খুঁজুন
                               
, ,
           

ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলার শিকার ইহুদি কর্মীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলার শিকার ইহুদি কর্মীরা

ইহুদি ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতে পশ্চিম তীরের (West Bank) বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন একদল ইসরায়েলি অধিকারকর্মী। তবে ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় কাজ করতে গিয়ে এবার উগ্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন তারা।

সম্প্রতি পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের কাছে জান্নাতাহ এলাকায় প্রায় ৩০ জন ইসরায়েলি কর্মী ফিলিস্তিনি একটি পরিবারের বাড়ির চারপাশে সুরক্ষা বেড়া নির্মাণ এবং তাদের চলাচলের রাস্তা থেকে প্রতিবন্ধকতা সরাতে যান। এ সময় বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। হামলায় অন্তত পাঁচজন কর্মী আহত হন। হামলাকারীরা পাথর নিক্ষেপ ও পিপার স্প্রে ব্যবহারের পাশাপাশি লাঠি দিয়েও আঘাত করে বলে কর্মীদের অভিযোগ। ঘটনাস্থলে থাকা একজন এএফপি সাংবাদিকও আহত হন।

কর্মী জিভা শার্প বলেন, মানবিক ও অহিংস ইহুদি ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকেই তিনি এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। তার ভাষায়, ইহুদি ধর্ম মানুষকে সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার ও করুণার পথে চলার শিক্ষা দেয়। সেই বিশ্বাস থেকেই ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সহিংসতার ক্ষতি যতটা সম্ভব কমাতে চান তিনি।

জান্নাতাহ এলাকায় তারা যে ফারাজ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছিলেন, ওই পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ ফারাজ মার্চে বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন বলে তার ভাই হাসান জানান। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

কর্মীদের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি পরিবারের ব্যক্তিগত জমিতে বসতিস্থাপনকারীরা একটি অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছে। ওই স্থাপনাটি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ৬৪ বার সরিয়ে দিলেও প্রতিবারই তা পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

এই কর্মীদের অনেকেই ‘বনি আব্রাহাম’ (Children of Abraham) নামের একটি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। ধর্মীয় ইহুদিদের এই সংগঠনটি প্রায় চার বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির সদস্যদের মতে, ফিলিস্তিনিদের ওপর অন্যায় ও সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব।

আভিশাই লিস নামের এক কর্মী বলেন, একজন ইহুদি ও জায়নবাদী হিসেবে পশ্চিম তীরে যা ঘটছে তা তার কাছে ইহুদি মূল্যবোধ বা নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই তিনি ফিলিস্তিনি জনগণ ও তাদের বাড়িঘর রক্ষায় কাজ করছেন।

পশ্চিম তীরে বর্তমানে পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করছে এবং সেখানে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি রয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্মীয় বিশ্বাসকে ঘিরে ইসরায়েলি সমাজের ভেতরের এই মতপার্থক্যও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদল ইহুদি ধর্মীয় মূল্যবোধের ব্যাখ্যা হিসেবে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষাকে দেখছেন, অন্যদিকে উগ্র বসতিস্থাপনকারীরা একই ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে ফিলিস্তিনি ভূমিতে নিজেদের উপস্থিতি বিস্তারের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।  

কালের আলো/এসএ

 

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ​ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

​সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের পেশাগত সক্ষমতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি), ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) এবং সৌদি আরবের শীর্ষ সামরিক একাডেমিগুলোর মধ্যে উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও কোর্স বিনিময় আরো জোরদার করার ব্যাপারে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

​প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি মানবিক সংকট মোকাবেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের যৌথ অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের বিষয়ে উভয় পক্ষ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নিয়মিত সফর বিনিময়ের মাধ্যমে বিদ্যমান কৌশলগত ও সামরিক অংশীদারিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

​সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারি ও সামগ্রিক সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বিগত বছরগুলোতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতির জন্য রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান এবং আগামী দিনগুলোতে এই সম্পর্ক আরো নিবিড় ও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

নতুন অ্যালবাম নিয়ে ফিরছে স্পিরিচুয়াল, শুরু ‘দুঃস্বপ্ন’ দিয়ে

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
নতুন অ্যালবাম নিয়ে ফিরছে স্পিরিচুয়াল, শুরু ‘দুঃস্বপ্ন’ দিয়ে

দীর্ঘদিনের সংগীতচর্চার পর নতুন অ্যালবাম নিয়ে শ্রোতাদের সামনে ফিরছে ব্যান্ড স্পিরিচুয়াল। ‘পেছনের গল্প’ শিরোনামের অ্যালবামটি সাজানো হয়েছে মোট আটটি গান দিয়ে।

তবে প্রচলিত নিয়মে একসঙ্গে পুরো অ্যালবাম প্রকাশ না করে এবার ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে ব্যান্ডটি। পর্যায়ক্রমে একটি করে গান প্রকাশের মাধ্যমে ধীরে ধীরে শ্রোতাদের সামনে উন্মোচিত হবে ‘পেছনের গল্প’-এর প্রতিটি অধ্যায়।

এই যাত্রার শুরু হচ্ছে ‘দুঃস্বপ্ন’ গান দিয়ে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর মিউজিক ভিডিওসহ গানটি প্রকাশ করা হবে। এর মধ্য দিয়েই স্পিরিচুয়ালের নতুন সংগীত অধ্যায়ের সূচনা হবে।

‘দুঃস্বপ্ন’ প্রকাশের পর অ্যালবামের বাকি গানগুলোও পর্যায়ক্রমে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যান্ডটির লক্ষ্য, ২০২৬ সালের মধ্যেই ‘পেছনের গল্প’-এর আটটি গান শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

প্রতিটি গানকে আলাদাভাবে শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনায় অ্যালবামটি শুধু গানের সংকলন নয়, বরং ধাপে ধাপে উন্মোচিত একটি পূর্ণাঙ্গ সংগীতকাহিনি হয়ে উঠবে বলে মনে করছে স্পিরিচুয়াল।

ব্যান্ডটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি গান প্রকাশের পর সেটি নিয়ে শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া ও অনুভূতি জানার সুযোগ থাকবে। সেই আবহ ও প্রতিক্রিয়াকে সঙ্গে নিয়েই পরবর্তী গান প্রকাশ করা হবে। এভাবেই একে একে পূর্ণতা পাবে পুরো অ্যালবাম।

দীর্ঘ সংগীতযাত্রায় অর্জিত অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও নতুন সৃষ্টিকে আরও পরিণতভাবে শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরতেই এই আয়োজন বলে জানিয়েছে ব্যান্ডটি।

‘পেছনের গল্প’ অ্যালবামের গানগুলো স্পিরিচুয়ালের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল ছাড়াও স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিক, আইটিউনস, অ্যামাজন মিউজিক ও ইউটিউব মিউজিকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ

২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ঘোষণা আনুষ্ঠানিক নয়: মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ঘোষণা আনুষ্ঠানিক নয়: মালয়েশিয়া

আগামী ছয় মাসে প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের যে বক্তব্য বাংলাদেশের এক প্রতিমন্ত্রী দিয়েছেন, সেটি মালয়েশিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির সরকারি মুখপাত্র দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল।

সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ফাহমি ফাদজিল বলেন, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানানের সঙ্গে তার এ বিষয়ে কথা হয়েছে। মানবসম্পদমন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন, ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বক্তব্যটি একজন জুনিয়র মন্ত্রীর দেওয়া। তাই এটিকে মালয়েশিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

এর আগে মঙ্গলবার বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, আগামী ছয় মাসে মালয়েশিয়া প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এসব কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধাপে ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে তা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে গত জুন মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

শ্রমিক শোষণ, ঋণের দায়ে জিম্মি করে রাখা, জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা এবং প্রতিশ্রুত চাকরি ছাড়া কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর মতো অভিযোগের পর ২০২৪ সালে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল মালয়েশিয়া।

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, দেশটি বর্তমানে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির মোট শ্রমশক্তিতে বিদেশি কর্মীর অংশ প্রায় ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা।

এ অবস্থায় আগামী ছয় মাসে ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি হলেও মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এমন কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসেনি।

কালের আলো/এসএ