খুঁজুন
                               
, ,
           

খুন-ধর্ষণ-নারী নির্যাতনে উদ্বেগ, কুমিল্লায় ৯ মাসে ১১১ প্রাণহানি

কুমিল্লা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
খুন-ধর্ষণ-নারী নির্যাতনে উদ্বেগ, কুমিল্লায় ৯ মাসে ১১১ প্রাণহানি

কুমিল্লায় খুন, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী ও স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর সম্প্রতি সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জেলাজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে কুমিল্লায় ১১১টি খুন ও ১৩৯টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ২৩২টি।

জেলার ১৮টি থানার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নয় মাসে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে মোট চার হাজার ৯৬৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অপহরণের ১৪টি ও ডাকাতির ৩৬টি ঘটনা রয়েছে। এ ছাড়া দাঙ্গা, দস্যুতা, চুরি, ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। পুলিশের দাবি, হত্যা ও ধর্ষণসহ প্রতিটি ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তারা সক্ষম হয়েছে। তবে ধারাবাহিক অপরাধের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদেরা। তাঁদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে অপরাধের চিত্র

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে কুমিল্লায় ১৪টি খুন, ১৬টি ধর্ষণ ও ১৭টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাসহ মোট ৪৯১টি অপরাধের মামলা হয়। ফেব্রুয়ারিতে ১২টি খুন, ৮টি ধর্ষণ ও ১৯টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাসহ মামলা হয় ৪০৭টি।

মার্চে ১১টি খুন, ৯টি ধর্ষণ ও ১৮টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাসহ মোট মামলার সংখ্যা ছিল ৫১৭। এপ্রিলে ১০টি খুন, ২০টি ধর্ষণ ও ২৮টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাসহ মামলা হয় ৫৮৪টি। মে মাসে খুনের সংখ্যা বেড়ে ১৭টিতে দাঁড়ায়, যা উল্লেখিত মাসগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এ মাসে ১২টি ধর্ষণ ও ২৪টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাসহ মোট ৬১২টি অপরাধের মামলা হয়। জুনে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৪১টি, যা ওই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ মাসে ১০টি খুন ও ২১টি ধর্ষণের ঘটনাসহ মামলা হয় ৫৭৭টি।

জুলাইয়ে ১০টি খুন, ২২টি ধর্ষণ ও ৩০টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাসহ মোট ৫০৯টি মামলা হয়। আগস্টে ১১টি খুন, ১৭টি ধর্ষণ ও ২১টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাসহ মামলা হয় ৫৮৫টি। সেপ্টেম্বর মাসে খুনের সংখ্যা বেড়ে ১৬টিতে দাঁড়ায়। এ মাসে ১৪টি ধর্ষণ ও ৩৪টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাসহ মোট ৬৮১টি অপরাধের মামলা নথিভুক্ত হয়।

কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা

এপ্রিল মাসের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা। ২৫ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম থেকে বাসে এসে কুমিল্লার ঝাগুরঝুলি এলাকায় মহাসড়কে নামার পর তিনি ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন এবং নিহত হন। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সোহাগ, এমরান, রাহাত ও সুজন নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাটি মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে।

আইফোনের জন্য স্কুলছাত্র অপ্রতিমকে হত্যা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের বরাতে জানা যায়, অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। একটি মুঠোফোনের জন্য স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনা কিশোর অপরাধ, অপরাধী চক্রের তৎপরতা এবং শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

সর্বশেষ আলোচিত ঘটনাটি ঘটে অক্টোবরে। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার বাসা থেকে বের হয় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী। এরপর তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনাটি শিশু-কিশোরীদের নিরাপত্তা এবং যৌন সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়টিকে আবারও সামনে এনেছে।

দেবিদ্বারে বৃদ্ধা হত্যার পর মরদেহ টুকরো করার ঘটনা

গত ৭ আগস্ট রাতে দেবিদ্বার উপজেলা সদরে ফরিদা ইয়াসমিন নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরদিন পাশের একটি ডোবা থেকে পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের খণ্ডগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তার ও তাঁর সহযোগী আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডও জেলার অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

‘শুধু অভিযান চালিয়ে অপরাধ বন্ধ করা যাবে না’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান বলেন, কিশোর অপরাধসহ সমাজে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বেড়েছে। শুধু অভিযান চালিয়ে এসব অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, গতানুগতিক পদ্ধতিতে এখন আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। এ জন্য রাষ্ট্রকে নতুন করে ভাবতে হবে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার থেকেই উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শিশু-কিশোরেরা যেন মুঠোফোনে অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সজাগ থাকার পরামর্শও দেন এই শিক্ষাবিদ।

ধর্ষণ মামলার বিচার বিলম্বের কারণ

কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুহাম্মদ বদিউল আলম বলেন, ধর্ষণ মামলার তদন্তে ধীরগতি, একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন, ডাক্তারি পরীক্ষা ও ডিএনএ প্রতিবেদন পেতে দেরি এবং সাক্ষী পাওয়া নিয়ে জটিলতার কারণে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষী সময়মতো না পাওয়াও বিলম্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে অনেক ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. শারমিন সুলতানা বলেন, অনেক সময় আলামত নষ্ট হওয়ার পর ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আনা হয়। পোশাকসহ অন্যান্য আলামতও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে অপরাধের তদন্তের পাশাপাশি আলামত সংরক্ষণ, দ্রুত ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের গুরুত্ব উঠে এসেছে। বিশেষ করে ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের মামলায় দ্রুত ও নির্ভুল তদন্ত বিচারপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পুলিশের দাবি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলছে অভিযান

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, হত্যা ও ধর্ষণসহ প্রতিটি ঘটনার রহস্য স্বল্প সময়ের মধ্যে উদ্‌ঘাটনে পুলিশ সক্ষম হয়েছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগ, এসআরবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে দুই সহস্রাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। নানা ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্রের অধিকার সবার সমান’—জগন্নাথ হলে রিজভী

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১২ অপরাহ্ণ
ধর্ম যার যার, রাষ্ট্রের অধিকার সবার সমান’—জগন্নাথ হলে রিজভী

ধর্মবিশ্বাস আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিকের অধিকার সমান বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক নাগরিক যেন স্বাধীনভাবে নিজের ধর্মীয় অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা পান, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক ও উপস্থিত পূজার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ ড. দেবাশীষ পালসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, উৎসব মানুষকে সব ধরনের সীমারেখা অতিক্রম করতে শেখায় এবং ভ্রাতৃত্ববোধকে উন্মুক্ত করে। সম্প্রদায়ের গণ্ডি পেরিয়ে উৎসবের সর্বজনীন আহ্বানে অন্য ধর্মের মানুষও আনন্দ ও সংহতি অনুভব করেন। তিনি বলেন, আবহমান কাল ধরে বাংলাদেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছেন। পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে যে বন্ধন গড়ে উঠেছে, তা সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, দানবীয় অসুররূপী সমাজে অসত্যকে বিনাশ করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করাই দুর্গাপূজার মূল মর্মবাণী। এই আনন্দ-উৎসবের বার্তা কোনো একটি ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য। রিজভী বলেন, মা দুর্গার আরেক নাম দুর্গতিনাশিনী। তিনি দুর্গতি বিনাশ করে শান্তি ও সত্য প্রতিষ্ঠা করেন। এই বার্তা ধারণ করে সমাজের অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ছুটির মেয়াদ বাড়িয়েছে এবং পূজামণ্ডপগুলোতে চালের বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে। তিনি আরও বলেন, এখন থেকে প্রতিটি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েতদের সরকার থেকে মাসিক সম্মানী দেওয়া হবে। নির্বাচনের আগে বিএনপি এসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং এখন তা বাস্তবায়ন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, এ দেশের মানুষ একসঙ্গে জারি-সারি গান শোনে, বিভিন্ন পার্বণে অংশ নেয় এবং কীর্তনসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করে। গম্ভীরা ও অন্যান্য লোকজ সাংস্কৃতিক ধারাতেও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ শত শত বছর ধরে একসঙ্গে অংশ নিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, ধর্ম ও বিশ্বাস ব্যক্তিগত বিষয় হলেও রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার প্রয়োগের সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করেছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

৬ বছরে পানিফলের আবাদ কমেছে ৪২ শতাংশ, সংকটে চাষিরা

জামালপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০২ অপরাহ্ণ
৬ বছরে পানিফলের আবাদ কমেছে ৪২ শতাংশ, সংকটে চাষিরা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জলাভূমিতে পানির প্রাপ্যতা কমে যাওয়া, পোকার আক্রমণ ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিতে সংকটে পড়েছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পানিফল চাষ। একসময় স্বাদ ও আকারের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে দেশজুড়ে পরিচিত ছিল এ অঞ্চলের পানিফল। স্থানীয় বিভিন্ন বিল ও জলাশয়কে ঘিরে গড়ে ওঠা এ চাষ এখন ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। গত কয়েক বছরে চাষের জমি কমেছে প্রায় ৪২ শতাংশ। কমেছে ফলন, বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়; একই সঙ্গে সংকুচিত হয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানিফল সরবরাহের বাজারও।

দেওয়ানগঞ্জের চুলকানি বিল, পুঁটিমারি বিল, গুজিমারি বিল, ভেগি বিল, টেংরাগুড়া বিল, ডাকাতিয়া বিল, ভেলামারি বিল ও চুনিয়াপাড়া কোলা একসময় পানিফল চাষের জন্য পরিচিত ছিল। উপজেলার অন্যান্য জলাশয়েও ব্যাপকভাবে এ ফলের আবাদ হতো। কিন্তু বৃষ্টিপাত ও বন্যার ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি জলাভূমিতে পানি কমে যাওয়ায় অনেক জায়গায় পানিফল চাষের উপযোগী জমি সংকুচিত হয়েছে। কোথাও কোথাও এসব জমিতে ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষ করা হচ্ছে।

ছয় বছরে আবাদ কমেছে প্রায় ৪২ শতাংশ

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেওয়ানগঞ্জে বছরে ৬০ হেক্টরের বেশি জমিতে পানিফল চাষ হতো। এরপর থেকেই আবাদি জমির পরিমাণ কমতে থাকে। ২০২৩ সালে পানিফল চাষ হয় ৪৫ হেক্টর জমিতে, ২০২৪ সালে ৪২ হেক্টর, ২০২৫ সালে ৪০ হেক্টর এবং ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৩৫ হেক্টরে।

কৃষি অফিসের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পানিফল চাষের জমি কমেছে প্রায় ৪২ শতাংশ। জলাভূমিতে পানির সংকট এবং চাষের খরচ বৃদ্ধির কারণে অনেক কৃষক আগের মতো পানিফল চাষ ধরে রাখতে পারছেন না। এভাবে আবাদ কমতে থাকায় শুধু কৃষকদের আয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, স্থানীয়ভাবে পানিফল চাষের সঙ্গে জড়িত বীজ সংগ্রহ, ফল পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ধারাবাহিকতাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

খরচ বেড়েছে, ফলন কমেছে অর্ধেকেরও বেশি

চুলকানি বিলের পানিফল চাষি হাসমত আলী, জাহের আলী ও করিম মিয়া জানান, ২০১৫-১৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বিঘা জমিতে পানিফল চাষ করতে দুই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হতো। অনুকূল পরিবেশে এক বিঘা জমিতে ফলন পাওয়া যেত প্রায় ৩০ মণ। কিন্তু বর্তমানে একই জমিতে ফলন কমে ১৪ থেকে ১৫ মণে নেমেছে। অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকায়। প্রতি মণ পানিফল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি করেও কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না তাঁরা।

চাষিরা জানান, আগে একই চারা থেকে তিন দফায় পানিফল সংগ্রহ করা যেত। এখন দুই দফার বেশি ফল পাওয়া যায় না। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি চাষের ব্যয় মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় পানিফলের বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণেও সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে পানিফলের বীজকে ‘পুল’ বলা হয়। পর্যাপ্ত ফলন না হওয়ায় পরবর্তী মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ সংগ্রহ করাও চাষিদের কাছে আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে।

লাল-কালো পোকার আক্রমণে বাড়ছে ক্ষতি

পানিফল চাষি বেলাল, মজেন, সুফিয়া ও ওমিছা বেগম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পানিফলে লাল-কালো পোকার আক্রমণ বেড়েছে। এসব পোকা দমনে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেও তাঁরা আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না। চাষিদের ভাষ্য, একসময় ‘ইন্ডিয়ান ডিডিটি পাউডার’ নামে পরিচিত একটি কীটনাশক পাওয়া যেত, যা তাঁদের মতে পোকার আক্রমণ দমনে কার্যকর ছিল। আগে ৫০ টাকায় পাওয়া গেলেও পরে এর দাম বেড়ে ৩০০ টাকায় দাঁড়ায়। বর্তমানে ওই কীটনাশক আর পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তাঁরা। বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অথচ ফলন বাড়ছে না। এর সঙ্গে জলাভূমিতে পানির ঘাটতি যুক্ত হয়ে পানিফল চাষকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

ঢাকায় সরবরাহ কমেছে, স্থানীয় বাজারনির্ভরতা বেড়েছে

পানিফল ব্যবসায়ী সমিরুল জানান, একসময় দেওয়ানগঞ্জ থেকে প্রতিদিন দুটি লোকাল ট্রেন ও ট্রাকযোগে পানিফল ঢাকায় পাঠানো হতো। রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও সদরঘাটের আশপাশের বাজারে এসব ফল বিক্রি হতো। এতে স্থানীয় উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা বড় বাজারে পণ্য সরবরাহের সুযোগ পেতেন।

কিন্তু ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া, উৎপাদন কমে আসা এবং পরিবহনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে এখন আর আগের মতো ঢাকায় পানিফল পাঠানো হয় না। মাঝেমধ্যে ময়মনসিংহ অঞ্চলে পানিফল পাঠানো হলেও উৎপাদিত ফলের বড় অংশ স্থানীয় বাজারেই বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি দূরের বাজারে পণ্য পৌঁছানোর সুযোগও সীমিত হয়েছে। স্থানীয় বাজারে বিক্রির ওপর নির্ভরতা বাড়ায় পানিফল চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের আয় ধরে রাখাও কঠিন হয়ে উঠছে।

জলবায়ু পরিবর্তনে পানির স্বাভাবিক চক্রে পরিবর্তন

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রতন মিয়া বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের ধরন ও বন্যার স্বাভাবিক চক্রে পরিবর্তন এসেছে। গত কয়েক বছর তুলনামূলকভাবে বন্যা কম হওয়ায় জলাভূমিতে পানির প্রাপ্যতা কমেছে। এর ফলে পানিফল চাষ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি জানান, পানিফল চাষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে চাষিদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে পানিফল চাষের সংকট মোকাবিলায় জলাভূমিতে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদ্ধতি শেখানো, উন্নত চাষপ্রযুক্তি ব্যবহার এবং বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন

দেওয়ানগঞ্জের পানিফল চাষের সঙ্গে স্থানীয় কৃষি, জীবিকা ও বাজারব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু জলাভূমি সংকুচিত হওয়া, পানির ঘাটতি, রোগবালাই ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ ঐতিহ্য এখন অনিশ্চয়তার মুখে। চাষিদের সহায়তা, জলাভূমি সংরক্ষণ, পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও কার্যকর বালাই ব্যবস্থাপনা, উন্নত চাষপদ্ধতি এবং সহজ বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা গেলে পানিফল চাষ টিকিয়ে রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ জন্য কৃষি বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বাজারব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

একসঙ্গে বিদেশে বহু শিক্ষক, নোবিপ্রবিতে ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

নোয়াখালীর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
একসঙ্গে বিদেশে বহু শিক্ষক, নোবিপ্রবিতে ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য একসঙ্গে অনেক শিক্ষক বিদেশে অবস্থান করায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) তীব্র শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে শিক্ষকদের দীর্ঘমেয়াদি ছুটির কারণে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এর সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং কয়েকজন শিক্ষকের সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রমে অনুপস্থিতি সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট ৪২৮টি শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে ১২৮ জন শিক্ষক বিভিন্ন ধরনের ছুটিতে রয়েছেন। সে হিসাবে মোট শিক্ষক পদের প্রায় ৩০ দশমিক ১৪ শতাংশের সমপরিমাণ শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন। কোনো কোনো বিভাগে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষক ছুটিতে থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায় প্রশাসন (ডিবিএ) বিভাগে মোট ১৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ৯ জন ছুটিতে রয়েছেন। অর্থাৎ বিভাগটির ৬০ শতাংশ শিক্ষক বর্তমানে ছুটিতে। অর্থনীতি বিভাগে ১৮ জনের মধ্যে ১০ জন বা ৫৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ২৩ জনের মধ্যে ১১ জন বা ৪৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন। এ ছাড়া বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগে ২০ জনের মধ্যে ৮ জন এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগে ১০ জনের মধ্যে ৪ জন শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন। এ দুই বিভাগেই ছুটিতে থাকা শিক্ষকের হার ৪০ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি বিভাগেই কমবেশি শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন। তবে বিভাগভেদে ছুটিতে থাকা শিক্ষকের অনুপাতের পার্থক্য থাকায় কোথাও সংকট তুলনামূলক বেশি, কোথাও আবার সীমিত জনবল দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

শিক্ষাছুটি ও সাধারণ ছুটির বাইরে আরও কিছু কারণে নোবিপ্রবির কয়েকটি বিভাগে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স (ফিমস) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিসুজ্জামান (রিমন), রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর এবং আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বাদশা মিয়া অফলাইন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ফিমস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) প্রো-ভিসি এবং ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হানিফ (মুরাদ) লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (লবিপ্রবি) উপাচার্য হিসেবে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাঁদের নিজ নিজ বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রমে শিক্ষকসংকটের চাপ তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষক ঘাটতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে অস্থায়ী শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এসিএসইতে ২ জন, পরিসংখ্যান বিভাগে ১ জন, আইআইটিতে ১ জন, আইআইএসে ২ জন, শিক্ষা প্রশাসনে ১ জন, বিএমবিতে ১ জন, সওএসে ১ জন এবং রসায়ন বিভাগে ১ জন অস্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন। তবে অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের পরও বিভাগগুলোর প্রয়োজনীয় শিক্ষকসংখ্যা নিশ্চিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘমেয়াদি ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের বিপরীতে বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ বা খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে ঘাটতি পূরণের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কিছু বিষয়ে মাত্র একজন শিক্ষককে একাধিক ব্যাচে পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে সিলেবাস শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁরা বলেন, উচ্চশিক্ষা বা গবেষণার জন্য শিক্ষকদের বিদেশে যাওয়ার বিরোধিতা করছেন না তাঁরা। তবে শিক্ষকসংকটের কারণে যেন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত না হয়, সে জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ করে নিয়মিত ক্লাস চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদি ছুটির কারণে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। তাঁদের মতে, প্রতিটি বিভাগে ছয় থেকে সাতটি ব্যাচ সচল থাকায় সীমিতসংখ্যক শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ দিয়ে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে উচ্চশিক্ষায় যাওয়া শিক্ষকদের বিপরীতে বিকল্প বা খণ্ডকালীন (গেস্ট) শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এতে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর চাপ কমবে এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও সিলেবাস সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।

শিক্ষক সংকট ও শিক্ষাছুটি প্রসঙ্গে নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষাছুটি শিক্ষকদের প্রাপ্য অধিকার এবং একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।  শিক্ষক ঘাটতি পূরণে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে ইউজিসির অনুমোদন নিয়ে গেস্ট শিক্ষক নিয়োগ বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে শূন্যতা পূরণের কথাও উল্লেখ করেন উপাচার্য।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি