খুঁজুন
                               
, ,
           

জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকারের পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকারের পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বিগত সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখার ফলেই দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট ও আমদানিনির্ভরতা তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সংকট কাটিয়ে দেশকে জ্বালানিতে স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার বহুমাত্রিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহতকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার রূপরেখা তুলে ধরেন।

দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত অনুসন্ধান এবং আমদানিনির্ভরতার ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটকে স্থায়ীভাবে নিরসন করে দেশকে স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপের খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) নতুন গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে আরও ৭টি কূপের খনন কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং এগুলোর কাজ শেষ হলে গ্রিডে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে।

অবশিষ্ট কূপগুলো পর্যায়ক্রমে খননের জন্য নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া নতুন গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতে ৪,৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪,২০০ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী ও সক্ষম করে তুলতে নতুন দুটি আধুনিক রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অফশোর ও অনশোর মডেল পিএসসি (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্যাক্ট)-এর আওতায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর আন্তর্জাতিক বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে এবং অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বহুগুণ বাড়বে। পাশাপাশি সামুদ্রিক এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে আগ্রহী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যা থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ সম্ভব হবে। এর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি ক্ষমতা আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে।

এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কিংবা পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে তা সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের উত্তরে বিস্তারিত উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জনমনে আগ্রহ তৈরি ও এ খাতের দ্রুত প্রসারে ২০২৬ সালের ৮ জুন তারিখে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারিসহ সব প্রয়োজনীয় উপাদানের ওপর থেকে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং অতিরিক্ত অগ্রীম আয়করসহ সব ধরনের শুল্ক সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় আর্থিক মডেল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে যারা বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার স্থাপন করবেন, তাদের উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০.১৫ টাকা দরে কিনে নেবে। বর্তমান গড়ে প্রতি ইউনিট ৬ থেকে ৭ টাকা উৎপাদন খরচের বিপরীতে এই বাল্ক রেট ও সরকারি প্রণোদনার ফলে উদ্যোক্তারা ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত (৪০ শতাংশ মুনাফা ও ৫ শতাংশ প্রিমিয়াম) নিট মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবেন, যা পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের অংশ হিসেবে সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে সোলার প্যানেল বসাতে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রুফটপ সোলার সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরে বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সোলারের পাশাপাশি বায়ু বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমন্বিত পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

কালো ধোঁয়ার গাড়িতে এবার ডিএমপির কড়া নজর

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
কালো ধোঁয়ার গাড়িতে এবার ডিএমপির কড়া নজর

রাজধানীর সড়কে কালো ধোঁয়া ছড়ানো যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী কোনো গাড়ি চোখে পড়লেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলছে, শুধু মামলা ও জরিমানা নয়, দূষণ কমাতে গাড়ির মালিকদের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান জানান, গত জুলাই মাসে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ৯১৫টি মামলা করা হয়েছে। এসব গাড়ির বড় অংশ বাস ও কাভার্ডভ্যান। তার ভাষ্য, কালো ধোঁয়া নির্গমন দৃশ্যমান হওয়ায় তা শনাক্ত করতে আলাদা কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না। সড়কে কোনো গাড়িকে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া ছাড়তে দেখা গেলেই সড়ক পরিবহন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে এখানেই সমস্যার মূল সমাধান হচ্ছে না। কারণ, অনেক গাড়ির বিরুদ্ধে একাধিকবার মামলা হলেও মালিকরা যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করছেন না। ফলে জরিমানা দেওয়ার পরও একই গাড়ি আবার দূষণ ছড়াচ্ছে। এমনকি কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করার পর সেটি পুনরায় একই অপরাধ করতে দেখা গেলে দ্বিগুণ জরিমানার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

ডিএমপির বক্তব্যে উঠে এসেছে সমস্যাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—দায়িত্বের বিভাজন। গাড়ির ফিটনেস বা মান নিশ্চিত করা ট্রাফিক পুলিশের সরাসরি দায়িত্ব নয়। যানবাহনগুলো প্রতি বছর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছ থেকে ফিটনেস সনদ নেয়। কিন্তু বাস্তবে ফিটনেস সনদ পাওয়ার পরও কোনো কোনো গাড়ি রাস্তায় কালো ধোঁয়া ছড়াচ্ছে। এতে ফিটনেস পরীক্ষার কার্যকারিতা, গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং মালিকদের দায়বদ্ধতা—তিনটিই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

সাধারণত ইঞ্জিনে ত্রুটি থাকলে কালো ধোঁয়া তৈরি হয়। নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারেও ইঞ্জিন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দূষণ বাড়তে পারে। অর্থাৎ সড়কে একটি কালো ধোঁয়ার গাড়ি ধরা পড়া মূলত বৃহত্তর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দুর্বলতারও ইঙ্গিত দেয়।

পরিবেশের পাশাপাশি এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। সাধারণ মানুষ কিছু সময় পর দূষিত সড়ক থেকে সরে যেতে পারলেও দায়িত্ব পালনের কারণে ট্রাফিক পুলিশকে দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকতে হয়। কালো ধোঁয়ার কারণে চোখে জ্বালাপোড়া এবং শ্বাসের সঙ্গে দূষিত কণা ফুসফুসে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি বিআরটিএ ও পরিবেশ অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ চেকপোস্টও পরিচালনা করছে। কিন্তু এখানেও রয়েছে বাস্তব সমস্যা। চেকপোস্টের খবর পেয়ে অনেক দূষণকারী যানবাহন সাময়িকভাবে রাস্তায় চলাচল বন্ধ রেখে আড়ালে চলে যায়। অভিযান শেষ হলে আবার সড়কে নামে। পুলিশের প্রতিদিন প্রতিটি গাড়ি পরীক্ষা বা মামলা করার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতাও নেই।

তাই ডিএমপির এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষার মান বাড়ানো, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা, নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারের বিরুদ্ধে নজরদারি এবং মালিক-শ্রমিকদের জবাবদিহির আওতায় আনা—সবকিছুকে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।

কালো ধোঁয়ার মতো দৃশ্যমান দূষণ শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশের প্রশ্ন। ফলে মামলা-জরিমানার পাশাপাশি দূষণের উৎস বন্ধ করাই এখন ডিএমপি, বিআরটিএ ও পরিবেশ অধিদফতরের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

একই সঙ্গে অতিরিক্ত হর্ন ও শব্দদূষণের বিরুদ্ধেও অভিযান চালাচ্ছে ডিএমপি। রাজধানীর নীরব এলাকায় সাইনবোর্ড থাকলেও তা অমান্য করে নিয়মিত হর্ন বাজানোর অভিযোগ রয়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। উন্নত বিশ্বে ব্যবহৃত ‘হর্ন পি’ প্রযুক্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত হর্ন বাজানো যান শনাক্ত করার উদ্যোগ ভবিষ্যতে ঢাকার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

মার্কিন নির্বাচনের সময় ইরান হামলা চালাতে পারে: সাবেক রাষ্ট্রদূত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন নির্বাচনের সময় ইরান হামলা চালাতে পারে: সাবেক রাষ্ট্রদূত

আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরান আকস্মিক কোনো হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিউনিশিয়ায় দায়িত্ব পালন করা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জোয়ে হুড। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়কে ইরান সম্ভাব্য হামলার জন্য বেছে নিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আশঙ্কার কথা জানান সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক।

জোয়ে হুড বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার ক্ষেত্রে ইরানের একটি ইতিহাস রয়েছে। অতীতের বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসনের সময়ও নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তেহরান এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করাকে ইরান একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।

সাবেক এই রাষ্ট্রদূতের মতে, মার্কিন ভোটাররা পেট্রোলের দামের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে না। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জোয়ে হুড। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো কার্যকর উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা যদি চমকপ্রদ কোনো উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে না পারে, তাহলে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার কার্যকারিতা খুব বেশি হবে না।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা কমাতেও তৃতীয় পক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষ্য, মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো তাদের নৌশক্তি নিয়ে উপসাগর ও উত্তর আরব সাগরে উপস্থিত হয়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। এতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের প্রয়োজনীয়তাও কমতে পারে।

তবে জোয়ে হুডের বক্তব্যটি একটি আশঙ্কা ও বিশ্লেষণ, ইরানের হামলার নিশ্চিত ঘোষণা নয়।

সূত্র: আলজাজিরা

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

সরবরাহ সংকটে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বাড়ছে: এফএও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
সরবরাহ সংকটে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বাড়ছে: এফএও

বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। যুদ্ধ, চরম আবহাওয়া ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।

শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে এফএওর খাদ্যমূল্য সূচক টানা তৃতীয় মাসের মতো বেড়ে ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে। ২০২২ সালের শেষ দিকের পর এটিই সূচকটির সর্বোচ্চ অবস্থান।

এফএও জানিয়েছে, শস্য, উদ্ভিজ্জ তেল, চিনি, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য—সব প্রধান খাদ্যপণ্যের দামই আগস্টে বেড়েছে। এর মধ্যে চিনির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, যা জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। গত এক বছরের মধ্যে চিনির দামও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

খাদ্যশস্যের দাম দুই শতাংশের বেশি বেড়ে দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। কৃষ্ণসাগরে সামরিক হামলার কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম ও ভুট্টা রপ্তানিতেও প্রভাব পড়ছে।

এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ফলে খাদ্য সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে সার সরবরাহ নিয়েও নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক সার বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ আরও চাপে পড়তে পারে।

বিশ্ব উষ্ণায়ন ও এল নিনোর প্রভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে ফসলের উৎপাদন কমেছে। একই সঙ্গে এশিয়ায় খাদ্যশস্য উৎপাদনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করে বলেছে, চরম আবহাওয়ার কারণে আগামী বছরের শেষ নাগাদ আরও প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখে পড়তে পারে।

বিশ্ববাজারে পাইকারি খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে কয়েক মাসের মধ্যে এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তার ওপরও পড়ে। ফলে খাদ্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি