সোমালিয়ায় জলদস্যুদের কবল থেকে কার্গো জাহাজ উদ্ধার, নিহত ১৪
সোমালিয়ার আংশিক স্বায়ত্তশাসিত পুন্টল্যান্ড রাজ্যের উপকূলের কাছে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা একটি কার্গো জাহাজ উদ্ধার করেছে তুরস্ক ও সোমালিয়ার যৌথ বাহিনী। অভিযানে ১৪ জন জলদস্যু নিহত এবং তাদের চারটি নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সোমালি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ক্যামেরুনের পতাকাবাহী ‘এমভি লাতুফ’ জাহাজটি উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। বাহিনীর অব্যাহত চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত বাকি জলদস্যুরা জাহাজ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এরপর জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয় যৌথ বাহিনী।
সোমালি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, উপকূল সুরক্ষা এবং জলদস্যুতা প্রতিরোধে সোমালিয়া ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তবে অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না কিংবা জাহাজের নাবিকদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
পুন্টল্যান্ডের নুগাল অঞ্চলের গোদোব জিরায়ন জেলার জিফ্লে সম্প্রদায়ের স্থানীয় এক মুরব্বি আবদুল্লাহি ওয়ারসামে এপিকে জানিয়েছেন, জাহাজটি এবং এর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা মুক্ত হয়েছেন।
‘এমভি লাতুফ’ গত জুলাইয়ের শেষ দিকে তুরস্কের টেকিরদাগ বন্দর ছেড়ে যায়। পরে ১৭ আগস্ট সোমালিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পুন্টল্যান্ডের নুগাল অঞ্চলের উপকূলীয় জলসীমায় জাহাজটি অপহরণের শিকার হয়।
মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়ার পর কার্গো জাহাজটি তানজানিয়ার দারুস সালামের নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
২০০০-এর দশকে সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল এবং ২০১১ সালে তা চরমে পৌঁছায়। পরে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও বাণিজ্যিক জাহাজে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়।
তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার (আইএমও) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এপ্রিল থেকে সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের হামলা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ। এ ছাড়া অন্তত পাঁচটি কার্গো জাহাজ জিম্মি করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array