খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

‘দলীয় বিবেচনায়’ ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ, জামায়াতের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
‘দলীয় বিবেচনায়’ ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ, জামায়াতের প্রতিবাদ

একদিনে দেশের ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দলীয় বিবেচনায়’ নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, এসব নিয়োগে যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে এভাবে দলীয়করণের সংস্কৃতি চালু করা জাতির জন্য উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, গত ১৫ মার্চ ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় প্রশাসক নিয়োগের সময়ও জামায়াতে ইসলামী একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তখন দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পরিবর্তে দলীয় বিবেচনায় প্রশাসক নিয়োগ গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে দলীয়করণের অপচেষ্টা। এখন সেই প্রবণতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেও বিস্তৃত করা হচ্ছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তবুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র। সেখানে দলীয় বিবেচনায় প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দিলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয় এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়। অতীতে দলীয়করণের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে অস্থিরতা, সেশনজট ও সহিংসতা সৃষ্টি হয়েছিল, জনগণ সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।

তিনি আরো বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল দেশে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতামূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পথেই এগোচ্ছে। স্থানীয় সরকার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পর্যন্ত দলীয়করণের প্রবণতা দেশের গণতন্ত্র, শিক্ষা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অশনিসংকেত।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সরকার অগণতান্ত্রিক ও পক্ষপাতদুষ্ট পন্থা অবলম্বন করেছে, যা জাতির সঙ্গে প্রকারান্তরে প্রতারণার শামিল।

বিবৃতিতে অবিলম্বে এসব নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

কালের আলো /এসআর/এএএন

বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে তুলতে চায় সরকার: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে তুলতে চায় সরকার: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বাস্তব জীবনের দক্ষতা, কর্মদক্ষতা ও মূল্যবোধ অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে Summer 2026 Fresher’s Orientation Program-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেটার সাথে রিয়েল ওয়ার্ল্ডের কানেক্টিভিটি থাকবে। একই সাথে আমাদের নলেজও দরকার, স্কিলসও দরকার। নলেজ আর স্কিলস যদি কানেক্টেড না হয়, তাহলে আমরা প্রফেশনাল ক্যারিয়ারে পিছিয়ে যাব।

তিনি বলেন, বর্তমানে শুধু সার্টিফিকেট অর্জনই যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান, উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সংযোগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, জীবনে বড় কিছু করতে হলে কেবল জনপ্রিয় বিষয় বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং যে বিষয়ে সত্যিকারের আগ্রহ ও প্যাশন রয়েছে, সেই বিষয়েই দক্ষতা অর্জন করা উচিত। সব পেশারই সমান মর্যাদা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি জ্ঞান, দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও সততাকে সফলতার চারটি প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।  প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, স্কিলস যেমন প্রয়োজন, নলেজ যেমন প্রয়োজন, ডিসিপ্লিন এবং ইন্টেগ্রিটিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

মাহদী আমিন আরও বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী। তরুণদের সঠিক শিক্ষা, মূল্যবোধ ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে গড়ে তুলতে পারলে তারাই ভবিষ্যতে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি গবেষণা, স্টার্টআপ, ইনোভেশন, পার্ট-টাইম কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কো-কারিকুলার কার্যক্রম, ভাষা শিক্ষা ও নেতৃত্ব বিকাশে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

মালিকের সম্পত্তি বিক্রি করে কারখানা চালুর দাবি জানিয়েছে ডার্ড গ্রুপের শ্রমিকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
মালিকের সম্পত্তি বিক্রি করে কারখানা চালুর দাবি জানিয়েছে ডার্ড গ্রুপের শ্রমিকরা।

শুক্রবার (১৫ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।এতে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম,সহ সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ডার্ড গ্রুপের কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এবং মালিক পলাতক থাকায় হাজারো শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শ্রমিকদের কয়েক মাসের বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, সার্ভিস বেনিফিট, অর্জিত ছুটির টাকাসহ বিভিন্ন পাওনা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর শ্রমিক, মালিকপক্ষ ও প্রশাসনের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তিতে শ্রম আইনে নির্ধারিত পূর্ণ সুবিধার পরিবর্তে মাত্র ৫০ শতাংশ সুবিধা প্রদানের কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।

বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের উদ্দেশ্যে সরকার থেকে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হলেও তা সঠিকভাবে শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে আনুমানিক ১১ কোটি টাকা বিতরণ করা হলেও এখনও বিপুল পরিমাণ পাওনা বকেয়া রয়েছে। কারখানার ভেতরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার বিক্রয়যোগ্য মালামাল ও যন্ত্রপাতি মজুত থাকা সত্ত্বেও সরকার তা বিক্রয়ের মাধ্যমে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। দীর্ঘদিন অবহেলায় এসব মালামাল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মালিকের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে ৩০০-এর অধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা কার্যকর করার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। একই সঙ্গে মালিকপক্ষ ধারাবাহিকভাবে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে শ্রম আদালতে চলমান মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখছেন, যার ফলে শ্রমিকদের ন্যায়বিচার ও আইনগত পাওনা প্রাপ্তি দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ সংক্রান্ত সরকারি কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেছে। অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা রিট পিটিশনের বিরুদ্ধে পক্ষভুক্ত হয়ে আদালতে তাদের ন্যায্য অধিকার ও পাওনার বিষয় তুলে ধরেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে মালিকের সম্পত্তি ও কারখানার মালামাল বিক্রয়ের মাধ্যমে ডার্ড গ্রুপের শ্রমিকদের অবশিষ্ট সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসক নিয়োগ করে কারখানা পুনরায় চালুর জোর দাবি জানানো হয়।

কালের আলো/এসআইপি

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১২ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে চারজন হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি আটজনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৩৭৭ জন।

১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৪১৬ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬১১ জন।

এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০ হাজার ১৭৬ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন।

কালের আলো/এসআর/এএএন