নিরাপদ উপায়ে লাউ চাষে স্বাবলম্বী ঝালকাঠির কামরুল
ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের রুপসিয়া গ্রামে উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করে নিরাপদ উপায়ে লাউ চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন কৃষক কামরুল ইসলাম। মাচাজুড়ে সারি সারি লাউ আর সবুজ পাতায় ভরা তার ক্ষেত এখন শুধু সৌন্দর্যই ছড়াচ্ছে না, এনে দিচ্ছে ভালো আয়ের সম্ভাবনাও।
প্রায় ১৫ বছর আগে সাধারণ কৃষক হিসেবে মৌসুমি ফসল চাষ করতেন কামরুল। তবে সেই আয় দিয়ে পরিবারের চাহিদা মেটানো কঠিন ছিল। পরে মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ শুরু করেন তিনি। প্রথম বছরেই ভালো ফলন ও লাভ পাওয়ার পর ধীরে ধীরে লাউ চাষের পরিধি বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে লাউ চাষ তার আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘পার্টনার’ কর্মসূচির আওতায় কামরুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান যৌথভাবে ১০০ শতক জমিতে উত্তম কৃষি চর্চা (গিএপি) অনুসরণ করে লাউ চাষ করেন। চাষে সেচের জন্য গভীর নলকূপের পানি এবং জমিতে শতভাগ জৈব সার, বিশেষ করে কেঁচো সার ব্যবহার করা হচ্ছে।
কীটপতঙ্গ দমনে রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও আঠালো ফাঁদ। কৃষক মাঠ স্কুল থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর এসব পদ্ধতি অনুসরণ করেই নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছেন কামরুল।
ইতোমধ্যে তার ক্ষেত থেকে ২০০টির বেশি লাউ বিক্রি হয়েছে। এখনো গাছে ঝুলছে আরও ২০০টির বেশি লাউ। ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ায় সন্তুষ্ট এই কৃষক।
কামরুল ইসলাম বলেন, আগে মৌসুমি ফসল চাষ করলেও সংসার চালানো কঠিন ছিল। লাউ চাষ শুরু করার পর পরিস্থিতি বদলেছে। উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করায় উৎপাদন খরচ কমছে এবং ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে।
বর্তমানে প্রায় ৫০ শতক জমিতে লাউ চাষ করছেন তিনি। তার সঙ্গে নিয়মিত কাজ করছেন দুজন শ্রমিক। ক্ষেতের লাউ পাইকারদের কাছে বিক্রির পাশাপাশি নিজেও স্থানীয় বাজারে নিয়ে যান। তার ক্ষেতের টাটকা লাউ কিনতে দূর-দূরান্ত থেকেও ক্রেতারা আসেন বলে জানান তিনি।
কামরুলের আশা, বড় ধরনের বন্যা না হলে লাউ চাষ থেকে বছরে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ইতোমধ্যে প্রায় ১০ বিঘা জমি প্রস্তুত করেছেন বলেও জানান তিনি।
ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলী আহমেদ বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কামরুলের লাউ বাগানে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উন্নত জাতের বীজ দিয়ে চাষাবাদেও সহযোগিতা করা হয়েছে। উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে তার উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
তিনি আরও জানান, ঝালকাঠি সদর উপজেলায় প্রতিবছরই লাউয়ের বাণিজ্যিক আবাদ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে। এসব জমিতে উৎপাদিত লাউয়ের বাজারমূল্য আনুমানিক এক কোটি টাকার বেশি।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array