খুঁজুন
                               
, ,
           

ডেঙ্গু ও গরম মোকাবিলায় তরুণদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তিন বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ডেঙ্গু ও গরম মোকাবিলায় তরুণদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তিন বার্তা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকার বা সিটি করপোরেশনের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা ও নগরীর তাপমাত্রা কমাতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সবুজায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তাঁর মতে, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণেরা উদ্যোগী হলে নিজেদের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধেই গুরুত্ব

ডেঙ্গু মোকাবিলায় রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শুধু সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার নয়, নাগরিকদেরও—এমন বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের নিজেদের ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাড়া পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি সামনে রেখে তিনি তরুণদের এমন উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান, যাতে পরিচ্ছন্নতা একটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ নগরীতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন।

‘এত মানুষের শহরে শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর নির্ভর করা যায় না’

ঢাকা শহরের বিপুল জনসংখ্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের এই শহরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে নগরীর সব জায়গা পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব শুধু তাঁদের ওপর ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করতে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাঁকে সচেতন করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। নগরীতে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন এবং সিটি করপোরেশনের লাগানো গাছের চারা চুরির ঘটনায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন তারেক রহমান। এসব ঘটনায় নাগরিক দায়িত্ববোধের ঘাটতি স্পষ্ট হয় বলে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি সবাইকে আরও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান। পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদের নিজেদের আচরণেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলা, আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় সচেতন হওয়াকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

জন্মদিনে অন্তত একটি গাছ লাগানোর পরামর্শ

ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের বিষয়েও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও ঢাকায় সবুজের ঘাটতি নিয়ে শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, একসময় ঢাকা অনেক বেশি সবুজ ছিল। এখন বহুতল ভবন গড়ে ওঠায় গরমের অনুভূতি বেড়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করতে বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাইবোন কিংবা নানা-নানির জন্মদিনেও গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব। তাঁর এই আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো, বিশেষ কোনো দিবসের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গাছ লাগানোকে পারিবারিক ও সামাজিক অভ্যাসে পরিণত করা। শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে গাছ লাগালে ভবিষ্যতে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে তরুণদের অংশগ্রহণ চান প্রধানমন্ত্রী

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পাড়া, স্কুল ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে সহযোগিতা চান। শিক্ষার্থীরা তাঁর আহ্বানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইতিবাচক সাড়া দেয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সবুজায়ন—এই তিনটি ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করলে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা, আশপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং গাছের চারা রক্ষা করার মতো কাজগুলোতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিক দায়িত্ববোধের চর্চা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

নাগরিক সচেতনতাই পরিচ্ছন্ন নগরীর ভিত্তি

ঢাকার মতো জনবহুল শহরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও পরিবেশ রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার বংশবিস্তারের উপযোগী স্থান তৈরি হতে না দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে তাই তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম সচেতনতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক দায়িত্ব এবং পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত বৃক্ষরোপণ।

শিক্ষার্থী ও তরুণেরা এসব উদ্যোগে যুক্ত হলে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে এ উদ্যোগকে কার্যকর করতে ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবি, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবি, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধ করতে বলা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণ। রোববার (১৮ অক্টোবর) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ আপিল আবেদন করা হয়। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা রিট খারিজ করে এনবিআরের দাবি করা কর পরিশোধের পক্ষে রায় দেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ওই অর্থ আদায়ে এনবিআরের আইনি বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছিলেন আইনজীবীরা। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে এবার আপিল করল গ্রামীণ কল্যাণ।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দেন। এর ফলে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বহাল থাকে।আদালতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল। পরে গত ১২ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর মামলাসংশ্লিষ্ট ১৫ ও ৩২ পৃষ্ঠার পৃথক পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ আপিল করেছে।

পাঁচ করবর্ষের কর দাবি নিয়ে মামলা

মামলাটি গ্রামীণ কল্যাণের পাঁচটি করবর্ষের আয়কর দাবি নিয়ে। করবর্ষগুলো হলো ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭। পুনর্মূল্যায়নের পর এসব করবর্ষের জন্য এনবিআর গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর দাবি করে। ওই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি পৃথক দুটি রিট আবেদন করে। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরবর্তী সময়ে নতুন বেঞ্চে মামলাগুলোর শুনানি হয় এবং রুল খারিজ করে রায় দেওয়া হয়। রিট খারিজ হওয়ায় এনবিআরের দাবি করা অর্থ আদায়ের পথ খুলেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তবে গ্রামীণ কল্যাণের আপিলের পর এ বিষয়ে আপিল বিভাগে কী সিদ্ধান্ত আসে, তা এখন দেখার বিষয়।

আগের রায় প্রত্যাহার করে নতুন বেঞ্চে শুনানি

এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় এর আগে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বপ্রণোদিতভাবে আগের একটি রায় প্রত্যাহার করে নেন। ওই রায়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আদায়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। পরে মামলাটি শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়। নতুন বেঞ্চে পুনরায় শুনানি ও বিচারিক পর্যালোচনার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর রিট খারিজ করে রায় দেওয়া হয়। এবার সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেছে গ্রামীণ কল্যাণ।

আপিল বিভাগে পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

গ্রামীণ কল্যাণের আপিলের ফলে ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবি নিয়ে আইনি লড়াই নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের পর এখন আপিল বিভাগে মামলাটির শুনানি ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে। তবে আপিল আবেদন দাখিলের পর আপিল বিভাগের কোনো আদেশ বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এনবিআরের দাবি করা অর্থ পরিশোধের বিষয়ে পরবর্তী আইনি অবস্থান নির্ধারিত হবে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট আদেশের ভিত্তিতে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

খুলনার কয়রা

৭১ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ১৪ মাসেও অগ্রগতি মাত্র ৫ শতাংশ

খুলনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
৭১ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ১৪ মাসেও অগ্রগতি মাত্র ৫ শতাংশ

খুলনার কয়রা উপজেলায় কপোতাক্ষ নদের তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ দুই দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পরও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৮০ শতাংশ। এরই মধ্যে কয়েকটি স্থানে নদপাড়ের মাটি ধসে পড়েছে। প্রকল্পের কাজের ধীরগতি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ব্লক গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের কাশিরহাটখোলা, গাজীপাড়া ও গাববুনিয়া এলাকায় কপোতাক্ষ নদের তীর রক্ষায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বর্ধন’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি শুরু হয় ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্সকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল।

প্রকল্পের কাজ তদারকি করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতক্ষীরা-২ বিভাগ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের অগ্রগতি ছিল ৭৫ শতাংশ। গত শুক্রবার পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ শতাংশে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের পর ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও অগ্রগতি বেড়েছে মাত্র ৫ শতাংশ। এর মধ্যে দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৪৫০ মিটার নদীতীর রক্ষায় তিন লাখ ৮২ হাজার সিসি ব্লক ডাম্পিং এবং এক লাখ ১১ হাজার ব্লক স্থাপনের কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এ পর্যন্ত তিন লাখ ২২ হাজার ব্লক ডাম্পিং করা হয়েছে। তবে প্রায় ৬০০ মিটার বাঁধে ব্লক বসানোর কাজ এখনো বাকি।

ধীরগতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা গেছে। সিসি ব্লক তৈরির সরঞ্জাম আনা ও মাঠ প্রস্তুত করতেই ছয় মাস সময় লেগেছে। পরে ব্লক তৈরিতে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় কাজ বাধাগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রথমে কপোতাক্ষ নদের চিকন দানার বালু দিয়ে ব্লক তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। এলাকাবাসীর বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি। পরে বাইরে থেকে মোটা দানার বালু এনে আবার কাজ শুরু করা হয়।

প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, নিম্নমানের ব্লক তৈরির বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা এবং অনিয়মের কারণেই কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। তাঁর দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সুযোগ বুঝে ব্লক তৈরি করেন এবং রাতে সেগুলো নদে ফেলা হয়। কত ব্লক তৈরি ও ডাম্পিং করা হয়েছে, সে তথ্যও এলাকাবাসীকে জানানো হয়নি।

আরেক বাসিন্দা দেবাশীষ মণ্ডল বলেন, এক বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই বছরেও কাজ শেষ হয়নি। কাজ চলমান থাকা অবস্থায় কয়েকটি স্থানে চরের মাটি ধসে পড়তে শুরু করেছে।

একই ব্লক বারবার গণনার অভিযোগ

উত্তর বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম বলেন, নিম্নমানের কাজের অভিযোগ পাওয়ার পর কয়েকবার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন স্থানীয় এক শ্রমিক সরদারের সহায়তায় আবার কাজ শুরু করেন।

চেয়ারম্যানের অভিযোগ, পাউবোর টাস্কফোর্সের দল ব্লক গণনা করে চলে যাওয়ার পর সেগুলো সব সময় নদে ফেলা হয় না। একই ব্লক বারবার গণনায় দেখিয়ে প্রকল্পের অর্থের অনিয়ম করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঠিকাদার ও পাউবোর বক্তব্য

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্সের সাইট ব্যবস্থাপক তানভীর আহমেদ বলেন, প্রকল্পের নথিতে দৈর্ঘ্য এক হাজার ৪৫০ মিটার উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে সাড়ে ১১শ মিটার এলাকায় কাজ করা হবে। এর বেশির ভাগ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, কাশিরহাট এলাকায় কয়েকটি দোকান ও বিদ্যুতের খুঁটির কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া গাজীপাড়া এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার অংশে কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এসব কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের অভিযোগ অস্বীকার করে পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী বলেন, টাস্কফোর্সের উপস্থিতিতে ব্লক গণনা শেষে সেগুলো ডাম্পিং করা হয়। দরপত্র প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং প্রকল্প এলাকার কয়েকটি স্থাপনা সরাতে সময় লাগায় কাজ পিছিয়েছে। তবে বর্ধিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি, ব্লক ব্যবহারের স্বচ্ছতা এবং নদপাড়ের মাটি ধসে পড়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নির্ধারিত মান বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করা না গেলে নদীতীর সুরক্ষার উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সুন্দরবনের পানি-মাটিতে প্লাস্টিক দূষণ, মাছে সিসা-নিকেল-তামা

খুলনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের পানি-মাটিতে প্লাস্টিক দূষণ, মাছে সিসা-নিকেল-তামা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের নদী ও মাটিতে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক। এর প্রভাব পড়ছে বনের জলজ প্রাণীর ওপরও। গবেষণায় শিলা কাঁকড়ার ফুলকায় গড়ে ১৮টি এবং অন্ত্রে ৩০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সুন্দরবনের পশুর নদের তিন প্রজাতির মাছ—পারশে, দাঁতিনা ও পাতা বাটায় ক্ষতিকর ভারী ধাতুর উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। এসব মাছের শরীরে সিসা, নিকেল, তামা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ধাতু পাওয়া গেছে। প্লাস্টিক দূষণ ও মাছের শরীরে ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে পরিচালিত দুটি পৃথক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, নদী ও পলিমাটিতে জমে থাকা দূষিত উপাদান জলজ প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করছে। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে এসব উপাদান অন্য প্রাণী এবং মানুষের শরীরেও পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

সুন্দরবনের পানি ও মাটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক
সুন্দরবনে প্লাস্টিক দূষণের বর্তমান পরিস্থিতি জানতে সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ও অরণ্যক ফাউন্ডেশন গবেষণা পরিচালনা করেছে। গত ১৩ আগস্ট খুলনায় গবেষণাটির খসড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষক দল ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সুন্দরবনের তিনটি নদীর পানি ও মাটির নমুনা পরীক্ষা করে। এর মধ্যে রয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলার শাকবাড়িয়া নদী, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদী এবং শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদী।

পরীক্ষায় খোলপেটুয়া নদীর প্রতি ঘনমিটার পানিতে ৫৭০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়। ভোলা নদীর পানিতে প্রতি ঘনমিটারে ৫৩০টি এবং শাকবাড়িয়া নদীর পানিতে ৩৬০টি কণা শনাক্ত করেন গবেষকেরা। নদীর পলিমাটিতেও পাওয়া গেছে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা। খোলপেটুয়া নদীর প্রতি কেজি পলিতে ৫৭টি, ভোলা নদীতে ৪৪টি এবং শাকবাড়িয়া নদীতে ৪৫টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, সুন্দরবনের পানি ও পলিমাটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি জলজ পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। এসব কণা দীর্ঘ সময় পরিবেশে থেকে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্যচক্রকে প্রভাবিত করতে পারে।

শিলা কাঁকড়ার ফুলকা ও অন্ত্রে প্লাস্টিক
খোলপেটুয়া নদী থেকে সংগ্রহ করা শিলা কাঁকড়ার নমুনা পরীক্ষা করে গবেষকেরা এর ফুলকায় গড়ে ১৮টি এবং অন্ত্রে ৩০টি প্লাস্টিক কণা পেয়েছেন। কাঁকড়ার শরীরে পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন ও পলিভিনাইল ক্লোরাইডের (পিভিসি) মতো প্লাস্টিকের উপাদানও শনাক্ত করা হয়েছে। এসব উপাদান পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে জলজ প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান মো. আসাদুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা জলজ প্রাণীর বৃদ্ধি ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত করতে পারে। খাদ্যচক্রের মাধ্যমে এসব কণা বড় প্রাণীর শরীরেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তারাও বিভিন্ন জটিলতার শিকার হতে পারে। তিনি আরও বলেন, নদীর পলিতে আটকে থাকা প্লাস্টিক প্রাকৃতিক অণুজীব ও তলদেশে বসবাসকারী প্রাণীদের স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র নষ্ট করতে পারে। এ কারণে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণকে শুধু পানির সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না; এর প্রভাব পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্রের ওপর পড়তে পারে।

পশুর নদের মাছে সিসা, নিকেল ও ক্যাডমিয়াম
সুন্দরবনের নদীগুলোতে প্লাস্টিক দূষণের পাশাপাশি ভারী ধাতুর উপস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পশুর নদের মাছ নিয়ে গবেষণাটি করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বায়োমেডিকেল অ্যান্ড টক্সিকোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট। গবেষণার নিবন্ধ গত বছরের ১১ এপ্রিল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ডিসকভার এনভায়রনমেন্ট-এ প্রকাশিত হয়। গবেষকেরা পশুর নদের ছয়টি স্থান থেকে পারশে, দাঁতিনা ও পাতা বাটা মাছের নমুনা সংগ্রহ করেন। নমুনা সংগ্রহের স্থানগুলোর মধ্যে ছিল রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, মোংলা শিল্পাঞ্চল, মোংলা সমুদ্রবন্দর, বানিশান্তা, করমজল ও হারবাড়িয়া। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে এসব নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

পরীক্ষায় মাছের শরীরে গড়ে প্রতি কেজিতে ৪ দশমিক ৩৫ মিলিগ্রাম সিসা, ৩ দশমিক ০৬ মিলিগ্রাম নিকেল, ১ দশমিক ৪২ মিলিগ্রাম তামা এবং ১ দশমিক ৪৬ মিলিগ্রাম ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাছের অন্ত্রে এসব ধাতুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ছিল; এরপর ছিল ফুলকায়। গবেষণায় উদ্ধৃত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহনশীল মাত্রার সঙ্গে তুলনা করে সিসা, ক্যাডমিয়াম ও নিকেলের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন ধাতুর গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ধারণে মাছের প্রজাতি, নমুনার ধরন ও পরিমাপের একক গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসব ফলাফলের ব্যাখ্যায় গবেষণায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট মানদণ্ড বিবেচনা করা প্রয়োজন।

শিল্পবর্জ্যকে দূষণের অন্যতম উৎস বলছেন গবেষকেরা
গবেষণা দলের প্রধান ও বায়োমেডিকেল অ্যান্ড টক্সিকোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইভানা পাভীন লিপি বলেন, পশুর নদের উজান থেকে আসা শিল্পবর্জ্য, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র-সংলগ্ন এলাকা, মোংলা সমুদ্রবন্দর ও শিল্পাঞ্চলের অপরিশোধিত কঠিন ও তরল বর্জ্য নদীর পানি ও পলিমাটিকে দূষিত করছে। একপর্যায়ে এসব দূষিত উপাদান মাছের শরীরে প্রবেশ করছে। তিনি বলেন, পশুর নদ ও সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষায় নদীর তীরবর্তী কলকারখানার বর্জ্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শোধন না করে নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাও জরুরি।

অন্যদিকে ‘সুন্দরবনে জলজ সম্পদের মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণা দলের প্রধান ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. এম এনামুল হক বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রথমে জুপ্ল্যাঙ্কটন ও ছোট জলজ প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করে। পরে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে তা উচ্চস্তরের প্রাণীদের দেহে পৌঁছায়। তাঁর মতে, সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণ কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

উজান থেকে প্লাস্টিক আসা বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
অতীতের বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের উজান থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য ও মাইক্রোপ্লাস্টিক সুন্দরবন হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়ছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পান-পরবর্তী ত্রাণসামগ্রীর মাধ্যমেও বনের ভেতরে ৫৬ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, উজান থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য আসা বন্ধ করতে যৌথ নদী কমিশনসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও এর চারপাশের ১০ কিলোমিটার পরিবেশগতভাবে সংকটপূর্ণ এলাকায় শিল্পকারখানা, কটেজ, রিসোর্ট ও নৌযানে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন। দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ বিতরণে প্লাস্টিকের মোড়ক নিয়ন্ত্রণ, মোংলা বন্দর ও পরিবেশগত সংকটপূর্ণ এলাকার কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার বাধ্যতামূলক করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ও ট্রলার থেকে প্লাস্টিক ও তেলবর্জ্য ফেলা বন্ধের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সুন্দরবনে প্লাস্টিক প্রবেশ বন্ধে উদ্যোগের কথা বন বিভাগের
সুন্দরবনে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে বন বিভাগের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবনে প্লাস্টিক নিয়ে প্রবেশ বন্ধ করতে পর্যটক ও ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিগগিরই বনে প্লাস্টিক নিয়ে প্রবেশ বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের চারপাশে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার বিষয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি