খুঁজুন
                               
, ,
           

ধর্ষণের পর গলা কেটে শিশু হত্যা, আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
ধর্ষণের পর গলা কেটে শিশু হত্যা, আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তি

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সোহেল রানা।

বুধবার (২০ মে) আসামিদের আদালতে হাজির করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান।

আবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যান। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান স্বজনেরা। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের (৮) মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথাটি রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান তারা।

আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী মো. সোহেল রানা (৩০) রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং গলা কেটে হত্যা করেন। রামিসার মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করা হয়। এ ছাড়া শিশুটির যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে মাথা বালতির মধ্যে রাখা হয়।

এরপর রুমের জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যান। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে থানায় এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেন।

(বুধবার)২০মে আদালতে আসামিদের হাজির করে সোহেল রানার জবানবন্দি রেকর্ড এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ।

পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বাড়ছে নারী মাদকাসক্তি, ঝুঁকিতে পরিবার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
বাড়ছে নারী মাদকাসক্তি, ঝুঁকিতে পরিবার

নারীদের মধ্যে মাদকাসক্তির প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীতে ইয়াবা, গাঁজা ও অ্যালকোহলের পাশাপাশি ই-সিগারেট ব্যবহারের প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। মাদকাসক্ত নারীদের তালিকায় শিক্ষার্থী ও বেকারের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত চাকরিজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও গৃহিণীরাও রয়েছেন।

নারীদের নিয়ে কাজ করা আহছানিয়া মিশনের তথ্য বলছে, তাদের মাত্র ৩টি বেডের বিপরীতে বর্তমানে ৩৩ নারী মাদকাসক্ত চিকিৎসাধীন। গত ছয় মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চিকিৎসাধীনদের ৭৩ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের প্রায় ৪৫ শতাংশ ইয়াবা এবং ৪৩ শতাংশ গাঁজায় আসক্ত। অ্যালকোহলে আসক্ত প্রায় ৭ শতাংশ। চিকিৎসাধীন নারীদের ৭৭ শতাংশই ঢাকার বাসিন্দা।

পরিসংখ্যানের আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ—মাদকাসক্তি শুধু নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির নারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বেসরকারি চাকরিজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও গৃহিণী—বিভিন্ন পেশা ও সামাজিক অবস্থানের নারীরাই এখন চিকিৎসার আওতায় আসছেন। অনেকের ক্ষেত্রে মাদকাসক্তির সঙ্গে মানসিক সমস্যাও যুক্ত হচ্ছে।

অ্যালকোহল সেবনের প্রবণতার ক্ষেত্রেও রাজধানীতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। মদ পানের পারমিটের জন্য চলতি বছর হাজারের বেশি তরুণী আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। জুন পর্যন্ত ৭ শতাধিক পারমিট ইস্যু হয়েছে। গুলশান, উত্তরা ও তেজগাঁও এলাকায় নারী পারমিটধারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

তবে পারমিটের সংখ্যা সরাসরি মাদকাসক্তির সংখ্যা নির্দেশ করে না। বৈধভাবে অ্যালকোহল সেবনের অনুমতি নেওয়া এবং আসক্ত হয়ে পড়া—দুটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু চিকিৎসাকেন্দ্রে নারী মাদকাসক্তদের উপস্থিতি এবং তরুণীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবহারের তথ্য সামাজিক বাস্তবতার একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী মাদকাসক্তির বিষয়টি শুধু আইনশৃঙ্খলা বা চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে সমস্যার সমাধান হবে না। পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, মানসিক চাপ, সামাজিক পরিবেশ ও সহজলভ্যতার মতো কারণগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি নারীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসুবিধা বাড়ানো জরুরি।

কারণ একজন নারীর মাদকাসক্তির প্রভাব শুধু তার নিজের জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবার, সন্তান ও সামাজিক সম্পর্ক। ফলে বাড়তে থাকা নারী মাদকাসক্তি এখন ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি ধীরে ধীরে পরিবার ও সমাজের জন্যও একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, একদিনে ২১৪৪ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৩ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, একদিনে ২১৪৪ মামলা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ১৪৪টি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। অভিযানে ৫০৬টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩১১টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিএমপি জানায়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ১৩৭টি, লালবাগে ১৯৭টি, মতিঝিলে ৩০২টি, ওয়ারীতে ১৭৮টি, তেজগাঁওয়ে ৩৫৭টি, মিরপুরে ৩৩৬টি, উত্তরা বিভাগে ৪৫৪টি এবং গুলশান বিভাগে ১৮৩টি মামলা করা হয়েছে।

এর মধ্যে উত্তরা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৫৪টি মামলা এবং রমনা বিভাগে সবচেয়ে কম ১৩৭টি মামলা হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এমএসআইপি

শাহজালাল বিমানবন্দরে অভিযান, আটক ৪০

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
শাহজালাল বিমানবন্দরে অভিযান, আটক ৪০

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০ জন ভবঘুরে ও ভিক্ষুককে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিমানবন্দর থানা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিমানবন্দর গোলচত্বর, বিআরটিএ স্টেশন, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, পুলিশ বক্সের আশপাশ, বিমানবন্দরের প্রবেশপথ ও ভিআইপি রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিমানবন্দর থানা পুলিশ জানায়, বিমানবন্দর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে ও ভিক্ষুকদের উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ ছিল। এতে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের চলাচলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছিল। এ সমস্যা নিরসনে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের অভিযানে আটক ৪০ জনসহ গত কয়েক দিনে বিমানবন্দর এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে মোট ৩২৮ জন ভবঘুরে ও ভিক্ষুককে আটক করা হয়েছে।

আটক শিশুদের মিরপুরের শিশু-কিশোর আশ্রয়কেন্দ্রে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের স্পেশাল কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।

ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদি জানান, বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের নির্বিঘ্ন চলাচল ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি