খুঁজুন
                               
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

হাম বাড়ছে: সচেতনতা ও টিকাই প্রধান প্রতিরোধ

ডা: সেলিনা সুলতানা
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
হাম বাড়ছে: সচেতনতা ও টিকাই প্রধান প্রতিরোধ

দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাম-এর সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি উদ্বেগজনক হলেও সঠিক সচেতনতা ও সময়মতো পদক্ষেপ নিলে এই ঝুঁকি অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক আকার নিতে পারে, তাই অভিভাবকদের সতর্কতা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে খুব সহজেই অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে। বাতাসে এই ভাইরাস প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে—যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এর বিস্তার খুব দ্রুত ঘটে।

হামের লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে প্রকাশ পায়। শুরুতে জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া—এসব উপসর্গ দেখা যায়। এরপর শরীরে লাল দানাদার ফুসকুড়ি ওঠে, যা প্রথমে মুখে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে গালের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (কপলিক স্পট) দেখা যায়, যা হামের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। শিশুদের মধ্যে খাওয়ার অনীহা ও দুর্বলতাও লক্ষ্য করা যায়।

তবে শুধু উপসর্গেই সীমাবদ্ধ নয়, হামের জটিলতাও ভয়াবহ হতে পারে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) পর্যন্ত হতে পারে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশু বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হলো টিকাদান। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী শিশুকে ৯ মাস বয়সে প্রথম এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। এছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ডোজও দেওয়া যেতে পারে। যেসব শিশু এখনো হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা পায়নি, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা জরুরি।

চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুর সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করাও জরুরি। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং শরীরের পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত তরল ও ওরস্যালাইন দেওয়া প্রয়োজন। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ—এটি মনে রাখা জরুরি। তাই আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা, সময়মতো টিকা এবং সঠিক পরিচর্যা। ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র—সবাই মিলে উদ্যোগ নিলেই এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

একই সঙ্গে কিছু সাধারণ সতর্কতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিশু হাম আক্রান্ত হলে তাকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে, পরিচর্যাকারীকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে—নিজ থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুর সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করাও জরুরি। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং শরীরের পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত তরল ও ওরস্যালাইন দেওয়া প্রয়োজন। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ—এটি মনে রাখা জরুরি। তাই আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা, সময়মতো টিকা এবং সঠিক পরিচর্যা। ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র—সবাই মিলে উদ্যোগ নিলেই এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

লেখক : কনসালটেন্ট: নিউরোডেভলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এবং চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পেডিয়াট্রিক ডিপার্টমেন্ট, বেটার লাইফ হসপিটাল। প্রাক্তন অটিজম বিশেষজ্ঞ: ঢাকা কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল।

কুষ্টিয়ায় মাদক ও ওষুধসহ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

কুষ্টিয়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় মাদক ও ওষুধসহ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এক কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের মাদক ও বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ পণ্য উদ্ধার করেছে কুষ্টিয়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৭ বিজিবি)। এ সময় ইয়াবাসহ আলো হোসেন (১৯) নামের এক যুবককে আটক করা হয়।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৩ মে বিকেল ৫টায় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধীন রংমহল বিওপি এলাকার রংমহল মাঠ নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানার লক্ষ্মীধোলা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে মো. আলো হোসেনকে (১৯) ১৮ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক সিজার মূল্য পাঁচ হাজার চারশত টাকা।

এছাড়াও একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধীন কাথুলি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাথুলি মাঠ নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ১ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক সিজার মূল্য তিন লাখ টাকা।

 অপরদিকে, আজ শনিবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে কাজিপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাজিপুর ব্রিজ মোড় নামক স্থানে আরেকটি অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৫০ বোতল মদ, ১০ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ২৫ হাজার পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য এক কোটি পাঁচ লক্ষ পঁচাত্তর হাজার টাকা।

উদ্ধারকৃত পণ্যের সর্বমোট আনুমানিক সিজার মূল্য এক কোটি আট লক্ষ আশি হাজার চারশত টাকা।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ঝিনাইদহে ছাত্রদলের মামলায় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে ছাত্রদলের মামলায় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা গ্রেফতার

ঝিনাইদহে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি এনামুল কবিরের দায়ের করা হামলা, হত্যার হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঝিনাইদহ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনের সামনে থেকে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে।

জানা গেছে, এনসিপি নেতা তারেক রেজা রোববার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিলনায়তনের সামনে পৌঁছানোর সাথে সাথে এনসিপি নেতা তারেক রেজাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের সময় ঘটনাস্থলে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামানসহ পুলিশ, সাদা পোশাকে পুলিশের বিশেষ টিম ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান বলেন, হামলা, ভাঙচুর, হত্যার হুমকির অভিযোগে গতকাল (শনিবার) এনসিপি নেতা তারেক রেজা সহ কয়েকজনের নামে মামলা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর থানায় দায়ের করা মামলার আসামি তারেক রেজাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারেও অভিযান চলমান আছে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ মে শুক্রবার ঝিনাইদহ সফরে আসেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ওই দিন জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের হাতাহাতি, মারামারি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা বাদী হয়ে ছাত্রদলের স্থানীয় ৮ নেতাকর্মীকে আসামি করে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেন। ওই মামলার জেরে পরদিন দুপুরে তারেক রেজাসহ ২২ জনকে আসামি করে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি এনামুল কবির মামলা করেন। ওই মামলায় আজ সন্ধ্যায় তারেক রেজাকে গ্রেফতার করা হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সাংবাদিক গ্রেফতারে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ উচিত নয়: চিফ প্রসিকিউটর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক গ্রেফতারে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ উচিত নয়: চিফ প্রসিকিউটর

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে মানবতাবিরোধী অপরাধে দুই সাংবাদিক (সাংবাদিক ফারজানা রুপা, মোজাম্মেল হক বাবু) গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস্থ নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দুই সাংবাদিককে (ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে। তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এ মামলার তদন্ত করছে। তাদের কাজ করতে দেওয়া উচিত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা অন্য কোনো মানবাধিকার সংগঠন কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তা আমরা দেখিনি। আমাদের একটি চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় তাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না। আইনগত সুযোগও নেই।

এ মামলায় আরও কোনো সাংবাদিককে গ্রেফতার দেখানো হবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের তদন্ত চলমান। যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদেরই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে অহেতুক কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানির জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হবে না।

দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে জানতে চেয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো ধারণা নেই।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩১ মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এত বছরেও সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত শেষ না হওয়া দুঃখজনক।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমি ট্রাইব্যুনালে যোগ দেওয়ার পর ৭টি মামলা পুনরায় তদন্তে পাঠিয়েছি। সেগুলো ঈদের পর চার্জশিট দাখিল করা হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন