খুঁজুন
                               
, ,
           

সাবিলাকে ঘিরে প্রেমের গুঞ্জন, ভেঙে গেল ডিওপির সাত বছরের সম্পর্ক!

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
সাবিলাকে ঘিরে প্রেমের গুঞ্জন, ভেঙে গেল ডিওপির সাত বছরের সম্পর্ক!

ঢালিউডের অভিনেত্রী সাবিলা নূরকে ঘিরে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপড়েনের গুঞ্জনের মধ্যেই সামনে এসেছে চিত্রগ্রাহক (ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি—ডিওপি) আবদুল মামুনকে ঘিরে আরেকটি অভিযোগ। তবে এসব বিষয়ে সাবিলা নূর, তাঁর স্বামী কিংবা আবদুল মামুন—কেউই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেননি।

বাংলানিউজ২৪-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবিলা অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংকে কেন্দ্র করে আবদুল মামুনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেছেন মামুনের সাবেক প্রেমিকা তিশা। তাঁর দাবি, এই সম্পর্কের জেরে আবদুল মামুনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সাত বছরের প্রেম এবং নির্ধারিত বিয়ে ভেঙে গেছে।

বিয়ের প্রস্তুতির মধ্যেই সম্পর্কের ইতি

তিশার ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুল মামুনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ মে। বিয়ের সব প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু বিয়ের কয়েক দিন আগে মামুন তাঁকে জানান, তিনি আর বিয়ে করতে চান না।

তিশা বলেন, কেন মামুন বিয়ে করতে চাইছেন না, তা জানার চেষ্টা করেও প্রথমে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাননি। পরে সাবিলা নূরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি। এরপর ১২ মে মামুন তাঁকে জানান, কোনোভাবেই এই বিয়ে সম্ভব নয়।

তিশার অভিযোগ, দুই পরিবারের পক্ষ থেকে মামুনকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে আর হয়নি। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান।

‘আমার ভালোবাসার মূল্য দিল না’

নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিশা বলেন, আবদুল মামুনের সঙ্গে তাঁর ক্যারিয়ারও প্রায় একই সময়ে শুরু হয়েছিল। ‘রকস্টার’ সিনেমায় শাকিব খানের মতো বড় তারকার সঙ্গে কাজের সুযোগ থাকায় তিনি নিজেই বিয়ে পিছিয়ে দিতে রাজি হয়েছিলেন বলে জানান।

তিশার দাবি, সিনেমাটির শুটিং শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক আর টেকেনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবিলা নূর তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে জানতেন। তারপরও তাঁর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন তিশা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবিলা নূর বা আবদুল মামুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাবিলার সংসার নিয়েও গুঞ্জন

২০১৯ সালে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর নেহাল সুনন্দ তাহেরকে বিয়ে করেন সাবিলা নূর। সম্প্রতি তাঁদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যেই আবদুল মামুনের সঙ্গে সাবিলার কথিত সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে।

এদিকে, শাকিব খানের সঙ্গে সাবিলার ঘনিষ্ঠতা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। ‘তাণ্ডব’ ও ‘রকস্টার’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সূত্র ধরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা দাবি করা হলেও, এসব জল্পনার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মেলেনি

সাবিলা নূর, তাঁর স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহের এবং আবদুল মামুনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি। ফলে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক, আবদুল মামুনের সঙ্গে সাবিলার কথিত প্রেম কিংবা তিশার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পেছনের কারণ—এসব বিষয়ে প্রকাশিত অভিযোগ ও গুঞ্জনকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চললেও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া কোনো অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

কালের আলো/জেএন/এসএ

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ৭ জনের মৃত্যু, উদ্ধারকাজে যোগ দিল বিজিবি

কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ৭ জনের মৃত্যু, উদ্ধারকাজে যোগ দিল বিজিবি

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজে সহায়তা দিতে ঘটনাস্থলে যোগ দিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য বিজিবি সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন।

সকাল ৭টার দিকে আগুনের সূত্রপাত

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজারের ইনানীতে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। আগুন লাগার পর সেখানে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি উদ্ধারকাজে সহায়তা দিতে এগিয়ে আসে বিজিবি। রিসোর্টটির অবস্থান সমুদ্রসৈকত ও মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন এলাকায় হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা ও উদ্ধার তৎপরতা গুরুত্ব পায়। অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য বিজিবি সদস্যরা যোগ দেন বলে জানিয়েছেন বাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম। তবে উদ্ধারকাজে বিজিবির সদস্যসংখ্যা, তাঁদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বেলা ১১টার দিকে রিসোর্টটির আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতদের পরিচয়, তাঁদের মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

 

হাসপাতালে আকস্মিক প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি, ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রকাশ করলেন অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ
হাসপাতালে আকস্মিক প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি, ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রকাশ করলেন অসন্তোষ

দেশের চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবার মান এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে তাঁর এই আকস্মিক সফরে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নয়নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন প্রধানমন্ত্রী।

রোগীদের সঙ্গে কথা বলে নিলেন চিকিৎসার খোঁজ

শনিবার সকালে পূর্বঘোষণা ছাড়াই কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিদর্শনকালে তিনি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের কাছে যান। তাঁদের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা কী ধরনের সেবা পাচ্ছেন, চিকিৎসার পরিবেশ কেমন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে—এসব বিষয় সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

আইসিইউ ও অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শন

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষ (অপারেশন থিয়েটার) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ঘুরে দেখেন। এসব বিভাগের কার্যক্রম ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণের সময় হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা এবং সেবার মান বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

উন্নয়নে সাত দিনের সময়সীমা

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের পরিস্থিতি দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আগামী সাত দিনের মধ্যে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার মান উন্নত করার সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশের লক্ষ্য হলো হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত করা এবং রোগীদের জন্য চিকিৎসাসেবা আরও সুশৃঙ্খল ও উপযোগী করে তোলা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মধ্যে হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন চিকিৎসাসেবার পরিবেশ সরাসরি পর্যবেক্ষণের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

বার পরীক্ষায় অকৃতকার্য, তবু ‘অ্যাটর্নি’ পরিচয়—বিতর্কে ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
বার পরীক্ষায় অকৃতকার্য, তবু ‘অ্যাটর্নি’ পরিচয়—বিতর্কে ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি

আইনের ডিগ্রি রয়েছে, কিন্তু বার পরীক্ষায় পাস করেননি—তবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক পোস্টে নিজেকে ‘অ্যাটর্নি’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিতর্কে জড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারাইয়া। গত দুই বছরে তাঁকে ‘অ্যাটর্নি’ হিসেবে উল্লেখ করা অন্তত ১৫টি পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি। বিষয়টি সামনে আসার পর তাঁর পেশাগত পরিচয় ও আইনি যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির কারুসো স্কুল অব ল থেকে স্নাতক হন জাকারাইয়া। তবে তিনি বার পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, প্রথমবার অকৃতকার্য হওয়ার পর আর পরীক্ষায় বসেননি।

জাকারাইয়া নিজেই বলেছেন, টেলিভিশনে কাজ শুরুর আগে পেশাগত পরিচয় কীভাবে তুলে ধরা উচিত, সে বিষয়ে কয়েকজনের পরামর্শ নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, তাঁকে ‘আইনজীবী’ বলা যেতে পারে, তবে ‘অ্যাটর্নি’ বা ‘এসকোয়ার’ পরিচয় ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

‘অ্যাটর্নি’ পরিচয়ে একাধিক পোস্ট শেয়ার

২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ও ট্রুথ সোশ্যালে জাকারাইয়া অন্তত ১৫টি পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে তাঁকে ‘অ্যাটর্নি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পোস্টগুলোর মধ্যে ফক্স নিউজ ও ওয়ান আমেরিকা নিউজের বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং অনুষ্ঠানের প্রচারমূলক কনটেন্টও ছিল।

সিএনএনের পর্যালোচনা অনুযায়ী, এসব পোস্টের কিছুতে তাঁকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলেও তিনি সেগুলো নিজের অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। এ ছাড়া টেলিভিশন ও পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রতিলিপিতেও তাঁকে একাধিকবার নিজের পরিচয় ‘আইনজীবী’ হিসেবে তুলে ধরতে দেখা গেছে।

তবে জাকারাইয়ার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, অন্যদের তৈরি করা পোস্ট শেয়ার করার অর্থ এই নয় যে তিনি সেখানে ব্যবহৃত পরিচয়কে সমর্থন করেছেন।

ফক্স নিউজকে জাকারাইয়া বলেন, ‘আমার মনে হয়, সেগুলো ছিল রিটুইট। আমি বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেছি, ওই পরিচয়কে সমর্থন করার জন্য সেগুলো দেওয়া হয়নি।’

বার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার স্বীকারোক্তি

জাকারাইয়ার বার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা চলছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালে তিনি পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। তাঁর পরিচিত একটি সূত্রও প্রতিবেদনের এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানায় সংবাদমাধ্যমটি।

বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাকারাইয়া জানান, প্রথমবার পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি দ্বিতীয়বার আর পরীক্ষা দেননি। তবে তাঁর দাবি, আইন বিষয়ে ডিগ্রি ও পেশাগত অভিজ্ঞতার কারণে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়ে তিনি পরামর্শ পেয়েছিলেন।

রিয়েল আমেরিকাস ভয়েসকে তিনি বলেন, ‘তাঁরা সবাই বলেছেন, অবশ্যই আপনি নিজেকে আইনজীবী বলতে পারেন। আপনার জেডি (জুরিস ডক্টর) ডিগ্রি আছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক লেনদেনবিষয়ক আইনে কাজের অভিজ্ঞতাও আছে।’

তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, আইন বিষয়ে ডিগ্রি থাকা মানেই আইনগত পরামর্শ দেওয়ার অনুমতি থাকা নয়।

ক্যালিফোর্নিয়ায় আইন পেশার লাইসেন্স নেই

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে আইন পেশায় কাজ করার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা ও লাইসেন্স প্রয়োজন। ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট বার সিএনএনকে জানিয়েছে, জাকারাইয়া কখনো সেখানে আইন পেশা পরিচালনার লাইসেন্স পেয়েছেন—এমন কোনো রেকর্ড তাদের কাছে নেই।

জাকারাইয়া অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি কখনো নিজেকে ‘অ্যাটর্নি অ্যাট ল’ হিসেবে উপস্থাপন করেননি। তাঁর বক্তব্য, নিজের আইনি শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা রাখেন।

তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতার একটি অংশ ছিল চীনে। জাকারাইয়া জানান, আইন স্কুল শেষ করার পর তিনি বেইজিংয়ে চলে যান এবং সেখানে প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর আইনি খাতে কাজ করেন। স্বামীর সঙ্গে চীনে যাওয়ার পর বার পরীক্ষার ফলকে তিনি আর গুরুত্বপূর্ণ মনে করেননি বলেও জানান।

চীনে ঝং লুন ল ফার্মের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম বিভাগে কাজ করার কথা উল্লেখ করে জাকারাইয়া বলেন, সেখানে তিনি একজন জ্যেষ্ঠ অংশীদারের অধীনে শেয়ারহোল্ডার চুক্তিসংক্রান্ত কাজে যুক্ত ছিলেন।

তদন্তের দাবি, পাশে হোয়াইট হাউস

জাকারাইয়ার পেশাগত পরিচয় নিয়ে বিতর্ক বাড়ার পর ক্যাম্পেইন ফর অ্যাকাউন্টেবিলিটি নামের একটি নজরদারি সংস্থা ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট বারের কাছে তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, জাকারাইয়া নিজের আইনি যোগ্যতা যথাযথভাবে তুলে ধরেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে, হোয়াইট হাউস তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এক মুখপাত্রের ভাষ্য, ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মার্কিন জনগণকে অবহিত করার জন্য জাকারাইয়া ‘বিশেষভাবে যোগ্য’ এবং ‘অত্যন্ত তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন’।

প্রেস সেক্রেটারির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নটি প্রকাশ্যে আসে এ সপ্তাহে, যখন সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, তাঁর নতুন মুখপাত্র কোন অঙ্গরাজ্যে বার পরীক্ষায় পাস করেছেন। ট্রাম্প পাশে থাকা জাকারাইয়ার দিকে প্রশ্নটি ছুড়ে দিলে তিনি উত্তর দেন, ‘আমি যখন চীনে চলে যাই।’

পরে নিউইয়র্ক টাইমসকে জাকারাইয়া বলেন, মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারের শব্দের কারণে তিনি প্রশ্নটি ভুল শুনেছিলেন। তাঁর ধারণা হয়েছিল, আইন স্কুল শেষ করার পর কোথায় গিয়েছিলেন—সাংবাদিকেরা সেটিই জানতে চেয়েছেন।

বার পরীক্ষায় পাস না করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অ্যাটর্নি’ পরিচয়সংবলিত পোস্ট শেয়ার করা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় আইন পেশার লাইসেন্স না থাকার বিষয়গুলো ঘিরে এখন বিতর্ক চলছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের অনুরোধ করা হলেও, এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আইনি অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

কালের আলো/জেএন/এসএ