খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

দুর্ঘটনা নাকি ধর্ষণের পর হত্যা, কলেজছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
দুর্ঘটনা নাকি ধর্ষণের পর হত্যা, কলেজছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা!

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শ্রুতি পাল (২১) নামের এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তবে, অভিযোগের পক্ষে এখনও অকাট্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো অপরাধ, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত করছে পুলিশ। যদিও তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে এখন পর্যন্ত জানা গেছে, দুর্ঘটনাবশতই ভুক্তভোগীর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত শ্রুতি পাল চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের খাসখামা গ্রামের হোমিও চিকিৎসক টিটু পালের মেয়ে। তিনি ফেনী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী এবং তার পরিবার চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার শেখ মুজিব রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

ঘটনার দিন মাকে ফোন দিয়ে টিউশনিতে যাওয়ার কথা বলে দুপুর আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে ফেনীর মহিপাল থেকে মোটরসাইকেলযোগে বন্ধুদের সাথে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ঘুরতে রওনা হন শ্রুতি। পরে এই ঘটনায় নিহতের বাবা টিটু পাল বাদী হয়ে মিরসরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

এর আগে, চমেক হাসপাতালে শ্রুতির মরদেহ নিয়ে আসা মো. তানভির (২৭) ও তার সহযোগী আশরাফ উদ্দিন (২৫)-কে আটক করে নগরের পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। পরবর্তীতে মিরসরাই থানায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের উত্তর বেতাইরা এলাকার মৃত এবাদত হোসেনের ছেলে প্রবাসী মো. তানভীর এবং ফেনী সদরের আলোকদিয়া এলাকার মৃত শাহাবুদ্দিনের ছেলে আশরাফ উদ্দিন। এছাড়া মামলায় আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত রোববার (৭ জুন) দুপুরে শ্রুতি তার মাকে ফোন করে জানান, তিনি টিউশনিতে যাচ্ছেন। এরপর থেকেই তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মাকে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয় যে, মিরসরাই সদর ইউনিয়নের সুফিয়া রোডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তর বাইপাস

এলাকায় একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শ্রুতি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে স্বজনেরা চমেক হাসপাতালে ছুটে গিয়ে শ্রুতির মরদেহ দেখতে পান।

নিহতের পরিবারের দাবি, পুরো ঘটনাটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর পেছনে থাকা গণধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের শরীরে যেভাবে ক্ষত বা জখম তৈরি হয়, শ্রুতির শরীরে তেমন কোনো চিহ্ন ছিল না।

এমনকি যে মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলা হচ্ছে, সেটিতেও কোনো স্ক্র্যাচ বা ক্ষতির দাগ নেই। অথচ হাসপাতালে নিহতের মরদেহ পরীক্ষার সময় দেখা গেছে, তার যৌনাঙ্গে মারাত্মক ক্ষতবিক্ষত চিহ্ন এবং পেটে আঘাতের দাগ রয়েছে, যা পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

তারা আরও বলেন, তথাকথিত চালক মো. তানভিরের শরীরে দুর্ঘটনার সামান্যতম আঁচড়ও ছিল না। দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে পার পেতেই সে শ্রুতিকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে।

তবে মিনহাজ নামের এক পথচারী প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তর বাইপাস এলাকায় পেছন থেকে অজ্ঞাত একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

এতে মোটোরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়ক বিভাজকের ওপর আছড়ে পড়েন শ্রুতি। সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তার বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এদিকে নিহত শ্রুতির বাবা টিটু পাল বলেন, আমার মেয়ে অত্যন্ত রক্ষণশীল ও শৃঙ্খলিত পরিবেশে বড় হয়েছে। প্রবাসী তানভির প্রেমের সম্পর্কের সুবাদে বেড়ানোর নাম করে আমার মেয়েকে মিরসরাইয়ের কোনো অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

সেখানে তানভির ও তার বন্ধুরা মিলে আমার মেয়েকে ধর্ষণের পর অমানবিক নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এরপর ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়েছে।

ঘটনার দিন মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শুভ জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে শ্রুতি পালের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয় এবং তার বন্ধু তানভিরই তাকে সেখানে নিয়ে যান।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, হাসপাতাল এলাকা থেকে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। পরে তাদের মিরসরাই থানায় হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে এবং নিহতের বাবার মামলার পর থেকে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দ্রুতই প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হবে।

মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ এসপি নাদিম হায়দার জানান, এটি নারীবিষয়ক অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মামলা গ্রহণ করে আসামিদের জেলে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আটজনের একটি গ্রুপ মোটরসাইকেলযোগে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাচ্ছিলেন এবং পথিমধ্যে ইউটার্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

তাদের যাত্রাপথের সবগুলো সিসিটিভি ক্যামেরা নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, যাতে স্পষ্ট হওয়া যায় তারা কোথাও বাড়তি সময়ক্ষেপণ করেছিলেন কি না। তদন্ত শেষে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যুগান্তকারী বলছেন মির্জা ফখরুল, ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
যুগান্তকারী বলছেন মির্জা ফখরুল, ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রস্তাবিত নতুন বাজেট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। তিনি মনে করেন, এই বাজেটের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সতর্কবার্তা দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। অন্যদিকে, বাজেট নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন ব্যবসায়ীরাও।

অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন
ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে বাংলাদেশের অর্থনীতি শুধু ভঙ্গুরই হয়ে পড়েনি, একই সঙ্গে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। মাঝখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও দেশকে সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে একটি অগোছালো প্রশাসন এবং চরম দুর্দশাগ্রস্ত অর্থনীতির মধ্য দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠন করে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।’ এই কঠিন প্রেক্ষাপটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তাকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এই বাজেটে সরকারের আন্তরিকতা ও অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন ঘটেছে। বাজেটের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সৃজনশীলতা। এতে এমন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগে খুব কমই দেখা গেছে।’

বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ নারী পরিবারপ্রধান এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন এবং প্রতি পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এজন্য ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’ কৃষিখাতে সহায়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সেচব্যবস্থা, পানি সংরক্ষণ এবং মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় বাজেটের পদক্ষেপের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। যেসব পণ্য দেশে উৎপাদিত হয়, সেগুলোর সুরক্ষায় বিদেশি আমদানির ওপর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর-সুবিধাও প্রদান করা হয়েছে।’

বাজেটে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ক্রীড়া খাতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাসিক সম্মানী দেওয়া হবে, ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো আয়োজন পুনরায় শুরু হবে এবং খেলাধুলার পরিবেশ পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এছাড়া ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

সংস্কৃতি খাতের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে তিনি জানান, ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ উদ্যোগের আওতায় মৃৎশিল্প, বুননশিল্প, শীতলপাটিসহ ঐতিহ্যবাহী পণ্য বাজারজাত করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে লোকজ ও হস্তশিল্পের প্রসারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঢাকার পূর্বাঞ্চলে ১৬০ একর জমির ওপর একটি বিশ্বমানের ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে বাজেটের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এসএমই খাতের বিকাশে সহজ শর্তে ঋণ, প্রবাসী কর্মীদের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল ও ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। হাইটেক পার্কে ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক নারীর কাজের সুযোগ তৈরি হবে।’

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বৃদ্ধির তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১.৩৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ০.৫৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.০১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এটি মানবসম্পদ উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।’ ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসা সহজ করতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও নিয়ন্ত্রণ কমানো হয়েছে। কর প্রদান ও রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় করা হবে। করের হার না বাড়িয়ে বরং করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কর প্রশাসন আধুনিকীকরণের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানো হবে।’ আমদানি সুবিধার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রপ্তানিমুখী ও উৎপাদনমুখী খাতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।’ মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন বাড়লে মূল্যস্ফীতি স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে। সব মিলিয়ে এই বাজেট সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সুফল বয়ে আনবে।’

বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর হ্রাস, পাঁচ বছরের কর কাঠামো আগাম ঘোষণা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে কর সুবিধা এবং অনলাইন ভ্যাট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তিনি করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখার সমালোচনা করে বলেন, মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় এটি অন্তত ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা প্রয়োজন ছিল। ডিসিসিআইর মতে, ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। তবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থায়ন কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ অর্থনীতিবিদদের
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বাজেটের নীতিগত দিককে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অর্থায়ন কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, মানবিক অর্থনীতি, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং যুব উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক কাঠামো এখনো দুর্বল। বিশেষ করে বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনও বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বাস্তবায়ন সক্ষমতার তুলনায় বড় বাজেট ঘোষণার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। ফলে ঘোষিত বাজেটের পুরোটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, করের বোঝা না বাড়িয়ে কিছু ক্ষেত্রে কমানোর উদ্যোগ ইতিবাচক। এতে ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও সমন্বিত ও কৌশলগত পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

 

রাজশাহীতে আইজিপি শিক্ষাবৃত্তি পেল ২০ মেধাবী শিক্ষার্থী

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে আইজিপি শিক্ষাবৃত্তি পেল ২০ মেধাবী শিক্ষার্থী

রাজশাহীর শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি ও এইচএসসি-২০২৫ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইজিপি শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার( ১১ জুন)  সকাল ১১টায় বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী।

অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে সফলতা অর্জন করে দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা, শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতার ফলেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সবসময় পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি-২০২৫ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ২০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে আইজিপি শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। এছাড়া অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। পরে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনার মাধ্যমে তাদের সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, পিপিএম; উপ-পুলিশ কমিশনার (ফোর্স) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান; আরএমপির মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড সিটিটিসি) মো. গাজিউর রহমান, পিপিএমসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতে বাংলাদেশের ইতিহাস

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতে বাংলাদেশের ইতিহাস

ক্রিকেটের দুনিয়ায় অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া। সেই অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারিয়েই আজ ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ঘরের মাঠে অজিদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে সহজ জয়ে লিড নিরেছিল টাইগাররা। আজ দ্বিতীয় ম্যাচে জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের দল। হলুদ জার্সিধারীদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয় এটিই।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় এলো বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করেই। আগে ব্যাট করতে নেমে অল আউটের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল অজিরা। ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করতেই নামে বৃষ্টি। এরপর লম্বা সময় খেলা বন্ধ থাকার পর বিকাল ৫.১৫ মিনিটে যখন ম্যাচ আবার মাঠে গড়ায় ততক্ষণে শুরু হয়েছে ওভার কর্তন। ফলে অজিরা আর ব্যাট করতে নামতে পারেনি। ৪১ ওভারে নেমে আসে ম্যাচ, বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২। সে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে হোঁচট খেলেও সৌম্য সরকার ও নাজমুল শান্তর ৪২ রানের ইনিংসের পর তাওহিদ হৃদয়-মেহেদি মিরাজ জুটিতে ৩৫ ওভারেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।

১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরের পথ ধরতে হয় তানজিদ তামিমকে। বাংলাদেশি এই ওপেনার ২ বলে ০ রান করে ফিরেন জাভিয়ের বার্টলেটের বলে। শুরুতেই এক ওপেনারকে হারিয়ে তাই চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

তবে বৃষ্টি ভেজা মাঠে এরপর আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারকে সঙ্গে নিয়ে চাপ সামলে নেন নাজমুল শান্ত। দুজন মিলে দেখেশুনে খেলে অজি বোলারদের বিপক্ষে জুটি গড়েন।

শান্ত-সৌম্যর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে স্কোরবোর্ডে ওঠে ৮৬ রান। সৌম্য ছিলেন ব্যক্তিগত অর্ধশতকের পথে। তবে ফিফটি থেকে ৮ রান দূরে থাকতেই ফিরতে হয় তাকে। ৪৭ বলে ৪২ রান করে ম্যাট রেনশর বলে আউট হন তিনি। দলীয় ৮৬ রানে সৌম্য ফেরার পর ক্রিজে শান্তর সঙ্গী হন লিটন দাস।

তবে লিটনের সঙ্গে বড় জুটি গড়া হয়নি শান্তর। এ জুটিতে স্কোরবোর্ডে ১২ রান ওঠতেই ব্যক্তিগত ৪২ রান করে আউট হন শান্ত। এরপর ক্রিজে হৃদয় লিটনের সঙ্গী হলেও জুটি বড় হয়নি। ব্যক্তিগত ২১ রানেই সাজঘরের পথ ধরেন লিটন। দলীয় ১২২ রানে লিটন ফেরার পর ১৪৪ রানে আউট হন আগের ম্যাচে দুর্দান্ত ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক।

দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারালেও ষষ্ঠ উইকেটে হৃদ্যয়-মিরাজের জুটিতে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়। অজি বোলারদের বিপক্ষে এরপর আর কোনো ভুল করেননি মিরাজ-হৃদয়। দুজন মিলে দেখেশুনে খেলেন ৫১ রানের অপরাজিত জুটি। এই জুটিতেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ নিশ্চিত করে টাইগাররা। মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ২২ রানে, হৃদয় অপরাজিত ছিলেন ৪০ রানে।

এর আগে মিরপুরে টস জিতে আজ ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জশ ইংলিস। সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতেও ফিল্ডিং বেছে নিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে হারের পর আজ সিদ্ধান্ত বদলালেন। তবে ভাগ্য তার সহায় হলো না। সফরকারীদের শুরুটা হয়ে গেল রূপকথার বিপরীত গল্পের মতো।

মাত্র তিন ওভারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া হয়ে গেল ০ রানে ৩ উইকেট। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এ যেন এক অবিশ্বাস্য দুঃস্বপ্ন। অজিদের ৮৮২টি ওয়ানডে ম্যাচের দীর্ঘ পথচলায় মাত্র দু’বারই দুই ওপেনার শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ২০২২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে। বাংলাদেশের মাটিতে এসে সেই বিরল লজ্জার তৃতীয়বার ঘটল।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার এক হাজারেরও বেশি ওয়ানডে ইতিহাসে এই প্রথম। আগে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়ও তারা তিন উইকেট হারিয়েছিল ৫ রানে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই ০ রানে ৩ উইকেট হারানোর লজ্জা পেয়েছে তারা। এরপর কিছুটা সামলে নিলেও বৃষ্টির জন্য খেলা বন্ধের আগে তারা ৪২ ওভারে করতে পারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ