খুঁজুন
                               
, ,
           

নগর থেকে মাত্র ৩০ ফুট দূরে, ৪০ বছর ধরে সাঁকোই ভরসা ১০ পরিবারের

কাজিপুর(সিরাজগঞ্জ)সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
নগর থেকে মাত্র ৩০ ফুট দূরে, ৪০ বছর ধরে সাঁকোই ভরসা ১০ পরিবারের

সামনেই পাকা সড়ক, আশপাশে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন জনবসতি। অথচ মাত্র ৩০ ফুট চওড়া একটি খাল যেন বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ১০টির বেশি পরিবারকে। প্রায় ৪০ বছর ধরে বাঁশের ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো কিংবা খালের পানি পেরিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। বর্ষা মৌসুমে খালে ১০ ফুটের বেশি পানি থাকায় চারপাশ পানিতে ডুবে এলাকাটি অনেকটা দ্বীপের মতো হয়ে পড়ে।

এ চিত্র সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিয়ারা চরপাড়া গ্রামের। শুকনো মৌসুমে মালামাল পরিবহনে দুর্ভোগ আর বর্ষায় শিশু, শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল পারাপারে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে হয়। সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ ওই সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। শিশু ও বয়স্কদের পাশাপাশি প্রতিবন্ধীরাও একাধিকবার পানিতে পড়ে আহত হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে তার বাবা খালের ওপারে বাড়ি করেন। পরে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন গ্রামের মানুষ সেখানে এসে বসতি গড়েন। বর্তমানে ছোট এই পাড়ায় ১০টির বেশি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত করে।

৬৬ বছর বয়সী ফজলার রহমান বলেন, ‘আমার জীবন তো চলেই গেল। নাতিপুতিরা খুব দুর্ভোগে আছে, ওরা স্কুলে যায়। গরু-ছাগল কথা বলতে পারে না, পারলে বোঝা যেত দুর্ভোগ কতটা নির্মম।’

স্থানীয় বাসিন্দা পিয়ারা খাতুন বলেন, চারদিকে পানি থাকায় তারা অনেকটা দ্বীপে নির্বাসিত মানুষের মতো জীবনযাপন করছেন। গত কয়েক বছরে সেতু নির্মাণের দাবিতে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৬ জুলাই পৌর প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়।

বিউটি খাতুন বলেন, ‘বাড়িঘরের উন্নয়ন করা যাচ্ছে না। বিয়ের উপযুক্ত ছেলেমেয়ে ঘরে আছে। বাড়িতে লোকজন আনতে পারি না। রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখে অনেক সময় সম্বন্ধও এগোয় না।’

কাজিপুর পৌরসভায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম (লিটন) বলেন, টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এলাকায় কয়েকটি ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বর নাগাদ এসব প্রস্তাব পাস হতে পারে।

এ বিষয়ে কাজিপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ক্যাম্পাসহীন বিশ্ববিদ্যালয়: ভবন আছে, পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাঙ্গন নেই

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
ক্যাম্পাসহীন বিশ্ববিদ্যালয়: ভবন আছে, পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাঙ্গন নেই

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি ভাড়া ভবনে চলছে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশের (ইউএফটিবি) শিক্ষা কার্যক্রম। প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে আরেকটি ভবনে চলছে ক্লাস, মাঝামাঝি তৃতীয় ভবনে প্রশাসনিক কাজ। প্রযুক্তি খাতের বিশেষায়িত এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ছড়িয়ে আছে ছোট তিনটি ভাড়া ভবনে। ইউএফটিবির এই চিত্র আসলে দেশের উচ্চশিক্ষার বড় একটি সমস্যার প্রতিচ্ছবি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই। পাঁচটিতে এখনো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি; অন্যগুলোতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস নেই। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত না করেই কেন একের পর এক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হলো?

ক্যাম্পাসের আগে ক্লাস
এই ২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪টির অনুমোদন দেওয়া হয় ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অনুমোদন পায় ২০২৫ সালে। তালিকায় রয়েছে ছয়টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, তিনটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চারটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি বিশেষায়িত ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়। অধিকাংশের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে। অর্থাৎ কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে থাকার সময় এক দশক পর্যন্ত গড়িয়েছে। কোথাও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন ব্যবহার করা হচ্ছে, কোথাও ভাড়া বাড়ি, আবার কোথাও একাধিক স্থাপনায় ভাগ হয়ে আছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি নির্ধারণ হলেও নির্মাণ শেষ হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণও শুরু হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়-পরিবেশ নেই
শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকা ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী আট হাজারের কিছু বেশি। অধিকাংশ চলছে মাত্র দুই থেকে সাতটি বিভাগ নিয়ে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্য সরাসরি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী নেই। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এবং কয়েকটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অন্য প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। কিন্তু যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি শিক্ষার্থী পড়ছে, তাদের জন্য সংকটটি স্পষ্ট। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন শুধু শ্রেণিকক্ষ নয়—গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ, খেলার মাঠ, আবাসন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একাডেমিক মিথস্ক্রিয়ার পরিবেশ। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃষি ও এভিয়েশন শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ল্যাব ও ব্যবহারিক অবকাঠামো ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা কতটা সম্ভব, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

পাঁচটির এখনো যাত্রাই হয়নি
মেহেরপুর, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দুটি বিভাগ খোলার অনুমোদন পায় এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পন্ন করেছে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রমও অস্থায়ী ব্যবস্থায় শুরু হয়েছে। অর্থাৎ স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রস্তুত না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক যাত্রা থেমে থাকছে না। এতে দ্রুত উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হলেও ভবিষ্যৎ অবকাঠামোর প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে।

ভাড়ার পেছনে সরকারি অর্থ
অস্থায়ী ক্যাম্পাসের আর্থিক চাপও কম নয়। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ভ্যাট ও কর বাদে প্রায় ৮ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। বছরের পর বছর ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে একাধিক ভবন পরিচালনা, যাতায়াত, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বাড়তি ব্যয়। সাময়িক সমাধান তাই দীর্ঘমেয়াদে সরকারি অর্থের স্থায়ী ব্যয়ে পরিণত হচ্ছে।

কোথাও জমি আছে, ক্যাম্পাস নেই
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর একটি উদাহরণ। ২০২০ সালে আইন পাসের পর ২০২২ সালে উপাচার্য নিয়োগ এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্পাসের জায়গায় এখনো পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে ভাড়া করা ভবনে। অন্যদিকে, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ এগোলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং কয়েকটি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম এখনো অস্থায়ী ক্যাম্পাসনির্ভর। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী প্রায় এক হাজার। ইউএফটিবিতেও শিক্ষার্থী ৯২৮ জন, শিক্ষক ৪১ জন, কর্মকর্তা ৩৬ এবং কর্মচারী ৫২ জন। ইতিমধ্যে দুটি ব্যাচ পড়াশোনা শেষ করে বেরিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য ৫০ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং স্থায়ী অবকাঠামোর জন্য ৮০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্প প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন।

দায়ের জায়গা, সমাধানের পথ
এই বাস্তবতা কোনো এক বছরের সিদ্ধান্তের ফল নয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর আইন, উপাচার্য, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এবং শিক্ষার্থী ভর্তি—সবই এগিয়েছে; কিন্তু ক্যাম্পাস নির্মাণ পিছিয়ে থেকেছে। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেছেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার অনেক আগেই হয়েছে এবং প্রায় সবগুলোরই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। এখন দ্রুত এগুলোকে নিয়মকানুনের মধ্যে আনা এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে জমি, অর্থায়ন, মাস্টারপ্ল্যান ও অবকাঠামোর বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্যও ন্যূনতম একাডেমিক ও গবেষণা অবকাঠামোর বাধ্যতামূলক মানদণ্ড থাকা উচিত। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা মানে শুধু একটি আইন পাস কিংবা উপাচার্য নিয়োগ নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয় তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার শিক্ষার্থীদের জন্য থাকে নিজস্ব শিক্ষাঙ্গন, গবেষণার পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ গড়ার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

কালের আলো/এম/এএইচ

৪৭ বছর বয়সে নতুন রেকর্ড ইমরান তাহিরের, অনুপ্রেরণা ১২ বছরের ছেলে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
৪৭ বছর বয়সে নতুন রেকর্ড ইমরান তাহিরের, অনুপ্রেরণা ১২ বছরের ছেলে

ইমরান তাহির তাঁর ছেলেকে ধন্যবাদ দিতেই পারেন। ছেলের অনুপ্রেরণাতেই যে এই বয়সেও খেলে যাচ্ছেন, আর সেই খেলতে খেলতেই গড়েছেন নতুন রেকর্ড।

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) আজ সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি বয়সে পাঁচ উইকেট নেওয়া বোলার হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই লেগ স্পিনার।

প্রভিডেন্সে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলতে নেমে ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন তাহির। পাঁচ উইকেট নেওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল ৪৭ বছর ১৬৬ দিন। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এটিই তাঁর ক্যারিয়ারসেরা বোলিং।

ম্যাচ শেষে তাহির জানিয়েছেন, এই বয়সেও নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে যাওয়ার পেছনে তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছেলে। ছেলের সঙ্গে একদিন একই দলে খেলবেন—এই স্বপ্ন থেকেই এখনো কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি।

তবে সেই স্বপ্ন পূরণে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে তাহিরকে। কারণ তাঁর ছেলের বয়স এখন মাত্র ১২ বছর। ফলে আরও কয়েক বছর ক্রিকেট খেলে যেতে পারলে বাবার সঙ্গে ছেলের একই মাঠে খেলার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।

টি-টোয়েন্টিতে ষষ্ঠবার পাঁচ উইকেট

সেন্ট লুসিয়ার বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নেওয়ার মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ষষ্ঠবারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেলেন তাহির। এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেওয়ার তালিকায় এখন তিনি দ্বিতীয়।

তাঁর ওপরে আছেন নামিবিয়ার ডেভিড ভিসা। তাঁর পাঁচ উইকেটের সংখ্যা সাতটি। পাঁচবার করে পাঁচ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে আছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, লাসিথ মালিঙ্গা, ভুবনেশ্বর কুমার, সাকিব আল হাসান ও রশিদ খান।

টি-টোয়েন্টিতে ৫৮৯ উইকেট

সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে তাহিরের উইকেট এখন ৫৮৯টি। এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া বোলারদের তালিকায় তাঁর অবস্থান চতুর্থ।

তাঁর ওপরে আছেন রশিদ খান (৭৩৬), সুনীল নারাইন (৬৫৭) ও ডোয়াইন ব্রাভো (৬৩১)।

টি-টোয়েন্টিতে তাহিরের সবচেয়ে বেশি উইকেট এসেছে সিপিএলে—১৪২টি। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত তাঁর শিকার ১২ উইকেট।

৪৭ বছর বয়সেও শুধু বল হাতে নয়, নেতৃত্বেও গায়ানাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাহির। অথচ দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁকে শেষবার দেখা গেছে সাত বছরেরও বেশি সময় আগে।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে তাহির খেলেছেন ২০টি টেস্ট, ১০৭টি ওয়ানডে ও ৩৮টি টি-টোয়েন্টি। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে তাঁর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি ছিল ওয়ানডে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার পরও টি-টোয়েন্টির বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেলে যাচ্ছেন তাহির। বয়সকে পেছনে ফেলে এবার ৪৭ বছর বয়সে গড়লেন নতুন এক বিশ্বরেকর্ড।

কালের আলো/এসএ

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগে গতি আনতে চার সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগে গতি আনতে চার সদস্যের কমিটি

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত করতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো. হুমায়ুন কবিরের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে ‘উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার শূন্য পদে নিয়োগসংক্রান্ত কমিটি’ গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়।

কমিটিতে যারা আছেন

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন—

  • মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি
  • প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব
  • জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব

কমিটির কাজ কী

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে এই কমিটি।

প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

শূন্য পদে নিয়োগে উদ্যোগ

কৃষি খাতে মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিন ধরে এ পদে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। এসব শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত করতেই সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির কার্যক্রমের মাধ্যমে শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।

কালের আলো/এসএ