খুঁজুন
                               
, ,
           

হরমুজে ৫০টির বেশি জাহাজ কালো তালিকায় রাখল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
হরমুজে ৫০টির বেশি জাহাজ কালো তালিকায় রাখল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে ইরান। এরই মধ্যে প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে কালো তালিকাভুক্ত জাহাজের সংখ্যা ৫০টির বেশি করেছে দেশটি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে কোন জাহাজ চলাচল করতে পারবে, তা ইরান বেছে বেছে নির্ধারণ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত রাতে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনা কমার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ফিরবে না।

অন্যদিকে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, সর্বশেষ মার্কিন হামলা ইরান নীরবে মেনে নেবে না। এর জবাব অসমমিত ও বহুস্তরীয় কৌশলে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

বর্তমানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনের হামলা ও পাল্টা হামলার মধ্যেও তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর তেলবাহী ট্যাংকারের তুলনায় ইরাকের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো তুলনামূলক কম বাধার মুখে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারছে। এর ফলে ইরান নির্দিষ্ট কিছু জাহাজকে বেছে বেছে প্রণালি পার হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরান ইতোমধ্যে যেসব জাহাজের চলাচল নিষিদ্ধ বা সীমিত করেছে, সেই তালিকা ৫০টির বেশি জাহাজে উন্নীত করেছে। এতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত শর্তগুলো ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের অবস্থান অনেকটা এমন—হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোন জাহাজ চলাচল করবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে এবং এতে দেশটির নিজস্ব শর্ত কার্যকর থাকবে।

সূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারে নতুন বিধিনিষেধ, নিষিদ্ধ মিছিল-পোস্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারে নতুন বিধিনিষেধ, নিষিদ্ধ মিছিল-পোস্টার

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রচারের ধরন ও পরিধিতে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারে মিছিল ও পোস্টার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

নতুন বিধিমালায় প্রার্থীদের প্রচারে সরকারি সুবিধা ব্যবহার, মাইক, বিলবোর্ড ও নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও ইসিকে দেওয়া হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে ২০১৬ সালের বিধিমালা বাতিল করে নতুন আচরণবিধি প্রণয়ন করা হচ্ছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, সেতু, ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী লাগানোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফল গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিলও করা যাবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে কঠোর বিধান। ব্যক্তিগত কুৎসা, অপমানজনক বক্তব্য, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধ। এআই ব্যবহার করে এমন বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও করা যাবে না।

নির্বাচনী প্রচারে মাইক ব্যবহারের সময়ও নির্ধারণ করে দিয়েছে ইসি। দুপুর ১২টার আগে এবং সূর্যাস্তের পর মাইক ব্যবহার করা যাবে না। শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে এবং একটি ওয়ার্ডে একটির বেশি মাইক ব্যবহার করা যাবে না।

এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রার্থীর পক্ষে সরকারি যানবাহন বা সরকারি কোনো সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না।

বিলবোর্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি বিলবোর্ডের সর্বোচ্চ আয়তন ১৬ ফুট বাই ৮ ফুট হতে পারবে এবং প্রতি ওয়ার্ডে একজন প্রার্থী একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না।

নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করা যাবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান বা ট্রেন ব্যবহার করে মিছিল কিংবা শোভাযাত্রাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভোটের দিন ভোটার আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহার করা যাবে না।

আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে ইসি।

আগামী নভেম্বরের শেষার্ধ থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

গাজার ধ্বংসস্তূপে মিলল একই পরিবারের ৫৫ জনের মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
গাজার ধ্বংসস্তূপে মিলল একই পরিবারের ৫৫ জনের মরদেহ

গাজা সিটির জয়তুন এলাকায় একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একই পরিবারের ৫৫ জনের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা সবাই মালকা পরিবারের সদস্য বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মালকা পরিবারের ৬০ জনের বেশি সদস্যের সন্ধানে টানা ৭২ ঘণ্টা ধরে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। এ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বেশির ভাগ সদস্যের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

প্রায় দুই বছর আগে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের সময় মালকা পরিবারের সদস্যরা ওই ভবনটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলায় ভবনটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের বহু সদস্য নিখোঁজ ছিলেন।

ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান চালান। একপর্যায়ে সেখান থেকে ৫৫ জনের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মালকা পরিবারের সদস্যদের স্মরণে আগামী সপ্তাহের শুরুতে একটি যৌথ জানাজার আয়োজন করা হবে।

কালের আলো/এসএ

নেপালে হিমবাহধসের ১০ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে চীনা নাগরিক জীবিত উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
নেপালে হিমবাহধসের ১০ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে চীনা নাগরিক জীবিত উদ্ধার

নেপালে ভয়াবহ হিমবাহ ও পাথরধসের পর সৃষ্ট ঢলের ১০ দিন পর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার ত্রিশূলী–১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে নেপালের সেনাবাহিনী।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত বার্তা সংস্থা এএফপিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আপার ত্রিশূলী–১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে ওই চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার সকালে ত্রিশূলী–৩–এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে দুই নেপালি নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন সঞ্জয় শাহ ও কবির মহারাজন।

উদ্ধারের পর তাঁদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দেওয়া হয়। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কবির মহারাজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে কাঠমান্ডুর আর্মি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সঞ্জয় শাহকেও একই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কথা রয়েছে।

নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সব সুড়ঙ্গেই উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ আশা রয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক হিমবাহ ও পাথরধসের ঘটনা ঘটে। এরপর কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত ওই অঞ্চলে নেমে আসে। এতে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু কর্মী নিখোঁজ হন।

দুর্যোগের পর থেকে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালের বিভিন্ন সংস্থা। একের পর এক জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় উদ্ধারকাজে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৪৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৮৩ জনের বেশি মানুষ।

অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বত অংশে এই দুর্যোগে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৩১ জন এখনো নিখোঁজ। দুই দেশের হিসাব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১ হাজার ৩৭৫ জনে। নিখোঁজের সংখ্যা পাঁচ হাজার পাঁচশরও বেশি।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ জীবিত আছেন কি না, তা জানতে ক্ষতিগ্রস্ত সুড়ঙ্গগুলোতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এসএ