খুঁজুন
                               
, ,
           

নদীগর্ভে বসতভিটা-ফসলি জমি, মধুমতির ভাঙনে নিঃস্ব বহু পরিবার

ফরিদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
নদীগর্ভে বসতভিটা-ফসলি জমি, মধুমতির ভাঙনে নিঃস্ব বহু পরিবার

একসময় যে জমিতে ধান-পাটের সবুজ সমারোহ ছিল, সেখানে এখন শুধু নদীর স্রোত। যে বাড়িতে ছিল সংসারের কোলাহল, ভাঙনের আতঙ্কে সেই বাড়িও ছেড়ে দিতে হয়েছে। বছরের পর বছর মধুমতির ভাঙনে এমনই বদলে গেছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের লংকারচরের চিত্র।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নদীভাঙনে ইতোমধ্যে পাড়াটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জমি বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশও রয়েছে ভাঙনের ঝুঁকিতে। ফলে শেষ সম্বলটুকু রক্ষা হবে কি না—এই উৎকণ্ঠায় প্রতিদিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু জমি নয়, বছরের পর বছর নদী কেড়ে নিয়েছে বসতভিটা, কৃষিজমি ও জীবিকার অবলম্বন। একাধিক পরিবারকে বাড়িঘর সরিয়ে নিতে হয়েছে। কেউ সড়কের পাশে, আবার কেউ অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে কোনোভাবে টিকে আছেন।

ভাঙনের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির চিত্র উঠে আসে আরতী গোয়ালীর কথায়। প্রায় ৩০ বছর আগে বিয়ের পর থেকে তিনি এ এলাকায় নদীভাঙন দেখে আসছেন। তার ভাষ্য, প্রতিবছরই একটু একটু করে তাদের জমি ও বসতভিটা নদীর গর্ভে চলে গেছে।

আরতী বলেন, একসময় তাদের পরিবার স্বাবলম্বী ছিল। এখন তারা প্রায় ভূমিহীন। বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে অল্প জমি কিনে ঘর তুলেছেন। নদীর পাড়ের পুরোনো বসতঘরটিও ভাঙনের আশঙ্কায় ছেড়ে দিয়েছেন।

তার অভিযোগ, মধুমতি থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে বর্ষায় নদীভাঙন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

চলতি বছরও এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা এখন তুলনামূলক কম হলেও নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক বাড়ছে স্থানীয়দের। তাদের আশঙ্কা, শেষ আশ্রয়টুকুও কখন নদীগর্ভে চলে যায়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সরেজমিনে লংকারচর নীচুপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মধুমতির তীরের কয়েকটি স্থানে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনের তীব্রতা তুলনামূলক কম হলেও নদীর খুব কাছেই রয়েছে বসতভিটা ও কৃষিজমি। ফলে বর্ষায় পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে শঙ্কায় স্থানীয়রা।

তাদের আশঙ্কা, অবশিষ্ট জমিটুকু নদীতে চলে গেলে অনেক পরিবারই কার্যত ভূমিহীন হয়ে পড়বে। তাই ভাঙন শুরু হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেভাগেই স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মধুমতির ভাঙনে আরতী গোয়ালীর বসতভিটা, বিধান বদ্দীর মরিচ ও ঘাসের জমিসহ হরশিত, ননী, অচিন্ত গোয়ালী, জীবানন গোয়ালী, রঘুনাথ মণ্ডল ও আনিতা মণ্ডলসহ প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবারের বাড়িঘর ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

এসব পরিবারের অনেকেরই জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল কৃষিজমি। জমি হারানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের আয় ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

নদীভাঙনের সঙ্গে জীবিকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন আনিতা মণ্ডল। তার কথায় উঠে আসে ভাঙনকবলিত মানুষের আরেক বাস্তবতা।

আনিতা বলেন, নারী-পুরুষ সবাই কাজ করে সংসার চালান। নদী তাদের কৃষিজমি কেড়ে নিয়েছে। সরকারি সহায়তায় পাওয়া ভেড়া পালন করে এখন জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। ভেড়ার খাবারের জন্য নিজেকেই নৌকা চালিয়ে কখনো জেগে ওঠা চরে, কখনো নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যেতে হয়।

স্থানীয়দের অন্যতম অভিযোগ নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন নিয়ে। তাদের দাবি, নিয়ম না মেনে বালু তোলার কারণে নদীর গতিপথ ও তীরের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বর্ষায় ভাঙনের মাত্রা বেড়ে যায়।

রঘুনাথ মণ্ডল বলেন, প্রতিবছর বাড়িঘর সরাতে সরাতে তারা নদী থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন। কিন্তু তাতেও ভাঙনের আতঙ্ক কাটেনি। তার আশঙ্কা, অবশিষ্ট জায়গাটুকুও নদীতে চলে গেলে তাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না।

বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন নবাব বলেন, ইউনিয়নের কিছু এলাকায় নদীভাঙন হয়। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন অনেকাংশে দায়ী। নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন করা হলে ক্ষতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব বলেও তিনি মনে করেন।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম রকিবুল হাসান বলেন, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে নদীশাসনের কাজ করছে। বোয়ালমারীর অংশে ভাঙন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে বদলি

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিট ও জেলায় বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের এডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, এসবি ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তোফায়েল হোসেন সরকারকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামকে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তোফাজ্জল হোসেনকে শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহিন ফারাজীকে বরিশালের গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানজিনা চৌধুরীকে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং র‍্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আরিফ রাইয়ানকে চট্টগ্রামের পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গাইবান্ধার বি সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলামকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং বরিশালের গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ছালেহ মো. আনসার উদ্দীনকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, বদলি ও পদায়ন করা কর্মকর্তাদের আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ে দায়িত্বভার অর্পণ না করলে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে তারা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য হবেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ ৪ বাংলাদেশি নিহত

সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ ৪ বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত চারজনের সবাই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। এরই মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন—করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া। নিহত অপর দুজনের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

জানা গেছে, জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাওয়ার সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই চার বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থানীয় কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

যুক্তরাজ্যকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি ইসরাইলি মন্ত্রীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাজ্যকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি ইসরাইলি মন্ত্রীদের

ফিলিস্তিনের দখলকৃত এলাকায় ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের এমন উদ্যোগের প্রতিক্রিয়ায় দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন ইসরাইলের দুই মন্ত্রী।

ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটেন ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ‘ইহুদিবিদ্বেষী সরকারের’ মতো আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, ইসরাইলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় তিনি দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা বিরোধের বিষয়টিও সামনে আনেন।

বেন-গভির দাবি করেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার ভূখণ্ড এবং ব্রিটেন সেখানে ‘দখলদারত্ব’ বজায় রেখেছে। দ্বীপপুঞ্জে আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান তিনি।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধ রয়েছে। প্রায় ৩ হাজার ৬০০ বাসিন্দার এই দ্বীপপুঞ্জের অধিকাংশ মানুষ ব্রিটিশ শাসনের পক্ষে বলে জানা যায়।

এদিকে, ব্রিটিশ সরকারের নতুন পদক্ষেপের মধ্যে ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর আগে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাজ্য ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে তারাও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

ব্রিটিশ সরকারের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও আপত্তি জানাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে ইসরাইলি মন্ত্রীদের বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি