উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন গতি, ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ
যমুনা সেতু পার হওয়ার পর হাটিকুমরুলসহ বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট ও ধীরগতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে পড়ছেন উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকেরা। বিশেষ করে ঈদের সময় যানবাহনের চাপ বেড়ে এই দুর্ভোগ তীব্র আকার ধারণ করে। এ পরিস্থিতি কমাতে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে নির্মাণাধীন ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ ফ্লাইওভার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চারলেন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ইন্টারচেঞ্জটি। প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা দিন-রাত দুই শিফটে কাজ করছেন।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, বালু ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল, ব্রিজ নির্মাণ ও সার্ভিস এরিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজের বড় অংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ছয়টি সার্ভিস লেনও চালু করা হয়েছে।
সাসেক-২-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সরফরাজ হোসাইন বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ইন্টারচেঞ্জ ফ্লাইওভারের মূল কাঠামোর নির্মাণ শেষ করে যান চলাচলের উপযোগী করাই লক্ষ্য। এ জন্য শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা ২৪ ঘণ্টা দুই শিফটে কাজ করছেন।
সাসেক-২-এর প্রকল্প পরিচালক ড. মো. ওয়ালিউর রহমান জানান, নির্মাণকাজে নির্ভুলতা ও তদারকি নিশ্চিত করতে জিপিএস প্রযুক্তি ও বিল্ডিং ইনফরমেশন মডেলিং (বিআইএম) সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে প্রকল্পের পুরো সুফল পেতে যমুনা সেতুর ওপরের অংশের সম্প্রসারণকাজও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সেতুর ওপরের পুরোনো রেললাইন অপসারণের পর দুই লেন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজ শেষ না হলে যানজটের স্থায়ী সমাধান কঠিন হতে পারে বলে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, সেতুর ওপরের অংশ সম্প্রসারণে ২৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। আগামী রোজার ঈদের আগে সম্প্রসারিত অংশ যান চলাচলের উপযোগী করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ইন্টারচেঞ্জসহ পুরো চারলেন চালু হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিপণ্য ও শিল্পসামগ্রী দ্রুত রাজধানীতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে পরিবহন সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয়েই উপকৃত হবেন।
প্রায় ১০ বছর আগে ২০১৬ সালে সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় মহাসড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালে হাটিকুমরুল মোড়ে ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জের নির্মাণকাজ শুরু হলেও ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
ইন্টারচেঞ্জটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এর সুফল পুরোপুরি পেতে যমুনা সেতুর সম্প্রসারণসহ মহাসড়কের অন্যান্য কাজও সময়মতো শেষ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
কালের আলো/এমএসআইপি


আপনার মতামত লিখুন
Array