ডেঙ্গু ও গরম মোকাবিলায় তরুণদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তিন বার্তা
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকার বা সিটি করপোরেশনের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা ও নগরীর তাপমাত্রা কমাতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সবুজায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তাঁর মতে, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণেরা উদ্যোগী হলে নিজেদের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধেই গুরুত্ব
ডেঙ্গু মোকাবিলায় রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শুধু সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার নয়, নাগরিকদেরও—এমন বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের নিজেদের ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাড়া পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি সামনে রেখে তিনি তরুণদের এমন উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান, যাতে পরিচ্ছন্নতা একটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ নগরীতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন।
‘এত মানুষের শহরে শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর নির্ভর করা যায় না’
ঢাকা শহরের বিপুল জনসংখ্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের এই শহরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে নগরীর সব জায়গা পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব শুধু তাঁদের ওপর ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করতে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাঁকে সচেতন করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। নগরীতে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন এবং সিটি করপোরেশনের লাগানো গাছের চারা চুরির ঘটনায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন তারেক রহমান। এসব ঘটনায় নাগরিক দায়িত্ববোধের ঘাটতি স্পষ্ট হয় বলে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি সবাইকে আরও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান। পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদের নিজেদের আচরণেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলা, আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় সচেতন হওয়াকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জন্মদিনে অন্তত একটি গাছ লাগানোর পরামর্শ
ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের বিষয়েও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও ঢাকায় সবুজের ঘাটতি নিয়ে শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, একসময় ঢাকা অনেক বেশি সবুজ ছিল। এখন বহুতল ভবন গড়ে ওঠায় গরমের অনুভূতি বেড়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করতে বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাইবোন কিংবা নানা-নানির জন্মদিনেও গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব। তাঁর এই আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো, বিশেষ কোনো দিবসের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গাছ লাগানোকে পারিবারিক ও সামাজিক অভ্যাসে পরিণত করা। শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে গাছ লাগালে ভবিষ্যতে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে তরুণদের অংশগ্রহণ চান প্রধানমন্ত্রী
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পাড়া, স্কুল ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে সহযোগিতা চান। শিক্ষার্থীরা তাঁর আহ্বানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইতিবাচক সাড়া দেয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সবুজায়ন—এই তিনটি ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করলে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা, আশপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং গাছের চারা রক্ষা করার মতো কাজগুলোতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিক দায়িত্ববোধের চর্চা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নাগরিক সচেতনতাই পরিচ্ছন্ন নগরীর ভিত্তি
ঢাকার মতো জনবহুল শহরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও পরিবেশ রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার বংশবিস্তারের উপযোগী স্থান তৈরি হতে না দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে তাই তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম সচেতনতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক দায়িত্ব এবং পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত বৃক্ষরোপণ।
শিক্ষার্থী ও তরুণেরা এসব উদ্যোগে যুক্ত হলে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে এ উদ্যোগকে কার্যকর করতে ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]