হায়দরাবাদে ভোটার তালিকা থেকে বাদ ১৯ লাখের বেশি, ৪০.৭ শতাংশই মুসলিম
হায়দরাবাদের ১৫টি বিধানসভা আসনে ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচির পর খসড়া তালিকা থেকে ১৯ লাখ ৪১ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সাবাড় ইনস্টিটিউট’-এর প্রাথমিক এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
সাবির আহমেদ, সৌপ্তিক হালদার ও আশিন চক্রবর্তীর পরিচালিত ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ মুসলিম নামধারী। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন ধর্মভিত্তিক ভোটারের সরকারি তথ্য প্রকাশ করে না। ফলে ভোটারদের নামের ভিত্তিতে এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।
সমীক্ষায় আরও দাবি করা হয়েছে, তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের ৯২ শতাংশই জীবিত। তাদের মধ্যে ৬৯ দশমিক ৩ শতাংশের ক্ষেত্রে ‘স্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন’ এবং ১৭ দশমিক ৭ শতাংশের ক্ষেত্রে ‘অনুপস্থিত বা সন্ধানহীন’ হিসেবে কারণ দেখানো হয়েছে।
প্রতিটি পোলিং বুথ থেকে গড়ে ৫০০-এর বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়। ইয়াকুতপুরা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৯৭ নম্বর বুথে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৩৫ জন নারী এবং ৫২৭ জন জীবিত বলে সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ইয়াকুতপুরা ও মালাকপেট আসনে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ওই দুই আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের চেয়েও বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
মালাকপেটে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ২০২৩ সালের মোট প্রদত্ত ভোটের ১১২ শতাংশ এবং ইয়াকুতপুরায় ১১০ শতাংশের সমান বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। দুটি আসনই অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) দখলে রয়েছে।
১৫টি আসনে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে মুসলিম নামধারীদের হার সবচেয়ে বেশি বাহাদুরপুরায়—৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ। বিপরীতে সিকান্দারাবাদ ক্যান্টনমেন্টে এ হার ১২ দশমিক ১ শতাংশ।
বাদ পড়া মুসলিম নামধারী ভোটারদের মধ্যে ৬৩ দশমিক ৮ শতাংশকে ‘স্থানান্তরিত’ এবং ১৯ দশমিক ৮ শতাংশকে ‘অনুপস্থিত বা সন্ধানহীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এদিকে, বাদ পড়া মোট ভোটারের মধ্যে নারী ৯ লাখ ২৮ হাজার। অর্থাৎ মোট বাদ পড়া ভোটারের প্রায় ৪৭ দশমিক ৮ শতাংশই নারী।
শুধু হায়দরাবাদ নয়, পুরো তেলেঙ্গানা রাজ্যেই ভোটার তালিকা সংশোধনের বড় প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশোধিত খসড়া তালিকা থেকে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ২১ দশমিক ৭ শতাংশ।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৯ লাখ ২২ হাজারকে মৃত, ১১ লাখ ২৫ হাজারকে অনুপস্থিত, ৪৫ লাখ ১৮ হাজারকে স্থানান্তরিত এবং ৬ লাখ ৭০ হাজারকে একাধিক স্থানে নিবন্ধিত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভোটাধিকার হারিয়েছেন—এমন নয়। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকে। ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array