সাবিলাকে ঘিরে প্রেমের গুঞ্জন, ভেঙে গেল ডিওপির সাত বছরের সম্পর্ক!
ঢালিউডের অভিনেত্রী সাবিলা নূরকে ঘিরে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপড়েনের গুঞ্জনের মধ্যেই সামনে এসেছে চিত্রগ্রাহক (ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি—ডিওপি) আবদুল মামুনকে ঘিরে আরেকটি অভিযোগ। তবে এসব বিষয়ে সাবিলা নূর, তাঁর স্বামী কিংবা আবদুল মামুন—কেউই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেননি।
বাংলানিউজ২৪-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবিলা অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংকে কেন্দ্র করে আবদুল মামুনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেছেন মামুনের সাবেক প্রেমিকা তিশা। তাঁর দাবি, এই সম্পর্কের জেরে আবদুল মামুনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সাত বছরের প্রেম এবং নির্ধারিত বিয়ে ভেঙে গেছে।
বিয়ের প্রস্তুতির মধ্যেই সম্পর্কের ইতি
তিশার ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুল মামুনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ মে। বিয়ের সব প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু বিয়ের কয়েক দিন আগে মামুন তাঁকে জানান, তিনি আর বিয়ে করতে চান না।
তিশা বলেন, কেন মামুন বিয়ে করতে চাইছেন না, তা জানার চেষ্টা করেও প্রথমে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাননি। পরে সাবিলা নূরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি। এরপর ১২ মে মামুন তাঁকে জানান, কোনোভাবেই এই বিয়ে সম্ভব নয়।
তিশার অভিযোগ, দুই পরিবারের পক্ষ থেকে মামুনকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে আর হয়নি। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান।
‘আমার ভালোবাসার মূল্য দিল না’
নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিশা বলেন, আবদুল মামুনের সঙ্গে তাঁর ক্যারিয়ারও প্রায় একই সময়ে শুরু হয়েছিল। ‘রকস্টার’ সিনেমায় শাকিব খানের মতো বড় তারকার সঙ্গে কাজের সুযোগ থাকায় তিনি নিজেই বিয়ে পিছিয়ে দিতে রাজি হয়েছিলেন বলে জানান।
তিশার দাবি, সিনেমাটির শুটিং শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক আর টেকেনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবিলা নূর তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে জানতেন। তারপরও তাঁর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন তিশা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবিলা নূর বা আবদুল মামুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাবিলার সংসার নিয়েও গুঞ্জন
২০১৯ সালে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর নেহাল সুনন্দ তাহেরকে বিয়ে করেন সাবিলা নূর। সম্প্রতি তাঁদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যেই আবদুল মামুনের সঙ্গে সাবিলার কথিত সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে।
এদিকে, শাকিব খানের সঙ্গে সাবিলার ঘনিষ্ঠতা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। ‘তাণ্ডব’ ও ‘রকস্টার’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সূত্র ধরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা দাবি করা হলেও, এসব জল্পনার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মেলেনি
সাবিলা নূর, তাঁর স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহের এবং আবদুল মামুনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি। ফলে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক, আবদুল মামুনের সঙ্গে সাবিলার কথিত প্রেম কিংবা তিশার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পেছনের কারণ—এসব বিষয়ে প্রকাশিত অভিযোগ ও গুঞ্জনকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চললেও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া কোনো অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
কালের আলো/জেএন/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array