খুঁজুন
                               
, ,
           

১৭১ বছরের চা চাষের ইতিহাসে উৎপাদনে রেকর্ড

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
১৭১ বছরের চা চাষের ইতিহাসে উৎপাদনে রেকর্ড

রপ্তানি তলানিতে নামলেও উৎপাদনে চমক দেখিয়ে চলেছে চা। বছর বছর উৎপাদন বাড়তে থাকা পণ্যটি দেশের চাহিদা মেটাচ্ছে প্রতিনিয়ত। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চা রপ্তানি থেকে ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশে। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এ অর্থের পরিমাণ ৪১ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।

উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বাড়ায় আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছিল চা শিল্প। চাহিদা মেটাতে ২০১০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আমদানিও শুরু হয়। চা আমদানিনির্ভর হয়ে যাবে কি না, এমন শঙ্কাও ছিল। তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে চাহিদার চেয়ে বেশি চা উৎপাদন করে চা শিল্পে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন উৎপাদকরা। শুধু তা–ই নয়, এই অঞ্চলে ১৭১ বছরের চা চাষের ইতিহাসে উৎপাদনেও রেকর্ড হয়েছে। আগের মত আর আমদানি করতে হচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্পের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের চা শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি চা শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং চা শিল্প-সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে চা বাগান মালিকদের বিদ্যমান ঋণের দায় সহজীকরণ এবং স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনীছড়া চা-বাগানের মাধ্যমে এই অঞ্চলে প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা চাষ শুরু হয়। বাংলাদেশ চা বোর্ডের সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০২৩ সালে ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার (১০২.৯২ মিলিয়ন) কেজি চা উৎপাদন হয় দেশে। পরের দুই বছরেও (২০২৪ ও ২০২৫) প্রায় ১০ কোটি কেজি উৎপাদন হয়। চলতি ২০২৬ সালেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

চা বোর্ডের কর্মকর্তা ও বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চা উৎপাদনে রেকর্ড সাফল্যের নেপথ্যে আছে গত এক দশকে সরকার ও বাগান মালিকদের নেওয়া নানামুখী পদক্ষেপ। উত্তরাঞ্চলে পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানে চা চাষের আওতা বাড়ছে। পরিত্যক্ত বাগান চা চাষের আওতায় এসেছে। কয়েক বছর ভালো দাম পাওয়ায় বাগান মালিকেরাও নতুন বিনিয়োগ করেছেন। বাগানে প্রযুক্তিগত ব্যবহারও বেড়েছে। চলতি বছর চায়ের উৎপাদন ১০ কোটি কেজির বেশি হবে জানিয়ে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো.মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জুন পর্যন্ত গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৭০ লাখ কেজি বেশি চা উৎপাদন হয়েছে। এবার আমরা লক্ষ্যমাত্রা ধরেছি ১০ কোটি ৪০ লাখ (১০৪ মিলিয়ন) কেজি। আশা করছি, বছর শেষে লক্ষ্য অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড হবে।’

তিনি বলেন, ‘চায়ের উৎপাদন বাড়াতে আমরা পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য এই সময়ের মধ্যে উৎপাদন ১২৫ থেকে ১৩০ মিলিয়ন (১২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১৩ কোটি) কেজিতে নিয়ে যাওয়া। আশা করছি, চা শ্রমিক, বাগান মালিক ও সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেটা সফল হবে।’

চায়ের উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানিসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির ফলে চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় চা রপ্তানি কমেছে। দেশীয় চা শিল্প সুরক্ষার লক্ষ্যে চা আমদানিকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, চা উৎপাদন বাড়ানো, গুণগত মান উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে কর্মকৌশল প্রণয়নের জন্য সরকার ২০২৬ সালের ৭ জুন একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। ওই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে জাপানের বহুজাতিক অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠান টয়োটা। ২০২৭ সালে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেল (এইচইভি) কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়ে ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এ পরিকল্পনার কথা জানায় টয়োটা তুশো করপোরেশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

বৈঠকে বাংলাদেশে টয়োটার কার্যক্রম সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। প্রতিনিধিদল জানায়, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য’ উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখে দেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন করা হবে।

প্রস্তাবিত কারখানার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়নের প্রসার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানানো হয়।

টয়োটার বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও অবকাঠামোগত সুবিধা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব খাতে টয়োটা তুশো করপোরেশন বিনিয়োগে আগ্রহী হলে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

টয়োটার পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের সব বিভাগে ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি তরুণদের কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

বৈঠকে সরকারের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। টয়োটা তুশো করপোরেশনের মোবিলিটি ডিভিশনের সিইও শিগেরু হারাদা, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট প্রেমমিত সিংসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জন্মনিবন্ধনে গড়মিল, সেবায় জবাবদিহির তাগিদ মন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
জন্মনিবন্ধনে গড়মিল, সেবায় জবাবদিহির তাগিদ মন্ত্রীর

দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার সঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্যভান্ডারের বড় ধরনের অসঙ্গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, প্রায় ১৯ কোটি মানুষের দেশে নিবন্ধন ডাটাবেজে এর চেয়ে অনেক বেশি মানুষের তথ্য থাকা উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের অসঙ্গতি দূর করে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থাকে নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

  • ১৭ কোটির দেশে নিবন্ধন ২৪ কোটি ৮৮ লাখ
  • ভুল-অসঙ্গতি দূর করার আহ্বান স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর
  • ‘প্রযুক্তি নয়, দায়িত্বশীল মানুষই সেবা নিশ্চিত করবে’

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে জোর

জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণ সরকারের কাছে যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দেয়, তা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি—সবার মূল উদ্দেশ্য এক, জনগণের সেবা করা। পদ্ধতি ভিন্ন হলেও জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উভয়েরই একই লক্ষ্য থাকা উচিত। জনগণ নির্বাচিত সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা রাখে। তাই সেই প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে, তা জনগণের সেবা করার কাজে ব্যবহার করতে হবে। জনগণের সেবা বাধাগ্রস্ত করার জন্য নয়, মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।

প্রযুক্তির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলতা

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনকে জাতীয় প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তবে নিবন্ধন ব্যবস্থার তথ্যের সঙ্গে দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার বড় পার্থক্যকে তিনি প্রশাসনিকভাবে উদ্বেগজনক বলে মনে করেন।

নাগরিক সেবা প্রদানে প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার দিকটিও তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু কম্পিউটার বা প্রযুক্তি দিয়ে মানুষের সেবা নিশ্চিত করা যাবে না। প্রযুক্তির পেছনে থাকা মানুষকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। একটি সাধারণ জন্মসনদ নিতে কোনো নাগরিককে যেন ইউনিয়ন পরিষদে বারবার যেতে না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

তৃণমূলের মানুষের নাগরিক অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ হয়তো বেশি শিক্ষিত নন, কিন্তু তিনিও রাষ্ট্রের নাগরিক এবং তাঁরও সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাই তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সতর্ক, দায়িত্বশীল ও জনগণমুখী হতে হবে।

জনসংখ্যার সঙ্গে নিবন্ধনের হিসাব মিলছে না

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের পরিসংখ্যানের অসঙ্গতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে জন্ম নিবন্ধনের সংখ্যা ২৪ কোটি ৮৮ লাখ এবং মৃত্যু নিবন্ধন ৫৮ লাখ ১৯ হাজার। অথচ ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। নির্ভুল নিবন্ধন না হওয়ায় পরিসংখ্যানে গড়মিল হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যেসব গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান রয়েছে। ২০০১ সালে ইউনিসেফের সহযোগিতায় বেগম খালেদা জিয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন চালু করেন এবং সেখানে পিতার পাশাপাশি মায়ের পরিচয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’তে বিডিআরআইএস

‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সিস্টেম (বিডিআরআইএস) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ব্যবস্থা বলে মন্তব্য করেন মীর শাহে আলম। তৃণমূল পর্যায়ে নিবন্ধন আরও নির্ভুল করতে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রামভিত্তিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ধারণার আলোকে পুনরায় গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, এ ব্যবস্থা চালু হলে গ্রাম পর্যায়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আরও নির্ভুল করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে শুদ্ধতা ও উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ঢাকা জেলার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, দুবাই, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশন, ঢাকার হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমক

শিক্ষকদের জাতীয়করণে একমত ড. মঈন খান, দেখালেন সতর্কতার দিকও

নিজস্ব ও নরসিংদী প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
শিক্ষকদের জাতীয়করণে একমত ড. মঈন খান, দেখালেন সতর্কতার দিকও

‘আমি নিজেও একজন শিক্ষক। কাজেই আপনাদের দাবির সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত।’—শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবির প্রসঙ্গে নিজের পরিচয় ও অবস্থান এভাবেই স্পষ্ট করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তবে শিক্ষক হিসেবে দাবিটির প্রতি তাঁর সমর্থনের পাশাপাশি জাতীয়করণের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, জাতীয়করণ হলে শিক্ষকেরা সরকারি কর্মচারীতে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি বদলি, প্রশাসনিক দায়িত্বসহ নতুন কিছু বাস্তবতার মুখোমুখি হবেন। তাই দাবিটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নরসিংদীর পলাশ উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আবদুল মঈন খান এসব কথা বলেন।

  • ‘আমি নিজেও একজন শিক্ষক, আপনাদের দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত’
  • জাতীয়করণে বদলি ও প্রশাসনিক দায়িত্বসহ দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনার আহ্বান

শিক্ষক পরিচয়েই দাবির প্রতি সংহতি

শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবির প্রসঙ্গে মন্ত্রীর নিজের শিক্ষক পরিচয়টি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনি নিজেই জানালেন, তিনি একজন শিক্ষক। ফলে দাবিটির প্রতি তাঁর সমর্থন এসেছে কেবল সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে নয়, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার সঙ্গেও সম্পর্কিত অবস্থান থেকে। ড. মঈন খান বলেন, ‘আমি নিজেও একজন শিক্ষক। কাজেই আপনাদের দাবির সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত।’

তবে তিনি জাতীয়করণের বিষয়টিকে শুধু সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রশ্ন হিসেবে দেখেননি। তাঁর মতে, জাতীয়করণের সঙ্গে চাকরির ধরন ও দায়িত্বের পরিবর্তনও যুক্ত হবে। শিক্ষকেরা সরকারি কর্মচারীতে পরিণত হলে বদলি ও প্রশাসনিক দায়িত্বসহ বিভিন্ন বিষয় সামনে আসবে। তাই দাবিটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব শিক্ষকদের নিজেদেরও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

সমর্থনের সঙ্গে বাস্তবতার কথাও

মন্ত্রীর বক্তব্যে একই সঙ্গে দুটি দিক স্পষ্ট হয়েছে—শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন এবং জাতীয়করণের সম্ভাব্য প্রশাসনিক প্রভাব সম্পর্কে সতর্কতা। অর্থাৎ জাতীয়করণ হলে শুধু বেতন-ভাতা কিংবা চাকরির নিশ্চয়তাই বাড়বে না; এর সঙ্গে সরকারি চাকরির কাঠামো, বদলি এবং অতিরিক্ত দায়িত্বের বিষয়ও যুক্ত হতে পারে। এই কারণেই শিক্ষকদের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি তাঁদের পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদা কীভাবে অক্ষুণ্ন রাখা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মন্ত্রী।

দেশের সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার কখনো কার্পণ্য করবে না বলেও তিনি জানান। শিক্ষকদের কল্যাণ ও তাঁদের ন্যায্য দাবির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

সরকারি সহায়তা বেড়েছে ধাপে ধাপে

বেসরকারি শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ইতিহাস তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল বেসরকারি। ব্যক্তি ও সমাজের দানশীল মানুষের সহযোগিতায় এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতো। পরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতায় সরকারি সহায়তা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতনের ৫০ শতাংশ সরকারিভাবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এরপর ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবির প্রেক্ষাপটে শিক্ষা কমিশন গঠন করে। সেই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষকদের সরকারি বেতন-সহায়তা আরও বাড়ানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতনের শতভাগ সরকারিভাবে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে বর্তমানে দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সরকারি সহায়তার আওতায় রয়েছেন।

শিক্ষক গড়েন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ

নিজের শিক্ষক পরিচয়ের প্রসঙ্গটি যেন মন্ত্রীর বক্তব্যের অন্য অংশগুলোকেও আলাদা মাত্রা দিয়েছে। শিক্ষকদের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের দায়িত্ব সাধারণ সরকারি কর্মকর্তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিক্ষকরাই দেশের তরুণ সমাজকে গড়ে তোলেন। তাই শিক্ষকদের নিজেদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও দায়িত্বের গুরুত্ব উপলব্ধি করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে ড. মঈন খান বলেন, একটি দেশের প্রকৃত শক্তি শুধু সামরিক সক্ষমতা বা অর্থনৈতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে না। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজই একটি দেশকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করে। তাই বাংলাদেশকে উন্নত ও সম্মানজনক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

নারী শিক্ষার প্রসারেও পুরোনো সিদ্ধান্তের প্রভাব

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রায় ৩৫ বছর আগে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে প্রথমে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর ফলে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিও ওই ধরনের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের সুফল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খান ফাউন্ডেশন ও দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার। পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশতিয়াক আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরআই/এমকে