খুঁজুন
                               
, ,
           

করোনায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে শতভাগ ক্লাসের ‘মডেল’ বিইউপি!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০, ১০:০২ পূর্বাহ্ণ
করোনায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে শতভাগ ক্লাসের ‘মডেল’ বিইউপি!

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

প্রাণঘাতী করোনার ভয়ঙ্কর থাবায় ক্যাম্পাসে নেই প্রাণের স্পন্দন। শিক্ষার্থী আর পড়ালেখাহীন প্রতিটি ক্যাম্পাস নিয়েছে ভুতুড়ে রূপ। প্রায় সাড়ে তিন মাস যাবত বন্ধ দেশের উচ্চ শিক্ষালয়গুলোর অবস্থা এমনই। বাড়িতে হাতগুটিয়ে বসে আছেন শিক্ষার্থীরা।

সেশনজটসহ অন্যান্য ক্ষতির আশঙ্কা জেঁকে বসেছে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক-অভিভাবকদের মাঝেও। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় সবেমাত্র অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

কিন্তু সব উচ্চ শিক্ষালয় থেকেই যেন স্বতন্ত্র ও নির্ভার দেশের ২৯তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)’।

দেশে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকেই একদিনের জন্যও ক্লাস বন্ধ না রেখে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনন্য এক নজির স্থাপন করেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি।

করোনাকালীন বিইউপি’র ক্লাস হয়েছে অনলাইনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। সেশনজটের অনিশ্চয়তা থেকে রেহাই পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা। হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন অভিভাবকরাও।

শুধু কী তাই? ক্লাসের পাশাপাশি প্রেজেন্টেশন থেকে শুরু করে অ্যাসাইনমেন্ট ও জ্ঞান ভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সদর্প বিচরণের মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বিইউপি’র শিক্ষার্থীরা।

তবে ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী ক্লাসের স্বাপ্নিক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

তার সার্বিক দিক নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মোদ্যোগী, নিষ্ঠাবান ও সজ্জন উপাচার্য মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসানের কার্যকর পদক্ষেপে সেশনজটের ফাঁদে পড়ে নিস্তরঙ্গ সময় কাটাতে হয়নি এ বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়া থেকে উপাচার্য যেমন রক্ষা করেছেন তেমনি করোনার প্রাদুর্ভাবের ভেতরেও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে সিন্ডিকেট সভা সবকিছুই সমানতালেই তিনি সম্পন্ন করেছেন। পুরোপুরি সচল রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম।

ইতোমধ্যেই দুর্বোধ্য ও কঠিন সব বাস্তবতাকেই জয় করেছে ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়েই শেষ করেছেন নিজেদের সেমিস্টার।

শুরু করেছেন নতুন সেমিস্টারের ক্লাস। ফলশ্রুতিতে অনলাইন ডিজিটাল পদ্ধতিতে শতভাগ ক্লাসের ‘মডেল’ হিসেবেও এখন জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম।

সেনাপ্রধানের নির্দেশনায় অনলাইন ক্লাস, চালু শর্টকোর্স
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের নেতৃত্বে অতীতের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত চলমান করোনা যুদ্ধে জাতির কঠিন সঙ্কটময় মুহুর্তে স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন দেশপ্রেমিক সেনারা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসও করোনাকালীন সময়ে কীভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালিত করবে প্রয়োজনীয় এসব দিক নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

সেনাপ্রধানের নির্দেশনা পদে পদে বাস্তবায়ন করেই দেশের উচ্চ শিক্ষালয়সমূহের মধ্যে অনলাইনে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় সবার জন্যই অনুকরণীয় ‘উদাহরণ’ হয়ে উঠেছে এ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র কালের আলোকে আরও জানিয়েছে, সেনাপ্রধানের নির্দেশেই অনলাইনে চারটি শর্ট কোসও চালু করে বিইউপি।

উপাচার্যকে অনলাইনে একাডেমিক কার্যক্রম পুরোপুরি সচল রাখতে যাবতীয় সহযোগিতা প্রদানের পাশাপাশি নিয়মিত গাইড লাইনও দিয়েছেন সেনাপ্রধান।

অনলাইনে একাডেমিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর গল্প
করোনা মহামারির প্রকোপে গত ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কার্যক্রম। ফলে অনেকটাই স্থবির ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছিল দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা।

কিন্তু নিজের প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান।

ভার্চুয়াল ক্লাস পরিচালনার জন্য সুযোগ সুবিধা বিইউপির থাকায় সেশনজটের কবল থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষায় গত ২২ মার্চ থেকে অনলাইন ক্লাসের দিকেই হাঁটতে শুরু করে বিইউপি।

সেদিন থেকে শুরু হওয়া এ ক্লাস চলে ১৫ মে পর্যন্ত। শিক্ষার্থীদের কেউ গুগল লাইভ আবার কেউ ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে ক্লাসে অংশগ্রহণ করেন।

সূত্র মতে, সুষ্ঠুভাবে ক্লাস পরিচালনার জন্য ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে উপাচার্যের সভাপতিত্বে ডিনস কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মে মাসের শুরুর সপ্তাহেই উপাচার্য দু’দফা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং ডিনদের সঙ্গে সভায় সবার মতামত শোনেন। নিজেদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও বেশি উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) কম্প্রিহেনসিভ একাডেমিক ম্যানেজার নামে একটি সফটওয়্যার রয়েছে। এ সফটওয়্যারে ২০১৭ সাল থেকে ৭ হাজার শিক্ষার্থীর একটি করে অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

এর মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজেদের রুটিন ফলাফল সবকিছুই পেয়ে আসছে। পাঠদানের সবকিছুই এখানে নিয়মিত আপলোডও করা হয়।

সূত্র মতে, বিইউপিতে প্রতি কোর্সে সপ্তাহে দু’টি ক্লাসের নিয়ম রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি সেমিস্টারে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ৭০০ কোর্স রয়েছে। ২৮৫ জন শিক্ষকের মাঝে ১৩০ জন শিক্ষক নিজস্ব। বাদ বাকী প্রায় শতাধিক শিক্ষক হচ্ছেন খন্ডকালীন।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, ক্লাস শুরুর ১৫ থেকে ২০ দিন পরই কতজন শিক্ষার্থী ভার্চুয়াল ক্লাসে অংশ নিচ্ছে তাঁর খোঁজ খবর নিতে শুরু করেন উপাচার্য। স্বাভাবিক সময়ের মতোই প্রায় ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন প্ল্যাটফর্মের এ ক্লাসগুলোতে অংশগ্রহণ করেন।

সাধারণত দেড় ঘন্টা করে প্রতিটি ক্লাস হলেও এক্ষেত্রে প্রতিটি ক্লাসের সময় নির্ধারণ হয় ৪০ থেকে ৬০ মিনিট। প্রত্যন্ত পল্লীতে থাকা শিক্ষার্থীরা ইন্টারেনেটের সমস্যার কারণে অংশ নিতে না পারায় নির্ধারিত সময়েই ইমেইলের মাধ্যমে তাদের কাছে ক্লাস লেকচার পৌঁছানো হয়।

করোনা মহামারিতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রমে সচল অবস্থা তৈরিতে উপাচার্যের নির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকিউরমেন্ট শাখাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ির চালক, প্রহরী ও বাগানের মালিদের জন্য পর্যাপ্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাভস, প্রটেকটিভ গ্লাস ও মাস্ক সরবরাহ করে এ শাখা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিষ্ট্রার লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহীন আহমেদ কালের আলোকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শুরু থেকেই হোয়াটবোর্ড, ট্রাইপডসহ আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। যাতে তারা সহজেই মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে ক্লাস নিতে পারেন।

শেষ হয়েছে সেমিস্টার, আটকে আছে পরীক্ষা
গত ১৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিইউপি বন্ধ ছিল। এরপর আবার পহেলা জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার শেষ হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির নির্দেশনার কারণে ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন এ বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

পরবর্তী সেমিস্টারের প্রস্তুতির জন্য ১৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আবারও ক্লাস নেওয়া শুরু করে বিইউপি। প্রস্তুতি শেষে গত পহেলা জুলাই থেকে শুরু হয়েছে পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস।

সূত্র মতে, ভার্চুয়াল ক্লাস নেওয়ার সুবিধার্থেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য দু’দফায় দুই হাজার টাকা করে ইন্টারনেট বিল খরচ বাবদ দেওয়া হয়েছে।

অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সময়োপযোগী এমন সব পদক্ষেপেই তারা উপকৃত ও মানসিকভাবে চাঙ্গা হয়েছেন।

উপাচার্য টু শিক্ষার্থী কথোপকথন
অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমের পুরো বিষয়টি উপাচার্য মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান নিজেই মনিটরিং করেছেন। কয়েক দফা শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও ভার্চুয়ালি কথা বলেছেন।

ভিসি টু স্টুডেন্ট সরাসরি এ কথপোকথনে শিক্ষার্থীরা উজ্জীবিত হয়েছেন।

উপাচার্যের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় প্রতি সেশন থেকে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সভা থেকে শুরু করে সিন্ডিকেট সভা- সবকিছুই হয়েছে অনলাইন প্রযুক্তিতে।

কোন কার্যক্রমই করোনার ভয়াল থাবায় আটকে থাকেনি, সময়মতোই হয়েছে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস অব দি ইভালুয়েশন, ফ্যাকাল্টি এন্ড কারিকুলাম ডেভেলপমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল আলম।

ঢাবিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বিইউপি
গত এপ্রিল ও মে মাসে সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা ওয়েবইনারের মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

বিইউপি’র উদ্যোগে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ‘মেক ইট কাউন্ট’ প্রতিযোগিতায় দেশের ৩৪ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বিচারকরাও অনলাইনে বসেই রায় দিয়েছেন।

ওই প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে প্রধান অতিথি ছিলেন বিইউপির উপাচার্য। একইভাবে অনলাইনে আরেকটি প্রতিযোগিতায় বিইউপির ১৬ টি বিভাগের মাঝে ৭ টি বিভাগ পৃথকভাবে অংশগ্রহণ করে।

এছাড়াও আইডিয়া ইনোভেশন প্রতিযোগিতায় সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিইউপি, জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর কবির।

উপাচার্যের ঘোষণা, রিভিও ক্লাস দু’সপ্তাহ
‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) উপাচার্য মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান কালের আলোকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয় বাস্তবতা। অনলাইনে বিইউপির শিক্ষা কার্যক্রম ডিজিটাল বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় সেনাপ্রধান মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় আমরা করোনাকালীন সময়ে বসে না থেকে পুরোমাত্রায় শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসি চেয়ারম্যান মহোদয়ও অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন।’

বিশ্বের সেরা অক্সফোর্ড ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার যাবতীয় সুযোগ সুবিধা বিইউপিতেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করারও ঘোষণা দেন উপাচার্য মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান।

তিনি বলেন, সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের সুযোগ সুবিধা আগামী দু’থেকে তিন মাসের মধ্যে এখানে নিশ্চিত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর দু’সপ্তাহ রিভিউ ক্লাস নিয়ে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আমরা অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে কাজ করছি।’

কালের আলো/আরআই/এমএএএমকে

কম পোশাক দিয়ে বেশি লুক-ওয়ারড্রোব সাজানোর কৌশল

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
কম পোশাক দিয়ে বেশি লুক-ওয়ারড্রোব সাজানোর কৌশল

প্রতিদিন কী পোশাক পরবেন, তা ঠিক করতে গিয়ে অনেকেই আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় পার করেন। অথচ আলমারিতে পোশাকের সংখ্যা বেশি থাকলেই যে সাজের বৈচিত্র্য বাড়বে, এমন নয়। বরং কিছু বেসিক ও পরস্পরের সঙ্গে মানানসই পোশাক বেছে রাখলে অল্প পোশাক দিয়েই তৈরি করা যায় নানা ধরনের লুক।

এ ধরনের ওয়ারড্রোব সাজানোর মূল কথা হলো—কম পোশাক, বেশি সমন্বয়।

প্রথমে বেসিক পোশাক বাছাই করুন

ওয়ারড্রোবে এমন কিছু পোশাক রাখা ভালো, যেগুলো বিভিন্ন ধরনের পোশাকের সঙ্গে সহজে মিলিয়ে পরা যায়। সাদা, কালো, নেভি, ধূসর বা বেইজের মতো নিরপেক্ষ রঙের টি-শার্ট, শার্ট, প্যান্ট বা টপ বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়।

একটি ভালো মানের সাদা শার্ট যেমন জিনসের সঙ্গে ক্যাজুয়াল লুক দিতে পারে, আবার ফরমাল প্যান্টের সঙ্গে পরলে তৈরি হতে পারে অফিস উপযোগী সাজ।

রঙের সমন্বয়ে নজর দিন

অনেক রঙের পোশাক রাখার বদলে কয়েকটি পরস্পরের সঙ্গে মানানসই রঙ বেছে নিলে পোশাক মেলানো সহজ হয়। ওয়ারড্রোবের বেশির ভাগ পোশাক যদি একই রঙের পরিবারের মধ্যে থাকে, তাহলে একটি পোশাকের সঙ্গে অন্যটি মিলিয়ে নেওয়ার সুযোগ বাড়ে।

এর সঙ্গে দুই-একটি উজ্জ্বল রঙের পোশাক বা আনুষঙ্গিক জিনিস রাখলে পুরো সাজে বৈচিত্র্য আনা যায়।

একটি পোশাক, একাধিক ব্যবহার

একই পোশাককে ভিন্নভাবে পরার অভ্যাস করলে ওয়ারড্রোব ছোট রেখেও সাজে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব। একটি শার্ট একদিন প্যান্টের সঙ্গে, অন্যদিন জিনসের সঙ্গে পরা যেতে পারে। একই পোশাকের সঙ্গে জুতা, ব্যাগ বা গয়না বদলালেও পুরো লুক অনেকটাই বদলে যায়।

পোশাকের সঙ্গে আনুষঙ্গিক জিনিস রাখুন

কম পোশাকে বেশি লুক তৈরির ক্ষেত্রে অ্যাকসেসরিজ বেশ কার্যকর। ঘড়ি, স্কার্ফ, বেল্ট, ব্যাগ, জুতা বা সাধারণ গয়না একই পোশাককে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারে।

তবে অনেক কিছু একসঙ্গে ব্যবহার না করে পোশাকের ধরন অনুযায়ী এক বা দুই ধরনের অ্যাকসেসরিজ বেছে নেওয়াই ভালো।

মৌসুম অনুযায়ী ওয়ারড্রোব বদলান

সব মৌসুমের পোশাক একসঙ্গে আলমারিতে রাখার প্রয়োজন নেই। গরমের পোশাক আলাদা করে এবং শীত বা বর্ষার পোশাক প্রয়োজন অনুযায়ী বের করে রাখলে আলমারি গোছানো থাকে। এতে প্রয়োজনের পোশাক খুঁজে পাওয়াও সহজ হয়।

খুব কম পরা পোশাক আলাদা করুন

যে পোশাকগুলো গত কয়েক মাসে একবারও পরা হয়নি, সেগুলো আলাদা করে দেখুন। কেন পরা হচ্ছে না, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন। মাপ ঠিক না হওয়া, অন্য পোশাকের সঙ্গে না মেলা বা পছন্দ না হওয়ার মতো কারণ থাকলে সেগুলো আলমারিতে জায়গা দখল করে রাখার প্রয়োজন নেই।

ব্যবহারযোগ্য পোশাক অন্য কাউকে দেওয়া বা পুনর্ব্যবহারের সুযোগ থাকলে সেটিও করা যেতে পারে।

কেনার আগে মিলিয়ে দেখুন

নতুন পোশাক কেনার সময় শুধু পোশাকটি আলাদাভাবে সুন্দর লাগছে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। বাড়িতে থাকা অন্তত দুই-তিনটি পোশাকের সঙ্গে এটি পরা যাবে কি না, সেটিও ভাবুন।

এভাবে কেনাকাটা করলে অপ্রয়োজনীয় পোশাক কেনার প্রবণতা কমে এবং অল্প পোশাক দিয়েই বেশি ধরনের সাজ তৈরি করা যায়।

ভালো ওয়ারড্রোব মানেই পোশাকে ঠাসা আলমারি নয়। বরং এমন পোশাকের সংগ্রহ, যেগুলো একে অন্যের সঙ্গে সহজে মেলানো যায় এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা সম্ভব। কয়েকটি বেসিক পোশাক, মানানসই রঙ ও কিছু সাধারণ অ্যাকসেসরিজ থাকলেই অল্প পোশাকে তৈরি করা যায় অনেক ধরনের লুক।

তাই নতুন পোশাক কেনার আগে আলমারিতে কী আছে, সেটি একবার দেখে নেওয়াই হতে পারে আরও গোছানো ও ব্যবহারিক ওয়ারড্রোব তৈরির প্রথম ধাপ।

কালের আলো/এসএ

ফোন হারালেও ছবি-ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য বাঁচাতে আগে থেকেই যা করবেন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
ফোন হারালেও ছবি-ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য বাঁচাতে আগে থেকেই যা করবেন

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এতে জমা থাকে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, গুরুত্বপূর্ণ নথি, ফোন নম্বর, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টসহ নানা তথ্য। তাই ফোন হারিয়ে গেলে শুধু নতুন একটি ডিভাইস কেনার চিন্তা করলেই হয় না, ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তবে আগে থেকেই কয়েকটি নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করে রাখলে ফোন হারালেও তথ্য সুরক্ষিত রাখা অনেক সহজ হয়।

নিয়মিত ছবি ও ভিডিওর ব্যাকআপ রাখুন

ফোন হারিয়ে গেলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে ছবি ও ভিডিও হারানো। তাই গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও ও নথির নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা ভালো। ক্লাউড স্টোরেজ বা কম্পিউটারে ব্যাকআপ রাখলে ফোন হারালেও অন্য ডিভাইস থেকে সেগুলো ফিরে পাওয়া সম্ভব।

তবে ক্লাউড অ্যাকাউন্টেও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহার করা জরুরি।

শক্তিশালী স্ক্রিন লক ব্যবহার করুন

ফোনে শুধু সহজ চার সংখ্যার পিন ব্যবহার না করে তুলনামূলক শক্তিশালী পিন, পাসওয়ার্ড বা নিরাপদ বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে। আঙুলের ছাপ বা মুখ শনাক্তকরণের সুবিধা থাকলে সেটিও চালু রাখা ভালো।

স্ক্রিন লক যত শক্তিশালী হবে, ফোন হারানোর পর অন্য কারও পক্ষে সরাসরি ব্যক্তিগত তথ্য দেখার ঝুঁকি তত কমবে।

ফোন খুঁজে পাওয়ার সুবিধা চালু রাখুন

অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—দুই ধরনের ফোনেই হারানো ডিভাইস খুঁজে বের করার সুবিধা রয়েছে। ফোন হারানোর আগেই সংশ্লিষ্ট ‘Find My’ ধরনের ফিচার চালু করে রাখুন।

এতে প্রয়োজন হলে অন্য ডিভাইস থেকে ফোনের অবস্থান দেখা, ফোনে শব্দ বাজানো বা দূর থেকে সেটি লক করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু করুন

ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের নিরাপত্তা বা 2FA চালু রাখা ভালো। এতে শুধু পাসওয়ার্ড জানলেই অন্য কেউ সহজে অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না।

তবে 2FA ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাকআপ কোড বা বিকল্প পুনরুদ্ধার পদ্ধতি নিরাপদ জায়গায় সংরক্ষণ করে রাখা উচিত।

ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপ সুরক্ষিত রাখুন

ফোনে ব্যাংকিং বা আর্থিক সেবার অ্যাপ থাকলে সেগুলোতে অতিরিক্ত লক বা বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা ব্যবহার করা যেতে পারে। ফোন হারানোর পর দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক সেবাদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কোনো অবস্থাতেই ফোন হারানোর পর অপরিচিত ব্যক্তি ফোন করে বা বার্তা পাঠিয়ে ওটিপি, পিন কিংবা পাসওয়ার্ড চাইলে তা দেওয়া যাবে না।

লকস্ক্রিনে ব্যক্তিগত তথ্য দেখানো বন্ধ করুন

ফোন লক থাকা অবস্থায়ও অনেক সময় নতুন বার্তার কিছু অংশ স্ক্রিনে দেখা যায়। এতে ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য অন্যের চোখে পড়তে পারে। তাই লকস্ক্রিনে নোটিফিকেশনের বিস্তারিত তথ্য দেখানোর অপশন বন্ধ রাখা যেতে পারে।

সিমের নিরাপত্তার কথাও ভাবুন

ফোনের সঙ্গে সিম কার্ডও হারিয়ে যেতে পারে। তাই ফোন হারালে দ্রুত মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিমটি বন্ধ বা পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা উচিত। এতে আপনার নম্বর ব্যবহার করে অন্য কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করার ঝুঁকি কমে।

ফোন হারালে দ্রুত যা করবেন

ফোন হারানোর বিষয়টি বুঝতে পারার পর দেরি না করে অন্য একটি ডিভাইস থেকে নিজের ফোনের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজন হলে সেটি লক করুন। ফোন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে দূর থেকে ডিভাইসের তথ্য মুছে ফেলার সুবিধা ব্যবহার করা যেতে পারে।

এর পাশাপাশি ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং প্রয়োজন হলে ব্যাংক ও মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

ফোন হারানোর পর কী হবে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে ব্যাকআপ, শক্তিশালী স্ক্রিন লক, ডিভাইস ট্র্যাকিং ও দুই স্তরের নিরাপত্তার মতো ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু রাখলে একটি হারানো ফোনের কারণে ব্যক্তিগত তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি হারানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

কালের আলো/এসএ

হাসপাতাল থেকে আবারও কারাগারে ইমরান খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
হাসপাতাল থেকে আবারও কারাগারে ইমরান খান

হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আবারও আদিয়ালা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা ইমরান খানকে কারাগারে রাখার বিষয়ে নিরাপদ বলে মত দিয়েছেন।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পুলিশি পাহারায় আদিয়ালা কারাগারের ১ নম্বর গেট দিয়ে তাকে ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ছয় সদস্যের একটি দল তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা জানান, ইমরান খানকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার প্রয়োজন নেই এবং তিনি নিরাপদে কারাগারেই থাকতে পারবেন।

এরপর কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে নেওয়া হয়। কারা সূত্র জানিয়েছে, পরে তাকে কারাগারের নিজ সেলে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ