খুঁজুন
                               
, ,
           

মৃত্যু-যন্ত্রণার ভিড়ে ঢামেকে এক টুকরো সবুজ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
মৃত্যু-যন্ত্রণার ভিড়ে ঢামেকে এক টুকরো সবুজ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পা রাখলেই চোখে পড়ে রোগীর উপচে পড়া ভিড়। নির্ধারিত আসনের দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকায় ওয়ার্ড তো বটেই, সিঁড়ির ফাঁকা জায়গা কিংবা হাসপাতালের বিভিন্ন কোণেও চলছে চিকিৎসা। কোথাও স্বজনের উৎকণ্ঠা, কোথাও রোগীর কষ্ট—আবার কোথাও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার আনন্দাশ্রু।

এই ব্যস্ততা আর গুমোট পরিবেশের মাঝেই যেন এক টুকরো স্বস্তির দ্বীপ ঢামেকের প্রশাসনিক ব্লকের বাগান। চারপাশে সবুজ, নানা রঙের ফুল আর পুরোনো বড় বড় গাছের ছায়ায় কিছুটা সময় কাটিয়ে ক্লান্তি ভুলছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক পাখা থাকলেও প্রচণ্ড গরম এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপে ভেতরের পরিবেশ অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। তাই সন্ধ্যা নামার পর হাসপাতালের ভেতর থেকে অনেকেই ছুটে আসেন এই বাগানে। কেউ বেঞ্চে বসে থাকেন, কেউ হাঁটেন, আবার কেউ সন্তানকে নিয়ে কিছুটা সময় কাটান।

সন্ধ্যায় দুই বছরের শিশু সন্তান নিহালকে নিয়ে বাগানে খুনসুটিতে মেতে উঠেছিলেন মাজিদুল। তার বোন ভর্তি রয়েছেন হাসপাতালের নতুন ভবনে। তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমে হাসপাতালের ভেতরে থাকা খুব অস্থির লাগে। বাগানটির কথা জানতে পেরে সন্তানকে নিয়ে সন্ধ্যায় এখানে আসেন। মাজিদুলের ভাষায়, ‘দারুণ জায়গা। জায়গাটা আসলেই খুব সুন্দর। নানা রকম ফুল ও সবুজে ঘেরা।’

এর কিছুক্ষণ পর বাগানের ভেতর দিয়ে এক ব্যক্তিকে শিশুর হাত ধরে হাঁটতে দেখা যায়। দেখে বোঝা যায়, তিনিও সন্তানকে নিয়ে একটু স্বস্তির সময় কাটাতে এসেছেন। দুই শিশুর বয়সই আনুমানিক দেড় থেকে দুই বছর।

শুধু শিশুদের নিয়ে আসা স্বজনই নন, হাসপাতালের অনেক রোগী ও স্বজনকে বাগানের বেঞ্চে বসে থাকতে দেখা যায়। কেউ নীরবে বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউ স্বজনের সঙ্গে কথা বলছেন। হাসপাতালের কোলাহল থেকে কয়েক মুহূর্ত দূরে এই সবুজ পরিসরটুকুই যেন তাদের মানসিক প্রশান্তির জায়গা।

ঢামেক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই প্রশাসনিক ব্লক চত্বরের এই বাগান হাসপাতালের সৌন্দর্য বাড়িয়ে আসছে। বাগান ঘিরে রয়েছে অতি পুরোনো আমগাছসহ বিভিন্ন ফলদ বৃক্ষ। পাশাপাশি রয়েছে গোলাপ, জবা, বেলি, কাঠগোলাপসহ প্রায় ৫০ ধরনের ফুল ও পাতাবাহার গাছ। অল্প পরিসরে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ভেষজ বাগানও; রয়েছে বিভিন্ন ঔষধি গাছ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও রোগী ও স্বজনদের কথা বিবেচনায় নিয়ে নিয়ম মেনে বাগানটি উন্মুক্ত রাখে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা রাত পর্যন্ত এখানে থাকা মানুষদের নিরাপত্তা দেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি মালির মাধ্যমে নিয়মিত বাগানটির পরিচর্যা করা হয়। রোগী ও স্বজনেরা প্রচণ্ড গরমের মধ্যে রাত পর্যন্ত এখানে বসে থাকেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের চিন্তাভাবনা আছে, বাগানটি আরও সুন্দর করা হবে। চারপাশে বসার জন্য বেঞ্চ তৈরি করাসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

প্রতিদিন যেখানে জীবন-মৃত্যুর কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় হাজারো মানুষকে, সেখানে ঢামেকের এই ছোট্ট সবুজ বাগান যেন অন্য এক গল্প বলে। চিকিৎসার চাপ, উৎকণ্ঠা আর গুমোট পরিবেশের মধ্যেও কয়েক মুহূর্তের জন্য এখানে পাওয়া যায় প্রশান্তির নিঃশ্বাস—সবুজের ছায়ায়, ফুলের সুবাসে।

কালের আলো/এম/এএইচ

আজ ঢাকার বাতাস স্বস্তিদায়ক, দূষণে শীর্ষে কুচিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
আজ ঢাকার বাতাস স্বস্তিদায়ক, দূষণে শীর্ষে কুচিং

বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়লেও শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বাতাসকে ‘মাঝারি বা সহনীয়’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এদিন রাজধানীর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ৮৮।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচকে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির তালিকায় ৮৮ স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৫তম।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ৫১ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসের মান ‘মাঝারি বা সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এদিন ঢাকার বায়ুমান তুলনামূলকভাবে সহনীয় অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে ২৬৭ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুচিং। ১৬১ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা এবং ১৫২ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের চেংডু।

আইকিউএয়ারের সূচক অনুযায়ী, একিউআই ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর এবং ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ৩০১-এর বেশি স্কোরকে দুর্যোগপূর্ণ বায়ুমান হিসেবে ধরা হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের সমাবেশ শুরু হয়েছে। শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় এ সমাবেশ শুরু হয়। এরইমধ্যে শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় লংমার্চে অংশ নিতে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড়ে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে।

সমাবেশ শেষে ৮টার দিকে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চ রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। লংমার্চটি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ-এই ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এ লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে শাপলা চত্বরে লংমার্চের সমাবেশস্থল ও মঞ্চের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, ছয় দফা দাবি জনগণের দাবি। এসব দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জনগণকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে

তিনি বলেন, শনিবারের কর্মসূচি লংমার্চের প্রথম ধাপ। দাবি আদায় না হলে আগামী দিনে আরও বড় কর্মসূচি ঘোষণার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হবে। পরবর্তী সময়ে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচি শেষে ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সরকার, প্রশাসন ও দেশবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।

শনিবারের লংমার্চ ঘিরে সকাল থেকেই শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে যোগ দিচ্ছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ এবার ঢাকায় বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ এবার ঢাকায় বদলি

তৎকালীন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ মন্তব্যের পর আলোচনায় আসা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ বদলি ও পদায়নের তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) পদে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে একই পদে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ফলে চট্টগ্রামে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন শফিকুজ্জামান ভূঞা।

এর আগে বিআরটিএর অনিয়ম ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মো. মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওই মন্তব্য করেছিলেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন মহলে আলোচনায় আসেন বিআরটিএর এই কর্মকর্তা।

এবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলির খবর প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ মন্তব্যটি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি