খুঁজুন
                               
, ,
           

ইসির বড় পরীক্ষা ইউপি ভোটে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
ইসির বড় পরীক্ষা ইউপি ভোটে

জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এবার তৃণমূলে ভোটের পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেপ্টেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল এবং নভেম্বরে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কমিশন। তবে ব্যালটের লড়াইয়ের আগেই ইসির সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে মাঠের আইনশৃঙ্খলা। কারণ জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে, বিশেষ করে ইউপি ভোটে, সংঘাতের ঝুঁকি ঐতিহাসিকভাবেই বেশি।

এই বাস্তবতা মাথায় রেখে ভোটের বেশ আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন ইতোমধ্যে পুলিশ, বিজিবি ও আনসারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। জানতে চেয়েছেন দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাঠপর্যায়ে বাহিনীর সক্ষমতা এবং নির্বাচনের সময় কতটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পুলিশকে সারা দেশের জেলা-উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনও দিতে বলা হয়েছে।

আগেভাগেই মাঠের হিসাব নিতে চায় কমিশন
গত ১৮ আগস্ট নির্বাচন ভবনে পুলিশ প্রধান আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিইসি। সেখানে জেলা-উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সমন্বয় এবং একটি সমন্বিত সেল গঠনের বিষয় উঠে আসে। পুলিশের পক্ষ থেকে শিগগিরই ইসিকে পরিস্থিতির প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এরপর ২৭ আগস্ট সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় আরও ভালো নির্বাচন করার অঙ্গীকারে কোনো ঘাটতি নেই। তাঁর ভাষায়, স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতার মাত্রা সাধারণত বেশি থাকে—এ বিষয়টি কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। ইসির প্রস্তুতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পুলিশের বিদ্যমান মনিটরিং ব্যবস্থাকে নির্বাচনের মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাজে লাগানো। ১৯ আগস্ট আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং ২৪ আগস্ট বিজিবির মহাপরিচালকের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন সিইসি। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবে কমিশন। নির্বাচনের সময় বাহিনীগুলো কীভাবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করবে, সে বিষয়ে তাদের মতামত ও পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

ভরসা পুলিশ-বিজিবি-আনসারে
এবারের ইউপি নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে রাখার পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট করেছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনার মাছউদের মতে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পুলিশ, আনসার ও বিজিবিই যথেষ্ট। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, কমিশন এখনই পরিস্থিতিকে সংকটজনক হিসেবে দেখছে না। বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে চাইছে। ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাও সেই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ।

অতীতের ইউপি ভোটই বড় সতর্কবার্তা
ইসির উদ্বেগের পেছনে অবশ্যই বাস্তব কারণ রয়েছে। অতীতের ইউপি নির্বাচনগুলোতে ভোটের মাঠ পরিণত হয়েছে সংঘাতের কেন্দ্রে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানি ছিল ভয়াবহ। নির্বাচন কমিশন ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে ২৩৬ জন নিহত এবং আট হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনেও সহিংসতার ধারাবাহিকতা থামেনি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপে সংঘাতে অন্তত ১১৬ জন নিহত হন। শুধু ২০২১ সালেই ইউপি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় ১১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য রয়েছে। এসব নির্বাচনে সংঘাতের বড় কারণ ছিল দলীয় প্রতীক। একই দলের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই এবং প্রতিপক্ষের ওপর হামলা বহু এলাকায় সহিংসতা বাড়িয়েছিল।

দলীয় প্রতীক না থাকায় কমতে পারে সংঘাত
এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় আগের চিত্র কিছুটা বদলাতে পারে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল আলীমের মতে, অতীতে দলীয় প্রতীক স্থানীয় নির্বাচনকে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াইয়ে পরিণত করেছিল। এবার সেই কাঠামো না থাকায় সহিংসতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঝুঁকি পুরোপুরি উধাও হচ্ছে না। বিশেষ করে কোনো বিতর্কিত বা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রার্থী মাঠে এলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হতে পারে। আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী অংশ নিলে অন্য রাজনৈতিক পক্ষ তাদের রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে প্রতিরোধের চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও বলেছেন তিনি। তাই প্রার্থী যাচাই থেকে শুরু করে প্রচার ও ভোটের দিন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আসল পরীক্ষা ভোটের মাঠে
ইসি বলছে, সংঘাতমুক্ত নির্বাচনই তাদের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় নির্ভরতা থাকবে মাঠের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর। কারণ স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীরা একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক সময় সরাসরি ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত বিরোধে রূপ নেয়। জাতীয় নির্বাচনের মতো বৃহৎ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে এখানে ভোটের সঙ্গে যুক্ত থাকে স্থানীয় আধিপত্য, সামাজিক সম্পর্ক ও দীর্ঘদিনের বিরোধ। ইসি কমিশনার মাছউদও স্বীকার করেছেন, সংঘাতমুক্ত নির্বাচন করতে গেলে নানা বাধা আসবে। সেসব বাধা আগেই চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তবে শতভাগ সংঘাতমুক্তির নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

কালের আলো/এম/এএইচ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত: সৌদিতে মার্কিনদের সতর্ক করল দূতাবাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত: সৌদিতে মার্কিনদের সতর্ক করল দূতাবাস

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং পাল্টাপাল্টি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। যেকোনো সময় পরিস্থিতির অপ্রত্যাশিত অবনতি ঘটতে পারে এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। পাশাপাশি সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে নিয়মিত তথ্য অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জেনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

শাহাজালালে ‘কুশ’ সাম্রাজ্যের নিখুঁত ছক নস্যাৎ করে দিলো গোয়েন্দা সংস্থা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
শাহাজালালে ‘কুশ’ সাম্রাজ্যের নিখুঁত ছক নস্যাৎ করে দিলো গোয়েন্দা সংস্থা

থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে উন্নতজাতের ‘কুশ’ বা হাইড্রোপনিক গাঁজা বাংলাদেশে ঢোকানোর জন্য একের পর এক চালান পাঠানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় পাচারকারীরা। মাদক বহনে কখনও ব্যবহার করা হচ্ছে চকোলেটের প্যাকেট, বালিশ, ট্রলি ব্যাগের গোপন চেম্বার কিংবা কাপড়ের নিচে ভ্যাকুয়াম-সিল করা পাউচ। কিন্ত গোয়েন্দা সংস্থার ধারাবাহিক তৎপরতায় এসব চালান গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ধরা পড়ছে। গোয়েন্দা সংস্থার ধারাবাহিক ও কৌশলী তৎপরতা নস্যাৎ করে দিচ্ছে ভারতীয় পাচারকারীদের পরিকল্পনা।

  • পাঁচ চালানে ২৯.৬৪ কেজি থাই গাঁজা উদ্ধার
  • ব্যাংকক–ঢাকা রুটে ভারতীয় পাচারকারীদের ধারাবাহিক অপতৎপরতা
  • পাসপোর্ট-লাগেজ ফেলে দুই দফায় পালিয়েছে পাচারকারীরা

গত কয়েক সপ্তাহে গোয়েন্দা নজরদারিতে পাঁচটি পৃথক ঘটনায় ভারতীয় নাগরিকদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ২৯.৬৪ কেজি কুশ গাঁজা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ কোটি ৫১ লাখ ৪ হাজার টাকা। পাচারকারীরা বারবার কৌশল পরিবর্তন করলেও গোয়েন্দা নজরদারির কারণে তাদের সেই অপকৌশলও বারবার ভেস্তে যাচ্ছে।

‘কুশ’ সাম্রাজ্যের পরিকল্পনা ধাক্কা খেয়েছে শাহজালালেই
পাচারকারীদের কৌশল ছিল সহজ—ব্যাংকক থেকে বিমানে ঢাকায় আসবে যাত্রী, তার লাগেজে থাকবে উচ্চমূল্যের কুশ গাঁজা, এরপর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও কাস্টমস তল্লাশি পেরিয়ে চালান পৌঁছে যাবে নির্ধারিত গন্তব্যে। ব্যবহার করা হচ্ছিল থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইট। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং সন্দেহভাজন লাগেজ শনাক্ত করার কারণে চালানগুলো গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই আটকে যাচ্ছে শাহজালালে।

গোয়েন্দা নজরদারিতে পাঁচটি পৃথক ঘটনায় ধরা একাধিক চালান
গত ২৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে আসা দুই ভারতীয় নাগরিকের লাগেজে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তল্লাশি চালানো হয়। এতে উদ্ধার হয় মোট ৫.১২ কেজি কুশ গাঁজা। একজনের লাগেজ থেকে ২.৫৪০ কেজি এবং অপরজনের লাগেজ থেকে ২.৫৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় দুই যাত্রীকে আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়। বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছে। এর মাত্র তিন দিন আগে ২৪ আগস্ট ব্যাংকক থেকে আসা আরও দুই ভারতীয় নাগরিকের লাগেজে পাওয়া যায় ৫.০৪ কেজি কুশ গাঁজা। একজনের লাগেজ থেকে ২.৫৪০ কেজি এবং অন্যজনের লাগেজ থেকে ২.৫ কেজি মাদক উদ্ধার করা হয়। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে তল্লাশির সময় পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দুই যাত্রী তাদের পাসপোর্ট ও লাগেজ ফেলে বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যায়। ২২ আগস্ট একই ফ্লাইটে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় আসা ভারতীয় নাগরিক হুসাইন আবদুল কাদর শেখের লাগেজ তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় ৩.৫০ কেজি কুশ গাঁজা। গোয়েন্দা তৎপরতায় চালানটি শনাক্ত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা। গত ১৮ আগস্ট দুই ভারতীয় নাগরিকের লাগেজ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪.১৮ কেজি উন্নতজাতের গাঁজা। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ২ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তল্লাশির সময় ওই দুই যাত্রীও পাসপোর্ট ও লাগেজ রেখে বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যায়। গত ২৪ জুলাই ভারতীয় নাগরিক জুলফিকার মোল্লার লাগেজ থেকে ২১টি প্যাকেটে লুকানো ১১.৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘুরেফিরে আলোচনায় থাইল্যান্ডের ‘কুশ’
উন্নতজাতের কুশ বা হাইড্রোপনিক গাঁজা সাধারণ গাঁজার তুলনায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন হওয়ায় এর বাজারমূল্যও তুলনামূলক বেশি। থাইল্যান্ডে গাঁজা-সংক্রান্ত আইন ও নীতিতে পরিবর্তনের পর দেশটিতে গাঁজার উৎপাদন ও বাণিজ্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এর সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উন্নতজাতের গাঁজা পাচারের আশঙ্কাও তৈরি হয়। আর এই সুযোগকে লুফে নেয় ভারতীয় পাচারকারীরা।

বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বড় কারণ হচ্ছে-বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক চালান প্রবেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তও রয়েছে বিস্তৃত। ফলে বিমানপথে ঢোকা মাদক পরবর্তী সময়ে দেশের অভ্যন্তরে কিংবা সীমান্তপথে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা থাকায় বিশেষ নজর গোয়েন্দা সংস্থার। গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারি পাচারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারিতে ধারাবাহিক চালান শনাক্ত ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনাই বলে দিচ্ছে শাহজালাল এখন আর পাচারকারীদের সহজ কোন গন্তব্য নয়।

সীমান্ত ও বিমানবন্দরে প্রয়োজন আরও কঠোর নজরদারি
শাহজালালে গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় একের পর এক কুশ গাঁজার চালান আটকের ঘটনা নিঃসন্দেহে সাফল্যের বার্তা দেয়। তবে একই সঙ্গে এসব ঘটনা একটি বড় সতর্ক সংকেতও দিচ্ছে—পাচারকারীরা থেমে নেই; বরং গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে প্রতিনিয়ত কৌশল বদলে নতুন পথে ও নতুন পদ্ধতিতে মাদক প্রবেশের চেষ্টা করছে। তাই শুধু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নয়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের স্থলপথ, অন্যান্য স্থলবন্দর ও দেশের সব আন্তর্জাতিক প্রবেশপথে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি। কারণ উন্নতজাতের ‘কুশ’ গাঁজা সহজলভ্য হয়ে উঠলে এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি পড়তে পারে তরুণ প্রজন্মের ওপর। এই মাদক যদি দেশের অভ্যন্তরে একটি স্থায়ী বাজার তৈরি করতে পারে, তাহলে মাদকাসক্তির বিস্তারের পাশাপাশি কিশোর-তরুণদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা, মাদককেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অপরাধ এবং সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/এমএএএমকে

হরমুজ খোলা রাখতে সব পক্ষের আলোচনার প্রয়োজন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
হরমুজ খোলা রাখতে সব পক্ষের আলোচনার প্রয়োজন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংঘাতের অবসান ও উত্তেজনা প্রশমনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রায় এক কোটি বাংলাদেশির কল্যাণ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। চলমান সংঘাতের কারণে তাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন।

হুমায়ুন কবির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশ সব সময়ই উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরিতে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে চায়।

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ বা আগ্রাসনে বাংলাদেশের সমর্থন নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। একই সঙ্গে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সহযোগিতার সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি শুধু কোনো একটি পক্ষের ওপর নির্ভরশীল বিষয় নয়। সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা প্রয়োজন। বাংলাদেশের স্বার্থের জায়গা থেকে পথটি দ্রুত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের যানবাহনসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আটকে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে জলপথটি খুলে গেলে এসব বিষয় দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।

ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি