খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার করতে দুই দেশের সব পর্যায়ে সংলাপ ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এ সময় দুই দেশের সংসদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।

তিনি জানান, ভারতের লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের সংসদ কীভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করতে পারে, তা নিয়ে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। গণতন্ত্রের সৌন্দর্যও এখানেই নিহিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাক্ষাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক ও ক্রীড়াক্ষেত্রের অভিজ্ঞতারও প্রশংসা করেন দীনেশ ত্রিবেদী।

এর আগে স্পিকারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা পুনর্বাসন, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিভিন্ন সময়ে নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। তিনি জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, আগে দুই দেশের সম্পর্ক অনেকটা সরকারকেন্দ্রিক ছিল। এখন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখে জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

স্পিকার আরও বলেন, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে আবারও গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্পিকারের বক্তব্যের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারত সরকারও দুই দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

কোনালের কণ্ঠে একসঙ্গে পাঁচ নতুন গান

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
কোনালের কণ্ঠে একসঙ্গে পাঁচ নতুন গান

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী সোমনূর মনির কোনাল। নিজের ক্যারিয়ারে বেশ কিছু শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে প্লেব্যাকে ধারাবাহিকভাবে গান গেয়ে সাফল্য পেয়েছেন এই শিল্পী। বর্তমানে স্টেজ শো এবং সিনেমা-নাটকের গান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কোনাল।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি পাঁচটি নতুন গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। কাছাকাছি সময়ে রেকর্ড হওয়া এসব গানের মধ্যে একটি সিনেমার, একটি ধারাবাহিকের এবং তিনটি খণ্ড নাটকের। প্রতিটি গানেই ভিন্ন আঙ্গিকে কোনালকে পাওয়া যাবে।

চয়নিকার তিন নাটকে তিন গান

পরিচালক চয়নিকা চৌধুরীর নির্মাণের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে তাঁর তিনটি নাটক। এর মধ্যে ‘জোছনায় ফেরা’ ও ‘বিষণ্ন মেঘ’ নাটকের দুটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কোনাল।

দুটি গানেই তাঁর সহশিল্পী রেজোয়ান শেখ। গানগুলোর সুর ও সংগীতায়োজনও করেছেন তিনি।

অন্যদিকে চয়নিকা চৌধুরীর ‘সময় একটু থামো’ নাটকের একটি গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন কোনাল। এই গানে তাঁর সহশিল্পী আভ্রাল সাহির। গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন আভ্রাল নিজেই।

ধারাবাহিক ও সিনেমাতেও গান

নাটকের পাশাপাশি সম্প্রতি ‘বকুলপুর সিজন-৩’ ধারাবাহিকের জন্য ‘বকুলপুরের রানী’ শিরোনামের একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কোনাল।

এ ছাড়া শওকত আলী ইমনের সুর ও সংগীতে একটি সিনেমার গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন এই শিল্পী। ‘গ্রুমিং বিদ্যাপীঠ’ সিনেমার গানটিতে তাঁর সহশিল্পী সজীব দাস।

অর্থাৎ একই সময়ে নাটক, ধারাবাহিক ও সিনেমা—তিন ধরনের কাজেই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কোনাল।

প্রতিটি গানে সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা

নতুন গানগুলো প্রসঙ্গে কোনাল বলেন, নাটক ও সিনেমায় ভিন্ন ভিন্ন ধরনের গান গাওয়াটা তাঁর জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা। প্রতিটি কাজেই নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

কোনালের ভাষায়, নতুন গানগুলোর ক্ষেত্রেও সেই চেষ্টাই করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, গানগুলো শ্রোতা-দর্শকদের ভালো লাগবে।

স্টেজ শোয়ের পাশাপাশি নতুন এসব গান নিয়ে ব্যস্ততা যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই শিল্পীর সংগীতজীবন।

কালের আলো/এসএ

‘সংসদে গণতান্ত্রিক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে জামায়াত’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
‘সংসদে গণতান্ত্রিক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে জামায়াত’

সংসদে ফাইল ছোড়াছুড়ি, চেয়ার তুলে স্পিকারের দিকে তেড়ে যাওয়াসহ কোনো ধরনের অসভ্য আচরণ করবে না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচিত হলে দলটির সংসদ সদস্যরা সরকারি নামমাত্র মূল্যের প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধাও নেবেন না বলে জানিয়েছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে ‘জামায়াত বিট’-এর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে জামায়াত গণতান্ত্রিক, আইনসম্মত ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। ফাইল ছোড়া কিংবা স্পিকারের দিকে চেয়ার নিয়ে তেড়ে যাওয়ার মতো আচরণ তারা করবেন না।

সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে নামমাত্র মূল্যে সরকারি প্লট বা শুল্কমুক্ত গাড়ি—কোনোটিই তারা নেবেন না। জনগণের সেবা করতেই সংসদে যেতে চান, ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার জন্য নয়।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন জামায়াতের আমির। দেশের মানুষ যখন অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে, তখন জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের কোনো প্রস্তাব সংসদে এলে জামায়াত এর বিরোধিতা করবে বলেও জানান।

তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় ক্রেতারা অর্ডার প্রত্যাহার করছেন। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিপুলসংখ্যক কারখানা বন্ধ হয়ে কর্মসংস্থানে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে এবং নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের কোনো অদৃশ্য চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সাহসের সঙ্গে সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।

তিনি বলেন, জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকবে। বাসে আগুন দেওয়া কিংবা জনজীবন অস্থিতিশীল করার রাজনীতিতে দলটি বিশ্বাস করে না।

মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

দল ‘নিবন্ধিত’ সংগঠন ‘অদৃশ্য’

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
দল ‘নিবন্ধিত’ সংগঠন ‘অদৃশ্য’

মিরপুর ডিএইচএসের একটি বাড়ির ঠিকানায় গিয়ে খোঁজ করা হলো বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ইসির নথিতে ঠিকানাটি স্পষ্ট। কিন্তু বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীর পরিবার জানাল, সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস নেই। থাকেন দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর পরিবার। দলের কার্যালয়ের বদলে ভবনটি এখন কার্যত একটি আবাসিক ঠিকানা।

  • রাজধানীতে ৮ নিবন্ধিত দলের কার্যালয়ের হদিস নেই; ৩টি তালাবদ্ধ
  • মাঠপর্যায়ে ৩৬ দলের সংগঠনের হদিস নেই
  • কেন্দ্র থেকে জেলা-উপজেলা—কার্যালয় ও কর্মীহীনতার চিত্র

মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় জাতীয় পার্টি-জেপির যে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকার কথা, সেখানেও নেই কোনো দলীয় তৎপরতা। দরজার ওপাশে রাজনৈতিক কর্মী নয়, থাকছেন ব্যাচেলর ভাড়াটেরা। পুরানা পল্টনের তোপখানা রোডে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের নামে দেওয়া ঠিকানাতেও মিলল না দলের কোনো চিহ্ন। ভবন মালিকের ভাষ্য, দলটি প্রায় এক বছর আগেই চলে গেছে।

আরও এক ধাপ এগিয়ে পুরানা পল্টনের ইশরাত টাওয়ার। ইসির নথিতে এখানে গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকার কথা। বাস্তবে নেই অফিস, নেই দলীয় কার্যক্রমও। দলের সভাপতিই বলছেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি সেখানে নেই। দলের কার্যক্রমও নেই।’ অর্থাৎ ইসির কাগজে যে ঠিকানাগুলো এখনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় বহন করছে, সরেজমিনে তার অনেকগুলোর অস্তিত্বই মিলছে না।

কোথাও অফিস নেই, কোথাও অফিস থাকলেও মাসের পর মাস তালাবদ্ধ। আবার কোনো দলের কার্যালয় এখন ব্যক্তিগত বাসা, কোনোটি আইনজীবীর চেম্বার কিংবা অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক বাস্তবতা খুঁজতে গিয়ে এমনই এক অস্বস্তিকর চিত্র উঠে এসেছে।

৬০ দলের মধ্যে ঢাকাতেই ৮টির কার্যালয় নেই
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৬০টি। এর মধ্যে রাজধানীতে ইসির দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে আটটি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পাওয়া যায়নি। আরও তিনটি দলের কার্যালয় থাকলেও সেগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগ এই হিসাবের বাইরে।

ইসিতে নিবন্ধিত ৪৮টি দলের কার্যালয় ঘুরে, ভবন কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধনের সময় দলগুলো যে সাংগঠনিক উপস্থিতির দাবি করেছিল, তার সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার অনেক ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

কাগজে কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বাস্তবে অন্য ঠিকানা
বিএনএফের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, তোপখানা রোডের শিশু কল্যাণ পরিষদে তাঁদের পুরোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের পর সেখানে আর যাওয়া হয়নি। বর্তমানে ডিওএইচএসের একটি ছোট জায়গা সভাপতির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রয়োজন হলে রেস্তোরাঁ বা কারও বাসায় বৈঠক করতে হয়।

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মিরপুরের ঠিকানায় গিয়ে কোনো কার্যালয় পাওয়া যায়নি। দলটির প্রধান আবু লায়েস মুন্না জানিয়েছেন, অফিস এখন বন্ধ এবং পল্টন এলাকায় নতুন কার্যালয় খোঁজা হচ্ছে।

ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের গুলশানের ঠিকানাতেও নেই দলটির কার্যালয়। মহাসচিব শেখ রায়হান রাহবার জানিয়েছেন, মার্চের পর তাঁরা ওই অফিস ছেড়েছেন; এখনো নতুন জায়গা পাননি।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির পুরানা পল্টনের অফিসও নেই। দলের সংশ্লিষ্ট নেতার ভাষ্য, পুরোনো কার্যালয় ছেড়ে বায়তুল মোকাররমের আশপাশে নতুন অফিস নেওয়া হয়েছে। তবে সেই কার্যালয়ের সুনির্দিষ্ট ঠিকানাও তিনি জানাতে পারেননি।

কোথাও সাইনবোর্ড আছে, ভেতরে নীরবতা
তৃণমূল বিএনপির ক্ষেত্রে আবার ইসির ঠিকানায় দলীয় সাইনবোর্ড রয়েছে। তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজার ১৬ তলায় কার্যালয় থাকলেও সেটি তালাবদ্ধ। ভবনের কর্মচারী জানান, নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রম সেখানে হয় না; জায়গাটি মূলত ‘দ্য চ্যানচেরি চেম্বারস’ ল ফার্মের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ধানমণ্ডির বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের কার্যালয়ের অবস্থাও প্রায় একই। ভবনের নিরাপত্তাকর্মীর দাবি, তিন মাসে মাত্র দুদিন কয়েকজনকে সেখানে দেখা গেছে। বাকি সময় কার্যালয় বন্ধ থাকে।

ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির কার্যালয় রয়েছে, কিন্তু সেটিও নিয়মিত খোলে না। নিরাপত্তাকর্মীর ভাষ্য, ৫ আগস্টের আগে সেখানে একজন নিয়মিত থাকতেন; এরপর বিচ্ছিন্নভাবে এক-দুজন এলেও কার্যালয় প্রায় সবসময় বন্ধ।

মোহাম্মদপুরে বিএনএমের নামে একটি কক্ষ থাকলেও সাইনবোর্ড নেই। ভবনের নিরাপত্তাকর্মী জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের পর দলটির কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। দলটির চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরও বলেছেন, এখন আর দলের কার্যক্রম নেই এবং কার্যালয়ও বন্ধ থাকে।

ঢাকার বাইরে চিত্র আরও ফ্যাকাশে
রাজধানীর বাইরের বাস্তবতা আরও দুর্বল। নিবন্ধনের সময় অন্তত ২১টি জেলা এবং ১০০টি উপজেলা বা থানায় দলীয় কার্যালয়ের তথ্য দিয়েছিল বিভিন্ন দল। কিন্তু সরেজমিনে এসব কার্যালয়ের বড় একটি অংশের অস্তিত্ব বা নিয়মিত কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।

নড়াইলে জাতীয় পার্টি, সিপিবি, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, এনসিপি, বাসদ, এনপিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড রয়েছে। তবে বেশির ভাগ কার্যালয় বছরের পর বছর তালাবদ্ধ।

নিয়মিত কার্যক্রমের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে দেখা যায় বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার ও এনসিপির। ঝালকাঠিতেও কয়েকটি নিবন্ধিত দলের কার্যালয় রয়েছে। তবে সব দলের সাংগঠনিক তৎপরতা সমান নয়।

নিবন্ধনের শর্ত কি শুধু কাগজেই?
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের সঙ্গে সাংগঠনিক উপস্থিতির বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। অথচ নিবন্ধনের পর সেই কাঠামো বাস্তবে কতটা টিকে আছে, তা নিয়মিত যাচাইয়ের প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, কার্যালয় ও কার্যক্রমহীন দলকে এভাবে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং এ ক্ষেত্রে ইসির নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।

নামের সঙ্গে সংগঠনও কি আছে?
নিবন্ধিত ৬০টি দলের সবাই যে একই অবস্থায় রয়েছে, তা নয়। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপিসহ কয়েকটি দলের নিয়মিত রাজনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান। আবার অনেক দলের কার্যক্রম সীমিত, কোনো কোনো দলের ক্ষেত্রে তা প্রায় অদৃশ্য।

তবে প্রশ্নটি থেকেই যায়—নিবন্ধনের সময় যে সাংগঠনিক কাঠামো দেখিয়ে একটি দল রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেল, কয়েক বছর পর সেই কাঠামোর অস্তিত্ব কোথায়? কেন্দ্রীয় কার্যালয় নেই, জেলা-উপজেলায় সংগঠন নেই, নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রমও নেই—তবু নিবন্ধন বহাল থাকছে কোন বাস্তবতার ভিত্তিতে?

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কেবল একটি নাম, প্রতীক ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রশ্ন। তাই ইসির নথিতে থাকা ঠিকানার সঙ্গে মাঠের বাস্তবতা মিলিয়ে দেখা এখন আর নিছক প্রশাসনিক কাজ নয়; এটি নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও যুক্ত।

কালের আলো/টিইকে/এমকে