খুঁজুন
                               
, ,
           

থার্ড টার্মিনালের চাবি কার হাতে?

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
থার্ড টার্মিনালের চাবি কার হাতে?

২২ হাজার ২১৩ কোটি টাকার অবকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। আধুনিক যন্ত্রপাতিও বসানো হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিও চলছে। কিন্তু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সামনে এখন সবচেয়ে বড় বাধা কোনো নির্মাণকাজ নয়—কে, কী শর্তে এবং কোন কাঠামোয় টার্মিনালটি চালাবে, সেই চুক্তি।

জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রাজস্ব ভাগাভাগি, বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং থেকে আয়ের অংশ এবং সেই আয়ের নিশ্চয়তায় রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি—একাধিক শর্তে দুই পক্ষের দরকষাকষি চলছে। বেবিচক ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চুক্তি সেরে ফেলতে চাইছে। কারণ চুক্তি যত পিছোবে, ডিসেম্বরের চালুর সময়সূচিও তত অনিশ্চিত হবে।

  • অবকাঠামো প্রস্তুত হলেও পরিচালনা চুক্তিতে অচলাবস্থা
  • জাপানের সঙ্গে রাজস্ব ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নিয়ে দরকষাকষি
  • সামনে ডিসেম্বরের সময়সীমা

এর মধ্যে প্রকল্পের ব্যয়ও থামছে না। সর্বশেষ ৮৪৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় করা হয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যয়ের অঙ্ক বাড়ছে, ভবন প্রস্তুত হচ্ছে; কিন্তু যাত্রীসেবা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় অপারেশনাল কাঠামো এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

জটের কেন্দ্রে জাপানি কনসোর্টিয়াম

তৃতীয় টার্মিনালের মূল অবকাঠামোর বড় অংশের কাজ শেষ। আধুনিক ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, বোর্ডিং ব্রিজ, মেকানিক্যাল সার্ভিস ও আইটি নেটওয়ার্কও স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন ও অপারেশনাল কাঠামো এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। পিপিপি মডেলে টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে দেওয়ার কথা। আগস্টে তারা কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

মূল্যায়ন শেষে আলোচনা শুরু হলেও চুক্তির শর্ত নিয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি। বেবিচকের একাধিক সূত্রের ভাষ্য, সময়ক্ষেপণের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ চুক্তি স্বাক্ষরের পরও জাপানি অপারেটরের জনবল নিয়োগ, প্রযুক্তিগত সিস্টেম স্থাপন এবং ট্রায়াল রান শেষ করতে সময় লাগবে।

৮৫ শতাংশ থেকে নতুন দরকষাকষি

আলোচনার সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গা রাজস্ব ভাগাভাগি। আগের কাঠামোয় জাপানি অংশীদারের অংশ ছিল ৮৫ শতাংশ, বাংলাদেশের ১৫ শতাংশ। নতুন প্রস্তাব ঘিরে পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, আয়-ব্যয় ও অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়ে চলছে দরকষাকষি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবসা।

বিমান তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পরিচালনা করতে পারবে—এমন কাঠামো নিয়ে আলোচনা রয়েছে। কিন্তু এই খাতের আয় থেকেও অংশ চাচ্ছে জাপানি প্রতিষ্ঠান। বিমানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টার্মিনাল দ্রুত চালুর স্বার্থে এ বিষয়ে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা রয়েছে। তবে জাপানি পক্ষ আয় ভাগাভাগির পাশাপাশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে লিখিত গ্যারান্টি চাইছে। ফলে একটি টার্মিনাল চালুর চুক্তি এখন শুধু অপারেশনাল বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব ও রাষ্ট্রীয় দায়ের প্রশ্নও।

চুক্তি হলেও সময় থাকবে মাত্র কয়েক সপ্তাহ

বেবিচক ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চুক্তি করতে চাইছে। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরই শেষ ধাপ নয়। অপারেটরকে জনবল নিয়োগ, নিজস্ব সিস্টেম স্থাপন, প্রশিক্ষণ ও ট্রায়াল রান করতে হবে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার ছাড়পত্র, নিরাপত্তা মহড়া এবং গ্রাউন্ড অপারেশনের সক্ষমতা যাচাইও প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, টার্মিনালের সামগ্রিক প্রকল্পের প্রায় ১০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি। এর মধ্যে রয়েছে শেষ মুহূর্তের অভ্যন্তরীণ কাজ, সফটওয়্যার ও ডেটা ইন্টিগ্রেশন, কাস্টমস-ইমিগ্রেশনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কিছু যন্ত্রপাতি স্থাপন। ফলে অক্টোবরের শেষে চুক্তি হলেও ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ফ্লাইট চালু করতে প্রস্তুতির জন্য সময় থাকবে খুবই সীমিত।

ব্যয় বাড়ছে, সময়ও গড়াচ্ছে

প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা দিয়ে শুরু হয়েছিল তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প। কয়েক দফা সংশোধনের পর ব্যয় ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার বেশি হয়। সর্বশেষ আরও ৮৪৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা যোগ হয়েছে। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। এখন তাই প্রকল্পের সাফল্যের মাপকাঠি শুধু নির্মাণ শেষ হওয়া নয়। এত বড় বিনিয়োগের অবকাঠামো কত দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার করা যাচ্ছে, সেটিই হয়ে উঠেছে মূল প্রশ্ন।

কক্সবাজারে নতুন টার্মিনাল, ঢাকায় পুরোনো জট

থার্ড টার্মিনালের জটিলতার বিপরীতে কক্সবাজারে এগিয়েছে নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালের কার্যক্রম। পরীক্ষামূলক যাত্রীসেবা শুরু হয়েছে। চলতি মাসেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর কথা। নতুন টার্মিনালে রয়েছে সাতটি স্ক্যানার, ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার এবং ১০টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক। হোল্ড ও কেবিন ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের পাশাপাশি রয়েছে আধুনিক ব্যাগেজ কন্ট্রোল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা। কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম মোর্তজা হোসেন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য তারা প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় জনবলও রয়েছে।

এখন প্রশ্ন একটাই

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালকে দেশের এভিয়েশন খাতের ‘গেম চেঞ্জার’ বলা হচ্ছে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বরের লক্ষ্য পূরণ এখন নির্ভর করছে কয়েকটি শর্তের ওপর—চুক্তি, অপারেটরের প্রস্তুতি, ট্রায়াল রান, নিরাপত্তা মহড়া এবং প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দরজাটি এখনো খোলেনি। ২২ হাজার কোটি টাকার টার্মিনাল দাঁড়িয়ে আছে; এখন দেখার বিষয়, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চুক্তির তালা খুলে ১৬ ডিসেম্বর সত্যিই আকাশে ওঠে কি না প্রথম ফ্লাইট।

কালের আলো/টিইকে/এমকে 

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ব্যবসায় আয়াতুল্লাহ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ব্যবসায় আয়াতুল্লাহ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের তেলকুপি গ্রামের বাসিন্দা আয়াতুল্লাহ। দুই হাত নেই, তবুও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি তিনি। ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে না নিয়ে হরেক মালের ব্যবসা করে সংসারের হাল ধরেছেন এই সংগ্রামী মানুষটি।

ছোট্ট একটি ভ্যানে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে হাট-বাজার ও গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেচাকেনা করেন আয়াতুল্লাহ। বাবা-মা, স্ত্রী, ছেলে ও ভাইসহ ছয় সদস্যের পরিবারের দায়িত্ব তার কাঁধে। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা লাভ করেন। এই আয় দিয়েই কোনোভাবে চলে তার সংসার।

২০১০ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই হাত হারান আয়াতুল্লাহ। দুর্ঘটনার পর সুস্থ হতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে তার পরিবার। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও অভাবের কাছে হার মানেননি তিনি।

ভিক্ষাবৃত্তিতে না গিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে শুরু করেন হরেক মালের ব্যবসা। প্রথম দিকে কাঁধে ঝোলানো ডালি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ও বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে পণ্য বিক্রি করতেন। সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি ভ্যান ও কিছু পণ্য পাওয়ার পর সেই ভ্যানেই ব্যবসা করছেন তিনি। ব্যবসার কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার ছোট ভাই।

আয়াতুল্লাহ বলেন, এভাবে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ব্যবসা করতে অনেক সময় অনিরাপদ মনে হয়। কোথাও একটি স্থায়ী দোকানের ব্যবস্থা হলে নিরাপদে থেকে ব্যবসা করতে পারবেন এবং আয়ও বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ও আব্দুল মালেক জানান, কয়েক বছর ধরে তারা আয়াতুল্লাহকে এভাবেই সংসার চালাতে দেখছেন। আগে তিনি বড় একটি ডালিতে পণ্য নিয়ে গলায় ঝুলিয়ে হাট-বাজারে বিক্রি করতেন। এখন ভ্যান পাওয়ায় তার ব্যবসা কিছুটা সহজ হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, আয়াতুল্লাহকে একটি স্থায়ী দোকানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হলে তাকে আর হাটে-ঘাটে ঘুরে ব্যবসা করতে হবে না। এতে ব্যবসা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবারের জন্য আরও স্বচ্ছল জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

দুই হাত হারালেও বেঁচে থাকার ইচ্ছাশক্তি হারাননি আয়াতুল্লাহ। ভিক্ষা নয়, নিজের শ্রম ও ব্যবসার আয়ে পরিবার চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি। এখন তার প্রত্যাশা, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে আরও একটু স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারে ওপেনএআইয়ের ৩ গবেষক বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারে ওপেনএআইয়ের ৩ গবেষক বরখাস্ত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে নিরাপত্তা ও ঝুঁকির বিতর্কের মধ্যেই সংবেদনশীল তথ্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যবহারের অভিযোগে তিন গবেষককে বরখাস্ত করেছে ওপেনএআই। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে বরখাস্ত হওয়া তিন কর্মীর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি ওপেনএআই।

প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ

এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওপেনএআই জানিয়েছে, তদন্তে ওই তিন কর্মীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এ ঘটনায় তাদের নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরখাস্ত হওয়া তিন গবেষক হলেন জেসমিন ওয়াং, তোমেক কোরবাক ও মিকিতা বালেসনি। তবে তাঁদের কেউই এএফপির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।

এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত

বরখাস্ত হওয়া তিন গবেষকই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এআইয়ের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত মতামত প্রকাশ করে আসছিলেন।

মিকিতা বালেসনি ১০ সেপ্টেম্বর এক পোস্টে লিখেছিলেন, ওপেনএআইয়ে কাজ করার সুবাদে তাঁর ধারণা, এআইয়ের কারণে সব মানুষের মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি।

অন্যদিকে তোমেক কোরবাক ১১ সেপ্টেম্বর ওপেনএআইয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করলেও নিজের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন।

এআই নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

ওপেনএআইয়ের তিন কর্মীকে বরখাস্ত করার ঘটনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন শক্তিশালী এআই মডেলের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে এসব প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

গত মাসে ২৭ বছর বয়সী এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, ওপেনএআইসহ শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমে ‘আমাদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে’।

এদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এআই মডেলের নিরাপত্তা নিয়ে আরও কিছু ঘটনা সামনে এসেছে। ওপেনএআই তাদের নতুন ‘অ্যাস্ট্রা ৬.১’ মডেল প্রকাশের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পরীক্ষায় মডেলটিকে পুরোপুরি বিশ্বস্ত মনে হয়নি এবং এতে নির্দেশনা অমান্য করার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

ফলে শক্তিশালী এআই মডেল তৈরির পাশাপাশি এসব প্রযুক্তির নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে প্রযুক্তি খাতে বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

মদিনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা, হুতিদের দায়ী সৌদি জোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
মদিনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা, হুতিদের দায়ী সৌদি জোট

সৌদি আরবের মদিনায় পবিত্র মসজিদে নববির একটি বিদ্যুৎ সরবরাহকেন্দ্রে হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের দাবি, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ড্রোন দিয়ে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়।

তবে হুতিদের সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সৌদি জোটের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্রান্সফরমার অচল

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেছে। তবে এতে মদিনার বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

জোটের দাবি, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও তদন্তের পর তারা নিশ্চিত হয়েছে যে হুতিরাই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত ছিল।

অভিযোগ অস্বীকার হুতিদের

হুতি সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র সৌদি জোটের অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছে। ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে সূত্রটি জানায়, এর আগে সৌদি জোট হুতিদের বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা নগরীতে হামলার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছিল। কিন্তু সেই অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে পারেনি।

হুতিদের দাবি, ওই ব্যর্থতা আড়াল করতেই এবার মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

মক্কায় ড্রোন হামলার অভিযোগও অস্বীকার

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, মক্কা নগরীর দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ড্রোনটি মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়।

সৌদি জোট তখন দাবি করেছিল, ২০১৭ সালের পর মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। তবে হুতিরা মক্কা কিংবা ইসলামের অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলার চেষ্টা করার অভিযোগও অস্বীকার করে।

পবিত্র স্থানে হামলার অভিযোগ সৌদি জোটের

মদিনার সাম্প্রতিক ঘটনা প্রসঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ, হুতিরা মসজিদে নববি ও মক্কার মসজিদুল হারামে বারবার হামলার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। মঙ্গলবারের হামলাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে দাবি করেছে তারা।

জোটের ভাষ্য, মুসলিমদের উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসব হামলার চেষ্টা করা হচ্ছে। পবিত্র স্থান ও মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সৌদি জোট।

সানা ও ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা হামলার দাবি

এদিকে হুতিরা দাবি করেছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির অন্যান্য এলাকায় হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলার তথ্য নিশ্চিত করেনি।

ইয়েমেন সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্রও জানিয়েছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

খামিস মুশাইতে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি

সৌদি জোট আরও জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে যাওয়ার সময় শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

এদিকে স্থানীয় কর্মকর্তারা শুক্রবার ভোরে জানিয়েছেন, হুতিরা এডেনে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এসএ