খুঁজুন
                               
, ,
           

হায়দরাবাদে ভোটার তালিকা থেকে বাদ ১৯ লাখের বেশি, ৪০.৭ শতাংশই মুসলিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
হায়দরাবাদে ভোটার তালিকা থেকে বাদ ১৯ লাখের বেশি, ৪০.৭ শতাংশই মুসলিম

হায়দরাবাদের ১৫টি বিধানসভা আসনে ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচির পর খসড়া তালিকা থেকে ১৯ লাখ ৪১ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সাবাড় ইনস্টিটিউট’-এর প্রাথমিক এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

সাবির আহমেদ, সৌপ্তিক হালদার ও আশিন চক্রবর্তীর পরিচালিত ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ মুসলিম নামধারী। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন ধর্মভিত্তিক ভোটারের সরকারি তথ্য প্রকাশ করে না। ফলে ভোটারদের নামের ভিত্তিতে এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।

সমীক্ষায় আরও দাবি করা হয়েছে, তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের ৯২ শতাংশই জীবিত। তাদের মধ্যে ৬৯ দশমিক ৩ শতাংশের ক্ষেত্রে ‘স্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন’ এবং ১৭ দশমিক ৭ শতাংশের ক্ষেত্রে ‘অনুপস্থিত বা সন্ধানহীন’ হিসেবে কারণ দেখানো হয়েছে।

প্রতিটি পোলিং বুথ থেকে গড়ে ৫০০-এর বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়। ইয়াকুতপুরা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৯৭ নম্বর বুথে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৩৫ জন নারী এবং ৫২৭ জন জীবিত বলে সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ইয়াকুতপুরা ও মালাকপেট আসনে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ওই দুই আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের চেয়েও বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

মালাকপেটে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ২০২৩ সালের মোট প্রদত্ত ভোটের ১১২ শতাংশ এবং ইয়াকুতপুরায় ১১০ শতাংশের সমান বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। দুটি আসনই অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) দখলে রয়েছে।

১৫টি আসনে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে মুসলিম নামধারীদের হার সবচেয়ে বেশি বাহাদুরপুরায়—৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ। বিপরীতে সিকান্দারাবাদ ক্যান্টনমেন্টে এ হার ১২ দশমিক ১ শতাংশ।

বাদ পড়া মুসলিম নামধারী ভোটারদের মধ্যে ৬৩ দশমিক ৮ শতাংশকে ‘স্থানান্তরিত’ এবং ১৯ দশমিক ৮ শতাংশকে ‘অনুপস্থিত বা সন্ধানহীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে, বাদ পড়া মোট ভোটারের মধ্যে নারী ৯ লাখ ২৮ হাজার। অর্থাৎ মোট বাদ পড়া ভোটারের প্রায় ৪৭ দশমিক ৮ শতাংশই নারী।

শুধু হায়দরাবাদ নয়, পুরো তেলেঙ্গানা রাজ্যেই ভোটার তালিকা সংশোধনের বড় প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশোধিত খসড়া তালিকা থেকে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ২১ দশমিক ৭ শতাংশ।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৯ লাখ ২২ হাজারকে মৃত, ১১ লাখ ২৫ হাজারকে অনুপস্থিত, ৪৫ লাখ ১৮ হাজারকে স্থানান্তরিত এবং ৬ লাখ ৭০ হাজারকে একাধিক স্থানে নিবন্ধিত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভোটাধিকার হারিয়েছেন—এমন নয়। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকে। ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

কালের আলো/এসএ

উল্টোপথে মন্ত্রীর গাড়ি, দুই মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
উল্টোপথে মন্ত্রীর গাড়ি, দুই মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা

রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে উল্টোপথে চলার সময় এক মন্ত্রীর পতাকাবাহী গাড়ি থামিয়ে দুটি মামলা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। এ ঘটনায় মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৮ মিনিটের দিকে সার্কিট হাউস সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ট্রাফিক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, মন্ত্রীর পতাকাবাহী রেঞ্জ রোভার গাড়িটি উল্টোপথে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ট্রাফিক পুলিশ গাড়িটি থামিয়ে দেয়। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৮-২১২৫।

উল্টোপথে গাড়ি চালানোর অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়। প্রতিটি মামলায় ৩ হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি গাড়িটির চালক আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগেও মামলা করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাড়িটি বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর। ঘটনার সময় মন্ত্রী গাড়িতে ছিলেন।

ট্রাফিক পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, গাড়িটি যখন উল্টোপথে যাচ্ছিল, একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বহর পাশের সড়ক দিয়ে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল।

ট্রাফিক কর্মকর্তাদের দাবি, কোনো মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে চলার অভিযোগে মামলা করার ঘটনা দেশে প্রথম। অতীতে যানজট এড়াতে মন্ত্রী বা সচিবদের গাড়ি উল্টোপথে চলার ঘটনা সামনে এলেও এ ধরনের ঘটনায় মামলা হওয়ার নজির ছিল না।

পুলিশের মতে, এ ঘটনায় মামলা হওয়া সবার জন্য আইনের সমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনে প্রথমবার মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনে প্রথমবার মির্জা আব্বাস

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলেও অসুস্থতার কারণে এতদিন সংসদে যোগ দিতে পারেননি দলটির ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। দীর্ঘ পাঁচ মাসেরও বেশি সময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) চলমান সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি হুইল চেয়ারে সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন।

সংসদ অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসকে স্বাগতম জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ দীর্ঘ পাঁচ মাস পর চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে এসেছেন। আপনাকে এই সংসদে স্বাগতম জানাচ্ছি।’

সংসদ অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের পর মির্জা আব্বাসের হুইল চেয়ার পেছন থেকে ধরেন সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজান। পাশের আসনে বসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা- ২ আসনের সংসদ সদস্য আমান মির্জা আব্বাসের হাত তুলে ধরে সবাইকে সালাম দেন। এসময় সংসদ অধিবেশন কক্ষে সবাই তাকে স্বাগত জানান। টেবিল চাপড়েও স্বাগতম জানান।

এরআগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশে ফিরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। পরে বৃহস্পতিবার অধিবেশনের আগে তিনি সংসদে নিজ দফতরে যোগ দেন।

এ বিষয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে মির্জা আব্বাস জাতীয় সংসদ তার নিজ অফিসে প্রথম দিনের মতো দাপ্তরিক কাজ করেন।

গত ১৫ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত ১৪ এপ্রিল ফিজিওথেরাপির জন্য তাকে মালয়েশিয়ার একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে সেখানে এতদিন বিশ্রামে ছিলেন তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বেগবান ও সুদৃঢ় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ মতামত ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উন্নত পেশাগত প্রশিক্ষণ, সামরিক শিক্ষা বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

আধুনিক সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে বৈঠকে উভয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় চীনের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন এবং ভবিষ্যতে চীনের সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠককালে চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নে দেশটির অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এম/এএইচ