খুঁজুন
                               
, ,
           

শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:০৮ অপরাহ্ণ
শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাইযোদ্ধা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছে তাদের প্রত্যাশা পূরণে সরকার সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করবে। আমরা কোনোভাবে পিছপা হবো না। তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ৭৪ পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, কেউ হয়তো বলছেন সরকার তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি অন্যভাবে বলতে চাই যে গুম-খুন ও শহীদ পরিবারের সহযোগিতা ও সমর্থন আছে বলেই তাদের আকাঙ্খা পূরণে সরকার কাজ করতে পারছে। যতদিন আমাদের জনগণ ক্ষমতায় রাখবে ততদিন আশা করি এসব পরিবারের সমর্থন আমাদের সঙ্গে থাকবে। যতই সীমাবদ্ধতা থাকুক আমরা এসব পরিবারের পাশে থাকবো।

খুন-গুন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের যে অপূরণীয় ক্ষতি তা হয়তো কোনোভাবে পূর্ণ করা সম্ভব নয়। তারপরও এতটুকু বলবো আমাদের অবস্থান থেকে আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি থাকবো।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বাংলাদেশে বহুমুখী ঝুঁকির সতর্কবার্তা বিশ্বব্যাংকের

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে বহুমুখী ঝুঁকির সতর্কবার্তা বিশ্বব্যাংকের

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খাদ্য অনিরাপত্তা, জ্বালানি সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ একই সময়ে একাধিক ধাক্কার মুখোমুখি হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাতের সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সীমিত কর্মসংস্থান। ফলে দেশের অর্থনীতির ওপর অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক—দুই ধরনের চাপই ক্রমে বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট এপ্রিল ২০২৬-এর মূল্যায়ন বলছে, এসব ঝুঁকি বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি সংকট আরেকটিকে আরও গভীর করে তুলছে। জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়লে শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, খাদ্য নিরাপত্তা দুর্বল হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্যের ওপর তার প্রভাব পড়ছে।

দুর্বল অর্থনীতির ওপর নতুন ধাক্কা
২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নামিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একই সময়ে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির ০.৮ শতাংশ এবং সরকারি কোষাগারের ঘাটতি ৪.৪ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হয়েছে। রাজস্ব পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। ২০২৫ অর্থবছরে গত ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবার কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমেছে। অন্যদিকে টানা তিন বছর মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি। অর্থাৎ সরকারের ব্যয় করার সক্ষমতা যখন সংকুচিত হচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও কমছে না। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ব্যাংকিং খাত নিয়ে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত নির্ধারিত সর্বনিম্ন ১০ শতাংশের অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। ফলে অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি সংকটের বহুমুখী প্রভাব
বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। কিন্তু দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির বড় অংশই আমদানিনির্ভর। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সেই নির্ভরতার ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির পাঁচটিতেই ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়েছে। খোলা বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪-২৮ ডলারে পৌঁছেছে—আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর ফলে ২০২৬ অর্থবছরে জ্বালানি ভর্তুকির সম্ভাব্য বোঝা ২ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। এর প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিল্প উৎপাদন, পরিবহন, কৃষি এবং সামাজিক খাতের ব্যয়েও চাপ তৈরি হবে। বিশ্বব্যাংকের এই হিসাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—জ্বালানি সংকটকে আর একক কোনো খাতের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি অর্থনীতি ও জনজীবনের একাধিক স্তরে একযোগে প্রভাব ফেলছে।

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বাড়ছে ঝুঁকি
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তাও জ্বালানি ও আমদানিনির্ভরতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সার ও জ্বালানির সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, কৃষি উপকরণের সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ায় প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষুদ্র কৃষক চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন। দেশে হেক্টরপ্রতি সারের ব্যবহার ৩৯১ দশমিক ৯ কেজি, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি। গ্যাস সংকটের কারণে ছয়টি ইউরিয়া কারখানার পাঁচটিই উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। ফলে বাজারে ইউরিয়ার দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে কৃষকের ওপর চাপ যেমন বাড়বে, তেমনি খাদ্যপণ্যের দামও নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

স্বাস্থ্য খাতেও জ্বালানি সংকটের ছায়া
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্যসেবায়ও। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯ হাজার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৬ হাজার ২০০ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনাগত চাপে রয়েছে। সরকারি টারশিয়ারি হাসপাতালগুলোর বিদ্যুৎ বিলেই প্রতি মাসে প্রায় ০.৬ থেকে ১.১ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমদানিনির্ভর চিকিৎসা উপকরণের উচ্চ ব্যয়। হাসপাতালগুলোতে ব্যবহৃত সামগ্রীর ৯০ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর এবং সেগুলোর ওপর ৩৭ শতাংশ আমদানি শুল্ক রয়েছে। এই চাপের মধ্যেই ২০২৬ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের প্রাদুর্ভাব নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এতে ৪০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থান—শেষ আঘাতটি এখানে
অর্থনীতির বহুমুখী ঝুঁকির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানে। সীমিত কর্মসংস্থান ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ২০২৫ সালে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও অন্যান্য বৈশ্বিক ধাক্কার কারণে ২০২৬ সালে প্রত্যাশিত ১৭ লাখের পরিবর্তে মাত্র পাঁচ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বের হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে প্রায় ছয় লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দিয়ে এই ঝুঁকি ব্যাখ্যা করা যায় না। বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা কাটাতে না পারলে পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে।

এক সংকটের সঙ্গে আরেক সংকটের যোগ
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নের মূল বার্তাটি এখানেই—বাংলাদেশের ঝুঁকিগুলো আলাদা আলাদা নয়। জলবায়ু দুর্যোগ খাদ্য উৎপাদনে আঘাত করে, খাদ্য ও জ্বালানির দাম মূল্যস্ফীতি বাড়ায়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের প্রকৃত আয় কমায়, দুর্বল ব্যাংকিং খাত বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করে এবং কম বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সংকটকে আরও গভীর করে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনো একটি খাতের সংকট মোকাবিলা নয়; বরং পরস্পরকে শক্তিশালী করা এই ঝুঁকিগুলোর চক্র ভাঙা। জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে সংস্কার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে বহুমুখী চাপ একসময় সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা তাই কেবল ভবিষ্যৎ ঝুঁকির পূর্বাভাস নয়; বরং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান দুর্বলতাগুলোকে দ্রুত মোকাবিলার একটি জরুরি সংকেত।

কালের আলো/এম/এএইচ

ইরানের নেতৃত্ব উৎখাতে ব্যর্থ হলে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: সাবেক উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
ইরানের নেতৃত্ব উৎখাতে ব্যর্থ হলে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: সাবেক উপদেষ্টা

প্রচলিত সামরিক উপায়ে ইরানের নেতৃত্বকে উৎখাত করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সন্ত্রাসবিরোধী সাবেক উপদেষ্টা জো কেন্ট।

গত শুক্রবার পডকাস্টার টাকার কার্লসনের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কেন্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কাকে অসম্ভব বলে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরান সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।

কেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে ট্রাম্প তাঁর লক্ষ্য একাধিকবার পরিবর্তন করলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেননি। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ব্যবহার করেছে।

তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি এখনো ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশটিকে পুরোপুরি আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চায়, তাহলে সামনে মূলত দুটি পথ রয়েছে—পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান অথবা পারমাণবিক হামলা।

তবে ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও জনসংখ্যার কারণে স্থল অভিযান বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন কেন্ট। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পার্বত্য এলাকায় মাটির গভীরে থাকা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় সীমিত পারমাণবিক হামলার মতো বিকল্প নিয়ে ভাবা হতে পারে।

এর আগে ট্রাম্প ইরানকে বিভিন্ন সময় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তেহরান ওয়াশিংটনের দাবি মেনে না নিলে ইরানের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। মার্কিন বাহিনী ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে বলেও হুমকি এসেছে তাঁর কাছ থেকে।

এদিকে গত মাসের শেষ দিকে ইরানের ওপর সর্বশেষ দফার হামলা হঠাৎ স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পেন্টাগনের উচ্চ নির্ভুলতার অস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসার কথা বলা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ ধরনের সংকটের খবর অস্বীকার করে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ থাকার দাবি করেছেন।

এরই মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। গত সপ্তাহে ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে ‘চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়ার মতো অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন। পরে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন।

তবে জো কেন্টের পারমাণবিক হামলা সংক্রান্ত মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবেই এসেছে; এটি ট্রাম্প প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা নীতির ঘোষণা নয়।

কালের আলো/এসএ

সোমালিয়ায় জলদস্যুদের কবল থেকে কার্গো জাহাজ উদ্ধার, নিহত ১৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
সোমালিয়ায় জলদস্যুদের কবল থেকে কার্গো জাহাজ উদ্ধার, নিহত ১৪

সোমালিয়ার আংশিক স্বায়ত্তশাসিত পুন্টল্যান্ড রাজ্যের উপকূলের কাছে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা একটি কার্গো জাহাজ উদ্ধার করেছে তুরস্ক ও সোমালিয়ার যৌথ বাহিনী। অভিযানে ১৪ জন জলদস্যু নিহত এবং তাদের চারটি নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সোমালি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ক্যামেরুনের পতাকাবাহী ‘এমভি লাতুফ’ জাহাজটি উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। বাহিনীর অব্যাহত চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত বাকি জলদস্যুরা জাহাজ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এরপর জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয় যৌথ বাহিনী।

সোমালি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, উপকূল সুরক্ষা এবং জলদস্যুতা প্রতিরোধে সোমালিয়া ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তবে অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না কিংবা জাহাজের নাবিকদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

পুন্টল্যান্ডের নুগাল অঞ্চলের গোদোব জিরায়ন জেলার জিফ্লে সম্প্রদায়ের স্থানীয় এক মুরব্বি আবদুল্লাহি ওয়ারসামে এপিকে জানিয়েছেন, জাহাজটি এবং এর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা মুক্ত হয়েছেন।

‘এমভি লাতুফ’ গত জুলাইয়ের শেষ দিকে তুরস্কের টেকিরদাগ বন্দর ছেড়ে যায়। পরে ১৭ আগস্ট সোমালিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পুন্টল্যান্ডের নুগাল অঞ্চলের উপকূলীয় জলসীমায় জাহাজটি অপহরণের শিকার হয়।

মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়ার পর কার্গো জাহাজটি তানজানিয়ার দারুস সালামের নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

২০০০-এর দশকে সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল এবং ২০১১ সালে তা চরমে পৌঁছায়। পরে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও বাণিজ্যিক জাহাজে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়।

তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার (আইএমও) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এপ্রিল থেকে সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের হামলা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ। এ ছাড়া অন্তত পাঁচটি কার্গো জাহাজ জিম্মি করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।

কালের আলো/এসএ