খুঁজুন
                               
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৮ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

মা হচ্ছেন সামান্থা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
মা হচ্ছেন সামান্থা

গত বছরের ১ ডিসেম্বর ‘ফ্যামিলি ম্যান’ পরিচালক রাজ নিদিমরুকে বিয়ে করেন দক্ষিণি অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। তারকা দম্পতির সংসারে আসছে নতুন অতিথি। প্রথমবারের মতো মা হতে চলেছেন সামান্থা। সামান্থা বা রাজের কেউই খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালেও ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে খবরটি প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

সম্প্রতি সামান্থার নতুন ছবি ‘মা ইনতি বানগারাম’-এর সাফল্য উদ্‌যাপনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে অভিনেত্রীর বেবি বাম্প স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। উদ্‌যাপনের ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সামান্থাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অনেক ভক্ত।

সামান্থা–রাজের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’-এর কাজের সময়। পরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন বাড়তে থাকে।

সম্প্রতি সামান্থার নতুন ছবি ‘মা ইনতি বানগারাম’-এর সাফল্য উদ্‌যাপনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। কোলাজ

বিয়ের পর সামান্থার একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারও আবার ভাইরাল হয়। সেখানে রাজের পাঠানো একটি ভিডিও বার্তা দেখে সামান্থাকে লজ্জা পেতে দেখা যায়। বার্তায় রাজ তাঁর কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও তামিল-তেলুগু দুই ইন্ডাস্ট্রিতে সমান দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার প্রশংসা করেছিলেন।

সম্প্রতি দুজন আবারও একসঙ্গে কাজ করেছেন ‘মা ইনতি বানগারাম’ ছবিতে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন নন্দিনী রেড্ডি। এর আগে ২০১৯ সালের ‘ওহ! বেবি’ ছবিতেও সামান্থা ও নন্দিনী রেড্ডির সফল জুটি দেখা গিয়েছিল। ছবিটির প্রযোজক রাজ।
সামান্থা আগে দক্ষিণি অভিনেতা নাগা চৈতন্যার সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন। চার বছর পর তাঁদের বিচ্ছেদ হয়, পরে অভিনেত্রী সবিতা ধুলিপালাকে বিয়ে করেন নাগা।

এনডিটিভি অবলম্বনে

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকার নিরাপত্তায় ১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকার নিরাপত্তায় ১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন

রোববার (২১ জুন) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এসব তথ্য জানান।

নিয়াজ মেহেদী জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো নগরীতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নগরের ২০০টির বেশি কৌশলগত স্থানে পুলিশের বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট বসানো হবে। পাশাপাশি ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিট ডিবি ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সক্রিয় থাকবে। সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও আইএডি গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

তিনি আরও জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া ঢাকার চারটি প্রধান কন্ট্রোলরুমে পর্যাপ্ত ফোর্স রিজার্ভ রাখা হবে। নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকিতে কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।

 

এদিকে জুন মাসের শুরু থেকে ২০ জুন পর্যন্ত রাজধানীতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় বিপুল সংখ্যক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। এর মধ্যে রাজনৈতিক মামলায় ৮২ জন, ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে ২৮ জন, চুরি সংক্রান্ত ঘটনায় ১২১ জন, দস্যুতার ঘটনায় ১১৩ জন এবং ডাকাতি মামলায় ১২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া ডিএমপির থানা, ডিবি ও সিটিটিসির অভিযানে জুন মাসে এখন পর্যন্ত ৫৫ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ রয়েছে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, রাজধানীর শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রাজশাহীতে তায়কোয়ানদো দোজাং এর ২৬ তম বেল্ট বিতরণী অনুষ্ঠিত

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে তায়কোয়ানদো দোজাং এর ২৬ তম বেল্ট বিতরণী অনুষ্ঠিত

রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ‘তায়কোয়ানদো দোজাং এর ২৬তম বেল্ট বিতরণী অনুষ্ঠান ২০২৬’। রোববার (২১ জুন) বিকেলে নগরীর উপশহরস্থ শহীদ আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত  অনুষ্ঠানে শতাধিক তায়কোয়ানডো প্রশিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাং-এর সভাপতি মোঃ শরফুজ্জামান শামীম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহা: আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর ও রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ মোজাম্মেল হক এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মোঃ সাইফুদ্দিন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাং-এর সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান প্রশিক্ষক মোঃ মোজাফফর হোসেন বুলু। তিনি বলেন, তায়কোয়ানডোর মাধ্যমে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আত্মপ্রত্যয়ী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেই আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে তায়কোয়ানডো প্রশিক্ষনাথী, অভিভাবকবৃন্দ, রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাং-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে বেল্ট ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাং-এর নেতৃবৃন্দ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দায়িত্বশীল নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রী

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
দায়িত্বশীল নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রী

ক্ষমতার রাজনীতিতে বন্ধুত্ব, আনুগত্য ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেক সময় নীতি ও আদর্শকে ছাপিয়ে যায়। ইতিহাস বলে, অধিকাংশ সরকারই বিরোধী দলের আক্রমণে নয়, বরং নিজেদের ভেতরের সীমাহীন সুবিধাবাদ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জবাবদিহিহীনতার কারণে জনসমর্থন হারায়। সেই বাস্তবতায় বগুড়ার ইউনিয়ন নামকরণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি সরকারের ভেতরে ও বাইরে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। বার্তাটি হলো—রাষ্ট্র ব্যক্তির চেয়ে বড়, প্রতিষ্ঠান পরিবারের চেয়ে বড় এবং জনগণের স্বার্থ বন্ধুত্বের চেয়েও বড়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক সেই বার্তারই একটি বাস্তব পরীক্ষায় পরিণত হয়েছিল। কারণ বিষয়টি শুধুমাত্র কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণ নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিকতা, পরিবারতন্ত্র, স্বার্থের সংঘাত, ক্ষমতার ব্যবহার এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।

যখন একটি ইউনিয়নের নাম প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির নামে, দুটি ইউনিয়নের নাম তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে এবং আরেকটি ইউনিয়নের নাম তাঁর ভাতিজির ডাকনামের সঙ্গে মিলে যায়, তখন জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। গণতন্ত্রে প্রশ্নকে দমন করা যায়, কিন্তু উপেক্ষা করা যায় না।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিষয়টিকে “মিরাকল” বা অলৌকিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কখনো অলৌকিকতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। রাষ্ট্র পরিচালিত হয় আইন, নীতি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার ভিত্তিতে। জনগণ কাকতালীয় ব্যাখ্যা শুনতে চায় না; তারা দেখতে চায় একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়া।

এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি যখন বিতর্কিত ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন, তখন তিনি কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল সংশোধন করেননি; তিনি একটি রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে সরকারের ভাবমূর্তি, জনগণের আস্থা এবং রাষ্ট্রের মর্যাদা কোনো ব্যক্তির চেয়ে বড়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। সাধারণত ক্ষমতার কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা নানা বিতর্কে জড়িয়েও প্রভাবের বলয়ে সুরক্ষিত থাকেন। কিন্তু তারেক রহমানের এই পদক্ষেপ ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। এটি এমন একটি বার্তা, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা দৃশ্যমান।

দীর্ঘ দেড় দশকের নির্বাসন জীবনে তারেক রহমান বারবার একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলেছেন। তিনি বলেছিলেন, “I Have A Plan”। তখন অনেকে এটিকে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবেই দেখেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, তিনি অন্তত একটি ভিন্ন রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।

শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, প্রশাসন কিংবা রাজনৈতিক আচরণ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি পরিবর্তনের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ, বক্তব্য এবং সিদ্ধান্তে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির আভাস পাওয়া যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হলো, তাঁর চারপাশের সবাই সেই দর্শন ধারণ করতে পারছেন না।

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি এমন সব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন, যা শুধু তাদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না; পুরো সরকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ব্যক্তিস্বার্থ, পরিবারতন্ত্র, প্রভাব বিস্তার, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সুবিধাবাদী রাজনীতির সংস্কৃতি যেন এখনো কিছু মানুষের মধ্যে প্রবলভাবে বিদ্যমান।

মীর শাহে আলমকে ঘিরে বিতর্কও কেবল ইউনিয়নের নামকরণে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রকল্প বরাদ্দ, পরিবারের ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা, স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনাগুলোও জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আইন। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য অভিযোগের অস্তিত্বই একটি বড় বিষয়। কারণ রাজনীতিতে শুধু সৎ হওয়াই যথেষ্ট নয়; জনগণের কাছে সৎ হিসেবে প্রতীয়মান হওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে “Conflict of Interest” বা স্বার্থের সংঘাতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কারণ ক্ষমতার অবস্থানে থাকা ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা যদি একই ক্ষমতার কাঠামো থেকে সুবিধা পান, তাহলে জনগণের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়। সেই সন্দেহ দূর করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মামলা এবং চাপ সৃষ্টির অভিযোগ। সংবাদমাধ্যম কোনো সরকারের শত্রু নয়। বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমই রাষ্ট্র ও সমাজের আয়না। সেই আয়নায় যদি কোনো ত্রুটি প্রতিফলিত হয়, তাহলে আয়না ভাঙার চেষ্টা নয়; ত্রুটি সংশোধনের উদ্যোগই হওয়া উচিত রাষ্ট্রনায়কের কাজ।

এখানেই মূল প্রশ্নটি উঠে আসে—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একা কতদিন এই বোঝা বহন করবেন? সরকারের যাত্রার শুরুতেই যদি কিছু মন্ত্রী, উপদেষ্টা কিংবা ক্ষমতাবান ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়, তাহলে তার রাজনৈতিক মূল্য শেষ পর্যন্ত পুরো সরকারকেই দিতে হবে। কারণ জনগণ পৃথক কোনো মন্ত্রীকে নয়; পুরো সরকারকেই মূল্যায়ন করে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ রাখা প্রয়োজন। তারেক রহমান শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন। জনগণের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক পুঁজি অনেক বড় সম্পদ। সেই সম্পদকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অধিকার কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটের নেই।

বিএনপির ভেতরে সৎ, আদর্শবান, ত্যাগী এবং জনমুখী নেতৃত্বের অভাব নেই। সরকার পরিচালনার জন্য অসংখ্য যোগ্য মানুষ রয়েছেন। তাহলে কেন কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির কারণে পুরো সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে? কেন একজন জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে অন্যের ভুলের বোঝা টেনে নিয়ে যেতে হবে?

সুতরাং আজ সময় এসেছে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, যারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থকে রাষ্ট্রের স্বার্থের ওপরে স্থান দেন, যারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেন—তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে যারা সততা, দক্ষতা এবং জনকল্যাণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তাদের সামনে নিয়ে আসতে হবে।

আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে যদি কোনো সিন্ডিকেট, সুবিধাভোগী চক্র কিংবা প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৈরি হয়ে থাকে, যারা নিয়োগ, বদলি, ব্যবসায়িক সুবিধা অথবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করছে, তাহলে সেই চক্র ভেঙে দিতে হবে। ইতিহাস সাক্ষী, কোনো গণতান্ত্রিক সরকার বিরোধী দলের কারণে যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিজেদের ভেতরের সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর কারণে। এর আগেও বহুবার আমি এ কথা বলেছি।

তারেক রহমানের সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হওয়া উচিত জনগণ। কোনো ব্যক্তি নয়, কোনো গোষ্ঠী নয়, কোনো সিন্ডিকেট নয়। জনগণের আস্থা হারালে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না। আবার জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারলে সবচেয়ে কঠিন সংকটও মোকাবিলা করা সম্ভব।

মীর শাহে আলম ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। কিন্তু একটি দৃষ্টান্তই যথেষ্ট নয়। সরকারের ভেতরে যদি সত্যিই কোনো সুবিধাভোগী চক্র, পরিবারতান্ত্রিক প্রবণতা, দুর্নীতি, প্রভাব-বাণিজ্য কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের সংস্কৃতি থেকে থাকে, তাহলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও একই কঠোরতা দেখাতে হবে। কারণ একজন প্রধানমন্ত্রী একা একটি রাষ্ট্রকে বদলে দিতে পারেন না। তাঁকে সহায়তা করার জন্য দরকার সৎ, দক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং জনস্বার্থে নিবেদিত একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো।

তারেক রহমান যদি সত্যিই তাঁর ঘোষিত নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাহলে তাঁকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি কি কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বোঝা বহন করবেন, নাকি জনগণের আস্থাকে তাঁর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করবেন?

সকলেরই একটি সত্য গভীরভাবে উপলব্ধি করা উচিত যে, ইতিহাসের আদালতে শেষ পর্যন্ত কোনো মন্ত্রী, উপদেষ্টা কিংবা সিন্ডিকেটের বিচার হয় না; বিচার হয় সরকারের, বিচার হয় নেতৃত্বের।

আজকের বাংলাদেশে জনগণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সচেতন, বেশি তথ্যসমৃদ্ধ এবং বেশি প্রত্যাশাপূর্ণ। তারা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান শুনতে চায় না; তারা দেখতে চায় রাজনৈতিক সততা। তারা শুধু পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি চায় না; তারা পরিবর্তনের বাস্তব প্রমাণ চায়। কারণ গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ, সবচেয়ে বড় বিচারক জনগণ, আর সবচেয়ে বড় ভরসাও জনগণ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।