খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সততা—আধুনিক পুলিশ গড়ার তিন অগ্রাধিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সততা—আধুনিক পুলিশ গড়ার তিন অগ্রাধিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও পেশাদারিত্ব—এই তিন ভিত্তিতে পুলিশ বাহিনীকে আরও সক্ষম করে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা, ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদেশে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘদিন বঞ্চিত পুলিশ কর্মকর্তাদের পেশাগত জীবনে পুনর্বাসনকে সামনে রেখে এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির চেমেনি মেমোরিয়াল হলে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচের ছয় মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে পুলিশের আধুনিকায়নের পাশাপাশি জনআস্থা, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জবাবদিহিমূলক ভূমিকার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে।

  • সারদায় নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা
  • অপরাধ দমনে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জনগণের আস্থা অর্জনে জোর
  • আধুনিক ও পেশাদার বাহিনী গড়তে সরকারের উদ্যোগ

অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে, সক্ষমতা বাড়াতে প্রযুক্তিতে জোর
সময়ের সঙ্গে অপরাধের ধরন ও কৌশল পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধ ও সাইবার ক্রাইম মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এ লক্ষ্যে ফরেনসিক ও কেমিক্যাল ল্যাব সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন এবং দেশে-বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ দক্ষতা বাড়াতে ‘ট্রেনিং অব দ্য ট্রেইনার্স’ কর্মসূচির আওতায় কর্মকর্তাদের চীনসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অপরাধ তদন্তে প্রযুক্তির ব্যবহার, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বিশ্লেষণ এবং প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে পুলিশকে পরিবর্তিত অপরাধ পরিস্থিতির উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

আধুনিকায়নে অর্থ বরাদ্দ আটকে থাকবে না
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ খাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো অর্থ বরাদ্দ পেন্ডিং থাকবে না বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, অবকাঠামো এবং কার্যকর লজিস্টিক সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রীর বক্তব্যে এসব ক্ষেত্রে সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।

বঞ্চিত পুলিশ কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনে সরকারের উদ্যোগ
দীর্ঘদিন চাকরি ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং স্বৈরাচারী ও একদলীয় শাসনব্যবস্থার কারণে অনেকে অন্যায়ভাবে চাকরি ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। বর্তমান সরকার আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে তাঁদের চাকরিতে পুনর্বহাল এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে বলে জানান তিনি। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মর্যাদার সঙ্গে পেশাগত জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

জনগণের আস্থাই মূল
প্রশিক্ষণ শেষ করা নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণ দিনশেষে পুলিশের কাছেই ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করে। পুলিশের সততা, কর্মনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের ওপর সরকারের ভাবমূর্তিও নির্ভর করে। দেশ ও জনগণের সেবা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের জন্য তিনি নবীন কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে পুলিশের পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি জনসাধারণের সঙ্গে আচরণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালনে সততার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ আধুনিক পুলিশ গড়ার পরিকল্পনায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি মানবিক ও পেশাগত গুণাবলিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে সরকারের বক্তব্য
এর আগে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের গত আট মাসে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম বা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তাঁর মতে, এটি দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিফলন। তবে জনকল্যাণে সরকারকে আরও অনেক দূর এগোতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অপরাধী শনাক্ত, গ্রেপ্তার, তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে সক্ষম হচ্ছে। তাঁর এসব বক্তব্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের অবস্থান তুলে ধরে।

উপনির্বাচন ও আইনের সমতার প্রশ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল এবং দুপুর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছিল। নির্বাচন চলাকালে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। ভোটাররা যাতে স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। অন্যদিকে, নাটোরের এক সংসদ সদস্যের সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদার প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. মাইনুল হাসান। এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও একাডেমির প্রশিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমকে

খাদ্যগুদাম নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার নির্দেশ খাদ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
খাদ্যগুদাম নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার নির্দেশ খাদ্যমন্ত্রীর

খাদ্যশস্য সংরক্ষণের অবকাঠামো নির্মাণে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গুদামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় খাদ্য অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গুরুত্ব

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গুদামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং খাদ্যশস্য দীর্ঘ সময় নিরাপদে সংরক্ষণের উপযোগী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেশি হয়, সেসব এলাকায় গুদাম নির্মাণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান পুরোনো গুদামগুলোর সংস্কার ও উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগ

অনুষ্ঠানে খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর বক্তব্য দেন। তাঁরা খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা, গুদামের মান উন্নয়ন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাসহ খাদ্য অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুদামের আধুনিকায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দুর্গম পাহাড়ে সেনাপ্রধান, নজরে মাঠের বাস্তবতা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
দুর্গম পাহাড়ে সেনাপ্রধান, নজরে মাঠের বাস্তবতা

একদিকে সামরিক নেতৃত্বের নির্দেশনা, অন্যদিকে দুর্গম পাহাড়ে সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব। এই দুইয়ের সংযোগস্থলেই রয়েছে মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা। সেই বাস্তবতার খোঁজ নিতে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের বাঘাইহাট জোনের সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শনের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি রিজিয়নে যান তিনি। সেখানে মোতায়েনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি তাঁদের দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন সেনাপ্রধান। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

  • বাঘাইহাট ক্যাম্পে সেনাসদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ
  • প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি
  • দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা ও সতর্কতার ওপর জোর

মাঠের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ
কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতায় পরিকল্পনা ও নির্দেশনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দায়িত্ব পালনের প্রকৃত অভিজ্ঞতা তৈরি হয় মাঠেই। সেখানে কর্মরত সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ শীর্ষ নেতৃত্বকে তাঁদের কাজের পরিবেশ ও দায়িত্বের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানার সুযোগ দেয়। বাঘাইহাট ক্যাম্পে সেনাপ্রধানের সফরের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এই সরাসরি যোগাযোগ। সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা এবং তাঁদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের প্রতি নেতৃত্বের মনোযোগ প্রতিফলিত হয়েছে। এটি শুধু একটি ক্যাম্প পরিদর্শনে সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের সঙ্গে নেতৃত্বের সংযোগের গুরুত্বও তুলে ধরেছে।

প্রতিকূলতার মধ্যেও কর্তব্যনিষ্ঠার স্বীকৃতি
দুর্গম পাহাড়ে সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে দায়িত্ব পালন সহজ নয়। এসব বাস্তবতার মধ্যেও পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সেনাসদস্যদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার প্রশংসা করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। দায়িত্বরত সদস্যদের কাজের প্রতি এই স্বীকৃতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। মাঠপর্যায়ে কর্মরত সদস্যদের অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্যনিষ্ঠার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রশংসার পাশাপাশি প্রত্যাশাও স্পষ্ট
দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতির সঙ্গে সেনাপ্রধানের নির্দেশনাও ছিল স্পষ্ট। তিনি সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অর্পিত কর্তব্য পালন অব্যাহত রাখতে বলেছেন। এই নির্দেশনার তাৎপর্য হচ্ছে—প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করার স্বীকৃতির পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের মান অক্ষুণ্ণ রাখার প্রত্যাশাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে পেশাগত শৃঙ্খলা, সতর্কতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। পরিদর্শনকালে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল হাসান উজ জামান, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসান সেলিমসহ সেনাসদর ও সংশ্লিষ্ট এলাকার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাঘাইহাট সেনা ক্যাম্পে সেনাপ্রধানের পরিদর্শনে তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—মাঠপর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, প্রতিকূল পরিবেশে তাঁদের দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা। দুর্গম এলাকায় দায়িত্বরত সদস্যদের কাজের বাস্তবতা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার মধ্য দিয়ে সফরটি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের প্রতি শীর্ষ নেতৃত্বের মনোযোগকে সামনে এনেছে। নেতৃত্বের প্রত্যাশা ও মাঠের দায়িত্ব—এই দুইয়ের সংযোগই ছিল বাঘাইহাট সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

কালের আলো/এমএএএমকে

পাঁচ ঘণ্টা পর ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৭ অপরাহ্ণ
পাঁচ ঘণ্টা পর ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট

জাপানের নারিতা বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ে উড্ডয়ন করতে না পারায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিলম্ব হয় ফ্লাইটটির। পরে ত্রুটি মেরামত শেষে ঢাকার পথে রওনা দেয় উড়োজাহাজটি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১১টার দিকে ফ্লাইটটি যাত্রা করে বলে জানানো হয়েছে।

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিলম্ব
চার দিনের জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল উড়োজাহাজটির। তবে নির্ধারিত সময়ে উড্ডয়নের প্রস্তুতির মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ফ্লাইটটির যাত্রা বিলম্বিত হয়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪০ মিনিট পর ককপিট থেকে পাইলট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিলম্বের কথা জানান এবং এ জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। পরে উড়োজাহাজটি টারমাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ত্রুটি মেরামতের পর উড্ডয়ন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় উড়োজাহাজটির ত্রুটি মেরামত করা হয়। স্থানীয় সময় রাত সোয়া ১০টার দিকে এটি যাত্রার জন্য প্রস্তুত হয়। এরপর রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে ফ্লাইটটি। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রধানমন্ত্রী ও সফরসঙ্গীদের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক ঘণ্টা বেশি অপেক্ষা করতে হয়। ত্রুটি মেরামত শেষে ফ্লাইটটি যাত্রা শুরু করায় তাদের দেশে ফেরার পথের অনিশ্চয়তা কাটে।

চার দিনের জাপান সফর শেষে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী
চার দিনের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফর শেষে নির্ধারিত সময়ে ফিরতে না পারলেও উড়োজাহাজটির যান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের পর যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের বিলম্বের কারণ হিসেবে যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানানো হয়েছে। তবে ত্রুটির ধরন বা বিস্তারিত কারিগরি তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি