খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হাম নিয়ন্ত্রণে এসেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হাম নিয়ন্ত্রণে এসেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা হাম নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পেরেছি।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ‘জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন কী অবস্থা ছিল। সবার প্রচেষ্টায় আমরা হাম মোটামুটি একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে সক্ষম হচ্ছি। অনেক ডাক্তারদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। একটা চীনা টিমের সঙ্গেও আলাপ হয়েছে। আমারও কিন্তু ছোটবেলায় হাম হয়েছে, আমার মনে আছে এবং তখনকার মায়েদের একটা কথা ছিল, জন্মের পরে একবার হাম হবেই। একবার জলবসন্ত হবেই।

শিশুদের মায়ের বুকের দুধের বিকল্প নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বলতে হয়, এখনকার মায়েরা ব্রেস্টফিডিংয়ে অভ্যস্ত না। দিন দিন কমে আসছে। একদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে বেবি হওয়া, তার শারীরিক গঠন অত্যন্ত দুর্বল এবং মারাত্মক হুমকির মুখামুখি নিয়ে যায় শিশুকে। একটি বাচ্চা যখন মায়ের পেটে গড়ে ওঠে, যতক্ষণ না আল্লাহ নির্ধারিত সময়ে সে বের হবে, দুনিয়ার মুখ না দেখবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে মায়ের কাছ থেকে পেটে পুষ্টি নিতেই থাকে।

এ সময় পুষ্টিকর্মীদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমার অনুরোধ থাকবে আপনাদের কাছে, যারা ঘরে ঘরে যান, মায়েদেরকে বলা যাতে করে বাচ্চাদেরকে বুকের দুধ পান করান।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষিত মহিলাদের মধ্যে কর্মজীবীরা কাজের দোহাই দেন। কেন! কাজে যাওয়ার আগেও তো একটা সময় থাকে। কাজ থেকে ফিরে এসে সময় থাকে, সেই সময়টা তো দুইবেলা অন্তত বাচ্চাকে বুকের দুধ দেওয়া যায়।

সমাজ থেকে মাদক দূর করতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন নির্বাচন করি, নেশার কথা অনেকে বলেছে। আমি বক্তব্যে বলতাম যে, ভালো কথা আমরা নেশা দূর করব, কিন্তু আপনারা যারা আপনাদের সন্তানদেরকে সন্ধ্যার পরে ঘরের বাইরে রাখেন; পাখিরা সব নীড়ে ফিরে, কিন্তু আমাদের বাচ্চারা বাইরে থাকে কী করে?

কালের আলো/এসএকে

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের লক্ষণ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৩৯ শিশুর মৃত্যু হলো। একই সময়ে নতুন করে আরও ১৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬২ শিশু।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত দুই শিশুই ছেলে। তাদের একজনের বয়স ৬ মাস। সে ময়মনসিংহের দাপুনিয়া এলাকার বাসিন্দা। গত ১৯ মে রাত ৯টা ১৫ মিনিটে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ২৫ মে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সন্দেহজনক হাম, নিউমোনিয়া ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া।

অপর শিশুটির বয়স ১০ মাস। তার বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার দেওথান এলাকায়। গত ২০ মে সকাল ১১টায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সোমবার সকাল ৫টা ১৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সন্দেহজনক হাম, নিউমোনিয়া, রক্তস্বল্পতা ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ২৯ শিশু।

গত ১৭ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট এক হাজার ৬০৯ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ৫০৮ শিশু। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬২ শিশু। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে। সেখানে একাধিক মেডিকেল টিম চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টোর অফিসার ঝন্টু সরকার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন ১৬ শিশু ভর্তি হয়েছে এবং ২৯ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বিচারকরা স্বাধীন বলেই গ্রেফতারের পরদিনই তারা জামিন পান: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
বিচারকরা স্বাধীন বলেই গ্রেফতারের পরদিনই তারা জামিন পান: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করা হবে। তবে দেশজুড়ে বিচারক ও আইনজীবী সংকটের কারণে অনেক সময় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

‘আইন মন্ত্রণালয় থেকে আদালত নিয়ন্ত্রণ করা হয়’ এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর এমন বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি যা বলেছেন, তা আদালত অবমাননার শামিল। বিচারকরা বিচারকাজে সম্পূর্ণ স্বাধীন। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন বলেই তাদের (এনসিপি) নেতারা মামলায় গ্রেফতারের  পরদিনই জামিন পেয়েছেন।’

বাংলাদেশের বিচারকরা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন দাবি করে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে মামলার জট রয়েছে। কারণ, বিচারকের সংকট আছে। একই সঙ্গে ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার মতো দক্ষ আইনজীবীর সংখ্যাও কম। ফলে মামলার জট কমানো যাচ্ছে না।

এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যকে রাজনৈতিক আখ্যা দিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি ঝিনাইদহে এনসিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যা ঘটেছে, সেখানে পুলিশের দায়িত্বশীলতার কোনো ঘাটতি ছিল না। বিচারকরাও স্বাধীনভাবে এ বিষয়ে কাজ করেছেন। কাজেই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তারা এসব কথা বলছেন।

এর আগে সকালে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাসিক সমন্বয় সভায় অংশ নেন আইনমন্ত্রী। সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এ সময় শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা: সেতুমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা: সেতুমন্ত্রী

ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বাস কাউন্টারে নির্ধারিত ভাড়ার স্টিকার লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি বাসগুলোতেও ভাড়ার তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে। যাত্রীরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় নির্ধারিত সময়ে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারছেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, কোনো পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করলে যাত্রীরা সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, অনেক যাত্রী আগাম টিকিট না কাটার কারণে শেষ সময়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে চালক ও সুপারভাইজাররা বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। আড়ালে-আবডালে কিছু দুর্বৃত্ত সক্রিয় রয়েছে। তবে তাদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।

কোরবানির পশুর হাট প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল যাতে সড়কে পশুর হাট না বসে। কিন্তু পশু ও ক্রেতার চাপ বাড়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে হাট সড়কে চলে আসছে। এতে কিছুটা সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে। এসব ট্রাক থামাতে গেলে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, সবাই নিয়ম মেনে চললে ঈদযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন