। ফলে রাজধানী থেকে গ্রাম—সবখানেই বাড়ছে লোডশেডিং। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, এত বিপুল সক্ষমতা থাকার পরও কেন বিদ্যুতের এই হাহাকার? এর উত্তর মিলছে উৎপাদন সক্ষমতা ও বাস্তব উৎপাদনের ব্যবধানেই। দেশের ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে সম্প্রতি ৬২টির উৎপাদন কোনো না কোনোভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ। ফলে কাগজে থাকা সক্ষমতার বড় একটি অংশ বাস্তবে কাজে লাগছে না। এক দিন দিনের বেলায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াটে। এর আগে আগস্টে তা উঠেছিল ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে।

বড় ধাক্কা কয়লায়
বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক বড় কারণগুলোর একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পটুয়াখালীর ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ। এতে এক ধাক্কায় প্রায় ৬৬০ মেগাওয়াট উৎপাদন কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুধু পায়রা নয়, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ। বড়পুকুরিয়ার দুটি ইউনিটেও দেখা দিয়েছে কারিগরি সমস্যা। ফলে দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থার যে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোকে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য ‘বেসলোড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেগুলোই এখন একসঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়েছে। দেশের কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু সম্প্রতি এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে। অর্থাৎ সংকটটি শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভাব নয়; বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোকে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখার সক্ষমতারও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আদানিতেও ভরসা মিলছে না
কয়লার এই সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের ঘাটতি। বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎস ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটি মূলত বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্মিত। কিন্তু কয়লা সরবরাহে সমস্যার কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে সেখানকার উৎপাদন কমেছে। দিনে বাংলাদেশ পাচ্ছে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ সক্ষমতার তুলনায় কয়েকশ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ আসছে। পায়রার একটি ইউনিট বন্ধ এবং আদানির সরবরাহ কমে যাওয়া একই সময়ে ঘটায় জাতীয় গ্রিডে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলামও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

সবচেয়ে বড় দুর্বলতা গ্যাসে
তবে বর্তমান সংকটের গভীরে রয়েছে গ্যাসের ঘাটতি। দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু গ্যাসের অভাবে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এখানেই বিদ্যুৎ খাতের সংকটের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্যটি সামনে আসে—বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, উৎপাদনের সক্ষমতাও আছে; নেই পর্যাপ্ত জ্বালানি। পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেশীয় গ্যাস ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঘাটতি আরও বেড়েছে। মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর সরবরাহে যে ধাক্কা লাগে, তার প্রভাবও পুরোপুরি কাটেনি। ফলে গ্যাসের সংকট এখন শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নেই। শিল্প, সার কারখানা, পরিবহন ও আবাসিক গ্রাহকরাও এর প্রভাব অনুভব করছেন।

শেষ ভরসা তেল হলেও সেটিও অনিশ্চিত
কয়লা ও গ্যাস—দুই উৎসেই যখন উৎপাদন কমছে, তখন সরকারের সামনে সবচেয়ে দ্রুত কার্যকর করা যায় এমন বিকল্প হয়ে উঠেছে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। উচ্চপর্যায় থেকে এসব কেন্দ্রে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট এবং দিনে দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই সমাধানেরও বড় মূল্য আছে। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কয়লা বা গ্যাসের তুলনায় ব্যয়বহুল। তার ওপর অন্তত ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতির তথ্য রয়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী সব কেন্দ্র চালানোও সম্ভব হচ্ছে না। অর্থাৎ সরকার এখন অনেকটা ‘আগুন নেভানোর’ নীতিতে চলছে—যেখানে যে উৎসটি সাময়িকভাবে চালু করা সম্ভব, সেটি দিয়েই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা হচ্ছে। এতে হয়তো তাৎক্ষণিক লোডশেডিং কিছুটা কমানো যাবে, কিন্তু বাড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ।

লোডশেডিংয়ের বড় বোঝা গ্রামাঞ্চলে
সংকটের সবচেয়ে বড় সামাজিক প্রভাব পড়ছে গ্রামাঞ্চলে। ঢাকায় লোডশেডিং শুরু হওয়ার আগে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বাইরের এলাকাগুলোয় সরবরাহ কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংকট তীব্র হওয়ায় গত ১২ আগস্ট থেকে ঢাকাতেও পরিকল্পিত লোডশেডিং শুরু করতে হয়েছে। বাস্তবে অনেক এলাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার চিত্র আরও উদ্বেগজনক। একপর্যায়ে সারা দেশে ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের মধ্যে ২ হাজার ৪৭০ মেগাওয়াটই ছিল পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায়। অর্থাৎ বিদ্যুৎ ঘাটতি সামলানোর বড় দায়িত্ব কার্যত গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকদের ওপরই চাপছে।

বিকল্প আছে, কিন্তু নেই সহজ সমাধান
সরকার এখন চারটি পথে এগোতে চাইছে—তেলচালিত কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানো, দ্রুত এলএনজি আমদানি ও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, ত্রুটিতে বন্ধ কয়লাভিত্তিক ইউনিট দ্রুত মেরামত এবং ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানো। কিন্তু চারটি পথের প্রতিটিতেই রয়েছে আলাদা ঝুঁকি। বেশি তেল মানে বেশি খরচ, বেশি এলএনজি মানে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, কয়লা মানে সরবরাহ ও কারিগরি ঝুঁকি, আর আমদানি করা বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানে জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন প্রশ্ন। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে সংকট তৈরি করছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, দ্রুত ৯ থেকে ১০টি বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর চেষ্টা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে বর্তমান সংকটের চরিত্র আরও গভীর। এটি কোনো একটি কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার ফল নয়; বরং গ্যাস, কয়লা, তেল, আমদানি করা বিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ব্যবস্থাপনায় একসঙ্গে তৈরি হওয়া দুর্বলতার ফল।

কালের আলো/এম/এএইচ

ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ৫ ট্রান্সফার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ৫ ট্রান্সফার

ফুটবলের ট্রান্সফার বাজারে অর্থের অঙ্ক দিন দিনই বাড়ছে। একেকটি দলবদলে খরচ হচ্ছে শত শত মিলিয়ন ইউরো। বড় অঙ্কের এসব চুক্তির কোনোটি এনে দিয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাফল্য, আবার কোনোটি পরিণত হয়েছে হতাশার প্রতীকে।

সর্বকালের সবচেয়ে দামি পাঁচ ট্রান্সফারের তালিকায় রয়েছেন নেইমার, কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, আলেক্সান্ডার ইসাক ও ব্র্যাডলি বারকোলা।

৫. ব্র্যাডলি বারকোলা — পিএসজি থেকে লিভারপুল (€১৪০ মিলিয়ন)

মোহামেদ সালাহর বিদায়ের পর ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে আক্রমণভাগ শক্তিশালী করার প্রয়োজন পড়ে লিভারপুলের। সরাসরি সালাহর বিকল্প না খুঁজে আক্রমণভাগে আরও বিকল্প তৈরি করার পরিকল্পনা নেয় তারা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পিএসজি থেকে ব্র্যাডলি বারকোলাকে দলে ভেড়ায় ইংলিশ ক্লাবটি।

২৩ বছর বয়সী বারকোলা পিএসজির টানা দুই চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী দলের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। গতি, ড্রিবলিং এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দেওয়ার দক্ষতার কারণে লিভারপুলের নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলার আক্রমণাত্মক কৌশলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

৪. আলেক্সান্ডার ইসাক — নিউক্যাসল থেকে লিভারপুল (€১৪৫ মিলিয়ন)

গ্রীষ্মের দলবদলের শেষ দিনে আলেক্সান্ডার ইসাককে দলে এনে নতুন ব্রিটিশ ট্রান্সফার রেকর্ড গড়ে লিভারপুল। নিউক্যাসল ইউনাইটেড নিজেদের দাবিতে অনড় থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে সুইডিশ স্ট্রাইকারকে ছাড়তে রাজি হয়।

নিউক্যাসলের হয়ে দুই দুর্দান্ত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ৪৪ গোল করেছিলেন ইসাক। তাঁর নিখুঁত ফিনিশিং ও গোল করার দক্ষতার কারণে কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরির সঙ্গেও তুলনা করা হয়েছে তাঁকে।

তবে লিভারপুলে তাঁর শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি। ডিসেম্বরেই পা ভেঙে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে চলে যান এই স্ট্রাইকার।

৩. উসমান দেম্বেলে — বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে বার্সেলোনা (€১৪৮ মিলিয়ন)

২০১৭ সালে উসমান দেম্বেলেকে দলে নিয়ে বড় অঙ্কের ঝুঁকি নিয়েছিল বার্সেলোনা। তখনই তাঁর মধ্যে বিশ্বসেরা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ক্যাম্প ন্যুতে ছয় বছরের অধ্যায়ে বারবার চোট ও ফিটনেস সমস্যায় সেই সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটেনি।

শেষ পর্যন্ত তাঁকে পিএসজির কাছে ছেড়ে দেয় বার্সেলোনা। প্যারিসে গিয়ে অবশ্য বদলে যায় দেম্বেলের ক্যারিয়ারের গল্প। লুইস এনরিকের অধীনে দুই পায়েই সমান দক্ষ এই উইঙ্গারকে আরও বহুমুখী সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

পরবর্তীতে ব্যালন ডি’অর জিতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন দেম্বেলে। ফলে ২০১৭ সালে তাঁকে নিয়ে বার্সেলোনার বড় অঙ্কের বিনিয়োগ পুরোপুরি ভুল ছিল—এমনটা বলার সুযোগ নেই।

২. কিলিয়ান এমবাপ্পে — মোনাকো থেকে পিএসজি (€১৮০ মিলিয়ন)

একজন খেলোয়াড়ের পেছনে ১৮০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করা যে কোনো ক্লাবের জন্যই বড় ঝুঁকি। তবে কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্ষেত্রে পিএসজির সেই বিনিয়োগকে ব্যর্থ বলা কঠিন।

২০১৭ সালে মোনাকো থেকে প্যারিসে যাওয়ার পর সাত বছর পিএসজির জার্সিতে খেলেছেন এমবাপ্পে। এই সময়ে ৩০৮ ম্যাচে করেছেন ২৫৬ গোল। এর মাধ্যমে ক্লাবটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও দখল করেন ফরাসি তারকা।

পিএসজিতে থাকা সময়ে একটি মৌসুম ছাড়া প্রতিবারই লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিততে না পারলেও ঘরোয়া ফুটবলে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন তিনি এবং পিএসজির হয়ে জিতেছেন ১৬টি ট্রফি।

১. নেইমার — বার্সেলোনা থেকে পিএসজি (€২২২ মিলিয়ন)

ফুটবলের ট্রান্সফার বাজারের চেহারাই বদলে দেওয়া চুক্তি। ২০১৭ সালে বার্সেলোনা থেকে নেইমারকে €২২২ মিলিয়নে দলে নেয় পিএসজি। আজও এটিই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ট্রান্সফার।

বার্সেলোনায় থাকতেই চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা নেইমার প্যারিসে গিয়ে হয়ে ওঠেন পিএসজির সবচেয়ে বড় তারকা। কিন্তু বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত সাফল্য পুরোপুরি এনে দিতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

চোটের কারণে বারবার মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। সবচেয়ে বড় আক্ষেপ, পিএসজিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে পারেননি নেইমার। ২০২০ সালে দলটি ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি।

ফলে €২২২ মিলিয়নের নেইমার-চুক্তি শুধু ফুটবলের সবচেয়ে দামি দলবদলই নয়, একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ‘যদি’ তৈরি করা ট্রান্সফারগুলোরও একটি।

কালের আলো/এসএ

বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আছে: জাহেদ উর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আছে: জাহেদ উর রহমান

নতুন জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হলে দেশে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের সবার বেতন দ্বিগুণ হবে—বিষয়টি এমন নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন পে-স্কেলের কারণে বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতির কিছুটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নতুন বেতনস্কেল না হওয়ায় অনেক সরকারি কর্মচারীর বেতন নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে নতুন স্কেলের কাছাকাছি চলে গেছে। ফলে নতুন স্কেল কার্যকর হলেও অনেকের বেতন প্রত্যাশিত হারে বাড়বে না।

‘নতুন স্কেলে বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে’—এমন তথ্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এতে সবার বেতন দ্বিগুণ হওয়ার ধারণা তৈরি হতে পারে। বাস্তবে অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মচারী ইতোমধ্যে নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের কারণে নতুন স্কেলের কাছাকাছি বেতন পাচ্ছেন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক তার নীতিগত বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করবে। পাশাপাশি সরকারও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেবে।

মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, বছরের শেষ নাগাদ ৪০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। গড়ে পাঁচজন সদস্য হিসেবে প্রায় দুই কোটি মানুষ এ কর্মসূচির আওতায় আসবেন।

এ ছাড়া খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি, ওএমএস ও টিসিবির পণ্য বিক্রির আওতা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিদ্যুতের সংকট কমে এলে বিনিয়োগ বাড়বে। এর ফলে মানুষের দুর্ভোগও কমে আসবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

‘সিনেমা আমার কাছে পবিত্র জায়গা’: পপি

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ণ
‘সিনেমা আমার কাছে পবিত্র জায়গা’: পপি

সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যকে ঘিরে আলোচনায় আসা ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি এবার সিনেমার প্রতি নিজের ভালোবাসা ও আবেগের কথা জানিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

পপি বলেন, চলচ্চিত্র তাঁর কাছে শুধুই অভিনয় বা পেশার জায়গা নয়; বরং এটি সম্মান, ভালোবাসা ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি ক্ষেত্র। দীর্ঘদিনের পথচলায় সিনেমার সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

অভিনেত্রীর মতে, একজন শিল্পীর জীবনে সিনেমার গুরুত্ব অনেক গভীর। অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার পাশাপাশি চলচ্চিত্রকে ভালোবাসা ও সম্মানের জায়গা হিসেবেই দেখেন তিনি।

সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হলেও নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় পপি চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর ভাষায়, সিনেমা তাঁর কাছে অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আলাদা এবং অত্যন্ত পবিত্র একটি জায়গা।

ঢাকাই চলচ্চিত্রে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পপি একাধিক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় থেকে অনেকটা আড়ালে থাকলেও তাঁকে ঘিরে দর্শক ও বিনোদন অঙ্গনে আগ্রহ এখনও রয়েছে।

ব্যক্তিজীবন ও বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে মাঝেমধ্যেই আলোচনায় আসা পপি এবার তাঁর কথায় চলচ্চিত্রের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বিষয়টিই সামনে আনলেন।

কালের আলো/এসএ